📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 মৃত্যু

📄 মৃত্যু


'মৃত্যু' সর্বশক্তিমান আল্লাহর এক অমোঘ বিধান। মৃত্যুর স্পর্শ থেকে বেঁচে যাবার উপায় কারোর নেই। জন্ম যেমন সত্য ও বাস্তব, জন্মের পর মৃত্যুও তেমনি সত্য ও বাস্তব। এ দুটি ব্যাপারে দুনিয়ার কারো কোনো সন্দেহ সংশয় নেই। কারণ অগণিত মানুষের জন্ম ও মৃত্যু চোখের সামনে ঘটছে। কাজেই এগুলোকে মিথ্যা বলে উপহাস করার কোনো উপায় নেই। যতো সংশয় সন্দেহ চোখে দেখার বাইরের ব্যাপার নিয়ে। আল্লাহর কিতাবে পরকালীন জীবনের বর্ণনা, আল্লাহর রাসূলদের বর্ণনায় মু'মিনরা ছাড়া কাফির মুশরিকদের প্রত্যয় আসে না। তাই সাবধানতা অবলম্বনের জন্য আল্লাহ্ মৃত্যু সম্পর্কে সূরা আলে ইমরানের ১৮৫ আয়াতে বলেন:
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ، وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيِّمَةِ ، فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيْوَةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورُ০
"প্রতিটি জীবনকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আর তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন পূর্ণ বিনিময় প্রদান করা হবে। তাই যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেলো আর জান্নাতে প্রবেশ করলো, সে সফলতা লাভ করলো। দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণার পুঁজি ছাড়া আর কিছু নয়।"-সূরা আলে ইমরান : ১৮৫
কুরআন পাকে এ সূরারই ১৪৫ আয়াতে মৃত্যুর সুনির্দিষ্টতা ও অমোঘতার ছবি এঁকে আল্লাহ্ বলেছেন:
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتْبًا مُّؤَجَّلاً ، وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا ، وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الْآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا وَسَنَجْزِي الشَّكِرِينَ ০
"আল্লাহ তাআলার হুকুম ছাড়া কোনো প্রাণীই মৃত্যুবরণ করতে পারে না। মৃত্যুর সময় তো নির্দিষ্ট করে লিখে দেয়া হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়ার ফলের আশায় কাজ করবে তাকে আমি তাই দান করবো। আর
যে ব্যক্তি আখিরাতের কল্যাণ চাইবে তাকে আমি তা-ই দান করবো। কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারীদেরকে তাদের কাজের ফল আমি দান করবো।"
সূরা আল জুমআর ৮ আয়াতে মৃত্যুর ছবি এভাবে আঁকা হয়েছে: قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلْقِيْكُمْ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَى عُلِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ০
"এদেরকে বলো, যে মৃত্যু হতে তোমরা পালাচ্ছো তাতো তোমাদের নিকট আসবেই। অতপর তোমরা সেই মহান সত্তার নিকট উপস্থাপিত হবে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য সবই জানেন। আর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন তা সবই, যা তোমরা করছিলে।"
অর্থাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। তাই এ জীবনেই পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি নাও।
সূরা আন নিসার-৭৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: أَيْنَ مَا تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ .
"তুমি যেখানেই আশ্রয় নাও না কেনো, তা যদি মযবুত দুর্ভেদ্য দুর্গ হয় সেখানেও তোমাকে মৃত্যুর ছোবল গিয়ে স্পর্শ করবে।"
সূরা আস সাজদার ১১ আয়াতে আল্লাহ বলেন: قُلْ يَتَوَفَّكُمْ مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وَكِلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُوْنَ .
"তাদেরকে বলো, মৃত্যুর যে ফেরেশতাকে তোমাদের ওপর নিযুক্ত করা হয়েছে, সে তোমাদেরকে পুরাপুরি নিজের মুঠির মধ্যে ধারণ করে নিবে। পরে তোমাদেরকে তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনা হবে।"
মৃত্যুর সুনির্দিষ্টতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সূরা ইউনুসের ৪৯ আয়াতে আরো বলেছেন: إِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَلَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ )
"মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় যখন এসে যায়। এক মুহূর্ত আগে অথবা এক মুহূর্তও পরে তা সংঘটিত হবে না। অর্থাৎ ঠিক ঠিক ক্ষণেই তা ঘটে যাবে।"
نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ .
"আমিই তোমাদের মৃত্যুকে বন্টন ও নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর আমি এতে কিছুমাত্র অক্ষম নই।"-সূরা আল ওয়াক্বেয়া : ৬০
মৃত্যুর দিকেই মানুষ ছুটে চলছে। অথচ এদিকে তার লক্ষ নেই। তাই আল্লাহ তাআলা সূরা ইনশিক্বাকের ৬ আয়াতে বলেছেন :
يَأَيُّهَا الْإِنْسَانُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَى رَبِّكَ كَدْحًا فَمُلْقِيْهِ “হে মানুষ তুমি তীব্র আকর্ষণে নিজের আল্লাহর দিকে চলে যাচ্ছ এবং তাঁর সাথেই সাক্ষাত করবে।"
সূরা আন নিসার ১৮ আয়াতে বলা হয়েছে :
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّاتِ ، حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْشَّنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوْتُوْنَ وَهُمْ كُفَّارٌ ، أَوْلَئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
"কিন্তু তাদের জন্য তাওবার কোনো অবকাশ নেই যারা অব্যাহতভাবে পাপকার্য করতেই থাকে। এ অবস্থায় যখন তাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় তখন সে বলে যে, এখন আমি তাওবা করলাম। অনুরূপভাবে তাদের জন্যেও কোনো তাওবা নেই, যারা মৃত্যু পর্যন্ত কাফেরই থেকে যায়। এসব লোকের জন্য আমরা কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছি।"
সূরা আল আনআমের ৬১ আয়াতে বলা হয়েছে:
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ ) "যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন তাঁর প্রেরিত ফেরেশতা তার প্রাণ বের করে নেয় এবং নিজেদের কর্তব্য পালনে একবিন্দু ত্রুটি করে না।"
সূরা আল আনআমের ৯৩ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّلِمُونَ فِي غَمَرَتِ الْمَوْتِ وَالْمَلْئِكَةُ بَاسِطُوا أَيْدِيهِمْ ، أخْرِجُوا أَنْفُسَكُمْ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ أَيَتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ .
"তুমি যদি যালেমদেরকে সেই অবস্থায় দেখতে পেতে, যখন তারা মৃত্যুর যাতনায় হাবুডুবু খেতে থাকবে এবং ফেরেশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলতে থাকবে, দাও, বের করো তোমাদের জান-প্রাণ। আজ তোমাদেরকে সেইসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে লাঞ্ছনার আযাব দেয়া হবে, আল্লাহর ওপর মিথ্যা দোষারোপ করে যা তোমরা অকারণে প্রলাপ করছিলে এবং তাঁর আয়াতের মুকাবিলায় অহংকার-বিদ্রোহ দেখাচ্ছিলে।"
সূরা আল আনফালের ৫০ আয়াতে বলা হয়েছে: وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا لَا الْمَلَئِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ ، وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ .
"তোমরা যদি সেই অবস্থা দেখতে পেতে যখন ফেরেশতারা নিহত কাফেরদের রূহ কব্য করছিলো। তারা তাদের মুখাবয়ব ও পশ্চাত দেহের ওপর আঘাত করছিল এবং বলছিল: নেও এখন আগুনে জ্বলার শাস্তি ভোগ করো।"
সূরা আন নাহলের ৩২ আয়াতে বলা হয়েছে: الَّذِينَ تَتَوَفَّهُمُ الْمَلَئِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُوْنَ سَلْمٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ
"সেই মুত্তাকীদেরকে, যাদের রূহসমূহ পবিত্র অবস্থায় যখন ফেরেশতাগণ কর্য করে, তখন বলে: "শান্তি বর্ষিত হোক তোমাদের ওপর, তোমরা যাও জান্নাতে, তোমাদের আমলের বিনিময়ে।"
সূরা আন নাহলের ৭০ আয়াতে বলা হয়েছে: وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ ثُمَّ يَتَوَفَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَّنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْ لَا يَعْلَمَ بَعْدَ عِلْمٍ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ عَلِيْمٌ قَدِيرٌهُ
"আরো লক্ষ করো, আল্লাহ তোমাদের পয়দা করেছেন, পরে তিনি তোমাদেরকে মৃত্যুদান করেন, আর তোমাদের কেউ নিকৃষ্টতম বয়স পর্যন্ত উপনীত হয়, যেন সবকিছু জানার পরও কিছুই জানে না। প্রকৃত কথা এই যে, আল্লাহ জ্ঞান ও জানার ব্যাপারেও পূর্ণ পরিণত, ক্ষমতা ও শক্তিতেও তাই।”
সূরা কাফের ১৯ আয়াতে বলা হয়েছে: وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ، ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُهُ "অতপর লক্ষ করো, এ মৃত্যু যাতনা পরম সত্য নিয়ে সমুপস্থিত। এটা তাই যা থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলে।”
সূরা আল মুনাফিকূনের ১১ আয়াতে বলা হয়েছে: وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاءَ أَجَلُهَا ، وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ “অথচ যখন কারো কর্মসময় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত এসে পড়ে, তখন আল্লাহ তাকে কখনোই অধিক অবকাশ দেন না। আর তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ সে বিষয়ে পূর্ণ ওয়াকিফহাল রয়েছেন।"
সূরা আবাসার ২১ আয়াতে বলা হয়েছে: ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ "এরপর তাকে মৃত্যু দিলেন ও কবরে পৌঁছাবার ব্যবস্থা করলেন।”
আখিরাতের জীবন কুরআনের ভাষায় আমি সূচনাতেই বলে এসেছিলাম, মানুষ জন্ম আর মৃত্যুকে অস্বীকার করে না। অস্বীকার করে মৃত্যুর পরবর্তী জীবন আখিরাতকে, আবার কবর হতে উঠাকে, আখিরাতের জীবনের আল্লাহর করে রাখা সকল ব্যবস্থাকে। এরাই মূলত নাস্তিক, আল্লায় অবিশ্বাসী। আল্লাহসহ আল্লাহর সকল বিধি ব্যবস্থাকে তারা অবিশ্বাস করে। করে অস্বীকার। অসম্ভব বলে মনে করে। এদের এসব অসম্ভবের চিন্তা ও ধারণাকে অমূলক, বুদ্ধি চিন্তাবিবর্জিত কাণ্ডজ্ঞানহীন ঘোষণা দিয়ে এসবের সম্ভাব্যতার অতি প্রকৃত উদাহরণ দিয়ে কুরআনের বহু জায়গায় আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। যেমন সূরা ইয়াসিনের ৭৮ আয়াত থেকে ৮৩ আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ অবিশ্বাসী নাস্তিকদের পুনর্জন্ম অস্বীকারের অসারতা প্রকাশ করে বলেছেন: وَضَرَبَ لَنَا مَثَلاً وَنَسِيَ خَلْقَهُ ، قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَاهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ ، وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ نِ الَّذِي جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الشَّجَرِ الْأَخْضَرِ نَارًا فَإِذَا أَنْتُمْ مِّنْهُ تُوْقِدُونَ
“এখন সে আমার ওপর দৃষ্টান্ত ও উপমা প্রয়োগ করে এবং নিজের জন্ম ও সৃষ্টির ব্যাপারটি ভুলে যায়। বলে কে এসব অস্থিমজ্জাগুলোকে জীবন্ত করবে যখন এগুলো জরাজীর্ণ হয়ে গেছে? তাকে বলো! এসবকে তিনিই জীবিত করবেন যিনি এগুলোকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। তিনি তো সৃষ্টির সব কাজের কুশল জান্তা। তিনি, যিনি তোমাদের জন্য শ্যামল-সবুজ গাছ হতে আগুন সৃষ্টি করেছেন। তোমরা তা দিয়ে তোমাদের চুলা জ্বালাও।"
এরপরই আল্লাহ বলেছেন: أَوَ لَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ بِقَدِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ ، بَلَى وَهُوَ الْخَلْقُ الْعَلِيمُ ، إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ فَسَبِّحْنَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
"যিনি আকাশগুলো ও যমীন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি ওদের মতো আবার সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? কেন নন? তিনি তো সুদক্ষ কুশলী সৃষ্টিকর্তা। তিনি যখন কোনো জিনিসের ইচ্ছা করেন তখন তাঁর কাজ শুধু নির্দেশ দেয়া যে, হয়ে যাও আর অমনি তা হয়ে যায়। পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সব জিনিসের কর্তৃত্ব রয়েছে। আর তাঁরই দিকে তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।"
সূরা আদ দাহর-এর ১-২ আয়াতে নাস্তিক মুশরিকদের ধ্যান-ধারণাকে খণ্ডন করে আল্লাহ বলেছেন: هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ حِينٌ مِّنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَّذْكُورًا و إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُّطْفَةٍ أَمْشَاجِ و نَّبْتَلِيْهِ فَجَعَلْنَهُ سَمِيعًا بَصِيْرًا
"মানুষের ওপর কি সীমাহীন কালের একটা সময় এমনও অতিবাহিত হয়েছে, যখন তারা উল্লেখ করার মতো কোনো জিনিসই ছিলো না। আমি মানুষকে এক সংমিশ্রিত শুক্র হতে সৃষ্টি করেছি যাতে আমি তাদের পরীক্ষা নিতে পারি। আরো এ উদ্দেশ্যে যে, আমি তাদেরকে শুনার ও দেখার শক্তি সম্পন্ন করে বানিয়েছি। অর্থাৎ জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেকবান করে বানিয়েছি।"
জন্মের আগের এসব সত্য কথার প্রতি লক্ষ করে কি কেউ মৃত্যুর পরের জীবন ও আখিরাতের ব্যবস্থাপনার প্রতি অবজ্ঞা অবহেলা অস্বীকারকারী
হতে পারে? সূরা ইউনুসের ৪ আয়াতে এ অবিশ্বাসীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আল্লাহ বলেছেন:
اِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا ، وَعْدَ اللهِ حَقًّا ، اِنَّهُ يَبْدَوُا الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ لِيَجْزِيَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ بِالْقِسْطِ وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيْمٍ وَّعَذَابٌ اَلِيْمٌ بِمَا كَانُوْا يَكْفُرُوْنَ
“তোমাদের সকলকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। এটা আল্লাহর পাকাপোক্ত কথা। সৃষ্টির সূচনা অবশ্যই তিনি করেন। দ্বিতীয়বার সৃষ্টিও তিনি করবেন। যেন যারা ঈমান আনলো ও যারা নেক আমল করলো তাদেরকে তিনি ইনসাফের সাথে প্রতিদান দিতে পারেন। আর যারা কুফরীর পথ অবলম্বন করলো, তারা উত্তপ্ত পানি পান করবে আর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে। সত্যকে অস্বীকার করে তারা যা কিছু করেছে তার জন্যই তাঁদের শাস্তি।”
মৃত্যুর পর মানুষের শরীরের অস্থি, চর্ম, গোশত ও অণু-পরমাণু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাবার পর মানুষের পুনর্জীবিত হবার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে অবিশ্বাসীরা যে উক্তি করে তার জবাবে আল্লাহ সূরা আল কাফ এর ৪ আয়াতে বলেন:
قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنْقُصُ الْاَرْضُ مِنْهُمْ ۚ وَعِنْدَنَا كِتٰبٌ حَفِيْظٌ “মাটি মৃতের যা কিছুই খেয়ে ফেলে তা সব আমার জানা। আর আমার নিকট একখানা কিতাব রয়েছে যাতে সবকিছু সংরক্ষিত।”
পুনর্জীবন অস্বীকারকারীদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ সূরা আল হাজ্জের ৫ আয়াতে স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ اِنْ كُنْتُمْ فِيْ رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَاِنَّا خَلَقْنٰكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَّغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ وَنُقِرُّ فِى الْاَرْحَامِ مَا نَشَآءُ اِلٰۤى اَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوْۤا اَشُدَّكُمْ ۚ وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّتَوَفّٰى وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّرَدُّ اِلٰۤى اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْـًٔا
"হে মানবজাতি! মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহ করো, তাহলে মনে করে দেখো দেখি—আমি তোমাদেরকে প্রথম মাটি হতে সৃষ্টি করেছি। তারপর এক বিন্দু বীর্য থেকে। তারপর রক্তপিণ্ড থেকে। তারপর গোশত পিণ্ড থেকে। যার কিছু সংখ্যক হয় পূর্ণাঙ্গ, কিছু থেকে যায় অপূর্ণাঙ্গ। এতে তোমাদের সামনে আমার কুদরত প্রকাশ করি। মাতৃগর্ভে আমি যাকে ইচ্ছা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অর্থাৎ প্রসবকাল পর্যন্ত রেখে দেই। তারপর তোমাদেরকে শৈশব অবস্থায় মায়ের গর্ভ থেকে বাইরের জগতে নিয়ে আসি। যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ করতে পারো। তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যারা যৌবন প্রাপ্তির আগেই মৃত্যুবরণ করে। এমনও কিছু আছে যারা দীর্ঘ জীবন লাভ করে বুড়োকাল পায়। যেনো সবকিছু জেনে নেয়ার পর কিছুই না জানে।"
এ আয়াতে আল্লাহ বুঝাচ্ছেন যে, এতগুলো কাজ যদি আল্লাহ তোমাদের প্রথম সৃষ্টিতে যোগান দিতে পারেন। তাহলে দেখা জিনিসটা কিছু দিন পর আবার তিনি সৃষ্টি করতে পারবেন না কেনো? তাদের এ ভুল ভাঙাবার জন্য পূর্ব জন্ম রহস্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সূরা আল ওয়াকেয়ার ৫৮-৬২ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
أَفَرَهَ يْتُمْ مَّا تُمْنُونَهُ وَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَلِقُوْنَ نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِيْنَهُ عَلَى أَنْ تُبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُولَى فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ
"তোমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছো? তোমরা এই যে শুক্র নিক্ষেপ করো, তা থেকে তোমরা সন্তান সৃষ্টি করো, না তার সৃষ্টিকর্তা আমরা? আমরাই তোমাদের মাঝে মৃত্যুকে বণ্টন ও নির্ধারণ করেছি; আর আমরা কিছুমাত্র অক্ষম নই। এ কাজ থেকে যে, তোমাদের আকৃতি পরিবর্তন করে দিবো এবং এমন একটা আকৃতিতে তোমাদেরকে সৃষ্টি করবো, যা তোমরা জানো না। নিজেদের প্রথম সৃষ্টি লাভকে তো তোমরা জানো, তাহলে তোমরা কেন শিক্ষা লাভ করবে না?"
সূরা আশ শূরা ২০ আয়াতে আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন:
مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْلَهُ فِي حَرْثِهِ ، وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَّصِيبٍ .
"যে কেউ আখিরাতের ফসল চায়, তার ফসল আমরা বৃদ্ধি করি। আর যে লোক দুনিয়ার ফসল পেতে চায়, তাকে দুনিয়া থেকেই দান করি; কিন্তু পরকালে তার কিছুই প্রাপ্য হবে না।”
সূরা আল বাকারার ৮১ আয়াতে বলেন: بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُوْلَئِكَ أَصْحَبُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خُلِدُونَ
"বস্তুত যে ব্যক্তিই পাপ করবে এবং নিজের পাপজালে নিজেরাই বিজড়িত হবে, তারাই জাহান্নামী হবে এবং তারা জাহান্নামেই চিরদিন থাকবে।"
সূরা আল বাকারার ১২৩ আয়াতে বলেন: وَاتَّقُوا يَوْمًا لا تَجْزِى نَفْسٌ عَنْ نَّفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا تَنْفَعُهَا شَفَاعَةً وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ
"তোমরা ভয় করো সেই দিনটিকে যখন কেউ কারো একবিন্দু উপকারে আসবে না, কারো নিকট থেকে কোনো 'বিনিময়' গ্রহণ করা হবে না, কোনো সুপারিশই কাউকে একবিন্দু উপকার দান করবে না, আর পাপীগণ কোনো দিক দিয়েও কিছুমাত্র সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।"
সূরা আল বাকারার ২৮১ আয়াতে বলেন: وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللهِ تف ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لا يُظْلَمُونَ
"আর সেদিনের লাঞ্ছনা ও বিপদ থেকে আত্মরক্ষা করো যেদিন তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে। তথায় প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার উপার্জিত পাপ কিংবা গুনাহর পুরোপুরি ফলদান করা হবে এবং কখনো কারো উপর যুলুম করা হবে না।"
সূরা আলে ইমরানের ২৮ আয়াতে বলেন: لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَفِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ، وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ
فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَةً ، وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ، وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
“মু’মিনগণ যেন কখনো ঈমানদার লোকদের পরিবর্তে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক ও সহযাত্রীরূপে গ্রহণ না করে। যে এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তার কোনোই সম্পর্ক থাকবে না। অবশ্য তাদের যুলুম থেকে বাঁচার জন্য বাহ্যত এরূপ কর্মনীতি অবলম্বন করলে তা আল্লাহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের সম্পর্কে ভয় দেখাচ্ছেন, তোমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে।”
সূরা আলে ইমরানের ৫৬ আয়াতে বলেন: فَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَأُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَمَا لَهُمْ مِّنْ نَّصِرِينَ
“যারা অমান্য ও অস্বীকার করার ভূমিকা অবলম্বন করেছে তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বত্রই কঠিন শাস্তি দান করবো এবং তারা কোনো সাহায্যকারী পাবে না।”
সূরা আলে ইমরানের ৭৭ আয়াত: إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ مّن وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“আর যারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথ—প্রতিজ্ঞাসমূহ সামান্য বা নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করে ফেলে আখিরাতে তাদের জন্য কোনো অংশই নির্দিষ্ট নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ না তাদের সাথে কথা বলবেন, না তাদের প্রতি চেয়ে দেখবেন, আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন; বরং তাদের জন্য তো কঠিন ও উৎপীড়ক শাস্তি রয়েছে।”
সূরা আলে ইমরানের ৮৫ আয়াতে বলেন: وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ ، وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخُسِرِينَ
“এ আনুগত্য ইসলাম ছাড়া যে ব্যক্তি অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করতে চায় তার সেই পন্থা একেবারেই কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে ব্যর্থ ও বঞ্চিত হবে।”
সূরা আলে ইমরানের ১৪৫ আয়াতে বলেন: وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ، وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا ، وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الْآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا ، وَسَنَجْزِي الشَّكِرِينَ
“কোনো প্রাণীই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মরতে পারে না। মৃত্যুর সময় তো নির্দিষ্টভাবে লিখিত রয়েছে। যে ব্যক্তি ইহকালীন ফলের আশায় কাজ করবে তাকে আমরা এ দুনিয়া থেকেই দান করবো, আর যে আখিরাতের সুফল পাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে কাজ করবে, সে আখিরাতেই সওয়াব পাবে। এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারীদেরকে তাদের কাজের ফল আমি নিশ্চয় দান করবো।"
সূরা আলে ইমরানের ১৭৬ আয়াতে বলেন: وَلَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ إِنَّهُمْ لَنْ يَضُرُّوا اللَّهَ شَيْئًا ، يُرِيدُ اللهُ اَلا يَجْعَلَ لَهُمْ حَظًّا فِي الْآخِرَةِ ، وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ Ο
"হে নবী! আজ যারা কুফরীর পথে যারপরনেই চেষ্টা-সাধনা করছে তাদের কর্মতৎপরতা যেন তোমাদেরকে চিন্তান্বিত না করে। তারা আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতিও করতে পারবে না। আল্লাহর ইচ্ছা এই যে, আখিরাতে কোনো অংশই তাদের জন্য রাখবেন না। সবশেষে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি নির্দিষ্ট রয়েছে।"
সূরা আন নিসার ৫৯ আয়াতে বলেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاه
"হে ঈমানদারগণ! আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রাসূলের এবং সেইসব লোকেরও, যারা তোমাদের মধ্যে সামগ্রিক দায়িত্বসম্পন্ন।
অতপর তোমাদের মধ্যে যদি কোনো ব্যাপারে মতবৈষম্যের সৃষ্টি হয় তবে তাকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা প্রকৃতই আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমানদার হয়ে থাকো। এটাই সঠিক কর্মনীতি এবং পরিণতির দিক দিয়েও এটাই উত্তম।"
সূরা আন নিসার ৭৭ আয়াতে বলেন:
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلَوةَ وَآتُوا الزَّكُوةَ : فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْيَةِ اللَّهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةً ، وَقَالُوا رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَيْنَا الْقِتَالَ ، لَوْلَا أَخَّرْتَنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ ، قُلْ مَتَاعُ الدُّنْيَا قَلِيلٌ ، وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ لِمَنِ اتَّقَى ، وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيْلاً .
"তুমি তাদেরকেও দেখেছো কি? তাদেরকে বলা হয়েছিল যে, তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখ, নামায কায়েম করো ও যাকাত দাও। এখন তাদেরকে লড়াই করার আদেশ করা হলে তখন তাদের এক দল লোকের অবস্থা এই যে, তারা অন্য লোকদেরকে এমন ভয় করে যেমন আল্লাহকে ভয় করা উচিত। অথবা তার চেয়েও বেশী। তারা বলে: হে আল্লাহ! এ লড়াই করার আদেশ কেন আমাদের প্রতি লিখে দিলে? আমাদেরকে আরো কিছু কাল অবসর দেয়া হলো না কেন? তাদেরকে বলো, দুনিয়ার জীবন-সম্পদ অত্যন্ত কম। আর আখিরাত একজন আল্লাহভীরু ব্যক্তির জন্য অতিশয় উত্তম। মনে রেখো তোমাদের প্রতি একবিন্দু পরিমাণও যুলুম করা হবে না।"
সূরা আন নিসার ১৩৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন:
مَنْ كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللهِ ثَوَابُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا بَصِيرًا
“যে ব্যক্তি শুধু দুনিয়ার সওয়াবের সন্ধানী সে যেনো জেনে রাখে যে, আল্লাহর নিকট দুনিয়ার সওয়াবও রয়েছে আর আখেরাতের সওয়াবও। আল্লাহ বস্তুতই সবকিছু শোনেন ও সবকিছু দেখেন।"
সূরা আল মায়েদার ৫ আয়াতে বলেন:
الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَتُ ، وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتُبَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ مِّن حِلٌّ لَّهُمْ ، وَالْمُحْصَنَتُ مِنَ الْمُؤْمِنَتِ وَالْمُحْصَنَتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتُبَ مِّنْ قَبْلِكُمْ إِذَا أَتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحْصِنِيْنَ غَيْرَ مُسَافِحِيْنَ وَلَا مُتَّخِذِى أَخْدَانٍ ، وَمَنْ يَكْفُرْ بِالْإِيْمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ ، وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخُسِرِيْنَ
“আজ তোমাদের জন্য সকল পাক জিনিসই হালাল করে দেয়া হয়েছে। আহলি কিতাবের খানা খাওয়া তোমাদের জন্য হালাল, তোমাদের খানা তাদের জন্যও হালাল। এবং সুরক্ষিতা নারীরাও তোমাদের জন্য হালাল—তারা ঈমানদার লোকদের মধ্য থেকে হোক কিংবা পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের মধ্য থেকে হোক। তবে শর্ত এই যে, তোমরা তাদের 'মোহরানা' আদায় করে বিবাহ- বন্ধনে তাদের রক্ষক হবে, স্বাধীন লালসা পূরণ কিংবা গোপনে লুকিয়ে বন্ধুত্ব করে নয়। যে কেউ ঈমানের নীতি অনুযায়ী চলতে অস্বীকার করবে তার জীবনের সমস্ত কাজ নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আখিরাতে সে দেউলিয়া হবে।”
সূরা আল মায়েদার ৩৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন : إِنَّمَا جَزَؤُا الَّذِيْنَ يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُّقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ، ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ
“যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে লড়াই করে এবং যমীনে ফাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায় তাদের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি হত্যা কিংবা শূলে চড়ানো অথবা তাদের হাত ও পা উল্টা দিক থেকে কেটে ফেলা, কিংবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা। এ লাঞ্ছনা ও অপমান হবে এ দুনিয়ায় : আর আখিরাতে তাদের জন্য এটা অপেক্ষাও কঠিনতম শাস্তি নির্দিষ্ট রয়েছে।”
সূরা আল মায়েদার ৪১ আয়াতে বলেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ لَا يَحْزُنكَ ٱلَّذِينَ يُسَٰرِعُونَ فِى ٱلْكُفْرِ مِنَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِأَفْوَٰهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِن قُلُوبُهُمْ ۖ وَمِنَ ٱلَّذِينَ هَادُوا۟ سَمَّٰعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّٰعُونَ لِقَوْمٍ ءَاخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ ۖ يُحَرِّفُونَ ٱلْكَلِمَ مِنۢ بَعْدِ مَوَاضِعِهِۦ ۖ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَٰذَا فَخُذُوهُ وَإِن لَّمْ تُؤْتَوْهُ فَٱحْذَرُوا۟ ۚ وَمَن يُرِدِ ٱللَّهُ فِتْنَتَهُۥ فَلَن تَمْلِكَ لَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا ۚ أُولَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَمْ يُرِدِ ٱللَّهُ أَن يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ ۚ لَهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا خِزْىٌ ۖ وَلَهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ
“হে রাসূল! কুফরীর পথে যারা দ্রুত পদচারণার পরাকাষ্ঠা দেখাচ্ছে তারা যেন তোমার মর্মপীড়ার কারণ না হয়, যদিও তারা এমন সব লোকের অন্তরভুক্ত হয় যারা মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান আনেনি অথবা তারা এমন সব লোকের অন্তরভুক্ত হয় যারা ইহুদী হয়ে গেছে, যাদের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, তারা মিথ্যা ভাষণ শোনার জন্য কান পেতে বসে থাকে এবং যারা কখনো তোমার কাছে আসেনি তাদের জন্য আড়ি পেতে থাকে, আল্লাহর কিতাবের শব্দাবলীর সঠিক স্থান নির্ধারিত হওয়া সত্ত্বেও যারা সেগুলোকে তাদের আসল অর্থ থেকে বিকৃত করে এবং লোকদের বলে, যদি তোমাদের এ হুকুম দেয়া হয় তাহলে মেনে নাও অন্যথায় মেনো না। যাকে আল্লাহ নিজেই ফিতনার মধ্যে নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেন, তাকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচাবার জন্য তোমরা কিছুই করতে পারো না। এসব লোকের অন্তরকে আল্লাহ পবিত্র করতে চাননি। এদের জন্য দুনিয়াতে আছে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে কঠিন শাস্তি।"
সূরা আল মায়েদার ৬৯ আয়াতে বলেন:
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ هَادُوا۟ وَٱلصَّٰبِـُٔونَ وَٱلنَّصَٰرَىٰ مَنْ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ وَعَمِلَ صَٰلِحًا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
"(নিশ্চয় জেনো, এখানে কারো একচেটিয়া বন্দোবস্ত নেই) মুসলিম হোক কি ইহুদী, সাবী হোক কি ঈসায়ী-যে-ই আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে এবং নেক কাজ করবে, এটা নিসন্দেহ যে, তার না কোনো ভয়ের কারণ আছে, না দুঃখ ও চিন্তার।"
সূরা আল আনআমের ৩২ আয়াতে বলেন: وَمَا الْحَيَوةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَعِبٌ وَلَهْوَ، وَالدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ . أَفَلَا تَعْقِلُونَ
"দুনিয়ার এ যিন্দেগী একটি ক্রীড়া ও তামাশার ব্যাপার ছাড়া কিছু নয়; প্রকৃতপক্ষে আখিরাতের স্থান তাদের জন্য কল্যাণকর, যারা (আজ) ধ্বংসের গ্রাস থেকে আত্মরক্ষা করতে চায়। তবে তোমরা কি কিছুমাত্র বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিবে না?"
সূরা আল আ'রাফের ৪৫ আয়াতে বলেন: الَّذِينَ يَصُdُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ۚ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ كَفَرُونَهُ
"যারা লোকদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা দিতো, তাকে বাঁকা করতে চাইতো এবং আখিরাতের অস্বীকারকারী হয়ে গিয়েছিল।"
সূরা আত তাওবার ৩৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيْتُمْ بِالْحَيُوةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيُوةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ
"হে ঈমানদার লোকেরা! তোমাদের কি হয়েছে, তোমাদেরকে যখন আল্লাহর পথে বের হবার নির্দেশ দেয়া হলো, তখন তোমরা যমীনকে আঁকড়ে ধরে থাকলে? তোমরা কি আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে পসন্দ করে নিয়েছো? এটাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, দুনিয়ার জীবনের এসব সাজ-সরঞ্জাম আখিরাতে খুব সামান্যই মনে হবে।"
সূরা আত তাওবার ৬৯ আয়াতে বলেন: كَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْكُمْ قُوَّةً وَأَكْثَرَ أَمْوَالًا وَأَو ، فَاسْتَمْتَعُوا بِخَلَاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِخَلاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ بِخَلاقِهِمْ وَخُضْتُمْ كَالَّذِي خَاضُوا ، أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَأُولَئِكَ هُمُ الْخَسِرُونَ
"তোমাদের হাব-ভাব তাই, যা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ছিল। তারা বরং তোমাদের অপেক্ষাও পরাক্রমশালী ও অধিক সম্পদ ও সন্তানের অধিকারী ছিলো। এর কারণে তারা দুনিয়ায় নিজেদের অংশের মজা লুটে নিয়েছে—যেমন তারা লুটেছিলো। আর সেই ধরনের তর্ক-বিতর্কে তোমরাও লিপ্ত হয়েছো যে ধরনের বিতর্কে তারা লিপ্ত হয়েছিলো। অতএব তাদের পরিণাম এই হলো, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় কাজকর্ম নিষ্ফল হয়ে গেলো এবং তারাই এখন ক্ষতিগ্রস্ত।"
সূরা আত তাওবার ৭৪ আয়াতে বলেন:
يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا ، وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدِ إِسْلَامِهِمْ وَهَمَّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا ، وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَغْنُهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِنْ فَضْلِهِ ، فَإِنْ يَتُوبُوا يَكُ خَيْرًا لَّهُمْ ، وَإِنْ يَتَوَلَّوْا يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ عَذَابًا أَلِيمًا * فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَمَا لَهُمْ فِي الْأَرْضِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيْرِهِ
"এ লোকেরা আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, তারা সেই কথা বলেনি, অথচ তারা নিশ্চয়ই সেই কুফরী কথা বলেছে। তারা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরী অবলম্বন করেছে, আর তারা সেইসব কাজ করার ইচ্ছা করেছিলো যা তারা করতে পারেনি। তাদের এ সকল ক্রোধ কেবল এ কারণেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল ও ধনশালী করে দিয়েছেন। এখন যদি তারা নিজেদের এ আচরণ হতে ফিরে আসে, তবে তাদের জন্য ভালো। তবে তাদের পক্ষেই ভালো; অন্যথায় আল্লাহ তাদেরকে অত্যন্ত পীড়াদায়ক শাস্তি দান করবেন—দুনিয়ায় এবং আখিরাতেও, আর পৃথিবীতে এরা নিজেদের কোনো সমর্থক ও সাহায্যকারী পাবে না।"
সূরা ইউনুসের ৬৩-৬৪ আয়াতে বলেন:
الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُوْنَ لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ، لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَتِ اللَّهِ ، ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"যারা ঈমান এনেছে এবং যারা তাকওয়ার আচরণ অবলম্বন করেছে, দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় জীবনে তাদের জন্য কেবল সুসংবাদই
রয়েছে। আল্লাহর কথাসমূহ বদলাতে পারে না। এটাই অতি বড়ো সাফল্য।"
সূরা হূদের ১৫-১৬ আয়াতে বলেন: مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيُوةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لا يُبْخَسُونَ ، أَوْلَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَطِلٍّ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
"যেসব লোক শুধু এ দুনিয়ার জীবন এবং তার চাকচিক্যের অনুসন্ধানী হয়, তাদের কাজ-কর্মের যাবতীয় ফল আমরা এখানেই তাদেরকে দান করি, আর তাতে তাদের প্রতি কোনোরূপ কমতি করা হয় না। কিন্তু আখিরাতে তাদের জন্য আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। তারা দুনিয়ায় যাকিছু বানিয়েছে, তা সবই বিলীন হয়ে গেছে এবং তাদের যাবতীয় কৃতকর্ম সম্পূর্ণরূপে নিষ্ফল হয়েছে।”
সূরা হূদের ১৯-২২ আয়াতে বলেনঃ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُوْنَهَا عِوَجًا وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كُفِرُونَ أُولَئِكَ لَمْ يَكُونُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ وَمَا كَانَ لَهُمْ مِّنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ، يُضْعَفُ لَهُمُ الْعَذَابُ ، مَا كَانُوا يَسْتَطِيعُونَ السَّمْعَ وَمَا كَانُوا يُبْصِرُونَ أَوْلَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ لَأَجَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْأَخْسَرُونَ .
"সেই যালেমদের ওপর যারা আল্লাহর পথ থেকে লোকদেরকে ফিরিয়ে রাখে, তার থেকে বাঁকা-টেরা করে দিতে চায়, আর আখিরাতকে অস্বীকার করে। তারা যমীনে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারতো না, আর না আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সাহায্যকারী কেউ ছিল। তাদেরকে এখন দ্বিগুণ আযাব দেয়া হবে। তারা না কারো কথা শুনতে পারতো, না তাদের বুদ্ধিতে কিছু আসতো। এরা সেই লোক, যারা নিজেদেরকে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আর তারা যাকিছু রচনা করেছিল, তা সবকিছু তাদের নিকট থেকে হারিয়ে গেছে। অনিবার্যভাবে তারাই আখিরাতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির মধ্যে পড়বে।"
সূরা ইউসুফের ৫৭ আয়াতে: وَلَاجْرُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ لِلَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُوْنَ .
"আর আখিরাতের কর্মফল তাদের জন্য অধিক কল্যাণময় যারা ঈমান এনেছিল এবং আল্লাহকে ভয় করে কাজ করছিল।"
সূরা ইউসুফের ১০৯ আয়াতে বলেন: وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ الأَرِجَالاً نُّوْحِي إِلَيْهِمْ مِّنْ أَهْلِ الْقُرَى ، أَفَلَمُ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ ، وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا ، أَفَلَا تَعْقِلُوْنَ
"হে মুহাম্মাদ! তোমার পূর্বে আমরা যে নবী পয়গম্বর পাঠিয়েছিলাম তারা সকলে মানুষই ছিল। আর এ জনবসতিরই অধিবাসী ছিল এবং তাদের প্রতি আমরা অহী পাঠিয়েছিলাম। এখন এ লোকেরা কি দুনিয়ায় ঘুরেফিরে বেড়ায়নি, সেই জাতিসমূহের পরিণাম তাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি যারা তাদের পূর্বে অতীত হয়ে গেছে? নিশ্চিতই আখিরাতের ঘর তাদেরই জন্য আরো উত্তম যারা (নবী-রাসূলদের কথা মেনে নেবে) তাকওয়ার নীতি ও আচরণ অবলম্বন করেছে। এখনো কি তোমরা বুঝবে না?"
সূরা আর রা'দের ২৬ আয়াতে বলেনঃ اللهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ، وَفَرِحُوا بِالْحَيُوةِ الدُّنْيَا ، وَمَا الحيوةُ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا مَتَاعٌ
"আল্লাহ যাকে চান রিস্কের প্রাচুর্য দান করেন, আর যাকে চান পরিমিত পরিমাণে রিস্ক দেন। এ লোকেরা দুনিয়ার জীবনের আনন্দে নিমগ্ন হয়ে আছে। অথচ দুনিয়ার জীবন আখিরাতের তুলনায় এক সামান্য জিনিস ছাড়া আর কিছুই নয়।"
সূরা আর রা'দের ৩৪ আয়াতে বলেন: لَهُمْ عَذَابٌ فِي الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَقُّ ، وَمَا لَهُمْ مِّنَ اللَّهِ مِنْ واق
"এ ধরনের লোকদের জন্য দুনিয়ার জীবনেই আযাব রয়েছে, আর আখিরাতের আযাব তো তা থেকেও কঠিন ও কঠোর। এমন কেউ নেই যে, তাদেরকে আল্লাহর (আযাব) থেকে রক্ষা করবে।"
সূরা ইবরাহীমের ৩ আয়াতে বলেন: الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَوةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا ، أُولَئِكَ فِي ضَلَلٍ بَعِيدٍ .
"যারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের ওপর অগ্রাধিকার দান করে, যারা আল্লাহর পথ থেকে লোকদেরকে বিরত রাখে এবং চায় যে, এ পথ (তাদের কামনা-বাসনা অনুযায়ী) বাঁকা হয়ে যাক। এ লোকেরা গোমরাহীতে বহুদূরে চলে গেছে।"
সূরা ইবরাহীমের ২৭ আয়াতে বলেন: يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللهُ الظَّلِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ .
"ঈমান গ্রহণকারীদেরকে আল্লাহ এক প্রতিষ্ঠিত-প্রমাণিত কথার ভিত্তিতে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই প্রতিষ্ঠা দান করেন। আর যালেম লোকদেরকে আল্লাহ বিভ্রান্ত করে দেন। আল্লাহর ইখতিয়ার রয়েছে, যা চান করেন।"
সূরা আন নাহলের ২২ আয়াতে বলেন: إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ، فَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ قُلُوبُهُمْ مُنْكِرَةٌ وَهُمْ مُسْتَكْبِرُونَ
"তোমাদের ইলাহ শুধু এক ইলাহ। কিন্তু যারা আখিরাতকে মানে না তাদের অন্তরে আল্লাহর অস্বীকৃতি আসন গেড়ে বসেছে। আর তারা আত্ম-অহংকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।"
সূরা আন নাহলের ৩০ আয়াতে বলেন: وَقِيلَ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا مَاذَا أَنْزَلَ رَبُّكُمْ ، قَالُوا خَيْرًا لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ ، وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ ، وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِينَ
"অপরদিকে, আল্লাহভীরু লোকদের নিকট জিজ্ঞেস করা হয়: এটা কি জিনিস, যা তোমাদের আল্লাহর তরফ থেকে নাযিল হয়েছে? তখন তারা জবাব দেয়: খুবই উত্তম ও উৎকৃষ্ট জিনিস নাযিল হয়েছে। এ ধরনের নেক্কার লোকদের জন্য এ দুনিয়ায়ও কল্যাণ রয়েছে, আর আখিরাতের ঘর তো নিশ্চিতই তাদের পক্ষে খুবই কল্যাণকর হবে। বড়ই উত্তম ঘর মুত্তাকী লোকদের।"
সূরা আন নাহলের ৬০ আয়াতে বলেন: لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ ۖ وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَىٰ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
"খারাপ বিশেষণে অভিহিত হওয়ার যোগ্য তো সেই লোকেরা যারা আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। আর আল্লাহ, তাঁর জন্য তো সবচেয়ে উত্তম ও উন্নত গুণাবলী শোভনীয়। তিনিই তো সকলের উপর বিজয়ী এবং জ্ঞান-বুদ্ধিতে পরিপূর্ণ।”
সূরা আন নাহলের ১০৬-১০৭ আয়াতে বলেন: مَنْ كَفَرَ بِاللهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللهِ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ۞ ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ
“যে ব্যক্তি ঈমান গ্রহণের পর কুফরী করে, (সে যদি) বাধ্য হয়ে গিয়ে থাকে, অথচ তার অন্তর ঈমানের প্রতি পূর্ণ আস্থাবান ও অবিচল থাকে, তবে কোনো দোষ নেই কিন্তু যে লোক উন্মুক্ত মন নিয়ে কুফরী কবুল করে নিবে, তার ওপর আল্লাহর গযব বর্ষিত হবে এবং এমন সব লোকের জন্য বড়ো বড়ো আযাব রয়েছে। এটা এ কারণে যে, তারা আখিরাত অপেক্ষা ইহকালের জীবনকেই পসন্দ করে নিয়েছে। আর আল্লাহর নিয়ম হলো, তিনি সেই লোকদেরকে মুক্তির পথ দেখান না যারা তাঁর নেয়ামতের না-শোকরী করে।"
সূরা বনী ইসরাঈলের ১০ আয়াতে বলেন:
وَأَنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا "আর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদেরকে জানিয়ে দাও, তাদের জন্য আমরা অত্যন্ত পীড়াদায়ক আযাব প্রস্তুত করে রেখেছি।"
সূরা বনী ইসরাঈলের ১৭-১৯ আয়াতে বলেন: وَكَمْ أَهْلَكْنَا مِنَ الْقُرُونِ مِنْ بَعْدِ نُوحٍ ، وَكَفَى بِرَبِّكَ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُّرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ : يَصْلُهَا مَذْمُومًا مَّدْحُورًا وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأَوْلَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَّشْكُورًا
"চেয়ে দেখো, কতো শত বংশধারা এমন যারা নূহের পরে আমাদের হুকুমে ধ্বংস হয়ে গেলো। তোমার আল্লাহ তাঁর বান্দাদের গুনাহখাতা সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিফহাল। আর তিনি সবকিছু দেখছেন। যে কেউ (এ পৃথিবীতে) নগদ পেতে ইচ্ছুক তাকে আমরা এখানেই দিয়ে দিই। যাকেই যা দিতে চাই। অতপর তার ভাগ্যে জাহান্নাম লিখে দিই যা তাকে উত্তপ্ত করবে, সে হবে ভর্ৎসিত ও রহমত বঞ্চিত। আর যে লোক পরকালকামী এবং তার জন্য চেষ্টা-সাধনা করে, যতখানি তার জন্য চেষ্টা-সাধনা করা দরকার, সে যদি মু'মিন হয়, তাহলে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির চেষ্টা-সাধনাই সাদরে গৃহীত হবে।"
এভাবে গোটা কুরআনে প্রায় ৫৫ জায়গায় আখিরাতের অকাট্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 কবরে নিঃসঙ্গ জীবন বা আলামে বারযাখ

📄 কবরে নিঃসঙ্গ জীবন বা আলামে বারযাখ


কিয়ামত সংঘটিত হবার আগে যারা মৃত্যুবরণ করেছে, তারা কিয়ামত হবার আগ পর্যন্ত কবরেই থাকবে। এ কবরের নিঃসঙ্গ জীবনের নামই মূলত আলামে বারযাখ। কবর বলতে কোনো নির্দিষ্ট গুহা নয়। মৃত্যুর পর ব্যক্তি যেভাবে যেখানে থাকে তা-ই তার কবর বা তার আলামে বারযাখ। নদী বা সাগরের অতল তল হতে পারে তা। মাটির সমতল ভূমিও হতে পারে। হতে পারে পাহাড়ের উঁচু চূড়া ও হিংস্র সাপদের পেটও। কবরের এ নিঃসঙ্গ জীবনকে যেমন আলামে বারযাখ বলা হয়। তেমনি এ জীবনকে ইল্লীন ও সিজ্জীনও বলা যায়। আগুনে পুড়ে ফেললেও বারযাখের জীবন থেকে বেঁচে থাকার তার কোনো উপায় নেই।
সূরা আল মু'মিনূনের ১০০ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعثُونَ
"তখন এসব (মরে যাওয়া লোকদের) পিছনে একটি বারযাখ (অন্তরায়) হয়ে আছে পরবর্তী জীবনের দিন পর্যন্ত।"
অর্থাৎ এখন দুনিয়া ও কবরবাসীদের মধ্যে একটি প্রতিবন্ধক বর্তমান। যা তাদেরকে ফিরে আসতে দেবে না। কিয়ামত পর্যন্ত তারা দুনিয়া ও পুনরুত্থানের এই ব্যবধান সীমার মধ্যে পড়ে থাকবে।
যেহেতু মৃত্যুর পরপরই কবরে শুইয়েই তার দুনিয়ার জীবনের ভালো খারাপের হিসাব নিকাশ হবে না। জান্নাত জাহান্নামের ফায়সালা হবে না। আল্লাহর ব্যবস্থা অনুযায়ী গোটা পৃথিবী ও এর মধ্যে সেদিন পর্যন্ত মানুষসহ যাকিছু থাকবে সব ধ্বংস করে দিয়ে আবার পুনরুত্থান ঘটবে। তাই এ সময়টায় দুনিয়া ও কিয়ামতের আগে আলামে বারযাখে মানুষের রূহ অবস্থান করবে। আলামে বারযাখের ছবি আল্লাহ পাক সূরা মু'মিনূনের ৯৯-১১৫ আয়াতে এঁকেছেন:
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُوْنِ لَعَلَى أَعْمَلُ صَالِحًا فِيْمَا تَرَكْتُ كَلاً ، إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ، وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُوْنَ فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ فَلَا أَنْسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا
يَتَسَاءَلُونَ ، فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خُلِدُونَ ، تَلْفَحُ وُجُوهَهُمُ النَّارُ وَهُمْ فِيهَا كُلِحُونَ أَلَمْ تَكُنْ آيَتِي تُتْلَى عَلَيْكُمْ فَكُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُونَ قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَلِمُونَ قَالَ اخْسَنُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ إِنَّهُ كَانَ فَرِيقٌ مِنْ عِبَادِي يَقُولُونَ رَبَّنَا أَمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّحِمِينَ فَاتَّخَذْتُمُوهُمْ سِخْرِيًّا حَتَّى أَنْسَوْكُمْ ذِكْرِي وَكُنْتُمْ مِّنْهُمْ تَضْحَكُونَ إِنِّي جَزَيْتُهُمُ الْيَوْمَ بِمَا صَبَرُوا لَا أَنَّهُمْ هُمُ الْفَائِزُونَ ، قُلْ كَمْ لَبِثْتُمْ فِي الْأَرْضِ عَدَدَ سِنِينَ قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ فَسْئَلِ الْعَادِينَ قُلْ إِنْ لَبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا لَّوْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ
“এমনকি, যখন তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু এসে পৌঁছবে, তখন বলতে শুরু করবে : হে আমার রব! আমাকে সেই দুনিয়ায়ই ফিরিয়ে দাও যা আমি পিছনে ফেলে এসেছি। আশা আছে, আমি এখন নেক আমল করবো। কখখনো নয়, এটা তো একটি কথামাত্র যা সে বলছে। এখন এসব (মরে যাওয়া লোকের) পিছনে একটি বারযাখ (অন্তরায়) হয়ে আছে পরবর্তী জীবনের দিন পর্যন্ত। পরে যখন শিঙা ফুঁকা হবে, তখন তাদের মধ্যে আর কোনো আত্মীয়তা থাকবে না, আর না তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করবে। সেই সময় যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই কল্যাণ লাভ করবে। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারা হবে সেই লোক যারা নিজেরাই নিজেদেরকে মহাক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ করেছে ; তারা জাহান্নামে চিরদিন থাকবে। আগুন তাদের মুখাবয়বের চামড়া চেটে খাবে। আর তাদের জিহ্বা বের হয়ে আসবে। তোমরা কি সেই লোক নও যে, তোমাদেরকে আমার আয়াত শুনানো হতো, তখন তোমরা তাকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করতে চেষ্টা করতে ? তারা বলবে : হে
আমাদের রব! আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের গ্রাস করে ফেলেছিল। আমরা বাস্তবিকই গোমরাহ লোক ছিলাম। হে রব! এখন আমাদেরকে এখান থেকে বের করে দাও। অতঃপর যদি আমরা অপরাধ করি তাহলে যালেম প্রমাণিত হবো। আল্লাহ জবাব দিবেন, দূর হয়ে যাও আমার সামনে থেকে, পড়ে থাক তারই মধ্যে। আর মুখ খুলো না। তোমরা তো সেই লোক, আমার কিছু বান্দাহ যখন বলতোঃ হে আমাদের পরোয়ারদেগার, আমরা ঈমান এনেছি, আমাদের মাফ করে দাও, আমাদের প্রতি রহম করো, তুমি সব রহমকারীদের থেকে অতি উত্তম দয়াবان। তখন তোমরা তাদের ঠাটা-বিদ্রূপ করতে। এমন কি তাদের বিরুদ্ধে জিদ তোমাদেরকে একথাও ভুলিয়ে দিয়েছে যে, আমিও আছি। আর তোমরা তাদের উপর হাস্যরস করতে। আজ তাদের সেই ধৈর্যশীলতার এ ফল আমি দিয়েছি। তারাই সফলকাম। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন : বলো, দুনিয়ায় তোমরা কতো দিন ছিলে? তারা বলবে, একদিন কিংবা একদিনেরও কোনো অংশ আমরা সেখানে অবস্থান করেছি। হিসাব-কারীদের নিকট জিজ্ঞেস করে দেখো। বলা হবে, অল্পকালই তোমরা ছিলে, না। একথা তোমরা সেই সময় জানতে যদি! তোমরা কি বুঝে নিয়েছিলে, আমরা তোমাদেরকে অকারণেই পয়দা করেছি, আর তোমাদেরকে কখনো আমাদের দিকে ফিরে আসতে হবে না?"
ইল্লীন
যেসব লোক দুনিয়ায় সৎকাজ করেছে, আল্লাহর দেয়া সব বিধান মেনে চলছে। আল্লাহর মূল বিধান দুনিয়ায় কায়েম করার জন্য জীবনপণ সংগ্রাম করেছে। তার রূহ আলামে বারযাখে অবস্থান করবে ইল্লীন নামক সুখময় স্থানে। এ ইল্লীনে জান্নাতের পরিবেশ বিরাজ করবে।
আলামে বারযাখের ইল্লীনবাসীদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক সূরা আন নাহলের ৩২ আয়াতে বলেছেন:
الَّذِينَ تَتَوَفَّهُمُ الْمَلَئِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلَمٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ
بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ
"সেই মুত্তাকীদের রূহগুলোকে পবিত্র অবস্থায় ফেরেশতাগণ কবয করে। তখন তারা বলে, "শান্তি বর্ষিত হোক তোমাদের ওপর। তোমরা যাও জান্নাতে, তোমাদের নেক আমলের বিনিময়ে।"
আলামে বারযাখে যারা ইল্লীনে বসবাস করবে ও হিসাব-নিকাশের পর জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের মৃত্যু হবে অপেক্ষাকৃত আরামের। আর যারা সিজ্জীনে বসবাস করবে ও হিসাব-নিকাশের পর জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তাদের রূহ কবয হবে খুবই কষ্টে। নীচের হাদীসটিতে একথাগুলো ফুটে উঠেছে খুবই সুন্দরভাবে।
কবরের নিঃসঙ্গতা
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمْ يُلْحَدْ بَعْدُ، فَجَلَسَ النَّبِيُّ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ وَجَلَسْنَا مَعَهُ كَأَنَّ عَلَى رُوسِنَا الطَّيْرُ -
"হযরত বারাআ ইবনে আযেব রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একজন আনসার সাহাবীর জানাযার জন্য রওয়ানা হলাম। আমরা তার কবর পর্যন্ত গেলাম। তখনো তাকে কবরে শোয়ানো হয়নি। রাসূলুল্লাহ স. কেবলামুখী হয়ে বসলেন। আমরাও তার সাথে এমনভাবে চুপচাপ বসে রইলাম যেন আমাদের মাথার উপর পাখী বসে আছে।"
সিজ্জীন
আর যারা দুনিয়ায় পাপাচারে লিপ্ত ছিলো। আল্লাহর হুকুম-আহকাম মেনে চলেনি। আল্লাহর পরিপূর্ণ জীবন বিধান যা আল্লাহর নবী-রাসূলদের বিশেষ করে শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা কায়েম করার জন্য কোনো সংগ্রাম ও চেষ্টা প্রচেষ্টা চালায়নি, ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক হয়নি। তারা কিয়ামত সংঘটিত হবার আগ পর্যন্ত থাকবে সিজ্জীন নামক স্থানে। সিজ্জীনে বিরাজ করবে জাহান্নামের পরিবেশ।
আলামে বারযাখের (কবর) সিজ্জীনবাসীদের ব্যাপারে আল্লাহ পাক কুরআনে কারীমের সূরা আল মু'মিনের ৪৫-৪৬ আয়াতে বলেছেন: وَحَاقَ بِالِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوا وَعَشِيًّا : وَيَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ مَن أُدْخِلُوا أَلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ
"আর ফিরাউনের সঙ্গী সাথীগণ নিকৃষ্টতম শাস্তির মধ্যে পড়ে গেলো। তাদের উপর সকাল সন্ধ্যায় জাহান্নামের আগুন পেশ করা হয়। আর কিয়ামতের মুহূর্ত এসে পড়লে হুকুম হবে ফিরাউনের দলবলকে কঠিন আযাবে নিক্ষেপ করো।"
আলামে বারযাখের সিজ্জীনবাসীদের ব্যাপারে সূরা আন নাহলের ২৮-২৯ আয়াতে বলা হয়েছে:
الَّذِينَ تَتَوَفَّهُمُ الْمَلَئِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ ۖ فَالْقَوْا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِنْ سُوءٍ ۚ بَلَىٰ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ۖ فَادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۖ فَلَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ
"আর যারা নিজেদের ওপর যুলুম করা অবস্থায় ফেরেশতাদের 'হাতে ধরা পড়ে অর্থাৎ তাদের মৃত্যু হয় তারা অমনী আত্মসমর্পণ করে বসে, আর বলে, "আমরা তো কোনো অপরাধ করছিলাম না।” ফেরেশতারা জবাবে বলবে, কেমন করে করছিলে না। আল্লাহ তো তোমাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে খুবই ওয়াকিফহাল।" এখন যাও জাহান্নামের দরজাসমূহের কাছে প্রবেশ করো। সেখানেই তোমাদেরকে চিরদিন অবস্থান করতে হবে।"
সূরা আন নিসার ৯৭ আয়াতে বলা হয়েছে:
إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّهُمُ الْمَلَئِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُوا فِيمَ كُنْتُمْ ۖ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الْأَرْضِ ۚ قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا ۚ فَأُولَٰئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَسَاءَتْ مَصِيرًا
"যারা নিজেদের আত্মার ওপর যুলুম করছিলো, এ অবস্থায় ফেরেশতাগণ যখন তাদের জান কব্য করবে, তখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে: তোমরা কি অবস্থায় ছিলে? জবাবে তারা বললো: আমরা দুনিয়ায় দুর্বল ও অক্ষম ছিলাম। ফেরেশতাগণ বলবে: আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিলো না— তোমরা কি অন্যস্থানে হিজরত করে যেতে পারতে না? এসব লোকের পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত খারাপ জায়গা।"

📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 কবর বা আলামে বারযাখ আখিরাতের প্রথম সোপান

📄 কবর বা আলামে বারযাখ আখিরাতের প্রথম সোপান


আলামে বারযাখ বা কবর আখিরাতের জীবনের অসংখ্য সোপানের প্রথম সোপান। আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন:
إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنْزِلٍ مِنْ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ - فَإِنْ نَجِّي مِنْهُ صَاحِبُهُ فَمَا بَعْدَ أَيْسَرُ مِنْهُ - وَإِنْ لَمْ يَنْجِ مِنْهُ فَمَا بَعْدَ أَشَدُّ مِنْهُ -
"কবরই হচ্ছে পরকালের সোপানগুলোর প্রথম সোপান। এ সোপানে কেউ মুক্তি পেলে পরবর্তী সোপানগুলো পার হওয়া তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। আর এ সোপানে মুক্তি না পেলে পরের সোপানগুলো পার হওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠে।"
কবরের জীবন সম্পর্কে কুরআনের সূরা আল আবাসায় ১৯-২২ আয়াতে বলা হয়েছে:
مِنْ نُّطْفَةٍ ، خَلَقَهُ فَقَدَّرَهُ ثُمَّ السَّبِيلَ يَسَّرَهُ ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ ثُمَّ إِذَا شَاءَ أَنْشَرَهُ .
"শুক্রের একটি ফোঁটা দিয়ে আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন, পরে তার নিয়তি নির্দিষ্ট করেছেন। পরে তার জন্য জীবনের পথ সহজ বানিয়ে দিয়েছেন। এরপর তাকে মৃত্যু দিলেন ও কবরে পৌঁছাবার ব্যবস্থা করলেন। শেষে যখন চাইবেন তিনি তাকে পুনরায় উঠিয়ে দাঁড় করে দিবেন।"
আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন:
قَالَ رَسُولُ الله ﷺ : إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُوهُ بِالْغَدَاوَةِ وَالْعَشِيِّ - إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ - فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ - فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ فَيُقَالُ هُذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
"তোমাদের কারো মৃত্যু হলে প্রতিদিন কবরে সকাল সন্ধ্যায় তাকে তার স্থায়ী বাসস্থান দেখানো হয়। জান্নাতীদেরকে জান্নাত দেখানো হয়। আর জাহান্নামীদেরকে জাহান্নাম দেখানো হয়। বলা হয় এটাই তোমার স্থায়ী নিবাস। কিয়ামত সংঘটিত হবার পরে হিসাব নিকাশ শেষে তোমাকে এখানে পাঠানো হবে।"-বুখারী
হাদীসটি হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে।
আলামে বারযাখ তথা কবরে জাহান্নামীরা জাহান্নামের কঠিন আযাব ভোগ করবে। আর জান্নাতে যাবেন যারা তারা জান্নাতের স্বাদ ভোগ করবেন। হাদীসে আছে:
عَنْ عَائِشَةَ رَض أَنَّ يَهُودِيَّةَ دَخَلَتْ عَلَيْهَا فَذَكَرَتْ عَذَابَ الْقَبْرِ - فَقَالَتْ لَهَا أَعَاذِكَ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ - فَسَأَلَتْ عَائِشَةُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنْ عَذَابٍ الْقَبْرِ - فَقَالَ نَعَمْ عَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ - قَالَتْ عَائِشَةُ فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ بَعْدُ صَلَّى صَلوةَ إِلَّا تَعَوَّذَ بِاللهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ - بخاری، مسلم
"হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, এক ইহুদী নারী তাঁর কাছে এসে কবর আযাবের কথা উঠালো। তার কথা শুনে হযরত আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহ তোমাকে কবর আযাব থেকে মুক্তি দিন। এরপর মা আয়েশা রা. রাসূলুল্লাহ স.-কে কবর আযাবের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে আল্লাহর রাসূল বলেন, কবরের আযাব সত্য। হযরত আয়েশা বলেন, এরপর থেকে আর কোনো দিন আমি আল্লাহর রাসূলকে নামাযের পর কবর আযাব হতে মুক্তি চেয়ে দোআ না করতে দেখিনি। -বুখারী, মুসলিম
আলামে বারযাখ তথা কবরে পাপীদের শাস্তির কথা হযরত আবু সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত একটি হাদীসে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন:
لَيُسَلِّطُ عَلَى الْكَافِرِ فِي قَبْرِهِ تِسْعَةً وَتِسْعُونَ تَنِينَا - تَنْهَسُهُ وَتَلْدَغُهُ حَتَّى تَقُومُ السَّاعَةُ لَوْ أَنَّ تَنِينَا مِنْهَا نَفَخَ فِي الْأَرْضِ حَتَّى تَقُومَ مَا أَنْبَتَتْ خَضِرًا -
"কাফেরদের কবরে নিরানব্বইটি বিষধর সাপ থাকবে। কিয়ামত হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে দংশন করতে থাকবে। এরা এতো বিষধর হবে যে, এর একটি যদি পৃথিবীতে শ্বাস ফেলতো, পৃথিবীর সব সবুজ সজীবতা-শ্যামলতা নিঃশেষ হয়ে যেতো। কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে আর কোনো সবুজ ফসল জন্মাতো না।"
আর আলামে বারযাখে তথা কবরে মু'মিনদের অবস্থা বর্ণনা করে হাদীসে উল্লেখ হয়েছে:
قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا دُفِنَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ قَالَ لَهُ الْقَبْرُ مَرْحَبًا وَأَهْلاً - أَمَا إِنْ كُنْتَ لَأَحَبَّ مَنْ يَمْشِي عَلَى ظَهْرِى إِلَيَّ - فَإِذَا أُوْلَيْتُكَ الْيَوْمَ وَصْرِتَ إِلَى فَسَتَرَى صُنْعِيْبِكَ - فَيَتَسِعُ لَهُ مَدْ بَصَرَهُ وَيَفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ - ترمذی
"আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, মু'মিন বান্দাকে দাফন করার পর কবর তাকে বলে, শুভাগমন তুমিতো তোমার বাড়ীতেই এসেছো। পৃথিবীতে যারা আমার পিঠের উপর দিয়ে চলাচল করতো তাদের মধ্যে তুমিই ছিলে আমার কাছে বেশী প্রিয়। আজ তোমাকে আমার কাছে সোপর্দ করা হয়েছে, তুমি আমার কাছে এসেছো। তুমি এখন দেখবে আমি তোমার সাথে কতো সুন্দর আচরণ করি। তারপর দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত কবর প্রশস্ত হয়ে যাবে জান্নাতের দিকে তার জন্য একটি দরজা খুলে দেয়া হবে।"-তিরমিযী
হাদীসে বর্ণিত, মৃত্যুর পর মু'মিন ব্যক্তির রূহ ইল্লীনে পৌঁছার পর আগ থেকে থাকা ওখানকার রূহগুলো আনন্দে তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করতে থাকবে। তারপর জিজ্ঞেস করতে থাকে, অমুখ ব্যক্তি কেমন আছে? তারপর বলবে, তাকে একটু আরাম করতে দাও। এতোদিন দুনিয়ায় খুব ব্যস্ত ছিলো। এ রূহটি দুনিয়ার বিভিন্ন লোকের অবস্থা এদের কাছে বলতে থাকবে। বলবে অমুকে এমন আছে, অমুকে এমন আছে, সে পূর্বে মৃত্যুবরণকারীদের কথা উল্লেখ করে বলবে, অমুকতো মারা গেছে। সে তোমাদের কাছে আসেনি? তারা বলবে, তাহলে তাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
কিয়ামত সংঘটিত হবার পর যখন কবরবাসীদেরকে উঠানো হবে তখন তাদের কাছে কবরের জীবনটা একটা স্বপ্নের মতো মনে হবে। হাশরের
ময়দানে উপস্থিত হয়ে তারা কি বলবে তা সূরা ইয়াসিনের ৫২ আয়াতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তারা বলবে:
يُوَيْلَنَا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَّرْقَدِنَا هُذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ
"হায়! কে আমাদেরকে আমাদের স্বপ্নশয্যা হতে উঠিয়ে আনলো? এটা তো তাই, যার ওয়াদা রহমান আল্লাহ তাআলা করেছিলেন। আর নবী-রাসূলদের কথা তো ষোলআনা সত্যে পরিণত হলো।"
কিয়ামত সম্পর্কে কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণী সূরা আল বাকারার ৪৮ আয়াতে বলেন:
وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِى نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا . يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ .
"এবং সেদিনের ভয় করো, যেদিন কেউ কারো কোনো কাজে আসবে না। কারো সম্পর্কে কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। কোনো কিছুর বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না এবং পাপীদের কোনো দিক থেকেই সাহায্য করা হবে না।"
সূরা আলে ইমরানের ২৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন:
فَكَيْفَ إِذَا جَمَعْنَهُمْ لِيَوْمِ لَأَرَيْبَ فِيهِ مَنْ وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لا يُظْلَمُونَ
"কিন্তু সেদিন তাদের কি অবস্থা হবে যেদিন আমরা তাদেরকে একত্রিত করবো, যেদিনের আগমন সম্পূর্ণ নিশ্চিত। সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার কাজের পুরোপুরি ফলই দেয়া হবে এবং কারো উপর যুলুম করা হবে না।"
সূরা আন নিসার ৮৭ আয়াতে তিনি বলেন:
اللهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيمَةِ لَا أَرَيْبَ فِيهِ ، وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا .
"ইলাহ তিনিই যিনি ছাড়া আর কেউ ইলাহ নেই। তিনি তোমাদের সকলকে সেই কিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, যে দিনের আগমনে
কোনোই সন্দেহ নেই। বস্তুত আল্লাহর কথা অপেক্ষা অধিক সত্য কথা আর কার হতে পারে?"
সূরা আল আনআমের ১২ আয়াতে বলা হয়েছে:
قُلْ لِمَنْ مَّا فِي السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ ، قُلْ لِلَّهِ ، كَتَبَ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ . لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيمَةِ لاَرَيْبَ فِيهِ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فَهُمْ لا يُؤْمِنُونَ .
"তাদের জিজ্ঞেস করো: আকাশজগত ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা কার মালিকানায়? বলো, সবকিছুই আল্লাহর, তিনি নিজের উপর দয়া- অনুগ্রহের নীতি অবলম্বন করার বাধ্য-বাধকতা স্বীকার করে নিয়েছেন। (এ কারণেই তোমাদের আইন অমান্য ও আল্লাহদ্রোহিতার শাস্তি সাথে সাথেই দেন না।) কিয়ামতের দিন তিনি তোমাদের সকলকে অবশ্যই একত্রিত করবেন। বস্তুত এটা এক সন্দেহাতীত সত্য। কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতি ও ধ্বংসের বিপদে নিমজ্জিত করে নিয়েছে, তারা এটা বিশ্বাস করে না।"
সূরা আল আনআমের ৩১ আয়াতে বলা হয়েছে:
قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ ، حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوا يُحَسْرَتَنَا عَلَى مَا فَرَّطْنَا فِيْهَا ، وَهُمْ يَحْمِلُوْنَ أَوْزَارَهُمْ عَلَى ظُهُورِهِمْ ، أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ )
"ক্ষতিগ্রস্ত হলো সেসব লোক যারা আল্লাহর সাথে তাদের সাক্ষাত হবার সংবাদকে মিথ্যা মনে করেছে। সেই সন্ধিক্ষণ যখন সহসা এসে পড়বে তখন এরাই বলবে: হায়! এ ব্যাপারে আমাদের দ্বারা কতোই না ত্রুটি হয়ে গেছে! তাদের অবস্থা এরূপ হবে যে, তারা নিজেদের পিঠের ওপর তাদের নিজেদের গুনাহের বোঝা বহন করে চলতে থাকবে। দেখ, এরা কত নিকৃষ্ট ধরনের বোঝা বহন করছে।"
সূরা আল আনয়ামের ৩৬ আয়াতে বলেন:
إِنَّمَا يَسْتَجِيبُ الَّذِينَ يَسْمَعُوْنَ ، وَالْمَوْتَى يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ ثُمَّ إِلَيْهِ يُرْجَعُوْنَ )
"আসলে সত্যের দাওয়াত পেয়ে তারাই সাড়া দেয় যারা শুনতে পায়; আর যারা মুর্দা তাদেরকে তো আল্লাহ কবর থেকেই জীবিত করে
উঠাবেন। তখন আল্লাহর বিচারালয়ে উপস্থিত হবার জন্য তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।"
সূরা আল আনআমের ৩৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন:
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ ، مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتٰبِ مِنْ شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ .
"যমীনের ওপর বিচরণশীল কোনো জন্তু এবং বাতাসে ডানার সাহায্যে উড়ন্ত কোনো পাখিই দেখ, এরা তোমাদের মতোই বিচিত্র জাতি- প্রজাতি। আমরা এদের নিয়তি নির্ধারণ করায় কোনো ত্রুটি রাখিনি। শেষ পর্যন্ত এদের সকলকেই তাদের আল্লাহর দিকে একত্রিত করে উপস্থিত করা হবে।”
সূরা আল আনআমের ৭৩ আয়াতে আছে:
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ ، وَيَوْمَ يَقُولُ كُنْ فَيَكُونُ ، قَوْلُهُ الْحَقُّ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ ، عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ، وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُه
"তিনিই আসমান-যমীনকে সত্যতা সহকারে সৃষ্টি করেছেন এবং যেদিন তিনি বলবেন হাশর হও সেদিনই 'হাশর' হবে। তাঁর কথা সর্বাত্মকভাবে সত্য এবং যেদিন শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে, সেদিন সর্বাত্মক বাদশাহী নিরংকুশভাবে তাঁরই হবে। গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুই তাঁর জানা; তিনি অত্যন্ত সুবিজ্ঞ ও ওয়াকিফহাল।"
সূরা আল আ'রাফের ১৮৭ আয়াতে আছেঃ يَسْتُلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسُهَا ، قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي : لا يُجِلَّيْهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ ، لَا تَأْتِيْكُمْ إِلَّا بَغْتَةً ، يَسْتَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا ، قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ )
"এ লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞেস করে: আচ্ছা, সেই কিয়ামতের সময়টি কখন আসবে? বলো: এর জ্ঞান কেবলমাত্র আমার আল্লাহর নিকটই
রয়েছে, 'কিয়ামতের নির্দিষ্ট সময়ে তিনিই তা প্রকাশ করবেন। আসমান ও যমীনে তা বড়ো কঠিন দিন হবে। তা তোমাদের নিকট আকস্মিকভাবে এসে পড়বে। এ লোকেরা এর সম্পর্কে এমনভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে, যেন তুমি তারই সন্ধানে মশগুল হয়ে রয়েছো। বলো: কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে। অধিকাংশ লোকই এ নিগূঢ় সত্যকে জানে না, বুঝে না।"
আল্লাহ সূরা হূদের ১০৪ আয়াতে বলেন: وَمَا نُؤَخِّرُهُ إِلَّا لِأَجَلٍ مَّعْدُودَةٌ
"আমরা সেদিনকে আনতে খুব বেশী বিলম্ব করছি না; মাত্র কয়েকটি গণনা করা দিনের সময়ই তার জন্য নির্দিষ্ট।"
সূরা ইউসুফের ১০৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন:
أَفَأَمِنُوا أَنْ تَأْتِيَهُمْ غَاشِيَةٌ مِّنْ عَذَابِ اللَّهِ أَوْ تَأْتِيَهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً وَهُمْ لا يشعرون .
"তারা কি নিশ্চিন্ত যে, আল্লাহর তরফ থেকে কোনো আযাব এসে তাদেরকে গ্রাস করে নিবে না? কিংবা অজ্ঞাতসারে কিয়ামতের নির্দিষ্ট মুহূর্ত সহসাই তাদের ওপর এসে পড়বে না?"
সূরা ইবরাহীমের ৪৪ আয়াতে তিনি বলেনঃ
وَأَنْذِرِ النَّاسَ يَوْمَ يَأْتِيهِمُ الْعَذَابُ فَيَقُولُ الَّذِينَ ظَلَمُوا رَبَّنَا أَخَّرْنَا إِلَى أجَلٍ قَرِيب « تُجِبْ دَعْوَتَكَ وَنَتَّبِعِ الرَّسُلَ ، أَوَلَمْ تَكُونُوا أَقْسَمْتُمْ مِّنْ قَبْلُ مَا لَكُمْ مِّنْ زَوَالٍ هُ
“(হে মুহাম্মাদ!) সেদিন সম্পর্কে তুমি এ লোকদেরকে ভয় দেখাও, যখন আযাব এদেরকে গ্রাস করবে। তখন এ যালেমরা বলবে: হে আমাদের রব, আরো কিছু সময় অবকাশ দাও, আমরা তোমার দাওয়াতে সাড়া দিব ও নবী-রাসূলদের অনুসরণ করবো। কিন্তু (তাদেরকে স্পষ্ট জবাব দেয়া হবে,) তোমরা কি সেই লোক নও যারা ইতিপূর্বে কসম করে বলছিলে, আমাদের তো কখনই পতন হবে না?"
সূরা ইবরাহীমের ৪৮ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ تُبَدِّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَوتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ
"তাদেরকে সেদিনের ভয় দেখাও যখন যমীন ও আসমান বদল করে অন্য কিছু করে দেয়া হবে এবং সবকিছু মহাপরাক্রমশালী একমাত্র আল্লাহর সামনে উন্মোচিত স্পষ্ট হয়ে উপস্থিত হবে।"
সূরা কাহফের ৯৯ আয়াতে আল্লাহ বলেন :
وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْتُهُمْ جَمْعًاهُ "আর সেদিন আমরা লোকদেরকে ছেড়ে দিব, (সমুদ্রের তরঙ্গমালার মতো তারা) পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। আর শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে এবং আমরা সব মানুষকে এক সাথে একত্রিত করবো।"
সূরা মারইয়ামের ৩৯ আয়াতে আল্লাহ বলেন:
وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ ، وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ .
"হে নবী! এ অবস্থায় যখন এরা বে-খেয়াল হয়ে রয়েছে, ঈমান গ্রহণ করছে না, তাদেরকে সেদিনের ভয় দেখাও যেদিন চূড়ান্ত ফায়সালা করা হবে এবং আফসোস অনুতাপ করা ছাড়া কোনোই উপায় থাকবে না।"
আল্লাহ সূরা আল আম্বিয়ার ৩৯-৪০ আয়াতে বলেন :
لَوْ يَعْلَمُ الَّذِينَ كَفَرُوا حِيْنَ لَا يَكُفُّونَ عَنْ وُجُوهِهِمُ النَّارَ وَلَا عَنْ ظُهُورِهِمْ وَلَا هُمْ يُنْصَرُوْنَ بَلْ تَأْتِيهِمْ بَغْتَةً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ رَدَّهَا وَلَا هُمْ يُنْظَرُونَ "হায়। এ কাফেরগণ যদি সেই সময়ের কথা কিছু জানতে পারতো যখন এরা না নিজেদের মুখ আগুন থেকে বাঁচাতে পারবে, না নিজেদের- পিঠ, আর না তাদের কাছে কোনোদিক থেকে সাহায্য পৌঁছবে। সে বিপদ তো আকস্মিকভাবেই আসবে এবং এদেরকে এমনভাবে হঠাৎ করে চেপে ধরবে যে, এরা না তাকে দমন করতে পারবে, আর না এক মুহূর্তকাল তারা অবসর পাবে।"
সূরা আল আম্বিয়ার ৯৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন :
وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا ، يُوَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هُذَا بَلْ كُنَّا ظُلِمِينَ
"এবং চূড়ান্ত সত্য ওয়াদা পূর্ণ হওয়ার সময় নিকটবর্তী হয়ে আসতে শুরু করবে, তখন কাফেরদের চক্ষু বিস্ময়ে বিস্ফারিত হয়ে পড়বে। তারা বলবে: হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! আমরা এ জিনিস সম্পর্কে একেবারে গাফিলতির মধ্যে পড়ে ছিলাম। বরং আমরা অপরাধী ছিলাম।”
আল্লাহ সূরা আল আম্বিয়ার ১০৪ আয়াতে বলেন: ‏يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَى السَّجِلِ لِلْكُتُبِ ، كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيدُهُ . ‏وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَفَلَيْنَ .
"সেদিন, যেদিন আমরা আসমানকে তাবিজের পৃষ্ঠাগুলোর মত ভাঁজ করে রাখবো। যেভাবে সর্বপ্রথম আমরা সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম অনুরূপভাবে আমরা তার পুনরাবৃত্তি করবো। এটা একটি ওয়াদাবিশেষ যা পূরণ করার দায়িত্ব আমাদের। আর এ কাজ আমাদের অবশ্যই করতে হবে।"
সূরা আল হজ্জ্বের ১ ম আয়াতে তিনি বলেন: ‏يَأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٍ عَظِيمٌ .
"হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের রবের গযব হতে আত্মরক্ষা করো। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, কেয়ামতের কম্পন বড় (ভয়াবহ) জিনিস!”
সূরা আল হজ্জ্বের ৭ আয়াতে বলেন: ‏وَأَنَّ السَّاعَةَ أَتِيَةٌ لَّا رَيْبَ فِيهَا لا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِه “(এ ব্যবস্থা এটাও প্রমাণ করে যে,) কিয়ামতের মুহূর্তটি অবশ্যই আসবে, এতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই। আর আল্লাহ সেই লোকদেরকে অবশ্যই উঠাবেন যারা কবরে অন্তর্হিত হয়েছে।"
সূরা আল মু'মিনূনের ১৬ আয়াতে বলেনঃ ‏ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ تُبْعَثُونَ ) "এবং পরে কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত হতে হবে।"
সূরা আন নামলের ৮৭ আয়াতে বলেন: ‏وَيَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَفَزِعَ مَنْ فِي السَّمَوتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ ‏شَاءَ اللَّهُ ، وَكُلَّ أَتَوْهُ دُخِرِينَ )
"আর সেদিন কি হবে যেদিন শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে এবং ভীত কম্পিত হয়ে পড়বে সেইসব যাকিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে— তাদের ছাড়া যাদেরকে আল্লাহ এ ভীষণ অবস্থায় বাঁচাতে চাইবেন এবং যখন সবাই কান চেপে তাঁর সমীপে হাযির হয়ে যাবে!" সূরা আল আনকাবুতের ৫৩ আয়াতে বলেন:
وَيَسْتَعْجِلُوْنَكَ بِالْعَذَابِ وَلَوْلَا أَجَلٌ مُّسَمًّى لَجَاءَهُمُ الْعَذَابُ وَلَيَأْتِيَنَّهُمْ بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ .
"এ লোকেরা অবিলম্বে আযাব আনার জন্য তোমার নিকট দাবী করছে। সে জন্য যদি একটা সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া না হতো তবে 'ততদিনে তাদের ওপর আযাব এসে যেতো। আর নিসন্দেহে তা (নির্দিষ্ট সময়ে) অবশ্যই আসবে; আসবে হঠাৎ করে, এমন অবস্থায় যে, তারা তা টেরই পাবে না।"
সূরা আর রূমের ১১-১২ আয়াতে বলেন:
اللَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيْدُهُ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ وَيَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ يُبْلِسُ الْمُجْرِمُونَ
"আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন। পরে তিনিই তাঁর পুনরাবৃত্তি করবেন। অতপর তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। আর যখন সেই 'কিয়ামত' সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধী লোকেরা নিরাশ হয়ে যাবে।"
সূরা আর রূমের ২৫ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَمِنْ أَيْتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ ، ثُمَّ إِذَا دَعَاكُمْ دَعْوَةً وَ مِنَ الْأَرْضِ وَ إِذَا أَنْتُمْ تَخْرُجُونَ
"তাঁর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে এটাও রয়েছে যে, আসমান ও যমীন তাঁরই হুকুমে সুপ্রতিষ্ঠিত। পরে যখনই তিনি তোমাদেরকে যমীন থেকে আহ্বান করবেন, শুধুমাত্র একটি বারের আহ্বানেই সহসা তোমরা বের হয়ে আসবে।"
সূরা লুকমানের ৩ আয়াতে বলেন:
هُدًى وَرَحْمَةً لِلْمُحْسِنِينَ .
"এটা সেই সৎকর্মশীল লোকদের জন্য হেদায়াত ও রহমত বিশেষ।"
সূরা আস সাবার ৩০ আয়াতে বলেন:
قُلْ لَّكُمْ مِّيْعَادُ يَوْمٍ لَا تَسْتَأْخِرُونَ عَنْهُ سَاعَةً وَلَا تَسْتَقْدِمُونَ ০ "বলো: তোমাদের জন্য এমন এক দিনের মেয়াদ নির্দিষ্ট রয়েছে, যার আসার ব্যাপারে তোমরা না এক মুহূর্তের বিলম্ব করতে পারবে, আর না এক মুহূর্ত আগে তাকে আনতে পারবে।"
সূরা ফাতিরের ৪৫ আয়াতে বলেন:
وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوا مَا تَرَكَ عَلَى ظَهْرِهَا مِنْ دَابَّةٍ وَلَكِنْ يُؤَخِّرُهُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى ، فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِعِبَادِهِ بَصِيرًا০ "তাদের ক্রিয়া-কলাপের জন্য তিনি যদি তাদেরকে পাকড়াও করতেন, তাহলে যমীনে কোনো প্রাণীকেই বেঁচে থাকতে দিতেন না। কিন্তু তিনি তাদেরকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন। যখন তাদের সময় এসে পূর্ণ হবে, তখন আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে দেখে নিবেন।"
সূরা ইয়াসিনের ৪৯-৫০ আয়াতে বলেন:
مَا يَنْظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَخْصِمُونَ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَّلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ ০ "আসলে এ লোকেরা যে জিনিসের পথ চেয়ে আছে, তাহলো একটি প্রচণ্ড শব্দ, তা সহসাই ঠিক সময়ই তাদেরকে আঘাত হানবে যখন তারা (নিজেদের বৈষয়িক ব্যাপারে) ঝগড়ায় লিপ্ত থাকবে। তখন তারা অসিয়ত পর্যন্ত করতে পারবে না, না নিজেদের ঘরেই তারা ফিরে আসতে পারবে।"
সূরা আস্ সাফ্ফাতের ১৮-২১ আয়াতে তিনি বলেন:
قُلْ نَعَمْ وَأَنْتُمْ دَاخِرُونَ فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ يَنْظُرُونَ وَقَالُوا يُوَيْلَنَا هُذَا يَوْمُ الدِّينِ هُذَا يَوْمُ الْفَصْلِ الَّذِي كُنْتُمْ بِهِ تُكَذِّبُوْنَ ০
"তাদেরকে বলো, হ্যাঁ, তোমরা (আল্লাহর মুকাবিলায়) অক্ষম- অসহায়। একটি মাত্র ধাক্কা ও কম্পন হবে। আর সহসা এরা নিজেদের চোখে (যেসব বিষয়ে খবর দেয়া হয়েছে সে সবকিছুই) দেখতে পাবে। তখন এরা বলবে: হায়! আমাদের দুর্ভাগ্য, এটাতো বিচারের দিন। এটা সেই ফায়সালার দিন, যাকে তোমরা মিথ্যাপ্রতিপন্ন করছিলে।"
তিনি সূরা আল মু'মিনের ৫৯ আয়াতে বলেন:
إِنَّ السَّاعَةَ لَاتِيَةٌ لَارَيْبَ فِيهَا ۚ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ
"নিসন্দেহে কিয়ামতের নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই আসবে, তার আসার ব্যাপারে কোনোই সন্দেহ নেই। কিন্তু অনেক সংখ্যক লোকই তা মানে না।"
সূরা হা-মীম আস-সাজদার ৪৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন:
وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ أَيْنَ شُرَكَائِي ۙ قَالُوا آذَنَّاكَ مَا مِنَّا مِنْ شَهِيدٍ
"যেদিন তিনি সকলকে ডাকবেন: কোথায় আমার সেইসব শরীক? এরা বলবে: আমরা নিবেদন করেছি, আজ আমাদের মধ্যে কেউই এর সাক্ষ্যদাতা নেই।"
সূরা আশ শূরায় ১৭-১৮ আয়াতে বলেন':
اللَّهُ الَّذِي أَنْزَلَ الْكِتَبَ بِالْحَقِّ وَالْمِيزَانَ ۗ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ قَرِيبٌ ۞ يَسْتَعْجِلُ بِهَا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِهَا ۖ وَالَّذِينَ آمَنُوا مُشْفِقُونَ مِنْهَا ۖ وَيَعْلَمُونَ أَنَّهَا الْحَقُّ ۗ أَلَا إِنَّ الَّذِينَ يُمَارُونَ فِي السَّاعَةِ لَفِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ
"তিনিই আল্লাহ। যিনি পরম সত্যতা সহকারে এ কিতাব ও মীযান নাযিল করেছেন। তুমি কি জানো সম্ভবত ফায়সালার সময়টা অতি নিকটেই এসে পৌঁছেছে? যেসব লোক এদিনের আগমন বিশ্বাস রাখে না, তারা তো এর জন্য তাড়াহুড়ো করে; কিন্তু যারা তার প্রতি ঈমান রাখে, তারা তাকে ভয় করে। তারা জানে যে, নিসন্দেহে তা অবশ্যই আসবে। শুনে রাখো, যেসব লোক সেদিনের আগমনের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টিকারী বিতর্ক করে থাকে, তারা গোমরাহীতে অনেক দূর অগ্রসর হয়ে গেছে।"
সূরা আয যুখরুফ ১০-১১ আয়াতে বলেনঃ
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَجَعَلَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَهُ وَالَّذِي نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدَرٍ فَانْشَرْنَا بِهِ بَلْدَةً ميْتًا كَذَلِكَ تُخْرَجُونَ
"তিনিই তো তোমাদের জন্য এ যমীনকে আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের কল্যাণের জন্য পথ বানিয়ে দিয়েছেন যেন তোমরা নিজেদের গন্তব্যস্থলের পথ পেতে পারো। যিনি এক বিশেষ পরিমাণে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন এবং তার সাহায্যে মৃত যমীনকে জীবন্ত করে তুলেছেন। এমনিভাবে তোমাদেরকেও একদিন যমীন থেকে বের করা হবে।"
সূরা আদ দুখানের ৪০ আয়াতে বলেন:
إِنَّ يَوْمَ الْفَصْلِ مِيْقَاتُهُمْ أَجْمَعِينَ هُ "এসবকে উঠাবার জন্য নির্দিষ্ট দিনই ফায়সালার দিন।"
সূরা আল জাসিয়ায় ২৬ আয়াতে বলেন:
قُلِ اللَّهُ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يَجْمَعُكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيمَةِ لَأَرَيْبَ فِيهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ .
“(হে নবী!) এ লোকদেরকে বলো: আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন, তিনি তোমাদেরকে মৃত্যু দেন। পরে তিনিই তোমাদেরকে সেই কিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন যেদিনের আগমনে কোনোই সন্দেহ নেই, কিন্তু অনেক লোকই একথা জানে না।"
সূরা মুহাম্মদের ১৮ আয়াতে বলেনঃ
فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً ، فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا ، فَأَنِّي لَهُمْ إِذَا جَاءَتْهُمْ ذِكْرُهُمْ .
"এখন এ লোকেরা শুধু কি কিয়ামতের প্রতীক্ষায় রয়েছে যে, তা আকস্মিকভাবে তাদের ওপর এসে পড়বে? তার নিদর্শনাদিতো এসে পড়েছে। যখন তা নিজে এসে পড়বে তখন এ লোকদের পক্ষে কি নসীহত কবুল করার আর কোনো সুযোগটি অবশিষ্ট থাকবে?"
সূরা ক্বাফ এর ২০ আয়াতে বলেন:
وَنُفِخَ فِي الصُّورِ ، ذَلِكَ يَوْمُ الْوَعِيدِ .
"এরপর শিঙা ফুঁকা হলো। এটা সেদিন যার ভয় তোমাদেরকে দেখানো হতো।"
সূরা ক্বাফ-এর ৪১-৪২ আয়াতে বলেন:
وَاسْتَمِعْ يَوْمَ يُنَادِ الْمُنَادِ مِنْ مَّكَانٍ قَرِيبٍ يَوْمَ يَسْمَعُونَ الصَّيْحَةَ بِالْحَقِّ ، ذَلِكَ يَوْمُ الْخُرُوجِ .
"আর শোনো, যেদিন ঘোষণাকারী (প্রত্যেক ব্যক্তির) নিকট থেকেই ডাক দিবে, যেদিন সমস্ত মানুষ হাশরের ধ্বনি যথাযথ শুনতে থাকবে, তা ভূগর্ভ থেকে মৃতদের আত্মপ্রকাশ লাভের দিন হবে।"
সূরা আয যারিয়াতের ৫-৬ আয়াতে বলেন:
إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَصَادِقُ وَإِنَّ الدِّينَ لَوَاقِعهُ
"সত্য কথা এই যে, তোমাদেরকে যে জিনিসের ভয় দেখানো হচ্ছে তা নিশ্চয়ই বাস্তব ও যথার্থ। কর্মের প্রতিফল অবশ্য অবশ্যই হবে।"
সূরা আয যারিয়াতের ৬০ আয়াতে বলেন:
فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ يَوْمِهِمُ الَّذِي يُوْعَدُونَ .
“শেষ পর্যন্ত ধ্বংস কুফরকারী লোকদের জন্য সেদিন যার ভয় তাদেরকে দেখানো হচ্ছে।"
সূরা আত তূরের ৭-৮ আয়াতে তিনি বলেন:
إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعُ هُ مَالَهُ مِنْ دَافِعِ .
"এই যে, তোমার আল্লাহর আযাব অবশ্যই সংঘটিত হবে; যার কেউ প্রতিরোধকারী নেই।"
সূরা আন নাজমের ৫৭-৫৮ আয়াতে বলেন:
أَزِفَتِ الْأَرْفَةُ لَيْسَ لَهَا مِنْ دُونِ اللَّهِ كَاشِفَةٌ هُ
"আগমনকারী মুহূর্ত নিকটে এসে পৌঁছেছো। আল্লাহ ছাড়া তাকে হটাতে পারে এমন কেউ নেই।"
সূরা আল কামারের ১ আয়াて বলেন:
اقتربت الساعة وانشق القمره "কিয়ামতের মুহূর্ত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে।”
সূরা ওয়াকেয়ার ১-৩ আয়াতে বলেন:
اذا وقعت الواقعة ليس لوقعتها كاذبة خافضة رافعة "যখন সেই সংঘটিত হবার ঘটনাটি সংঘটিত হয়ে যাবে, তখন তার সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারটিকে মিথ্যা বলার কেউ থাকবে না; তা হবে উঁচা-নীচাকারী মহাপ্রলয়।"
সূরা আত তাগাবুনের ৭ আয়াতে বলেন:
زعم الذين كفروا أن لن يبعثوا قل بلى وربي لتبعثن ثم لتنبؤن بما عملتم وذلك على الله يسيره "অমান্যকারীরা ধৃষ্টতা সহকারে বললো, মৃত্যুর পর কখনই তাদেরকে পুনরায় উঠানো হবে না। তাদেরকে বলো : না, আমার আল্লাহর শপথ, তোমাদেরকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করা হবে। পরে তোমাদেরকে অবশ্যই জানিয়ে দেয়া হবে তোমরা (দুনিয়ায়) কি কি করেছো। আর এরূপ করা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।"
সূরা আল মূলকের ২৫-২৬ আয়াতে বলেন:
ويقولون متى هذا الوعد ان كنتم صدقين قل انما العلم عند الله ص وانما انا نذير مبين "এ লোকেরা বলে: তোমরা যদি প্রকৃতই সত্যবাদী হয়ে থাকো, তাহলে বলো, এ প্রতিশ্রুতি কবে বাস্তবায়িত হবে ? বলো : এ বিষয়ের জ্ঞান তো আল্লাহর নিকটই রয়েছে। আমি তো শুধু সুস্পষ্ট ভাষায় সাবধানকারী মাত্র।"
সূরা আল হাক্কার ১৩-১৫ আয়াতে বলেন:
فاذا نفخ في الصور نفخة واحدة وحملت الارض والجبال فدكتا دكة واحدة فيومئذ وقعت الواقعة
"পরে একবার যখন শিঙায় ফুঁ দেয়া হবে, এবং ভূতল ও পর্বতরাশিকে উপরে তুলে একই আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হবে। সেদিন সেই সংঘটিতব্য ঘটনাটি সংঘটিত হবে।”
সূরা আল মাআরিজের ৪২ আয়াতে বলেন:
فَذَرْهُمْ يَخُوضُوا وَيَلْعَبُوا حَتَّى يُلْقُوا يَوْمَهُمُ الَّذِي يُوْعَدُونَ )
"কাজেই এ লোকদেরকে তাদের অশ্লীল কথা ও খেল-তামাশায় লিপ্ত হয়ে থাকতে দাও, যতদিন না তাদের নিকট করা ওয়াদার দিনটি পর্যন্ত তারা পৌঁছে যায়।"
সূরা আল কিয়ামার ১-৩ আয়াতে বলেন:
لا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيمَةِ وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ ، أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ الَّنْ نُّجْمَعَ عِظَامَهُ "না, আমি কসম খাচ্ছি কিয়ামতের দিনের। আর না, আমি কসম খাচ্ছি তিরস্কারকারী মনের। মানুষ কি মনে করে বসেছে যে, আমরা তার অস্থিগুলো একত্রিত করতে পারবো না?"
সূরা আল মুরসালাতের ৭ আয়াতে বলেন:
إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَوَاقِعُ .
"তোমাদের নিকট যে জিনিসের ওয়াদা করা হচ্ছে, তা অবশ্যই সংঘটিত হবে।"
সূরা আন নাবার ১৭ আয়াতে বলেন:
إِنَّ يَوْمَ الْفَصْلِ كَانَ مِيْقَاتًا .
"চূড়ান্ত বিচারের দিন একটি পূর্ব নির্দিষ্ট দিন।”
সূরা আন নাযিআতের ৬ আয়াতে বলেনঃ
يَوْمَ تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُ .
"যে দিন কম্পনের ধাক্কা হেলিয়ে দিবে।"
সূরা নাযিআতের ৩৪ আয়াতে বলেন:
فَإِذَا جَاءَتِ الطَّامَّةُ الْكُبْرَى "অতএব যখন সেই মহা দুর্ঘটনা সংঘটিত হবে।”
সূরা আল ইনফিতারের ১৫-১৮ আয়াতে বলেন :
يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ الدِّينِ وَمَا هُمْ عَنْهَا بِغَائِبِينَهُ وَمَا أَدْرَكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ ثُمَّ مَا أَدْرَكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ “বিচারের দিন তারা তাতে প্রবেশ করবে এবং তা থেকে কক্ষণই অনুপস্থিত হতে পারবে না। আর তুমি কি জানো, সেই বিচারের দিনটি কি? হ্যাঁ, তুমি কি জানো, সেই বিচারের দিনটি কি?”
সূরা আল গাশিয়ার ১ আয়াতে বলেন :
هَلْ أَنكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ )
“তোমার নিকট সেই আচ্ছন্নকারী কঠিন বিপদ (অর্থাৎ কিয়ামত)-এর বার্তা পৌছেছে কি?”
সূরা আল ফজরের ২১ আয়াতে বলেন :
كَلَّا إِذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكَّا دَكَّاهُ “কখনো নয় পৃথিবী যখন ক্রমাগত কুটিয়ে কুটিয়ে বালুকাময় বানিয়ে দেয়া হবে।”
কুরআনে ৬৩ বার কিয়ামতের আগমন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। প্রতিটি আয়াত হৃদয় দিয়ে পড়লে ও বুঝলে মনে কম্পন ধরিয়ে দেয়।

📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 কেয়ামতের দৃশ্যের প্রাকৃতিক অবস্থা

📄 কেয়ামতের দৃশ্যের প্রাকৃতিক অবস্থা


কিয়ামত সংঘটিত হবার দিনের প্রাকৃতিক অবস্থার বর্ণনা করে কুরআনে ৩২ জায়গায় বলা হয়েছে।
সূরা আল কাহফ্ফের ৪৭ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً ، وَحَشَرْتُهُمْ فَلَمْ نُغَادِرُ مِنْهُمْ أَحَدًا
"মূলত চিন্তা ও ভাবনা তো সেদিনের হওয়া আবশ্যক, যখন আমরা পাহাড়-পবর্তগুলোকে চালিত করবো। তখন তুমি যমীনকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেখতে পাবে। আর আমরা সমস্ত মানুষকে এমনভাবে ঘিরে একত্রিত করবো যে, (আগের ও পরের) কেউই বাকী থাকবে না।"
সূরা ত্বা-হার ১০৫-১০৭ আয়াতে বলা হয়েছে:.
وَيَسْتَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنْسِفُهَا رَبِّي نَسْفَا فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفَاهُ لأَتَرَى فِيْهَا عِوَجًا وَلَا أَمْتَاهُ
"এ লোকেরা তোমার নিকট জিজ্ঞেস করে যে, সেদিন এ পাহাড় কোথায় বিলীন হয়ে যাবে? বলো, আমার রব এগুলোকে ধূলিকণায় পরিণত করে উড়িয়ে দিবেন। আর যমীনকে এমন সমতল রুক্ষ্ম-ধূসর ময়দানে পরিণত করবেন যে, তুমি তাতে কোনো উঁচু-নীচু এবং সংকোচন দেখতে পাবে না।"
সূরা আল আম্বিয়ার ১০৪ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السَّجِلِ لِلْكُتُبِ ، كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ . وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَعِلَيْنَ
"সেদিন, যেদিন আমরা আসমানকে তাবিজের পৃষ্ঠাগুলোর মতো ভাঁজ করে রাখবো। যেভাবে সর্বপ্রথম আমরা সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম। অনুরূপভাবে আমরা তার পুনরাবৃত্তি করবো। এটা একটি ওয়াদাবিশেষ যা পূরণ করার দায়িত্ব আমাদের। আর এ কাজ আমাদের অবশ্যই করতে হবে।"
সূরা আল হজ্জের ২ আয়াতে বলা হয়েছে :
يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكْرَى وَمَا هُمْ بِسُكْرَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدُه
"যেদিন তোমরা তাকে দেখবে সেদিন অবস্থা এই হবে যে, প্রত্যেক স্তন্যদানকারিণী নিজের দুগ্ধপোষ্য সন্তান থেকে গাফেল হয়ে যাবে। গর্ভবতী নারীর গর্ভ খসে পড়বে এবং লোকদেরকে তোমরা উদভ্রান্ত দেখতে পাবে। অথচ তারা নেশাগ্রস্ত হবে না। বরং আল্লাহর আযাবই এতদূর সাংঘাতিক হবে!" সূরা আল ফুরকানের ২৫ আয়াতে বলা হয়েছে :
وَيَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَاءُ بِالْغَمَامِ وَنُزِّلَ الْمَلَئِكَةُ تَنْزِيلاً
"আকাশজগত দীর্ণ করে এক মেঘপিণ্ড সেদিন আত্মপ্রকাশ করবে, আর ক্রমাগতভাবে ফেরেশতা নাযিল করা হবে।"
সূরা আন নামলের ৮৭-৮৮ আয়াতে বলা হয়েছে :
وَيَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَفَزِعَ مَنْ فِي السَّمَوتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللهُ ، وَكُلُّ أَتَوْهُ دُخرِينَ ، وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ صُنْعُ اللهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ ، إِنَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَفْعَلُوْنَ
"আর সেদিন কি হবে যেদিন শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে এবং ভীত কম্পিত হয়ে পড়বে সেসব যাকিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে—তাদের ছাড়া যাদেরকে আল্লাহ এ ভীষণ অবস্থায় বাঁচাতে চাইবেন এবং যখন সবাই কান চেপে তাঁর সমীপে হাযির হয়ে যাবে! আজ তুমি পাহাড় মনে করছো যে, তা বুঝি খুব দৃঢ়মূল হয়ে আছে; কিন্তু তখন এটা মেঘমালার মতোই উড়তে থাকবে! এটা হবে আল্লাহর কুদরতের বিস্ময়কর কীর্তি, যিনি প্রত্যেকটি জিনিসকেই সুষ্ঠুভাবে মযবুত করে বানিয়েছেন। তোমরা কি করেছো তা তিনি খুব ভালোভাবেই জানেন।"
সূরা ইয়াসিনের ৫১-৫৩ আয়াতে বলা হয়েছে :
وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَاهُمْ مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنْسِلُوْنَ قَالُوا
يُوَيْلَنَا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَّرْقَدِنَا هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ إِنْ كَانَتْ إِلا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعُ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ
“পরে এক শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে। আর সহসা তারা নিজেদের আল্লাহর সমীপে উপস্থিত হবার জন্য নিজেদের কবরসমূহ থেকে বের হয়ে পড়বে। ভীত শংকিত হয়ে বলবে: 'হায়রে! আমাদেরকে কে আমাদের শয়নস্থল থেকে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলো? এটা সেই জিনিস, দয়াময় আল্লাহ যার ওয়াদা করেছিলেন। আর নবী-রাসূলগণের কথা তো সত্যিই ছিল। একটি মাত্র প্রচণ্ড শব্দ হবে, আর সকলকেই আমাদের সামনে উপস্থিত করে দেয়া হবে।”
সূরা আয যুমারের ৬৭-৬৯ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيمَةِ وَالسَّمَوتُ مطويتُ بِيَمَيْنِهِ ، سُبْحْنَهُ وَتَعْلَى عَمَّا يُشْرِكُونَ ، وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلا مَنْ شَاءَ اللَّهُ ، ثُمَّ نُفِخَ فِيْهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامَ يَنْظُرُونَ وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكُتُبُ وَجَائَ بِالنَّبِيِّنَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
"এ লোকেরা তো আল্লাহর কোনো কদরই করলো না; তাদের কদর করা যতখানি উচিত। (তাঁর পূর্ণমাত্রার কুদরতের অবস্থা তো এই যে,) কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী তাঁর মুষ্ঠির মধ্যে হবে এবং আকাশজগত তাঁর ডান হাতের মধ্যে পেঁচানো অবস্থায় থাকবে। এ লোকেরা যে শিরক করে তা থেকে তিনি পবিত্র ও ঊর্ধে। আর সেদিন শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে। আর তারা সবাই মরে পড়ে যাবে, যারা আকাশজগত ও যমীনে আছে, সেই লোকদের ছাড়া যাদেরকে আল্লাহ জীবন্ত রাখতে চান। পরে আর একবার শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে এবং সহসা সকলেই উঠে দেখতে শুরু করবে। পৃথিবী তার আল্লাহর নূরে ঝলমল করে উঠবে। আমলনামা সামনে এনে রাখা হবে। নবী-রাসূল ও সকল সাক্ষীদেরকে উপস্থিত করা হবে। লোকদের মধ্যে যথাযথভাবে সত্য সহকারে ফায়সালা করে দেয়া হবে এবং তাদের ওপর কোনো যুলুম করা হবে না।" -সূরা আয যুমার: ৬৭-৬৯
সূরা আদ দুখানের ১০-১১ আয়াতে বলা হয়েছে:
فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ يَغْشَى النَّاسَ ، هَذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ
"আচ্ছা, তোমরা অপেক্ষা করো সেই দিনের যখন আকাশজগত সুস্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে এবং তা লোকদের ওপর আচ্ছন্ন হয়ে যাবে। এটা হলো পীড়াদায়ক আযাব।"
সূরা ক্বাফ-এর ৪৪ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ تَشَقَّقُ الْأَرْضُ عَنْهُمْ سِرَاعًا ، ذَلِكَ حَشْرٌ عَلَيْنَا يَسِيرُه "পৃথিবী দীর্ণ-বিদীর্ণ হবে, আর লোকেরা তার ভিতর থেকে বের হয়ে দ্রুততার সাথে পালিয়ে যেতে থাকবে। এ একত্রিতকরণ আমাদের জন্য খুবই সহজ।"
সূরা আত তূরের ৯-১০ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ تَمُورُ السَّمَاءُ مَوْرًا وَتَسِيْرُ الْجِبَالُ سَيْرًا هُ "তা সেদিন সংঘটিত হবে যখন আকাশজগত খুব মারাত্মকভাবে থরথর করে কাঁপবে। আর পর্বতসমূহ উড়ে বেড়াবে।”
সূরা আল কামারের ৬-৮ আয়াতে বলা হয়েছে:
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ ، يَوْمَ يَدْعُ الدَّاعِ إِلَى شَيْءٍ نُّكُرٍ خُشَعًا أَبْصَارُهُمْ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ كَأَنَّهُمْ جَرَادُ مُنْتَشِرُهُ مُهْطِعِينَ إِلَى الدَّاعِ ، يَقُولُ الْكُفِرُونَ هَذَا يَوْمٌ عَسِرُه
"অতএব হে নবী! এদের থেকে লক্ষ ফিরিয়ে নাও যেদিন আহ্বানকারী এক কঠিন দুঃসহ জিনিসের দিকে আহ্বান জানাবে, সেদিন লোকেরা শংকাগ্রস্ত, কুণ্ঠিত চোখে নিজেদের কবরসমূহ থেকে এমনভাবে বের হবে, মনে হবে তারা যেন বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল। তারা আহ্বানকারীর দিকে দৌড়িয়ে যেতে থাকবে। আর এ অমান্যকারীরাই (যারা দুনিয়ায় তার সত্যতা মেনে নিতে অস্বীকার করতো) তখন বলবে: এ দিনটিতো বড়ই কঠিন কষ্টময়।”
সূরা আর রাহমানের ৩৫ আয়াতে বলা হয়েছেঃ
يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِّنْ نَّارٍ ، وَنُحَاسُ فَلَا تَنْتَصِرْنِ
"(পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে) তোমাদের উপর আগুনের শিখা ও ধোঁয়া ছেড়ে দেয়া হবে, তোমরা যার মুকাবিলা করতে পারবে না।"
সূরা আর রাহমানের ৩৭ আয়াতে বলা হয়েছে:
فَإِذَا انْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ وَرْدَةً كَالدِّهَانِ
“(অতপর কি হবে তখন) যখন নভোজগত দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়ে যাবে ও লাল চামড়ার মতো রক্তবর্ণ ধারণ করবে?”
সূরা আল ওয়াকেয়ার ৩-৬ আয়াতে বলা হয়েছে:
خَافِضَةٌ رَّافِعَةٌ هُ إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجَّاهُ وَيُسَّتِ الْجِبَالُ بَسَّاهُ فَكَانَتْ هَبَاءُ مُنْبَنَّاهُ
"তা হবে উঁচু-নিচুকারী মহাপ্রলয়। পৃথিবীটা তখন হঠাৎ করে নেড়ে কাঁপিয়ে দেয়া হবে। আর পাহাড় এমনভাবে বিন্দু বিন্দু করে দেয়া হবে যে, তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হয়ে যাবে।”
সূরা হাক্কার ১৪ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَحُمِلَتِ الْأَرْضِ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً مِّ
“এবং ভূতল ও পর্বতরাশিকে ওপরে তুলে একই আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হবে।”
সূরা আল হাক্কার ১৬ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَانْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ .
"সেদিন আকাশ দীর্ণ-বিদীর্ণ হবে এবং তার বাঁধন শিথিল হয়ে পড়বে।"
সূরা মাআরিজর ৮-৯ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ تَكُوْنُ السَّمَاءُ كَالْمُهْلِ وَتَكُوْنُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ
"(সেই আযাব হবে সেদিন) যেদিন আকাশজগত বিগলিত রৌপ্যের মতো হয়ে যাবে। আর পর্বতগুলো রংবেরংয়ের ধুনা পশমের মত হয়ে যাবে।"
সূরা আল মুযাম্মিলের ১৪ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ تَرْجُفُ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ وَكَانَتِ الْجِبَالُ كَثِيْبًا مَّهِيلاً “এটা হবে সেদিন যখন পৃথিবী ও পর্বত কেঁপে উঠবে। আর পর্বতসমূহের অবস্থা এমন হবে যেন বালুকাস্তূপ, যা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ছে।”
সূরা আল মুযাম্মিলের ১৮ আয়াতে বলা হয়েছে:
السَّمَاءُ مُنْفَطِرُ بِهِ ، كَانَ وَعْدُهُ مَفْعُولاً .
"যার কঠোরতায় আকাশ দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়ে যেতে থাকবে? আল্লাহর ওয়াদা তো পূর্ণ হবে অবশ্যই।"
সূরা আল কিয়ামাহর ৮-৯ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَخَسَفَ الْقَمَرُهُ وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُهُ "এবং চাঁদ আলোহীন হয়ে যাবে এবং চাঁদ ও সূর্য মিলে একাকার করে দেয়া হবে।"
সূরা আল মুরসালাতের ৮-১০ আয়াতে বলা হয়েছে:
فَإِذَا النُّجُومُ طُمِسَتْ وَإِذَا السَّمَاءُ فُرِجَتْ هُ وَإِذَا الْجِبَالُ نُسِفَتْ 6 "পরে যখন নক্ষত্রমালা ম্লান হয়ে যাবে, আকাশ বিদীর্ণ করা হবে, পাহাড় ধুনে ফেলা হবে।"
সূরা আন নাবার ১৮-২০ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّوْرِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًالٌ وَفُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبْوَابًا ، وَسَيِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا "সেদিন শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে; তখন তোমরা দলে দলে বের হয়ে আসবে। আর আকাশজগত উন্মুক্ত করে দেয়া হবে—ফলে তা কেবল দুয়ার আর দুয়ার হয়ে দাঁড়াবে। পাহাড় চালিয়ে দেয়া হবে। পরিণামে তা কেবল মরীচিকায় পরিণত হবে।"
সূরা আন নাযিআতের ১৩-১৪ আয়াতে বলা হয়েছে:
فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ بِالسَّاهِرَةِ :
"অথচ এটাতো এতটুকু মাত্র কাজ যে, একটি প্রবল আকারের হুমকি পড়বে এবং সহসাই এরা উন্মুক্ত ময়দানে উপস্থিত হয়ে পড়বে।"
সূরা আত তাকবীরের ১-৭ আয়াতে বলা হয়েছে:
إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ ، وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْهُ وَإِذَا الْجِبَالُ سَيِّرَتْهُ وَإِذَا الْعِشَارُ عُمِلَتْهُ وَإِذَا الْوُحُوشِ حُشِرَتْ * وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِرَتْ وَإِذَا النُّفُوسُ زُوجَتْ هُ
"যখন সূর্য গুটিয়ে দেয়া হবে। যখন তারকাসমূহ ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। যখন পর্বতসমূহ চলমান করে দেয়া হবে। যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীগুলোকে তার নিজের অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হবে। আর যখন সব জন্তু-জানোয়ার চারদিক থেকে গুটিয়ে একত্রিত করা হবে। এবং সমুদ্র যখন উত্তেজিত করা হবে। আর যখন প্রাণীগুলোকে (শরীরের সাথে) জুড়ে দেয়া হবে।"
সূরা আত তাকবীরের ১১-১৩ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَإِذَا السَّمَاءُ كُشِطَتْ وَإِذَا الْجَحِيمُ سُعَرَتْ ، وَإِذَا الْجِنَّةُ أَزْلِفَتْهُ
"যখন আকাশজগতের অন্তরাল দূরীভূত হবে, যখন জাহান্নাম প্রজ্জলিত হবে, আর যখন জান্নাত নিকটে আনা হবে।"
সূরা আল ইনফিতারের ১-৪ আয়াতে বলা হয়েছে:
إِذا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْهُ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَثَرَتْ وَإِذَا الْبِحَارُ فُجَرَتْ ، وَإِذَا الْقُبُورُ بُعْثِرَتْ
"যখন আকাশজগত চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে, যখন তারকাসমূহ বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে, যখন সমুদ্রসমূহ দীর্ণ-বিদীর্ণ করা হবে, আর যখন কবরসমূহ খুলে দেয়া হবে।"
সূরা আল ইনশিকাকের ১-৫ আয়াতে বলা হয়েছে:
إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ، وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ * وَإِذَا الْأَرْضُ مُدَّتْ ، وَالْقَتْ مَا فِيهَا وَتَخَلَّتْهُ وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ 8
"যখন আসমান দীর্ণ হবে, এবং স্বীয় আল্লাহর নির্দেশ পালন করবে, আর তার জন্য এটাই যথার্থ (যে নিজের আল্লাহর নির্দেশ মানবে), যমীন সম্প্রসারিত করা হবে, এবং তার গর্ভে যাকিছু আছে তা সব বাইরে নিক্ষেপ করে শূন্য হয়ে যাবে। এটা করে তার আল্লাহর নির্দেশ পালন করবে, আর এটাই তার জন্য বাঞ্ছনীয় (যে তা পালন করে)।"
সূরা আল ফজরের ২১-২৩ আয়াতে বলা হয়েছে:
كَلَّا إِذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكَّا دَكَّاهُ وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا وَجَأَى . يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الْإِنْسَانُ وَأَنَّى لَهُ الذِّكْرَى *
"কখনো নয়, পৃথিবী যখন ক্রমাগত কুটিয়ে কুটিয়ে বালুকাময় বানিয়ে দেয়া হবে এবং তোমার আল্লাহ আত্মপ্রকাশ করবেন- এমতাবস্থায় যে, ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হবে ও জাহান্নাম সেদিন সর্বসমক্ষে উপস্থিত করা হবে। সেদিন মানুষ চেতনা লাভ করবে। কিন্তু তখন তার বোধশক্তি জাগ্রত হওয়ায় কি লাভ হবে।"
সূরা যিলযালের ১-২ আয়াতে বলা হয়েছে:
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا * وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا هُ
"পৃথিবী যখন ভীষণভাবে দুলিয়ে দেয়া হবে। এবং যমীন নিজের মধ্যকার সমস্ত বোঝা বাইরে নিক্ষেপ করবে।"
সূরা আল কারিআর ৪-৫ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ * وَتَكُوْنُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنْفُوشِ
"সেদিন যখন মানুষ, বিক্ষিপ্ত পোকার ন্যায় এবং পাহাড় রং-বেরং-এর ধুনা পশমের মতো হবে।"
কুরআনে কারীমের এ ৩২ জায়গায় কিয়ামতের দিনের প্রাকৃতিক অবস্থা কি হবে তার হৃদয় বিদারক ছবি আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন এঁকে দিয়েছেন।
কিয়ামত
কবরের নিঃসঙ্গ জীবন কাটাবার পর আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর নির্দিষ্ট করা সময়ে এ নশ্বর দুনিয়া লয়-প্রলয় হয়ে যাবে। বিলীন হয়ে যাবে এ
দুনিয়ার সবকিছু। এ দিনকেই কুরআনে 'কিয়ামাত' 'সাআত' 'ইয়াওমুল মাওউদ' বলে অভিহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের পর মানুষের জীবনাবসান হলো মৃত্যু। আর নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাবার পর দুনিয়ার ধ্বংসকে কিয়ামত বলা হয়।
কুরআন হাদীসের বর্ণনানুযায়ী আল্লাহ এ দুনিয়া তার মেয়াদ শেষে বিলীন করে দেয়ার জন্য তার মনোনীত ফেরেশতা হযরত ইসরাফিল আ.-কে নির্দেশ দিবেন। শিঙায় ফুঁকা তিন ভাগে হবে বলে হাদীসে উল্লেখ হয়েছে।-বুখারী
হঠাৎ করেই এ শিঙা ফুঁকা আরম্ভ হবে, এ ফুঁক দিয়ে সকলকে ভীতসন্ত্রস্ত করে কাঁপিয়ে তুলা হবে। এ ফুঁককে বলা হয় "নাফ্‌খাতুল ফাযাআ" কম্পন সৃষ্টকারী ফুঁক।
এ সম্বন্ধে আল্লাহ পাক সূরা আন নাহলের ৭৭ আয়াতে বলেন:
وَمَا أَمْرُ السَّاعَةِ إِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
"কিয়ামত তথা মহাপ্রলয় কায়েম হওয়ার ব্যাপারে- কিছুমাত্র বিলম্ব হবে না। শুধু এতোটুকু সময় মাত্র লাগবে। যে সময়ের মধ্যে চোখের পলক পড়ে, অথবা তার চেয়েও কম সময়ে। মূলকথা হলো আল্লাহ সবকিছুই করতে পারেন।"
শিঙায় ফুঁক দিয়ে এ দুনিয়া ও এর সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয়া হবে। এ বর্ণনা সূরা আয যুমারের ৬৮ আয়াতেও আল্লাহ এভাবে বলেছেন:
وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ -
"আর (আল্লাহর হুকুমে) সেদিন শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে। সাথে সাথে আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছুই মরে পড়ে থাকবে। তারা ছাড়া, যাদেরকে আল্লাহ জীবিত রাখতে চাইবেন।"
আর বাকী থাকবেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। তিনি সূরা আর রহমানের ২৭ আয়াতে এ সম্পর্কে বলেছেন:
وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُوا الْجَلْلِ وَالْإِكْرَامِ .
"আর বাকী থাকবে তোমার মহীয়ান গরিয়ান রবের সত্তা।"
ভয়াবহ দিন
এ শিঙার ফুঁকে দুনিয়া প্রলয়কাণ্ড তথা কিয়ামত সংঘটিত হবার ভয়াবহ বিবরণ আল্লাহ পাক তাঁর কিতাব আল কুরআনে স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। সূরা আল হজ্জের ১-২ আয়াত পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবার একটা সংক্ষিপ্ত অথচ পরিপূর্ণ বিবরণ দেয়া হয়েছে।
يَأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسِ سُكْرَى وَمَا هُمْ بِسُكْرَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدُه
"হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের রবের গযব হতে আত্মরক্ষা করো। কারণ কিয়ামতের দিনের কম্পন বড়ো ভয়াবহ ব্যাপার! যে দিন তোমরা এই কম্পন দেখবে, সে দিনের ভয়াবহতার অবস্থা এমন হবে যে, সেদিন প্রত্যেক দুধ দানকারিণী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে দুধ দিতে ভুলে যাবে। গর্ভবতী নারীর গর্ভ খসে পড়বে এবং লোকদেরকে তোমরা উদভ্রান্ত দেখতে পাবে। অথচ তারা নেশাগ্রস্ত হবে না। বরং আল্লাহর আযাবই হবে বড়ো ভয়াবহ।" কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা সম্পর্কে সূরা ত্বা-হার ১০৫ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنْسِفُهَا رَبِّي نَسْفًا
"এ লোকেরা তোমার নিকট প্রশ্ন করে যে, সেদিন এ পাহাড় কোথায় বিলীন হয়ে যাবে? বলো, আমার রব এগুলোকে ধূলিকণায় পরিণত করে উড়িয়ে দিবেন।" সূরা আল মুয্যাম্মিলের ১৭-১৮ আয়াতে বলা হয়েছে:
فَكَيْفَ تَتَّقُوْنَ إِنْ كَفَرْتُمْ يَوْمًا يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شَيْبَانِ نِ السَّمَاءُ مُنْفَطِرُ بهِ ، كَانَ وَعْدُهُ مَفْعُولاً
"তোমরাও যদি মেনে নিতে অস্বীকার করো, তাহলে সেদিন কেমন করে রক্ষা পাবে যে দিনটি বালকদেরকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিবে। এবং যার
কঠোরতায় আকাশ দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়ে যেতে থাকবে? আল্লাহর ওয়াদা তো পূর্ণ হবে অবশ্যই।”
সূরা আল মাআরিজের ৯ আয়াতে বলা হয়েছে :
وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنْفُوسُ .
"আর পাহাড় পর্বতগুলো রং বেরংয়ের ধূনা পশমের মতো মনে হবে।" সূরা আল কারিয়ার ১-৫ আয়াতে বলা হয়েছে :
الْقَارِعَةُ مَا الْقَارِعَةُ ، وَمَا أَدْرَكَ مَا الْقَارِعَةُ يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ "ভয়াবহ দুর্ঘটনা। কি সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা? তুমি কি জান সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা কি? সেদিন যখন মানুষ বিক্ষিপ্ত পোকার ন্যায় এবং পাহাড় রং-বেরং-এর ধূনা পশমের মতো হবে।"
সূরা ইবরাহীমের ৪৮-৫১ আয়াতে বলা হয়েছে :
يَوْمَ تُبَدِّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَوتِ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ وَتَرَى الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ مُّقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِهِ سَرَابِيلُهُمْ مِّنْ قَطِرَانِ وتَغْشَى وُجُوهَهُمُ النَّارُ لِيَجْزِيَ اللهُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ ، إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ "তাদেরকে সেদিনের ভয় দেখাও। যেদিন যমীন আসমানকে বদল করে অন্য রকম করে দেয়া হবে। এবং সবকিছু মহাপরাক্রমশালী এক আল্লাহর সামনে হাযির হবে। সেদিন তুমি পাপীদেরকে দেখবে শৃংখলে হাত-পা শক্ত করে বাঁধা রয়েছে। আলকাতরার পোশাক পরে থাকবে। আর আগুনের লেলীহান শিখা তাদের চেহারার ওপর ছড়িয়ে পড়তে থাকবে। এটা এজন্য হবে যে, আল্লাহ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের বদলা দেবেন। আল্লাহ দ্রুত হিসাব সম্পন্নকারী।"
সূরা কাফ-এর ২২-২৪ আয়াতে বলা হয়েছে :
لَقَدْ كُنْتَ فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هُذَا فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ وَقَالَ قَرِيْنَهُ هُذَا مَا لَدَى عَتِيْدُه
"সেদিন আল্লাহ প্রত্যেক অবিশ্বাসীকে বলবেন, এদিনের প্রতি তুমি অবহেলায় জীবন কাটিয়েছো। আজ তোমাদের চোখের পর্দা আমি সরিয়ে দিয়েছি যা তুমি বিশ্বাস করতে চাওনি। অন্তরের চোখ দিয়ে তুমি দেখতে চাওনি। আজ তা দেখে নাও। এ সত্য দেখার জন্য আজ আমি তোমার দৃষ্টি প্রখর করে দিয়েছি। তার সঙ্গী নিবেদন করলো এই সেই লোক যে আমার নিকট সোপর্দ করা ছিল, উপস্থিত হয়েছে।”
প্রলয়ংকারী কিয়ামতের ভয়াবহতার কথা কুরআনে কারীমের অনেক সূরায় স্পষ্টভাবে বিধৃত হয়েছে। যেসব কথা শুনলে অন্তরাত্তা কেঁপে উঠে। এভাবে কিয়ামাত সংঘটিত হয়ে দুনিয়া ও এর ভিতর যা কিছু থাকবে সব ধ্বংস করে দেয়া হবে।
দ্বিতীয় শিঙা
প্রথম শিঙা ফুঁকার পরে দ্বিতীয় শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে। এ ফুঁককে বলা হয় 'নাফখাতুস সাআঙ্ক'। এটা হবে আগেরটার চেয়েও আরো বেশী ভয়ংকর। এ ধ্বনীর সাথে সাথে সব ধ্বংস হয়ে যাবে।
প্রথম শিঙা ফুঁকার পর আবার শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে। একথা কুরআনে সূরা আয যুমারের ৬৮ আয়াতের শেষে বলা হয়েছে:
ثُمَّ نُفِخَ فِيْهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٍ يَنْظُرُونَ .
"তারপর আর একবার শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে। সাথে সাথে সকলেই উঠে দাঁড়িয়ে তাকাতে শুরু করবে।"
তৃতীয় শিঙা
এ তৃতীয় শিঙাকে বলা হয় 'নাফখাতুল কিয়াম লিববাব্ব'। এটাই হলো পুনরুত্থান বা পুনর্জীবন। এতে সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে। অবিশ্বাসী কাফের মুশরিক, নাস্তিক, মুরতাদরা এ পুনর্জীবনকে বিশ্বাস করতে চায় না। তাদের কাছে হাড়-মাংস সব পঁচে-গলে নিঃশেষ হয়ে যাবার পর তা আবার জন্ম নেয়া অসম্ভব। এ কাজটাও আল্লাহর জন্য কতো সহজ তা কুরআনে আঁকা চিত্র হতে শুনুন। মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বারের জীবন এবং দুনিয়ায় কৃত করা ছোট, বড়ো, খোপন ও প্রকাশ্য সব কাজ কিভাবে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হবে তা সূরা যিলযালের প্রথম আয়াত থেকে শুরু করে শুনুন:
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَاءَ وَقَالَ الْإِنْسَانُ مَا لَهَانَ يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا
“পৃথিবীকে যখন ভীষণভাবে আন্দোলিত করা হবে অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে এবং যমীন নিজের ভিতরের সব বোঝা বাইরে নিক্ষেপ করে দেবে এবং মানুষ বলবে এর কি হয়েছে? সেদিন যমীন নিজের উপরে ঘটিত সব অবস্থা বলে দেবে।”-সূরা যিলযাল: ১-৪
এবার নতুন করে সৃষ্টি করার বিষয়ে সূরা কাফ-এর ১৫ আয়াতে বলা হয়েছে:
أَفَعَيِيْنَا بِالْخَلْقِ الْأَوَّلِ ، بَلْ هُمْ فِي لَبْسٍ مِّنْ خَلْقٍ جَدِيدِ "আমরা কি প্রথমবারের সৃষ্টিকার্যে অসমর্থ ছিলাম? অথচ একটি নবতর সৃষ্টিকার্য সম্পর্কে এ লোকেরা সংশয়ে পড়ে আছে।”
সূরা আল আম্বিয়ায় ১০৪ আয়াতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথেই আল্লাহ বলেছেন:
يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِ لِلْكُتُبِ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ ، وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فُعِلَيْنَ "সেদিন আমি আসমানকে তাবীজের পৃষ্ঠার মতো ভাঁজ করে রাখবো। আমার প্রথম সৃষ্টির সূচনা যেভাবে করেছিলাম। ঠিক এভাবে আমি পুনরাবৃত্তি করবো। এটা একটা ওয়াদা বিশেষ, যা পূরণ করার দায়িত্ব আমার। একাজ আমাকে অবশ্য করতে হবে।"
সূরা আল কিয়ামাহর ৩৪ আয়াতে আছে:
أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى - "এরূপ আচরণ তোমার জন্যই উপযুক্ত এবং তোমাকেই শোভা পায়।"
সূরা হূদের ১০৩ আয়াতে:
ذَلِكَ يَوْمٌ مَّجْمُوعٌ ، لَهُ النَّاسُ وَذَلِكَ يَوْمٌ مَّشْهُودٌ .
"তা এমন একটি দিন হবে, যখন সব মানুষই একত্রিত হবে। তারপর সেদিন যাকিছুই হবে, তা সকলের চোখের সামনেই অনুষ্ঠিত হবে।"
সূরা আল মাআরিজের ৮ আয়াতে বলা হয়েছে:
يَوْمَ تَكُوْنُ السَّمَاءُ كَالْمُهْلِ .
"সেদিন আকাশসমূহ হবে বিগলিত তামার মতো।"
সূরা আর রাহমানের ৩৭ আয়াতে বলা হয়েছে:
فَإِذَا انْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ وَرْدَةً كَاذِهَانِ 6
"তখন কেমন হবে, যখন আকাশসমূহ দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়ে যাবে এবং তা রক্তিম বর্ণ ধারণ করবে।"
সূরা আল ওয়াকিয়ার ৪৯-৫০ আয়াতে বলা হয়েছে:
قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ * لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيْقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
“(হে নবী!) এ লোকদেরকে বলো: নিশ্চয়ই নিসন্দেহে আগের ও পরের সকলকে একদিন অবশ্যই একত্রিত করা হবে, তার সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00