📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 কুরআন কি ?

📄 কুরআন কি ?


কুরআনে কারীম হলো আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে পাঠানো হেদায়াতের সর্বশেষ কিতাব ও দিকনির্দেশনা। যে দিকনির্দেশনা তিনি মানব জাতির সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে দিয়ে আসছিলেন। এ কুরআন এমন এক গ্রন্থ যা নিজ মর্যাদায় ও মহিমায় নিজেই ভাস্বর ও এর উদাহরণ।
সমস্ত সৃষ্টিকূলকে জ্ঞানদান করেই এই কুরআন ক্ষান্ত হয়নি। বরং যুক্তি, বুদ্ধি ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় এর দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনা করে মানুষকে হতবাক করে দিয়েছে। আল কুরআনের আহবান মানুষের চিন্তা ও কাজকে ভীষণভাবে আলোড়িত করে। মানুষের স্বভাব প্রকৃতিকে জাগিয়ে তুলে আল্লাহর হুকুম পালনে পাগলপারা বানিয়ে দেয়। এ কুরআন নির্দিষ্ট কোনো ভূখণ্ড অথবা কোনো নির্দিষ্ট জনপদকে আহবান করে না। বরং আহবান করে গোটা বিশ্ব মানব সমাজকে। মানব জাতি যেনো পুরোপুরি-ভাবে আল্লাহর নিয়ম-কানুনের অধীনে এসে যায়। এটাই কুরআনের শাশ্বত ও চিরন্তন আহ্বান।
বিশ্বের এটিই একমাত্র আসমানী কিতাব, যার ক্ষুদ্রতম কোনো অংশও আজ পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি, আর ভবিষ্যতেও পরিবর্তন হবে না। কুরআনের একটি শব্দও আজ পর্যন্ত কালের আবর্তনে কোনো দিকে হারিয়ে যায়নি। বরং দিবালোকের মতই তা সবসময় দেদীপ্যমান। এ কুরআন শুধু কিছু ইবাদাত বন্দেগীর নির্দেশ দিয়েই শেষ করেনি। বরং এ কুরআন কল্যাণধর্মী ও বাস্তব মুক্তির উজ্জ্বল পথ গোটা বিশ্বকে উপহার দিয়েছে। এ কুরআনের হুকুম মেনে চললেই দুনিয়ায় কল্যাণ সাধন ও আখিরাতে মুক্তির দিশা পাওয়া যায়। তাই এটি বিশেষ কোনো দেশ ও জাতির পথের দিশারী নয়। বরং গোটা বিশ্ব ও সমগ্র মানবজাতিকেই পথনির্দেশনা দেয়।
এ কুরআনে বর্ণিত কোনো বিষয়ে সন্দেহ-সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। কুরআনের এ পরিচয় দিয়েই সূরা আল বাকারার শুরুতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন :
ذلِكَ الْكِتُبُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ .
"এ হচ্ছে সেই গ্রন্থ যাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। এ হচ্ছে মুত্তাকীদের পথ চলার দিকনির্দেশনা।" - সূরা আল বাকারা : ২
যারা কুরআনের ঐশীগ্রন্থ হিসাবে এর দিকনির্দেশনার ব্যাপারে সমান্যতমও কোনো সন্দেহ-সংশয় পোষণ করে তাদের উদ্দেশ্যেই সূরা আল বাকারার ২৩ আয়াতে বলা হয়েছে: وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّنْ مِّثْلِهِ من وَادْعُوا شُهَدَاءَ كُمْ مِّنْ دُوْنِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَدِقِينَ
"আমি আমার এ বান্দা (মুহাম্মাদের) উপর যে কুরআন নাযিল করেছি তোমরা যদি এতে সন্দেহ পোষণ করো, তাহলে এ কুরআনে বর্ণিত সূরার মতো একটি সূরা এনে দেখাও তো দেখি। এজন্য তোমাদের সহযোগীদেরকেও সাথে নাও। এক আল্লাহ ছাড়া আর যার যার সাহায্য চাও তা গ্রহণ করো। যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।"
কুরআন সম্পর্কে সন্দিহান লোকদের উদ্দেশ্যেই সূরা বনী ইসরাঈলের ৮৮ আয়াতে বলা হয়েছে: قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسِ وَالْجِنَّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضَهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا
"হে নবী! এদের আপনি বলে দিন। মানুষ ও জ্বীন সকলে মিলেও যদি এ কুরআনের মতো কোনো জিনিস আনবার চেষ্টা করে। তারা আনতে পারবে না। তারা পরস্পর পরস্পরের সহযোগী হলেও।"
কুরআন সম্পর্কে তাদের এ সন্দেহের ব্যাপারেই সূরা আল বাকারার ৯৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ آيت بَيِّنَتٍ ، وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلَّا الْفَسِقُونَ
“(হে মুহাম্মাদ) নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি এমনসব উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী সম্বলিত আয়াত নাযিল করেছি। দুষ্কর্মকারী ফাসেক ছাড়া কেউ তা অবিশ্বাস করবে না।"-সূরা আল বাকারা: ৯৯
সূরা আল বাকারারই ১৭৬ আয়াতে আল্লাহ আরো বলেছেন: ذَلِكَ بِأَنَّ اللهَ نَزَّلَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ ، وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِي الْكِتٰبِ لَفِي شقاق بعيده
"এ সবকিছু শুধু এজন্যই হতে পেরেছে যে, আল্লাহ তো পূর্ণ সত্য অনুসারে কিতাব ঠিকভাবে নাযিল করেছেন; কিন্তু এ কিতাবে যারা মত-বৈষম্য আবিষ্কার করেছে তারা নিজেদের ঝগড়া বিবাদ ও বিতর্কের ব্যাপারে প্রকৃত সত্য হতে বহুদূরে সরে গিয়েছে।"-সূরা বাকারা: ১৭৬
সূরা আলে ইমরানের ৩ আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন: . نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَيَةَ وَالْإِنْجِيلَ .
"তিনি তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছেন; এটা সত্যের বাণী নিয়ে এসেছে এবং পূর্বের অবতীর্ণ সমস্ত কিতাবের সত্যতা ঘোষণা করছে। ইতিপূর্বে তিনি মানুষের হেদায়াতের জন্য তাওরাত ও ইনজীল নাযিল করেছেন।"
এ সূরার ৭ আয়াতে বলা হয়েছে: هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَبَ مِنْهُ أَيْتٌ مُّحْكَمْتُ هُنَّ أُمُّ الْكِتٰبِ وَأُخَرُ مُتَشْبِهُتُ ، فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُوْنَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ ، وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَةٌ إِلَّا اللَّهُ ، وَالرَّسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُوْنَ أَمَنَّا بِهِ لا كُلُّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا ، وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُوا الْأَلْبَابِ
"তিনিই আল্লাহ যিনি তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছেন। এ কিতাবে দুই প্রকারের আয়াত রয়েছে। এক: মুহকামাত, যা কিতাবের মূল বুনিয়াদ, আর দ্বিতীয়: মুতাশাবিহাত। যাদের মনে কুটিলতা আছে তারা ফেতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সবসময়ই 'মুতাশাবিহাত'-এর' পিছনে লেগে থাকে এবং তার অর্থ বের করার চেষ্টা করে। অথচ তার প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। পক্ষান্তরে যারা জ্ঞান ও বিদ্যায় পাকা-পোক্ত লোক তারা বলে: আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি, এটা সবই আমাদের আল্লাহর তরফ থেকেই এসেছে। আর সত্য কথা এই যে, কোনো জিনিস থেকে প্রকৃত শিক্ষা কেবল জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরাই লাভ করে।"
সূরা আলে ইমরানের ১৩৮ আয়াতে বলা হয়েছে: ا بَيَانُ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِلْمُتَّقِينَ . هُذَا
"এ হচ্ছে মানবজাতির জন্য একটি সুস্পষ্ট সতর্কবাণী এবং আল্লাহকে যারা ভয় করে তাদের জন্য এটা পথনির্দেশ ও উপদেশ।"
সূরা আন নিসার ৮২ আয়াতে বলা হয়েছে: أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ، وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا
"এরা কি কুরআন গভীর মনোনিবেশ সহকারে চিন্তা করে না? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে আসতো তবে এতে অনেক মতভেদ পাওয়া যেতো।"
সূরা আন নিসার ১০৫ আয়াতে বলা হয়েছে: إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَبَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرْكَ اللَّهُ
“হে নবী! আমরা এ কিতাব পূর্ণ সত্যতা সহকারে তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যেন আল্লাহ তোমাকে যে সত্য পথ দেখিয়েছেন সেই অনুসারে লোকদের মধ্যে বিচার-ফায়সালা করতে পারো।"
সূরা আন নিসার ১৬৬ আয়াて বলা হয়েছে: لَكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِمَا أَنْزَلَ إِلَيْكَ أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ ، وَالْمَلَئِكَةُ يَشْهَدُونَ ، وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا - النساء : ١٦٦
"(লোকেরা যদি না-ই মানে তো না মানুক,) কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, যাকিছু তিনি নাযিল করেছেন নিজের জ্ঞানের ভিত্তিতেই নাযিল করেছেন। এবং সে সম্পর্কে ফেরেশতারাও সাক্ষ্য দিচ্ছে, যদিও কেবলমাত্র আল্লাহর সাক্ষীই যথেষ্ট।"
সূরা আন নিসার ১৭৪ আয়াতে বলা হয়েছে: يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُّبِينًا
"হে মানুষ! তোমাদের আল্লাহর নিকট থেকে তোমাদের নিকট উজ্জল 'প্রমাণ' এসে পৌঁছেছে এবং আমি তোমাদের জন্য এমন আলো প্রেরণ করেছি যা তোমাদেরকে সুস্পষ্ট পথপ্রদর্শন করে!
সূরা আল আরাফের ২য় ও ৩য় আয়াতে বলা হয়েছে:
كِتٰبٌ أُنْزِلَ إِلَيْكَ فَلَا يَكُنْ فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِّنْهُ لِتُنْذِرَ بِهِ وذكرى لِلْمُؤْمِنِيْنَ اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ . قَلِيْلًا مَّا تَذَكَّرُونَ
"এটা একখানি কিতাব, এটা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে। অতএব হে মুহাম্মাদ! তোমার অন্তরে এর জন্য যেনো কোনোরূপ কুণ্ঠা না জাগে। এটা নাযিল করার উদ্দেশ্য, এর দ্বারা তুমি (অমান্যকারীদের) ভয় দেখাবে এবং ঈমানদার লোকদের জন্য এটা হবে স্মরণ ও স্মারক। হে লোকেরা! তোমাদের আল্লাহর তরফ থেকে তোমাদের প্রতি যাকিছু নাযিল করা হয়েছে, তা মেনে চলো এবং নিজেদের রবকে বাদ দিয়ে অপরাপর পৃষ্ঠপোষকদের অনুসরণ করো না। কিন্তু তোমরা উপদেশ খুব কমই মেনে থাকো।"
-সূরা ইউনুসের ৫৭ আয়াতে বলা হয়েছে: يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لَمَا فِي الصُّدُورِ * وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
"হে মানব সমাজ! তোমাদের কাছে তোমাদের আল্লাহর নিকট থেকে নসীহত এসে পৌঁছেছে, এটা অন্তরের যাবতীয় রোগের পূর্ণ নিরাময়কারী, আর যে তা কবুল করবে, তার জন্য হেদায়াত ও রহমত।” সূরা মায়েদার ১৫ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: قَدْ جَاءَ كُمْ مِّنَ اللَّهِ نُوْرٌ وَكِتٰبٌ مُّبِيْنٌ
"তোমাদের নিকট আল্লাহর কাছ থেকে রৌশনী এসেছে, এবং একখানি সত্য প্রদর্শনকারী কিতাবও।” একই সূরার ৪৮ আয়াতে আল্লাহ কুরআন সম্পর্কে বলেছেন: وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتٰبِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ هُمْ عَمَّا جَاءَ كَ مِنَ الْحَقِّ ، لِكُلِّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ
أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا أَتْكُمْ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَتِ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُوْنَ .
“হে মুহাম্মাদ! আমরা তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি, এটা সত্য বিধান নিয়ে অবতীর্ণ এবং আল-কিতাব হতে তার সামনে যাকিছু বর্তমান আছে তার সত্যতা প্রমাণকারী, তার হেফাযতকারী ও সংরক্ষক। অতএব তোমরা আল্লাহর নাযিল করা আইন মুতাবিক লোকদের পারস্পরিক যাবতীয় ব্যাপারের ফায়সালা করো, আর যে মহান সত্য তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়েছে তা থেকে বিরত থেকে তাদের খাহেশাতের অনুসরণ করো না। আমরা তোমাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্য একটি শরীআত এবং একটি কর্মপথ নির্দিষ্ট করেছি। যদিও তোমাদের আল্লাহ চাইলে তোমাদের সকলকেই এক উম্মাত বানিয়ে দিতে পারতেন; কিন্তু তিনি এটা এজন্য করেছেন যে, তিনি তোমাদেরকে যাকিছু দিয়েছেন, সে ব্যাপারে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। কাজেই ভাল ও সৎকাজে তোমরা পরস্পরের আগে চলে যেতে চেষ্টা করো। শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে আল্লাহর দিকেই ফিরে যেতে হবে। অতপর তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছিলে, তার আসল সত্যটি তোমাদেরকে তিনি জানিয়ে দিবেন।"
সূরা আল আনআম ৩৪ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَتِ اللهِ ، وَلَقَدْ جَاءَ كَ مِنْ نَّبَائِ الْمُرْسَلِينَ )
"আল্লাহর বাণীসমূহ পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারো নেই, পূর্ববর্তী নবীদের সম্পর্কে খবরাদি তো তোমার নিকট পৌঁছেছে।"
সূরা আল আনআম ৩৮ আয়াতে বলা হয়েছে: مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتٰبِ مِنْ شَيْ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ .
"আমরা এদের নিয়তি নির্ধারণ করায় কোনো ত্রুটি রাখিনি। শেষ পর্যন্ত এদের সকলকেই তাদের আল্লাহর দিকে একত্রিত করে উপস্থিত করা হবে।"-সূরা আল আনআম: ৩৮
সূরা আল আনআম ৯২ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: وَهُذَا كِتُبَ أَنْزَلْنَهُ مُبْرَكَ مُصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا ، وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَهُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ .
"এটাও একখানি কিতাব, যা আমরা নাযিল করেছি, বড়ই কল্যাণ ও বরকতে পূর্ণ; এর পূর্ববর্তী জিনিসের সত্যতা প্রমাণকারী এবং এটা এ উদ্দেশ্যে নাযিল করা হয়েছে যে, এর সাহায্যে তোমরা জনপদসমূহের এ কেন্দ্র (কা'বা) ও তার চারপাশের অধিবাসীদেরকে সতর্ক ও সাবধান করবে। যারা আখিরাত বিশ্বাস করে তারা এ কিতাবের উপর ঈমান রাখে। আর তারা নিজেদের নামাযসমূহের পূর্ণ হেফাযত করে।"
সূরা আল আনআম ১১৪ আয়াতে বলা হয়েছে : وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتٰبَ مُفَصَّلاً ، وَالَّذِينَ أَتَيْنُهُمُ الْكِتٰبَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِّنْ رَّبِّكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ
"তিনি পূর্ণ বিস্তারিতভাবে তোমাদের প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। আর যেসব লোককে আমরা (তোমাদের পূর্বে) কিতাব দিয়েছিলাম তারা জানে যে, এ কিতাব তোমাদের আল্লাহর নিকট হতেই সত্যতা সহকারে নাযিল হয়েছে। অতএব তুমি কিছুতেই সন্দেহ পোষণ-কারীদের মধ্যে শামিল হইও না।"
সূরা আল আনআম ১১৫ আয়াতে বলা হয়েছে : وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلاً ، لاَ مُبَدِّلَ لِكَلِمَتِهِ ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ .
"তোমার আল্লাহর বাণী সত্যতা ও ইনসাফের দিক দিয়ে পূর্ণ পরিণত। তাঁর আইন-বিধান পরিবর্তনকারী কেউ নেই। এবং তিনি সবকিছু শুনেন, সবকিছু জানেন।"
সূরা আল আনআম ১৫৫ আয়াতে বলা হয়েছে : وَهُذَا كتب أَنْزَلْتُهُ مُبْرَكَ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ هُ
"এমনিভাবে এ কিতাব আমরা নাযিল করেছি; এটা এক বরকত-ওয়ালা কিতাব। অতএব তোমরা এটা অনুসরণ করে চলো এবং তাকওয়াপূর্ণ নীতি-আচরণ গ্রহণ করো। হয়ত বা তোমাদের প্রতি রহমত নাযিল করা হবে।"
সূরা ইউনুস ৩৭ আয়াতে বলা হয়েছেঃ وَمَا كَانَ هُذَا الْقُرْآنُ أَنْ يُفْتَرَى مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتٰبِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَّبِّ الْعَلَمِينَ
"আর এ কুরআন এমন কোনো জিনিস নয় যা আল্লাহর অহী ও শিক্ষা ছাড়া রচনা করে নেয়া সম্ভব হতে পারে। বরং এতে পূর্বে যা এসেছে তার সত্যতার স্বীকার ও আল কিতাবের বিস্তারিত রূপ। এটা যে বিশ্ব নিয়ন্তার তরফ থেকে আসা কিতাব, তাতে কোনোরূপ সন্দেহ নেই।"
সূরা হুদের ১ ম আয়াতে বলা হয়েছে : الر - كِتَبٌ أُحْكِمَتْ آيَتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَّدُنْ حَكِيمٍ خَبِيْرٍ "আলিফ-লাম-র। ফরমান এর আয়াতসমূহ দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত ও সবিস্তারে বিবৃত। এক মহাজ্ঞানী ও পূর্ণ অবহিত মহান সত্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।”
সূরা হুদের ১৩ আয়াতে বলা হয়েছে : أَمْ يَقُولُونَ افْتَرُهُ ، قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مَثْلِهِ مُفْتَرَيْتِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِّنْ دُوْنِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صُدِقِينَ
“এরা কি বলে যে, নবী এ কিতাবখানা নিজেই রচনা করেছে? বল, "আচ্ছা একথা! তাহলো এভাবে স্বরচিত দশটি সূরাই তোমরা বানিয়ে নিয়ে এসো, আর আল্লাহ ছাড়া আর যারা যারা (তোমাদের মাবুদ) আছে, তাদেরকে সাহায্য করার জন্য ডাকতে পারো তা ডেকে নেও (তাদেরকে মাবুদ মনে করায়) যদি তোমরা সত্যবাদী ও নিষ্ঠাবান হয়ে থাকো!"
সূরা রাদের ১ আয়াতে বলা হয়েছে : الْمَرْ - تِلْكَ أَيْتُ الْكُتُبِ وَالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ الْحَقُّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ
"আলিফ-লাম-র। এটা আল্লাহর কিতাবের আয়াত। আর তোমার প্রতি তোমার আল্লাহর তরফ থেকে যাকিছু নাযিল করা হয়েছে তা একান্তই সত্য; কিন্তু (তোমার জাতির) অধিকাংশ লোকই মেনে নিচ্ছে না।”
সূরা ইবরাহীমের ১ ম আয়াতে আল্লাহ কুরআন সম্পর্কে বলেছেন : الر قد كتب أَنْزَلْنَهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسِ مِنَ الظُّلْمِتِ إِلَى النُّورِ لَا بِإِذْنِ ربهم إلى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ
"আলিফ-লাম-র। (হে মুহাম্মাদ!) এটা একখানি কিতাব, যা আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যেন তুমি লোকদেরকে জমাট বাঁধা অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসো-তাদের আল্লাহর দেয়া সুযোগ-সুবিধার সাহায্যে, সেই আল্লাহর পথে, যিনি প্রবল পরাক্রান্ত এবং নিজ সত্তায় নিজেই প্রশংসিত।" সূরা ইবরাহীমের ৫২ আয়াতে বলা হয়েছে: هَذَا بَلَغَ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهُ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُولُوا الْأَلْبَابِ .
"বস্তুত এটা একটি পয়গাম সব মানুষের জন্য। আর এটা পাঠানো হয়েছে এজন্য যে, এর দ্বারা তাদেরকে সাবধান করে দেয়া হবে এবং তারা জেনে নিবে যে, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ শুধু একজন, আর বুদ্ধিমান লোকেরা এ ব্যাপারে সচেতন হবে।" সূরা আন নাহলের ৮৯ আয়াতে কুরআন সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَبَ تِبْيَانًا لَكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ .
"আর আমরা তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেকটি বিষয়েরই সুস্পষ্ট বর্ণনাদানকারী এবং হেদায়াত, রহমত ও সুসংবাদ সেসব লোকের জন্য যারা মস্তক অবনত করেছে।” সূরা বনী ইসরাঈলের ৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّلِحَتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا
"সত্য কথা এই যে, এ কুরআন সেই পথ দেখায়, যা পুরোপুরি সোজা ও ঋজু। যেসব লোক তাকে মেনে নিয়ে ভালো ভালো কাজ করতে থাকবে তাদেরকে এটা সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য বিরাট শুভ কর্মফল রয়েছে।" সূরা ত্বা-হার ২-৪ আয়াতে কুরআন সম্পর্কে বলা হয়েছে: مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى إِلا تَذْكِرَةً لِمَنْ يَخْشَى تَنْزِيلًا مِّمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمَوتِ الْعُلَى
"আমরা এ কুরআনে তোমার প্রতি এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি (এর দরুন) মসীবতে পড়ে যাবে। এটাতো একটি স্মারক — এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে ভয় করে। এটি নাযিল করা হয়েছে সেই মহান সত্তার তরফ থেকে যিনি পয়দা করেছেন যমীনকে এবং উচ্চ বিশাল আসমানকে।"
সূরা আন নামলের ১-২ আয়াতে বলা হয়েছে: تِلْكَ آيَتُ الْقُرْآنِ وَكِتَابٍ مُّبِينٍ هُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ "এটা কুরআন ও সুস্পষ্টভাষী কিতাবের আয়াত। এটা হেদায়াত ও সুসংবাদ সেইসব ঈমানদার লোকদের জন্য।"
সূরা আবাসার ১১-১৬ আয়াতে বলা হয়েছে: كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ ذَكَرَهُ فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَّرْفُوعَةٍ مُّطَهَّرَةٍ بِأَيْدِي سَفَرَةٍ كِرَامٍ بَرَرَةٍ "কখনো না। এটাতো এক উপদেশ। যার ইচ্ছা এটা গ্রহণ করবে। এটা এমন সহীফায় লিপিবদ্ধ, যা সম্মানিত। উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন পবিত্র। এটা সুসম্মানিত ও নেক্কার লেখকদের হাতে থাকে।"
সূরা বাইয়েনাতের ২-৩ আয়াতে বলা হয়েছে: رَسُولٌ مِّنَ اللَّهِ يَتْلُوا صُحُفًا مُطَهَّرَةً فِيهَا كُتُبٌ قَيِّمَةٌ "আল্লাহর নিকট থেকে একজন রাসূল, যে পবিত্র সহীফা পড়ে শুনাবে। যাতে সম্পূর্ণ শাশ্বত ও সঠিক লেখাসমূহ লিপিবদ্ধ থাকবে।"
এভাবে গোটা কুরআনে কুরআন যে আল্লাহর কিতাব। এ কিতাব থেকেই গোটা মানব সমাজকে ইহকাল ও পরকালের সফলতার সব পুঁজি সংগ্রহ করতে হবে। তাই কুরআনের অকাট্যতা, মহাত্ম ও মর্যাদা প্রায় প্রতিটি সূরাতেই বর্ণনা করা হয়েছে। আর এ কুরআনেই আল্লাহ এ দুনিয়ার জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে সকল দিকনিদের্শনা দিয়েছেন। যারা এ অকাট্য কিতাবের নির্দেশ অনুযায়ী চলবে তাদের পরকালীন জীবনের রূপ। যারা তা শুনে মেনে চলবে না তাদের আখিরাতের জীবনের দুর্গতি ও দুরাবস্থার ছবি। কুরআনে বর্ণিত এ অকাট্য ব্যবস্থার কোনো বিপরীত ছবি পরকালীন জীবনে দেখতে পাবে না।
অনন্ত আখিরাত সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর কিতাব আল কুরআনে যে ছবি এঁকে দিয়েছেন তাতে বিন্দু মাত্র কোনো সন্দেহ নেই। তাই অনন্ত জীবন আখিরাতের সুখের জন্য কুরআনে আঁকা ছবি অনুযায়ী চলতে হবে। না চললে কি ভয়াবহ শাস্তি হবে তারও ছবি এ কুরআনে এঁকে দেয়া হয়েছে। আর এটাই হলো এ বই লেখার মূল উদ্দেশ্য।

📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 দুনিয়া কি ?

📄 দুনিয়া কি ?


দুনিয়া কি? আখিরাতের অনাদি অনন্তকালের ছবি তথা মৃত্যু, কবর বা আলামে বারযাখ, ইল্লীন, সিজ্জীন, কিয়ামাত, হাশর-নশর, জান্নাত ও জাহান্নামের চিত্র আঁকাই এ বইয়ের মূল উদ্দেশ্য।
আল্লাহ তাআলা কেনো এ দুনিয়া সৃষ্টি করলেন, কি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করলেন, দুনিয়ার সাথে আখিরাতের কি সম্পর্ক এ বিষয়ে কুরআনেরই ভাষায় কিছু আলোকপাত করা সমীচীন মনে করছি। বইটির কভারেও তাই আমি এ ধাপগুলোর পরস্পর ধারাবাহিকতার একটি দৃশ্য এঁকে দিয়েছি। পাঠক সমাজ বইটি হাতে নিয়ে পড়ে মূল উদ্দেশ্য লাভের খানিকটা যেনো কভার পেজ দেখেই করে নিতে পারেন।
'আখিরাত' যেহেতু দুনিয়ার জীবনের চাষাবাদের ফসল উপভোগ করার অনাদি অনন্তকালের জায়গা। এই দুনিয়াই আখিরাতের জীবনের সুখ শান্তি আযাব ও গযবের বীজ বপনের মূল ক্ষেত্র। তাই আখিরাতের ছবি এঁকে ধরার আগে দুনিয়া সৃষ্টির পেছনে আল্লাহর পরিকল্পনা কি? এ দুনিয়ার জীবন কিভাবে পরিচালিত করতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন। সেভাবে না চললে পরিণাম পরিণতি কি হবে আল্লাহ তা দুনিয়ায়ই আগাম বলে দিয়েছেন। এসব ব্যাপারের ছবিও আঁকা প্রয়োজন।
যারা আল্লায় বিশ্বাসী। তারা একথায়ও পূর্ণ বিশ্বাসী যে, আল্লাহ এ দুনিয়া ও এর মধ্যে যা কিছু আছে এসব সৃষ্টি করেছেন। আর এসব তিনি উদ্দেশ্য বিহীনভাবে সৃষ্টি করেননি। খামখেয়ালীপনার কণা মাত্রও এতে ছিলো না। বরং অত্যন্ত সুচিন্তিত ও নিপুণ পরিকল্পনার মাধ্যমেই তিনি এ দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানবজাতিকে। শুধু তাঁরই কথা মতো চলার জন্য।
আল্লাহ সূরা আয যারিয়াতের ৫৬ আয়াて বলেছেন: وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ .
"আমি জ্বিন ও মানুষকে শুধু আমারই আনুগত্য করার জন্য সৃষ্টি করেছি।"
সূরা আল বাকারার ২১ আয়াতে মানবজাতিকে লক্ষ করে আল্লাহ বলেছেন:
يأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের হুকুম মেনে চলো, যিনি তোমাদের সকলকে সৃষ্টি করেছেন।"
অর্থাৎ যে আল্লাহ নবী-রাসূলদের মধ্যে কুরআন পাঠিয়ে তোমাদেরকে সৃষ্টির মূল কারণ জানিয়ে দিয়েছেন। তোমরা সকলেই সেই আল্লাহর ইবাদাত ও গুণগান করবে। তাঁর হুকুম মেনে চলবে। কখনো তাঁর অবাধ্য হবে না। কারণ এ দুনিয়াই তোমাদের শেষ ও একমাত্র দুনিয়া নয়। আরো দুনিয়া আছে। সে দুনিয়ার নামই আখিরাত।
দুনিয়া খেলতামাশার জায়গা নয়
দুনিয়াটা খামখেয়ালী ও উদ্দেশ্যবিহীন সৃষ্টি নয়, আর খেল-তামাশার জায়গা নয়। এক মহৎ ও বড়ো প্রাপ্তির জন্য আল্লাহ এ দুনিয়া বানিয়েছেন। কাজেই দুনিয়াকে সেই মহৎ ও খুব বড়ো প্রাপ্তিলাভের কাজে ব্যবহার করতে হবে। দায়িত্বহীন মনে করে জীবনকাল উদাসীন হয়ে কাটালে চলবে না। আল্লাহ পাক সূরা আল মু'মিনূনের ১১৫ আয়াতে ব্যক্ত করেছেন:
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ ) "তোমরা কি মনে করেছো আমি তোমাদেরকে এ দুনিয়ায় অনর্থক সৃষ্টি করেছি। আর তোমাদেরকে কখনো আমাদের দিকে ফিরে আসতে হবে না?" সূরা আল কিয়ামাহর ৩৬ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدًى .
"মানুষেরা কি একথা মনে করে নিয়েছে যে, তাদেরকে এমনিতেই ছেড়ে দেয়া হবে?"
তাদের এ দুনিয়ায় যথেচ্ছ চলার জন্য এভাবেই ছেড়ে দেয়া হবে। আর কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না?
সূরা আল কিয়ামাহর ২০-২১ আয়াতে আল্লাহ আখিরাতকে ভুলে গিয়ে এ দুনিয়াকে বেশী ভালোবাসা ভুল আখ্যা দিয়ে বলেছেন: كَلَّا بَلْ تُحِبُّونَ الْعَاجِلَةَ ، وَتَذَرُونَ الْآخِرَةَ .
"কখখনো নয় আসল কথা হলো, তোমরা খুব দ্রুত ও অবিলম্বে অর্জনযোগ্য জিনিসকে ভালবাস। আর আখিরাতকে উপেক্ষা করো।"
অর্থাৎ তোমরা তো নগদ প্রাপ্তি অর্থাৎ দুনিয়ায় তাড়াতাড়ি পাওয়ার অগ্রাধিকার দিয়ে আখিরাতের প্রাপ্তিকে ছেড়ে দিচ্ছো। অথচ আখিরাতের প্রাপ্তিই হচ্ছে তোমাদের জন্য বেশী কল্যাণকর ও স্থায়ী।
সূরা আল আ'লার ১৬-১৭ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَوةَ الدُّنْيَانَ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى .
"কিন্তু তোমরা তো দুনিয়ার জীবনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছো। অথচ আখিরাত অধিক কল্যাণময় ও চিরস্থায়ী।”
আল্লাহ এ দুনিয়া ও এর মধ্যে যা কিছু আছে সব মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এ দুনিয়া ও এতে যাকিছু আছে সবই মানুষের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজন। জীবন চলার পথের জন্য প্রয়োজন। জীবনাচারের জন্য প্রয়োজন। দুনিয়ায় এমন কোনো জিনিস আল্লাহ সৃষ্টি করেননি যা মানুষের প্রয়োজন নয়। হয়তো এসবের সৃষ্টির সব রহস্য আমাদের জানা নেই।
সূরা আত তালাকের ১২ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمُوتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ طَ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا
"আল্লাহ তো তিনিই যিনি সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবী পর্যায় হতেও তারই মতো। এ দুই এর মধ্যে বিধান নাযিল হতে থাকে। যেন তোমরা জানতে পারো যে, আল্লাহ সবকিছুর ওপর শক্তিমান এবং এই যে, আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।”
সূরা আল হাদীদের ৪ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ .
يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا ، وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيْرُه
"তিনিই আকাশজগত ও পৃথিবী ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতপর আরশের উপর সমাসীন হলেন। যাকিছু মাটিতে প্রবিষ্ট হয়, যাকিছু তা থেকে নিষ্কৃত হয়, আর যাকিছু আকাশজগত থেকে অবতীর্ণ হয়, ও যাকিছু তাতে উত্থিত হয়, তা সবই তাঁর জানা আছে। তিনি তোমাদের সাথে রয়েছেন, যেখানেই তোমরা থাকো, যে কাজই তোমরা করো তা তিনি দেখছেন।"
সূরা আত তাগাবুনের ৩ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: خَلَقَ السَّmَوتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُورَكُمْ ، وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُه
"তিনি পৃথিবী ও আকাশজগতকে সত্যতার ভিত্তিতে সৃষ্টি করেছেন, আর তোমাদের আকার-আকৃতি বানিয়েছেন এবং অতীব উত্তম বানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হতে হবে।”
সূরা আল আহকাফের ৩৩ আয়াতে আল্লাহ বলেছেনঃ أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَدِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى بَلَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
"আর এ লোকদের কি বোধদয় হয় না যে, যে আল্লাহ এ পৃথিবী ও আকাশজगत সৃষ্টি করলেন এবং এসব সৃষ্টিকাজে যিনি ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েননি। তিনিতো অবশ্যই মৃতদের পুনরুজ্জীবিত করে উঠাতে খুবই সক্ষম। কেন নয়? নিসন্দেহে তিনি সবকিছুর উপর শক্তিমান।"
সূরা আল আ'রাফের ৫৪ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشَى اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا ، وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ
وَالنُّجُومَ مُسَخَّرْت بِأَمْرِهِ ، اَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ، تَبْرَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَلَمِينَ
"বস্তুত তোমাদের আল্লাহ সেই আল্লাহ, যিনি আসমান ও যমীনকে ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতপর স্বীয় সিংহাসনের ওপর আসীন হন। যিনি রাতকে দিনের ওপর বিস্তার করে দেন। তারপরে দিন রাতের পেছনে দৌড়াতে থাকে। যিনি সূর্য, চন্দ্র ও তারাসমূহ সৃষ্টি করেছেন। সবই তাঁর আইন-বিধানের অধীন বন্দী। সাবধান, সৃষ্টি তাঁরই এবং সার্বভৌমত্বও তাঁরই। অপরিসীম বরকতশালী আল্লাহ সমগ্র জাহানের মালিক ও লালন-পালনকারী।"
সূরা ইউনুসের ৩ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: إِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرُ .
"বস্তুত সেই আল্লাহই তোমাদের রব, যিনি আসমান ও যমীনকে ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন, পরে সিংহাসনে আসীন হয়েছেন এবং বিশ্বলোকের পরিচালনা করছেন।"
সূরা ইউনুসের ৬ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: إِنَّ فِي اخْتِلَافِ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ لَايَتِ لِقَوْمٍ يَتَّقُوْنَ
"নিশ্চিতই রাত ও দিনের আবর্তনে, আর আসমান ও যমীনে আল্লাহ তাআলা যত জিনিসই সৃষ্টি করেছেন তার প্রত্যেকটি জিনিসে নিদর্শনসমূহ রয়েছে সেই লোকদের জন্য, যারা (ভুল দৃষ্টিভঙ্গী ও ভুল আচরণ থেকে) আত্মরক্ষা করতে চায়।"
এসব আয়াতসহ আরো অসংখ্য আয়াত আল্লাহ পাক কুরআনে বর্ণনা করে এ দুনিয়া সৃষ্টি করার ও তা পরিকল্পনার মাধ্যমে সৃষ্টি করার ঘোষণা দিয়েছেন। সাথে সাথে আল্লাহ আরো একটা দুনিয়ার মালিক ও তা সৃষ্টি করারও ঘোষণা দিয়েছেন। ওখানে গিয়ে কারো কোনো ওজুহাত পেশ করার অবকাশ থাকবে না।
তিনি সূরা আল ফাতিহায় ঘোষণা দিয়েছেন : مُلِكِ يَوْمِ الدِّينِ - "তিনি বিচার দিনেরও মালিক"
অর্থাৎ এ দুনিয়া সৃষ্টি করে এর জন্য একটা ব্যবস্থাপনার নিয়মাবলী আইন-কানুন জানিয়ে দিয়েছেন। এ আইন-কানুন, বিধি-বিধান প্রচার ও তা বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। নবী-রাসূলগণ দুনিয়ার ব্যাপারে আল্লাহর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দেখাবার চেষ্টা করেছেন। কেউ সফল হয়েছেন আবার কেউ আংশিক সফল হয়েছেন, কেউ মোটেও সফল হননি। কেউ আবার ষোলআনা সফল হয়েছেন। তাই দুনিয়া সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনা জানা দরকার।
দুনিয়া সম্পর্কে কুরআনে কিন্তু সবসময়ই তিনি বলেছেন, এ দুনিয়াই শেষ ও সব নয় বরং তোমাদের অনাদিকালের পরকালীন জীবনের সুখ-শান্তি, আযাব-গযব পাবার এটা একটা কর্মক্ষেত্র মাত্র। এখানে যে কাজ করবে ওখানে সে ফল পাবে।
সূরা মুয্যাম্মিলের শেষ আয়াতে আল্লাহ একথাটাই বলেছেন : وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا ط وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"তোমরা নিজের জন্য যে পরিমাণ কল্যাণ অগ্রিম পাঠিয়ে দেবে তা আল্লাহর কাছে প্রস্তুত পাবে। সেটিই অধিক উত্তম এবং পুরস্কার হিসেবে অনেক বড়। আর তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।"
তাই আমরা দেখছি আল্লাহ পাক কুরআনে এ দুনিয়া সম্পর্কে কি বলেছেন।
সূরা আল বাকারার ১৩০ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন : وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مَلَّةِ ابْرُهِمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ ، وَلَقَدِ اصْطَفَيْتُهُ فِي الدُّنْيَا ، وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّلِحِينَ
“এবং ইবরাহীমের জীবন বিধানকে ঘৃণা করবে কে? মূলত যে লোক মূর্খতা ও নিবুদ্ধিতায় নিমজ্জিত হয়েছে সে ছাড়া আর কে এমন ধৃষ্টতা
দেখাতে পারে। ইবরাহীম আর কেউ নয় তাকেই আমি পৃথিবীতে আমার পরিকল্পিত কাজ সম্পাদন করার জন্য বাছাই করে নিয়েছিলাম। আখিরাতে সে সৎলোকদের মধ্যে গণ্য হবে।"
দুনিয়া হচ্ছে জীবনের একটি অংশের পরীক্ষাগার বা কর্মক্ষেত্র। মৃত্যুর পরেই প্রকৃতপক্ষে শুরু হবে আসল জীবন। মৃত্যুর পর প্রত্যেকটি মানুষ আল্লাহর সামনে হাযির হবে। দুনিয়ার জীবনের সব কাজকর্মের হিসাব দেবে। তারপর হয় সে অফুরন্ত ভোগ বিলাসে ভরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর না হয় প্রবেশ করবে ভয়াবহ শাস্তিতে ভরা জাহান্নামে।

📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 আখিরাত কি ?

📄 আখিরাত কি ?


আখিরাত সম্পর্কে ইসলাম অকাট্য ও পরিষ্কার ধারণা পেশ করেছে। এ ধারণা হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সকল নবীই দিয়ে এসেছেন। প্রত্যেকটি আসমানী কিতাবে এ ধারণা পেশ করা হয়েছে। সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল কুরআনের অধিকাংশ সূরায় বিশেষ করে মক্কী সূরায় অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক পদ্ধতিতে ও ভাষায় এ ধারণা পেশ করা হয়েছে।
আখিরাতের ওপর ঈমান আনা বা বিশ্বাস করা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলোরই অন্যতম।
আল্লাহ, আল্লাহর ফেরেশতাগণ, আল্লাহর আসমানী কিতাবসমূহ, আল্লাহর রাসূলগণ, বিচারের দিন, তাকদীর ও আখিরাত—এ সাতটি বিষয়ের ওপর ঈমান পোষণ করা মু'মিন হবার পূর্বশর্ত। কাজেই ওই সাতটিসহ আখিরাত বা পরকালের ওপর ঈমান আনা ছাড়া কেউ নিজেকে মু'মিন বলে দাবী করতে পারবে না।
এ কথাগুলোই মু'মিনরা কালেমায়ে ঈমানে মুফাস্সালের মধ্যে ঘোষণা করে থাকে:
آمَنْتُ بِاللهِ وَمَلَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْقَدْرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ مِنَ الله تَعَالَى وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ .
"আমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, আখিরাতের দিন, তাকদীরের ভালো-মন্দ ও মৃত্যুর পরের জীবনের উপর ঈমান পোষণ করি।"
এ সাতটি বিশ্বাসই প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত। (১) তাওহীদ (২) রিসালাত ও (৩) আখিরাত।
(১) আল্লাহর ওপর ঈমান ও (২) তাকদীরের ওপর ঈমান প্রথম ভাগ অর্থাৎ তাওহীদে বিশ্বাসের অন্তর্গত। (৩) আল্লাহর ফেরেশতাদের উপর ঈমান, (৪) আল্লাহর কিতাবসমূহের ওপর ঈমান ও (৫) আল্লাহর রাসূলদের ওপর ঈমান পোষণ করা দ্বিতীয় ভাগ, অর্থাৎ রিসালাতের ওপর
ঈমান পোষণের অন্তর্গত। আর (৬) আখিরাত ও (৭) মৃত্যুর পরের জীবনের ওপর ঈমান পোষণ করা তৃতীয় ভাগ অর্থাৎ আখিরাতের ওপর ঈমান পোষণ করার মধ্যে শামিল।
আমি আমার আলোচনাকে মূল শিরোনাম 'আখিরাতের' মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবো। ঈমানিয়াতের আর ৬টি বিষয়ের ওপরও আলোচনা করবো না। কারণ, আমার এ বইটি মূলত মু'মিনদের উদ্দেশ্যে লিখিত। যারা আখিরাত সহ ঈমানিয়াতের বিষয়গুলোর ওপর সন্দিগ্ধ, যারা আখিরাত সম্পর্কে নানা মতবাদ ও পথ অনুসরণ করে, তাদের পরকালীন জীবনের ভাগ্যকে আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেয়া হলো। সেইদিন আল্লাহর সাথেই তাদের বুঝাপড়া হবে। একথাটাই আল্লাহ পাক সূরা আল কামারের ৬-৭ আয়াতে তার রাসূলকে লক্ষ করে বলেছেন: فَتَوَلَّ عَنْهُمْ ، يَوْمَ يَدْعُ الدَّاعِ إِلَى شَيْءٍ نُّكْرِهِ خُشَعًا أَبْصَارُهُمْ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ كَأَنَّهُمْ جَرَادٌ مُنْتَشِرُهُ
"অতএব হে নবী! এদের থেকে লক্ষ ফিরিয়ে নাও যেদিন আহ্বানকারী এক কঠিন দুঃসহ জিনিসের দিকে আহ্বান জানাবে, সেদিন লোকেরা শংকাগ্রস্ত, কুণ্ঠিত চোখে নিজেদের কবরসমূহ হতে এমনভাবে বের হবে, মনে হবে তারা যেন বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল।"
কিন্তু যারা ঈমানিয়াতের সব বিষয়ের ওপরই মনেপ্রাণে ঈমান পোষণ করেন, আখিরাত বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে অকাট্যভাবে ঈমান পোষণ করেন। তারা যেনো আখিরাতের সব ব্যবস্থার উপর ঈমান পোষণ করেও আখিরাতের ফল পাবার জন্য দুনিয়ার চাষাবাদের ক্ষেত্রকে হেলায় খেলায় ও অবহেলায় না হারায় এজন্যই 'কুরআনে আঁকা আখিরাতের ছবি' কুরআনেরই বর্ণনায় মু'মিনদের চোখের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস পেলাম।
আল্লাহ সূরা বনী ইসরাঈলের ৫০-৫১ আয়াতে পুনর্বার সৃষ্টির ব্যাপারে বলেছেন: قُلْ كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا هُ أَوْ خَلْقًا مِّمَّا يَكْبُرُ فِي صُدُورِكُمْ : فَسَيَقُولُونَ مَنْ يُعِيدُنَا ، قُلِ الَّذِي فَطَرَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ ، فَسَيُنْغِضُوْنَ إِلَيْكَ رُهُ وَسَهُمْ وَيَقُولُونَ مَتَى هُوَ قُلْ عَسَى أَنْ يَكُوْنَ قَرِيبًا
"তাদেরকে বলো, তোমরা পাথর কিংবা লোহাও যদি হয়ে যাও, কিংবা তা থেকেও কঠিন কোনো পদার্থ যা তোমাদের মতে জীবন গ্রহণ থেকে বহু দূরে অবস্থিত (তবুও তোমাদেরকে উঠানো হবে)। তারা অবশ্যই জিজ্ঞেস করবে, কে আছে এমন, যে আমাদেরকে পুনরায় জীবনে ফিরিয়ে আনবে? জবাবে বলো, তিনিই, যিনি প্রথমবার তোমাদেরকে পয়দা করেছেন। তারা মাথা নেড়ে নেড়ে জিজ্ঞেস করবে, আচ্ছা বুঝলাম, কিন্তু এটা ঘটবে কবে? তুমি বলো, সে সময়টি অতি নিকটবর্তীও হতে পারে।"
আল্লাহ সূরা আল আনকাবুতের ১৯-২০ আয়াতে বলেছেন: أَوَلَمْ يَرَوْا كَيْفَ يُبْدِئُ اللهُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ، إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرُه قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ ثُمَّ اللَّهُ يُنْشِئُ النَّشْأَةَ الْآخِرَةَ ، إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
"এ লোকেরা কি কখনও লক্ষ করে দেখেনি যে, আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টির কাজ শুরু করেন, পরে তারই পুনরাবর্তন করেন? নিসন্দেহে আল্লাহর পক্ষেতো অতীব সহজ কাজ। তাদেরকে বলো, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো, আর লক্ষ করে দেখ যে, তিনি কিভাবে সৃষ্টির সূচনা করেন। পরে আল্লাহ দ্বিতীয়বারও জীবন দান করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুই করায় ক্ষমতা রাখেন।"
আল্লাহর রাসূল সাঃ বলেছেন: الدُّنْيَاءُ مَزْرَعَةُ الْآخِرَةِ -
অর্থাৎ "দুনিয়াই পরকালীন জীবনের ফসল পাবার ক্ষেত্র।"
কুরআনে সূরা আল মুয্যাম্মিলের ২০ আয়াতে বলা হয়েছে: وَمَا تُقَدِّمُوا لَأَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا .
"তুমি এ দুনিয়ায় যে নেক কাজই সংগ্রহ করে রাখো তা পরকালে আল্লাহর কাছে গিয়ে পাবে।"
এ দুনিয়াই একমাত্র দুনিয়া নয়। এ দুনিয়ার পরেও আর একটি দুনিয়া আছে। সেই দুনিয়াটার নামই আখিরাত বা পরকাল বা বিচারের দিন। মানুষের দুনিয়ার জীবন যেমন সীমাবদ্ধ। জীবন রেখার সীমা শেষ হলেই
তাকে মৃত্যুর হীমশীতল স্পর্শ ভোগ করতে হয়। তেমনি এ নশ্বর দুনিয়ারও একটা শেষপ্রান্ত আছে। এ প্রান্তে পৌঁছলেই এ দুনিয়া শেষ হবে। ঘটবে কিয়ামত। শুরু হবে পরকালীন জীবনের হিসাব নিকাশ চুকাবার পালা। পরকালীন জীবনের শুরুই হয় মানুষের মৃত্যু দিয়ে। তাই মৃত্যু দিয়েই 'কুরআনে আঁকা আখিরাতের ছবি' আঁকা শুরু করা যাক।
মৃত্যু দিয়েই একজন মানুষ তার আখিরাত বা পরকালীন জীবন শুরু করে। মৃত্যুর পরপরই মানুষ তার সেই অনাদি অনন্ত ও অসীম জীবন আখিরাতের সিঁড়িতে পদার্পণ করে। এ অনাদি অনন্ত কালই আখিরাত। আল্লাহর পরিকল্পনা ও ইচ্ছা অনুযায়ী যে দিন দুনিয়ার সমাপ্তি ঘটবে সে দিনটিই কিয়ামত। সেদিন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। সে সময় পর্যন্ত যারা জীবিত থাকবে কিয়ামত সংঘটিত হবার মাধ্যমে তাদের আখিরাত ওই দিন থেকেই শুরু।
পরকালের ছবি আঁকতে হলে কুরআন যে ভাবে পরকালের ছবি এঁকেছে তাই এঁকে দেখাতে হবে। এ দুনিয়ার জীবন একেবারেই অস্থায়ী। ক্ষণিকাশ্রয়ের মতো। কোনো দূরবর্তী জায়গায় যাবার জন্য স্টেশনে এসে গাড়ী বা বাহন ধরার জন্য মানুষ যে সামান্য সময়টুকু অপেক্ষা করে, অপেক্ষমান অতটুকু সময়ের মতোই তার এ দুনিয়ার জীবন। এর চেয়ে বেশী কিছু নয়। এ দুনিয়া তার আসল জীবন নয়। আসল জীবনই হলো পরকাল বা আখিরাত। এ দুনিয়া মূল গন্তব্যে পৌঁছার ওয়েটিং রুম বা প্রতিক্ষাশালা।
মৃত্যুর সেতু বয়েই মানুষকে পরকালের দিকে যাত্রা শুরু করতে হয়। কাজেই আখিরাতের ছবি আঁকার জন্য প্রথম ছবি আঁকতে হবে দুনিয়ার। দুনিয়ার পর আখিরাতের প্রথম সিঁড়ি মৃত্যুর। মৃত্যুর পর কবরের নিঃসঙ্গ জীবনের শুরু। কবরের এ নিঃসঙ্গ জীবনই আলমে বারযাখ।
প্রথম সিঙা ও দ্বিতীয় সিঙায় কিয়ামত সংঘটিত হবার পর আল্লাহরই হুকুমে নির্দিষ্ট সময়ে তৃতীয়বার সিঙার ফুঁকে আবার সকল মানুষকে উঠিয়ে একত্রিত করা হবে। এ একত্রিত করাকেই বলা হয় হাশর।
এরপর আল্লাহ তাআল। কায়েম করবেন 'আদালাত'। এদিন মানুষের দুনিয়ার জীবনের সব কার্যক্রম তথা আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হবে। এরপর স্থাপিত হবে মীযান।। এটাও আখিরাতের জীবন শুরুর একটা স্তর।
মীযানের পরের স্তর হলো—জাযা ও সাজার। আদালতের ঘোষণা অনুযায়ী কেউ প্রবেশ করবে জান্নাতে, আর কেউ প্রবেশ করবে জাহান্নামে।
এখন দেখা যাচ্ছে, কুরআনে আঁকা আখিরাতের ছবি আঁকতে হলে সংঘটিতব্য ঘটনাগুলো প্রথম দুভাগে আঁকতে হবে। প্রথম দুনিয়া, দ্বিতীয় আখিরাত। তারপর আখিরাতের প্রথম সোপান মৃত্যু। তাই দুনিয়ার পরই আখিরাতের ছবি মৃত্যু।
(১) মৃত্যুর ছবি।
(২) কবরের নিঃসঙ্গ জীবন বা আলামে বারযাখের ছবি।
(৩) কিয়ামত
(৪) হাশরের ছবি
(৫) আদালতের ছবি
(৬) মীযানের ছবি
(৭) জাযা তথা জান্নাতের ছবি
(৮) সাজা তথা জাহান্নামের ছবি

📘 কুরআনে আকা আখিরাতের ছবি > 📄 মৃত্যু

📄 মৃত্যু


'মৃত্যু' সর্বশক্তিমান আল্লাহর এক অমোঘ বিধান। মৃত্যুর স্পর্শ থেকে বেঁচে যাবার উপায় কারোর নেই। জন্ম যেমন সত্য ও বাস্তব, জন্মের পর মৃত্যুও তেমনি সত্য ও বাস্তব। এ দুটি ব্যাপারে দুনিয়ার কারো কোনো সন্দেহ সংশয় নেই। কারণ অগণিত মানুষের জন্ম ও মৃত্যু চোখের সামনে ঘটছে। কাজেই এগুলোকে মিথ্যা বলে উপহাস করার কোনো উপায় নেই। যতো সংশয় সন্দেহ চোখে দেখার বাইরের ব্যাপার নিয়ে। আল্লাহর কিতাবে পরকালীন জীবনের বর্ণনা, আল্লাহর রাসূলদের বর্ণনায় মু'মিনরা ছাড়া কাফির মুশরিকদের প্রত্যয় আসে না। তাই সাবধানতা অবলম্বনের জন্য আল্লাহ্ মৃত্যু সম্পর্কে সূরা আলে ইমরানের ১৮৫ আয়াতে বলেন:
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ، وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيِّمَةِ ، فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيْوَةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورُ০
"প্রতিটি জীবনকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আর তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন পূর্ণ বিনিময় প্রদান করা হবে। তাই যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেলো আর জান্নাতে প্রবেশ করলো, সে সফলতা লাভ করলো। দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণার পুঁজি ছাড়া আর কিছু নয়।"-সূরা আলে ইমরান : ১৮৫
কুরআন পাকে এ সূরারই ১৪৫ আয়াতে মৃত্যুর সুনির্দিষ্টতা ও অমোঘতার ছবি এঁকে আল্লাহ্ বলেছেন:
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتْبًا مُّؤَجَّلاً ، وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا ، وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الْآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا وَسَنَجْزِي الشَّكِرِينَ ০
"আল্লাহ তাআলার হুকুম ছাড়া কোনো প্রাণীই মৃত্যুবরণ করতে পারে না। মৃত্যুর সময় তো নির্দিষ্ট করে লিখে দেয়া হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়ার ফলের আশায় কাজ করবে তাকে আমি তাই দান করবো। আর
যে ব্যক্তি আখিরাতের কল্যাণ চাইবে তাকে আমি তা-ই দান করবো। কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারীদেরকে তাদের কাজের ফল আমি দান করবো।"
সূরা আল জুমআর ৮ আয়াতে মৃত্যুর ছবি এভাবে আঁকা হয়েছে: قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلْقِيْكُمْ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَى عُلِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ ০
"এদেরকে বলো, যে মৃত্যু হতে তোমরা পালাচ্ছো তাতো তোমাদের নিকট আসবেই। অতপর তোমরা সেই মহান সত্তার নিকট উপস্থাপিত হবে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য সবই জানেন। আর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন তা সবই, যা তোমরা করছিলে।"
অর্থাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। তাই এ জীবনেই পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি নাও।
সূরা আন নিসার-৭৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: أَيْنَ مَا تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ .
"তুমি যেখানেই আশ্রয় নাও না কেনো, তা যদি মযবুত দুর্ভেদ্য দুর্গ হয় সেখানেও তোমাকে মৃত্যুর ছোবল গিয়ে স্পর্শ করবে।"
সূরা আস সাজদার ১১ আয়াতে আল্লাহ বলেন: قُلْ يَتَوَفَّكُمْ مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وَكِلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُوْنَ .
"তাদেরকে বলো, মৃত্যুর যে ফেরেশতাকে তোমাদের ওপর নিযুক্ত করা হয়েছে, সে তোমাদেরকে পুরাপুরি নিজের মুঠির মধ্যে ধারণ করে নিবে। পরে তোমাদেরকে তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনা হবে।"
মৃত্যুর সুনির্দিষ্টতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সূরা ইউনুসের ৪৯ আয়াতে আরো বলেছেন: إِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَلَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ )
"মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় যখন এসে যায়। এক মুহূর্ত আগে অথবা এক মুহূর্তও পরে তা সংঘটিত হবে না। অর্থাৎ ঠিক ঠিক ক্ষণেই তা ঘটে যাবে।"
نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ .
"আমিই তোমাদের মৃত্যুকে বন্টন ও নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর আমি এতে কিছুমাত্র অক্ষম নই।"-সূরা আল ওয়াক্বেয়া : ৬০
মৃত্যুর দিকেই মানুষ ছুটে চলছে। অথচ এদিকে তার লক্ষ নেই। তাই আল্লাহ তাআলা সূরা ইনশিক্বাকের ৬ আয়াতে বলেছেন :
يَأَيُّهَا الْإِنْسَانُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَى رَبِّكَ كَدْحًا فَمُلْقِيْهِ “হে মানুষ তুমি তীব্র আকর্ষণে নিজের আল্লাহর দিকে চলে যাচ্ছ এবং তাঁর সাথেই সাক্ষাত করবে।"
সূরা আন নিসার ১৮ আয়াতে বলা হয়েছে :
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّاتِ ، حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْشَّنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوْتُوْنَ وَهُمْ كُفَّارٌ ، أَوْلَئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
"কিন্তু তাদের জন্য তাওবার কোনো অবকাশ নেই যারা অব্যাহতভাবে পাপকার্য করতেই থাকে। এ অবস্থায় যখন তাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় তখন সে বলে যে, এখন আমি তাওবা করলাম। অনুরূপভাবে তাদের জন্যেও কোনো তাওবা নেই, যারা মৃত্যু পর্যন্ত কাফেরই থেকে যায়। এসব লোকের জন্য আমরা কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছি।"
সূরা আল আনআমের ৬১ আয়াতে বলা হয়েছে:
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ ) "যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন তাঁর প্রেরিত ফেরেশতা তার প্রাণ বের করে নেয় এবং নিজেদের কর্তব্য পালনে একবিন্দু ত্রুটি করে না।"
সূরা আল আনআমের ৯৩ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّلِمُونَ فِي غَمَرَتِ الْمَوْتِ وَالْمَلْئِكَةُ بَاسِطُوا أَيْدِيهِمْ ، أخْرِجُوا أَنْفُسَكُمْ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ أَيَتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ .
"তুমি যদি যালেমদেরকে সেই অবস্থায় দেখতে পেতে, যখন তারা মৃত্যুর যাতনায় হাবুডুবু খেতে থাকবে এবং ফেরেশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলতে থাকবে, দাও, বের করো তোমাদের জান-প্রাণ। আজ তোমাদেরকে সেইসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে লাঞ্ছনার আযাব দেয়া হবে, আল্লাহর ওপর মিথ্যা দোষারোপ করে যা তোমরা অকারণে প্রলাপ করছিলে এবং তাঁর আয়াতের মুকাবিলায় অহংকার-বিদ্রোহ দেখাচ্ছিলে।"
সূরা আল আনফালের ৫০ আয়াতে বলা হয়েছে: وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا لَا الْمَلَئِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ ، وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ .
"তোমরা যদি সেই অবস্থা দেখতে পেতে যখন ফেরেশতারা নিহত কাফেরদের রূহ কব্য করছিলো। তারা তাদের মুখাবয়ব ও পশ্চাত দেহের ওপর আঘাত করছিল এবং বলছিল: নেও এখন আগুনে জ্বলার শাস্তি ভোগ করো।"
সূরা আন নাহলের ৩২ আয়াতে বলা হয়েছে: الَّذِينَ تَتَوَفَّهُمُ الْمَلَئِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُوْنَ سَلْمٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ
"সেই মুত্তাকীদেরকে, যাদের রূহসমূহ পবিত্র অবস্থায় যখন ফেরেশতাগণ কর্য করে, তখন বলে: "শান্তি বর্ষিত হোক তোমাদের ওপর, তোমরা যাও জান্নাতে, তোমাদের আমলের বিনিময়ে।"
সূরা আন নাহলের ৭০ আয়াতে বলা হয়েছে: وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ ثُمَّ يَتَوَفَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَّنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْ لَا يَعْلَمَ بَعْدَ عِلْمٍ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ عَلِيْمٌ قَدِيرٌهُ
"আরো লক্ষ করো, আল্লাহ তোমাদের পয়দা করেছেন, পরে তিনি তোমাদেরকে মৃত্যুদান করেন, আর তোমাদের কেউ নিকৃষ্টতম বয়স পর্যন্ত উপনীত হয়, যেন সবকিছু জানার পরও কিছুই জানে না। প্রকৃত কথা এই যে, আল্লাহ জ্ঞান ও জানার ব্যাপারেও পূর্ণ পরিণত, ক্ষমতা ও শক্তিতেও তাই।”
সূরা কাফের ১৯ আয়াতে বলা হয়েছে: وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ، ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُهُ "অতপর লক্ষ করো, এ মৃত্যু যাতনা পরম সত্য নিয়ে সমুপস্থিত। এটা তাই যা থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলে।”
সূরা আল মুনাফিকূনের ১১ আয়াতে বলা হয়েছে: وَلَنْ يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاءَ أَجَلُهَا ، وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ “অথচ যখন কারো কর্মসময় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত এসে পড়ে, তখন আল্লাহ তাকে কখনোই অধিক অবকাশ দেন না। আর তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ সে বিষয়ে পূর্ণ ওয়াকিফহাল রয়েছেন।"
সূরা আবাসার ২১ আয়াতে বলা হয়েছে: ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ "এরপর তাকে মৃত্যু দিলেন ও কবরে পৌঁছাবার ব্যবস্থা করলেন।”
আখিরাতের জীবন কুরআনের ভাষায় আমি সূচনাতেই বলে এসেছিলাম, মানুষ জন্ম আর মৃত্যুকে অস্বীকার করে না। অস্বীকার করে মৃত্যুর পরবর্তী জীবন আখিরাতকে, আবার কবর হতে উঠাকে, আখিরাতের জীবনের আল্লাহর করে রাখা সকল ব্যবস্থাকে। এরাই মূলত নাস্তিক, আল্লায় অবিশ্বাসী। আল্লাহসহ আল্লাহর সকল বিধি ব্যবস্থাকে তারা অবিশ্বাস করে। করে অস্বীকার। অসম্ভব বলে মনে করে। এদের এসব অসম্ভবের চিন্তা ও ধারণাকে অমূলক, বুদ্ধি চিন্তাবিবর্জিত কাণ্ডজ্ঞানহীন ঘোষণা দিয়ে এসবের সম্ভাব্যতার অতি প্রকৃত উদাহরণ দিয়ে কুরআনের বহু জায়গায় আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। যেমন সূরা ইয়াসিনের ৭৮ আয়াত থেকে ৮৩ আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ অবিশ্বাসী নাস্তিকদের পুনর্জন্ম অস্বীকারের অসারতা প্রকাশ করে বলেছেন: وَضَرَبَ لَنَا مَثَلاً وَنَسِيَ خَلْقَهُ ، قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَاهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ ، وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ نِ الَّذِي جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الشَّجَرِ الْأَخْضَرِ نَارًا فَإِذَا أَنْتُمْ مِّنْهُ تُوْقِدُونَ
“এখন সে আমার ওপর দৃষ্টান্ত ও উপমা প্রয়োগ করে এবং নিজের জন্ম ও সৃষ্টির ব্যাপারটি ভুলে যায়। বলে কে এসব অস্থিমজ্জাগুলোকে জীবন্ত করবে যখন এগুলো জরাজীর্ণ হয়ে গেছে? তাকে বলো! এসবকে তিনিই জীবিত করবেন যিনি এগুলোকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। তিনি তো সৃষ্টির সব কাজের কুশল জান্তা। তিনি, যিনি তোমাদের জন্য শ্যামল-সবুজ গাছ হতে আগুন সৃষ্টি করেছেন। তোমরা তা দিয়ে তোমাদের চুলা জ্বালাও।"
এরপরই আল্লাহ বলেছেন: أَوَ لَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ بِقَدِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ ، بَلَى وَهُوَ الْخَلْقُ الْعَلِيمُ ، إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ فَسَبِّحْنَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
"যিনি আকাশগুলো ও যমীন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি ওদের মতো আবার সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? কেন নন? তিনি তো সুদক্ষ কুশলী সৃষ্টিকর্তা। তিনি যখন কোনো জিনিসের ইচ্ছা করেন তখন তাঁর কাজ শুধু নির্দেশ দেয়া যে, হয়ে যাও আর অমনি তা হয়ে যায়। পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সব জিনিসের কর্তৃত্ব রয়েছে। আর তাঁরই দিকে তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।"
সূরা আদ দাহর-এর ১-২ আয়াতে নাস্তিক মুশরিকদের ধ্যান-ধারণাকে খণ্ডন করে আল্লাহ বলেছেন: هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ حِينٌ مِّنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَّذْكُورًا و إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُّطْفَةٍ أَمْشَاجِ و نَّبْتَلِيْهِ فَجَعَلْنَهُ سَمِيعًا بَصِيْرًا
"মানুষের ওপর কি সীমাহীন কালের একটা সময় এমনও অতিবাহিত হয়েছে, যখন তারা উল্লেখ করার মতো কোনো জিনিসই ছিলো না। আমি মানুষকে এক সংমিশ্রিত শুক্র হতে সৃষ্টি করেছি যাতে আমি তাদের পরীক্ষা নিতে পারি। আরো এ উদ্দেশ্যে যে, আমি তাদেরকে শুনার ও দেখার শক্তি সম্পন্ন করে বানিয়েছি। অর্থাৎ জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেকবান করে বানিয়েছি।"
জন্মের আগের এসব সত্য কথার প্রতি লক্ষ করে কি কেউ মৃত্যুর পরের জীবন ও আখিরাতের ব্যবস্থাপনার প্রতি অবজ্ঞা অবহেলা অস্বীকারকারী
হতে পারে? সূরা ইউনুসের ৪ আয়াতে এ অবিশ্বাসীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আল্লাহ বলেছেন:
اِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا ، وَعْدَ اللهِ حَقًّا ، اِنَّهُ يَبْدَوُا الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ لِيَجْزِيَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ بِالْقِسْطِ وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيْمٍ وَّعَذَابٌ اَلِيْمٌ بِمَا كَانُوْا يَكْفُرُوْنَ
“তোমাদের সকলকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। এটা আল্লাহর পাকাপোক্ত কথা। সৃষ্টির সূচনা অবশ্যই তিনি করেন। দ্বিতীয়বার সৃষ্টিও তিনি করবেন। যেন যারা ঈমান আনলো ও যারা নেক আমল করলো তাদেরকে তিনি ইনসাফের সাথে প্রতিদান দিতে পারেন। আর যারা কুফরীর পথ অবলম্বন করলো, তারা উত্তপ্ত পানি পান করবে আর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে। সত্যকে অস্বীকার করে তারা যা কিছু করেছে তার জন্যই তাঁদের শাস্তি।”
মৃত্যুর পর মানুষের শরীরের অস্থি, চর্ম, গোশত ও অণু-পরমাণু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাবার পর মানুষের পুনর্জীবিত হবার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে অবিশ্বাসীরা যে উক্তি করে তার জবাবে আল্লাহ সূরা আল কাফ এর ৪ আয়াতে বলেন:
قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنْقُصُ الْاَرْضُ مِنْهُمْ ۚ وَعِنْدَنَا كِتٰبٌ حَفِيْظٌ “মাটি মৃতের যা কিছুই খেয়ে ফেলে তা সব আমার জানা। আর আমার নিকট একখানা কিতাব রয়েছে যাতে সবকিছু সংরক্ষিত।”
পুনর্জীবন অস্বীকারকারীদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ সূরা আল হাজ্জের ৫ আয়াতে স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ اِنْ كُنْتُمْ فِيْ رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَاِنَّا خَلَقْنٰكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَّغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ وَنُقِرُّ فِى الْاَرْحَامِ مَا نَشَآءُ اِلٰۤى اَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوْۤا اَشُدَّكُمْ ۚ وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّتَوَفّٰى وَمِنْكُمْ مَّنْ يُّرَدُّ اِلٰۤى اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْـًٔا
"হে মানবজাতি! মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহ করো, তাহলে মনে করে দেখো দেখি—আমি তোমাদেরকে প্রথম মাটি হতে সৃষ্টি করেছি। তারপর এক বিন্দু বীর্য থেকে। তারপর রক্তপিণ্ড থেকে। তারপর গোশত পিণ্ড থেকে। যার কিছু সংখ্যক হয় পূর্ণাঙ্গ, কিছু থেকে যায় অপূর্ণাঙ্গ। এতে তোমাদের সামনে আমার কুদরত প্রকাশ করি। মাতৃগর্ভে আমি যাকে ইচ্ছা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অর্থাৎ প্রসবকাল পর্যন্ত রেখে দেই। তারপর তোমাদেরকে শৈশব অবস্থায় মায়ের গর্ভ থেকে বাইরের জগতে নিয়ে আসি। যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ করতে পারো। তোমাদের মধ্যে এমনও আছে যারা যৌবন প্রাপ্তির আগেই মৃত্যুবরণ করে। এমনও কিছু আছে যারা দীর্ঘ জীবন লাভ করে বুড়োকাল পায়। যেনো সবকিছু জেনে নেয়ার পর কিছুই না জানে।"
এ আয়াতে আল্লাহ বুঝাচ্ছেন যে, এতগুলো কাজ যদি আল্লাহ তোমাদের প্রথম সৃষ্টিতে যোগান দিতে পারেন। তাহলে দেখা জিনিসটা কিছু দিন পর আবার তিনি সৃষ্টি করতে পারবেন না কেনো? তাদের এ ভুল ভাঙাবার জন্য পূর্ব জন্ম রহস্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সূরা আল ওয়াকেয়ার ৫৮-৬২ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
أَفَرَهَ يْتُمْ مَّا تُمْنُونَهُ وَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَلِقُوْنَ نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِيْنَهُ عَلَى أَنْ تُبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُولَى فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ
"তোমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছো? তোমরা এই যে শুক্র নিক্ষেপ করো, তা থেকে তোমরা সন্তান সৃষ্টি করো, না তার সৃষ্টিকর্তা আমরা? আমরাই তোমাদের মাঝে মৃত্যুকে বণ্টন ও নির্ধারণ করেছি; আর আমরা কিছুমাত্র অক্ষম নই। এ কাজ থেকে যে, তোমাদের আকৃতি পরিবর্তন করে দিবো এবং এমন একটা আকৃতিতে তোমাদেরকে সৃষ্টি করবো, যা তোমরা জানো না। নিজেদের প্রথম সৃষ্টি লাভকে তো তোমরা জানো, তাহলে তোমরা কেন শিক্ষা লাভ করবে না?"
সূরা আশ শূরা ২০ আয়াতে আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন:
مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْلَهُ فِي حَرْثِهِ ، وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَّصِيبٍ .
"যে কেউ আখিরাতের ফসল চায়, তার ফসল আমরা বৃদ্ধি করি। আর যে লোক দুনিয়ার ফসল পেতে চায়, তাকে দুনিয়া থেকেই দান করি; কিন্তু পরকালে তার কিছুই প্রাপ্য হবে না।”
সূরা আল বাকারার ৮১ আয়াতে বলেন: بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُوْلَئِكَ أَصْحَبُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خُلِدُونَ
"বস্তুত যে ব্যক্তিই পাপ করবে এবং নিজের পাপজালে নিজেরাই বিজড়িত হবে, তারাই জাহান্নামী হবে এবং তারা জাহান্নামেই চিরদিন থাকবে।"
সূরা আল বাকারার ১২৩ আয়াতে বলেন: وَاتَّقُوا يَوْمًا لا تَجْزِى نَفْسٌ عَنْ نَّفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا تَنْفَعُهَا شَفَاعَةً وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ
"তোমরা ভয় করো সেই দিনটিকে যখন কেউ কারো একবিন্দু উপকারে আসবে না, কারো নিকট থেকে কোনো 'বিনিময়' গ্রহণ করা হবে না, কোনো সুপারিশই কাউকে একবিন্দু উপকার দান করবে না, আর পাপীগণ কোনো দিক দিয়েও কিছুমাত্র সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।"
সূরা আল বাকারার ২৮১ আয়াতে বলেন: وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللهِ تف ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لا يُظْلَمُونَ
"আর সেদিনের লাঞ্ছনা ও বিপদ থেকে আত্মরক্ষা করো যেদিন তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে। তথায় প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার উপার্জিত পাপ কিংবা গুনাহর পুরোপুরি ফলদান করা হবে এবং কখনো কারো উপর যুলুম করা হবে না।"
সূরা আলে ইমরানের ২৮ আয়াতে বলেন: لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَفِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ، وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ
فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَةً ، وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ، وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
“মু’মিনগণ যেন কখনো ঈমানদার লোকদের পরিবর্তে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক ও সহযাত্রীরূপে গ্রহণ না করে। যে এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তার কোনোই সম্পর্ক থাকবে না। অবশ্য তাদের যুলুম থেকে বাঁচার জন্য বাহ্যত এরূপ কর্মনীতি অবলম্বন করলে তা আল্লাহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের সম্পর্কে ভয় দেখাচ্ছেন, তোমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে।”
সূরা আলে ইমরানের ৫৬ আয়াতে বলেন: فَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَأُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَمَا لَهُمْ مِّنْ نَّصِرِينَ
“যারা অমান্য ও অস্বীকার করার ভূমিকা অবলম্বন করেছে তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বত্রই কঠিন শাস্তি দান করবো এবং তারা কোনো সাহায্যকারী পাবে না।”
সূরা আলে ইমরানের ৭৭ আয়াত: إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ مّن وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“আর যারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথ—প্রতিজ্ঞাসমূহ সামান্য বা নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করে ফেলে আখিরাতে তাদের জন্য কোনো অংশই নির্দিষ্ট নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ না তাদের সাথে কথা বলবেন, না তাদের প্রতি চেয়ে দেখবেন, আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন; বরং তাদের জন্য তো কঠিন ও উৎপীড়ক শাস্তি রয়েছে।”
সূরা আলে ইমরানের ৮৫ আয়াতে বলেন: وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ ، وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخُسِرِينَ
“এ আনুগত্য ইসলাম ছাড়া যে ব্যক্তি অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করতে চায় তার সেই পন্থা একেবারেই কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে ব্যর্থ ও বঞ্চিত হবে।”
সূরা আলে ইমরানের ১৪৫ আয়াতে বলেন: وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ، وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا ، وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الْآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا ، وَسَنَجْزِي الشَّكِرِينَ
“কোনো প্রাণীই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মরতে পারে না। মৃত্যুর সময় তো নির্দিষ্টভাবে লিখিত রয়েছে। যে ব্যক্তি ইহকালীন ফলের আশায় কাজ করবে তাকে আমরা এ দুনিয়া থেকেই দান করবো, আর যে আখিরাতের সুফল পাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে কাজ করবে, সে আখিরাতেই সওয়াব পাবে। এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকারকারীদেরকে তাদের কাজের ফল আমি নিশ্চয় দান করবো।"
সূরা আলে ইমরানের ১৭৬ আয়াতে বলেন: وَلَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ إِنَّهُمْ لَنْ يَضُرُّوا اللَّهَ شَيْئًا ، يُرِيدُ اللهُ اَلا يَجْعَلَ لَهُمْ حَظًّا فِي الْآخِرَةِ ، وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ Ο
"হে নবী! আজ যারা কুফরীর পথে যারপরনেই চেষ্টা-সাধনা করছে তাদের কর্মতৎপরতা যেন তোমাদেরকে চিন্তান্বিত না করে। তারা আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতিও করতে পারবে না। আল্লাহর ইচ্ছা এই যে, আখিরাতে কোনো অংশই তাদের জন্য রাখবেন না। সবশেষে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি নির্দিষ্ট রয়েছে।"
সূরা আন নিসার ৫৯ আয়াতে বলেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاه
"হে ঈমানদারগণ! আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রাসূলের এবং সেইসব লোকেরও, যারা তোমাদের মধ্যে সামগ্রিক দায়িত্বসম্পন্ন।
অতপর তোমাদের মধ্যে যদি কোনো ব্যাপারে মতবৈষম্যের সৃষ্টি হয় তবে তাকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা প্রকৃতই আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমানদার হয়ে থাকো। এটাই সঠিক কর্মনীতি এবং পরিণতির দিক দিয়েও এটাই উত্তম।"
সূরা আন নিসার ৭৭ আয়াতে বলেন:
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلَوةَ وَآتُوا الزَّكُوةَ : فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْيَةِ اللَّهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةً ، وَقَالُوا رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَيْنَا الْقِتَالَ ، لَوْلَا أَخَّرْتَنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ ، قُلْ مَتَاعُ الدُّنْيَا قَلِيلٌ ، وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ لِمَنِ اتَّقَى ، وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيْلاً .
"তুমি তাদেরকেও দেখেছো কি? তাদেরকে বলা হয়েছিল যে, তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখ, নামায কায়েম করো ও যাকাত দাও। এখন তাদেরকে লড়াই করার আদেশ করা হলে তখন তাদের এক দল লোকের অবস্থা এই যে, তারা অন্য লোকদেরকে এমন ভয় করে যেমন আল্লাহকে ভয় করা উচিত। অথবা তার চেয়েও বেশী। তারা বলে: হে আল্লাহ! এ লড়াই করার আদেশ কেন আমাদের প্রতি লিখে দিলে? আমাদেরকে আরো কিছু কাল অবসর দেয়া হলো না কেন? তাদেরকে বলো, দুনিয়ার জীবন-সম্পদ অত্যন্ত কম। আর আখিরাত একজন আল্লাহভীরু ব্যক্তির জন্য অতিশয় উত্তম। মনে রেখো তোমাদের প্রতি একবিন্দু পরিমাণও যুলুম করা হবে না।"
সূরা আন নিসার ১৩৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন:
مَنْ كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللهِ ثَوَابُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا بَصِيرًا
“যে ব্যক্তি শুধু দুনিয়ার সওয়াবের সন্ধানী সে যেনো জেনে রাখে যে, আল্লাহর নিকট দুনিয়ার সওয়াবও রয়েছে আর আখেরাতের সওয়াবও। আল্লাহ বস্তুতই সবকিছু শোনেন ও সবকিছু দেখেন।"
সূরা আল মায়েদার ৫ আয়াতে বলেন:
الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَتُ ، وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتُبَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ مِّن حِلٌّ لَّهُمْ ، وَالْمُحْصَنَتُ مِنَ الْمُؤْمِنَتِ وَالْمُحْصَنَتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتُبَ مِّنْ قَبْلِكُمْ إِذَا أَتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحْصِنِيْنَ غَيْرَ مُسَافِحِيْنَ وَلَا مُتَّخِذِى أَخْدَانٍ ، وَمَنْ يَكْفُرْ بِالْإِيْمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ ، وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخُسِرِيْنَ
“আজ তোমাদের জন্য সকল পাক জিনিসই হালাল করে দেয়া হয়েছে। আহলি কিতাবের খানা খাওয়া তোমাদের জন্য হালাল, তোমাদের খানা তাদের জন্যও হালাল। এবং সুরক্ষিতা নারীরাও তোমাদের জন্য হালাল—তারা ঈমানদার লোকদের মধ্য থেকে হোক কিংবা পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের মধ্য থেকে হোক। তবে শর্ত এই যে, তোমরা তাদের 'মোহরানা' আদায় করে বিবাহ- বন্ধনে তাদের রক্ষক হবে, স্বাধীন লালসা পূরণ কিংবা গোপনে লুকিয়ে বন্ধুত্ব করে নয়। যে কেউ ঈমানের নীতি অনুযায়ী চলতে অস্বীকার করবে তার জীবনের সমস্ত কাজ নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আখিরাতে সে দেউলিয়া হবে।”
সূরা আল মায়েদার ৩৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন : إِنَّمَا جَزَؤُا الَّذِيْنَ يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُّقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ، ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ
“যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে লড়াই করে এবং যমীনে ফাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায় তাদের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি হত্যা কিংবা শূলে চড়ানো অথবা তাদের হাত ও পা উল্টা দিক থেকে কেটে ফেলা, কিংবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা। এ লাঞ্ছনা ও অপমান হবে এ দুনিয়ায় : আর আখিরাতে তাদের জন্য এটা অপেক্ষাও কঠিনতম শাস্তি নির্দিষ্ট রয়েছে।”
সূরা আল মায়েদার ৪১ আয়াতে বলেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ لَا يَحْزُنكَ ٱلَّذِينَ يُسَٰرِعُونَ فِى ٱلْكُفْرِ مِنَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِأَفْوَٰهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِن قُلُوبُهُمْ ۖ وَمِنَ ٱلَّذِينَ هَادُوا۟ سَمَّٰعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّٰعُونَ لِقَوْمٍ ءَاخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ ۖ يُحَرِّفُونَ ٱلْكَلِمَ مِنۢ بَعْدِ مَوَاضِعِهِۦ ۖ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَٰذَا فَخُذُوهُ وَإِن لَّمْ تُؤْتَوْهُ فَٱحْذَرُوا۟ ۚ وَمَن يُرِدِ ٱللَّهُ فِتْنَتَهُۥ فَلَن تَمْلِكَ لَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا ۚ أُولَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَمْ يُرِدِ ٱللَّهُ أَن يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ ۚ لَهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا خِزْىٌ ۖ وَلَهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌۭ
“হে রাসূল! কুফরীর পথে যারা দ্রুত পদচারণার পরাকাষ্ঠা দেখাচ্ছে তারা যেন তোমার মর্মপীড়ার কারণ না হয়, যদিও তারা এমন সব লোকের অন্তরভুক্ত হয় যারা মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান আনেনি অথবা তারা এমন সব লোকের অন্তরভুক্ত হয় যারা ইহুদী হয়ে গেছে, যাদের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, তারা মিথ্যা ভাষণ শোনার জন্য কান পেতে বসে থাকে এবং যারা কখনো তোমার কাছে আসেনি তাদের জন্য আড়ি পেতে থাকে, আল্লাহর কিতাবের শব্দাবলীর সঠিক স্থান নির্ধারিত হওয়া সত্ত্বেও যারা সেগুলোকে তাদের আসল অর্থ থেকে বিকৃত করে এবং লোকদের বলে, যদি তোমাদের এ হুকুম দেয়া হয় তাহলে মেনে নাও অন্যথায় মেনো না। যাকে আল্লাহ নিজেই ফিতনার মধ্যে নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেন, তাকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচাবার জন্য তোমরা কিছুই করতে পারো না। এসব লোকের অন্তরকে আল্লাহ পবিত্র করতে চাননি। এদের জন্য দুনিয়াতে আছে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে কঠিন শাস্তি।"
সূরা আল মায়েদার ৬৯ আয়াতে বলেন:
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱلَّذِينَ هَادُوا۟ وَٱلصَّٰبِـُٔونَ وَٱلنَّصَٰرَىٰ مَنْ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْـَٔاخِرِ وَعَمِلَ صَٰلِحًا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
"(নিশ্চয় জেনো, এখানে কারো একচেটিয়া বন্দোবস্ত নেই) মুসলিম হোক কি ইহুদী, সাবী হোক কি ঈসায়ী-যে-ই আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে এবং নেক কাজ করবে, এটা নিসন্দেহ যে, তার না কোনো ভয়ের কারণ আছে, না দুঃখ ও চিন্তার।"
সূরা আল আনআমের ৩২ আয়াতে বলেন: وَمَا الْحَيَوةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَعِبٌ وَلَهْوَ، وَالدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ . أَفَلَا تَعْقِلُونَ
"দুনিয়ার এ যিন্দেগী একটি ক্রীড়া ও তামাশার ব্যাপার ছাড়া কিছু নয়; প্রকৃতপক্ষে আখিরাতের স্থান তাদের জন্য কল্যাণকর, যারা (আজ) ধ্বংসের গ্রাস থেকে আত্মরক্ষা করতে চায়। তবে তোমরা কি কিছুমাত্র বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিবে না?"
সূরা আল আ'রাফের ৪৫ আয়াতে বলেন: الَّذِينَ يَصُdُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ۚ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ كَفَرُونَهُ
"যারা লোকদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা দিতো, তাকে বাঁকা করতে চাইতো এবং আখিরাতের অস্বীকারকারী হয়ে গিয়েছিল।"
সূরা আত তাওবার ৩৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيْتُمْ بِالْحَيُوةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيُوةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ
"হে ঈমানদার লোকেরা! তোমাদের কি হয়েছে, তোমাদেরকে যখন আল্লাহর পথে বের হবার নির্দেশ দেয়া হলো, তখন তোমরা যমীনকে আঁকড়ে ধরে থাকলে? তোমরা কি আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে পসন্দ করে নিয়েছো? এটাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, দুনিয়ার জীবনের এসব সাজ-সরঞ্জাম আখিরাতে খুব সামান্যই মনে হবে।"
সূরা আত তাওবার ৬৯ আয়াতে বলেন: كَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْكُمْ قُوَّةً وَأَكْثَرَ أَمْوَالًا وَأَو ، فَاسْتَمْتَعُوا بِخَلَاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِخَلاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ بِخَلاقِهِمْ وَخُضْتُمْ كَالَّذِي خَاضُوا ، أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَأُولَئِكَ هُمُ الْخَسِرُونَ
"তোমাদের হাব-ভাব তাই, যা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ছিল। তারা বরং তোমাদের অপেক্ষাও পরাক্রমশালী ও অধিক সম্পদ ও সন্তানের অধিকারী ছিলো। এর কারণে তারা দুনিয়ায় নিজেদের অংশের মজা লুটে নিয়েছে—যেমন তারা লুটেছিলো। আর সেই ধরনের তর্ক-বিতর্কে তোমরাও লিপ্ত হয়েছো যে ধরনের বিতর্কে তারা লিপ্ত হয়েছিলো। অতএব তাদের পরিণাম এই হলো, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় কাজকর্ম নিষ্ফল হয়ে গেলো এবং তারাই এখন ক্ষতিগ্রস্ত।"
সূরা আত তাওবার ৭৪ আয়াতে বলেন:
يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا ، وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدِ إِسْلَامِهِمْ وَهَمَّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا ، وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَغْنُهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِنْ فَضْلِهِ ، فَإِنْ يَتُوبُوا يَكُ خَيْرًا لَّهُمْ ، وَإِنْ يَتَوَلَّوْا يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ عَذَابًا أَلِيمًا * فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَمَا لَهُمْ فِي الْأَرْضِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيْرِهِ
"এ লোকেরা আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, তারা সেই কথা বলেনি, অথচ তারা নিশ্চয়ই সেই কুফরী কথা বলেছে। তারা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরী অবলম্বন করেছে, আর তারা সেইসব কাজ করার ইচ্ছা করেছিলো যা তারা করতে পারেনি। তাদের এ সকল ক্রোধ কেবল এ কারণেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল ও ধনশালী করে দিয়েছেন। এখন যদি তারা নিজেদের এ আচরণ হতে ফিরে আসে, তবে তাদের জন্য ভালো। তবে তাদের পক্ষেই ভালো; অন্যথায় আল্লাহ তাদেরকে অত্যন্ত পীড়াদায়ক শাস্তি দান করবেন—দুনিয়ায় এবং আখিরাতেও, আর পৃথিবীতে এরা নিজেদের কোনো সমর্থক ও সাহায্যকারী পাবে না।"
সূরা ইউনুসের ৬৩-৬৪ আয়াতে বলেন:
الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُوْنَ لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ، لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَتِ اللَّهِ ، ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"যারা ঈমান এনেছে এবং যারা তাকওয়ার আচরণ অবলম্বন করেছে, দুনিয়া ও আখেরাতে উভয় জীবনে তাদের জন্য কেবল সুসংবাদই
রয়েছে। আল্লাহর কথাসমূহ বদলাতে পারে না। এটাই অতি বড়ো সাফল্য।"
সূরা হূদের ১৫-১৬ আয়াতে বলেন: مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَيُوةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لا يُبْخَسُونَ ، أَوْلَئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَطِلٍّ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
"যেসব লোক শুধু এ দুনিয়ার জীবন এবং তার চাকচিক্যের অনুসন্ধানী হয়, তাদের কাজ-কর্মের যাবতীয় ফল আমরা এখানেই তাদেরকে দান করি, আর তাতে তাদের প্রতি কোনোরূপ কমতি করা হয় না। কিন্তু আখিরাতে তাদের জন্য আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই। তারা দুনিয়ায় যাকিছু বানিয়েছে, তা সবই বিলীন হয়ে গেছে এবং তাদের যাবতীয় কৃতকর্ম সম্পূর্ণরূপে নিষ্ফল হয়েছে।”
সূরা হূদের ১৯-২২ আয়াতে বলেনঃ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُوْنَهَا عِوَجًا وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كُفِرُونَ أُولَئِكَ لَمْ يَكُونُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ وَمَا كَانَ لَهُمْ مِّنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ، يُضْعَفُ لَهُمُ الْعَذَابُ ، مَا كَانُوا يَسْتَطِيعُونَ السَّمْعَ وَمَا كَانُوا يُبْصِرُونَ أَوْلَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ لَأَجَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْأَخْسَرُونَ .
"সেই যালেমদের ওপর যারা আল্লাহর পথ থেকে লোকদেরকে ফিরিয়ে রাখে, তার থেকে বাঁকা-টেরা করে দিতে চায়, আর আখিরাতকে অস্বীকার করে। তারা যমীনে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারতো না, আর না আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সাহায্যকারী কেউ ছিল। তাদেরকে এখন দ্বিগুণ আযাব দেয়া হবে। তারা না কারো কথা শুনতে পারতো, না তাদের বুদ্ধিতে কিছু আসতো। এরা সেই লোক, যারা নিজেদেরকে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আর তারা যাকিছু রচনা করেছিল, তা সবকিছু তাদের নিকট থেকে হারিয়ে গেছে। অনিবার্যভাবে তারাই আখিরাতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির মধ্যে পড়বে।"
সূরা ইউসুফের ৫৭ আয়াতে: وَلَاجْرُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ لِلَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُوْنَ .
"আর আখিরাতের কর্মফল তাদের জন্য অধিক কল্যাণময় যারা ঈমান এনেছিল এবং আল্লাহকে ভয় করে কাজ করছিল।"
সূরা ইউসুফের ১০৯ আয়াতে বলেন: وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ الأَرِجَالاً نُّوْحِي إِلَيْهِمْ مِّنْ أَهْلِ الْقُرَى ، أَفَلَمُ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ ، وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا ، أَفَلَا تَعْقِلُوْنَ
"হে মুহাম্মাদ! তোমার পূর্বে আমরা যে নবী পয়গম্বর পাঠিয়েছিলাম তারা সকলে মানুষই ছিল। আর এ জনবসতিরই অধিবাসী ছিল এবং তাদের প্রতি আমরা অহী পাঠিয়েছিলাম। এখন এ লোকেরা কি দুনিয়ায় ঘুরেফিরে বেড়ায়নি, সেই জাতিসমূহের পরিণাম তাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি যারা তাদের পূর্বে অতীত হয়ে গেছে? নিশ্চিতই আখিরাতের ঘর তাদেরই জন্য আরো উত্তম যারা (নবী-রাসূলদের কথা মেনে নেবে) তাকওয়ার নীতি ও আচরণ অবলম্বন করেছে। এখনো কি তোমরা বুঝবে না?"
সূরা আর রা'দের ২৬ আয়াতে বলেনঃ اللهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ، وَفَرِحُوا بِالْحَيُوةِ الدُّنْيَا ، وَمَا الحيوةُ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا مَتَاعٌ
"আল্লাহ যাকে চান রিস্কের প্রাচুর্য দান করেন, আর যাকে চান পরিমিত পরিমাণে রিস্ক দেন। এ লোকেরা দুনিয়ার জীবনের আনন্দে নিমগ্ন হয়ে আছে। অথচ দুনিয়ার জীবন আখিরাতের তুলনায় এক সামান্য জিনিস ছাড়া আর কিছুই নয়।"
সূরা আর রা'দের ৩৪ আয়াতে বলেন: لَهُمْ عَذَابٌ فِي الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَقُّ ، وَمَا لَهُمْ مِّنَ اللَّهِ مِنْ واق
"এ ধরনের লোকদের জন্য দুনিয়ার জীবনেই আযাব রয়েছে, আর আখিরাতের আযাব তো তা থেকেও কঠিন ও কঠোর। এমন কেউ নেই যে, তাদেরকে আল্লাহর (আযাব) থেকে রক্ষা করবে।"
সূরা ইবরাহীমের ৩ আয়াতে বলেন: الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَوةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا ، أُولَئِكَ فِي ضَلَلٍ بَعِيدٍ .
"যারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের ওপর অগ্রাধিকার দান করে, যারা আল্লাহর পথ থেকে লোকদেরকে বিরত রাখে এবং চায় যে, এ পথ (তাদের কামনা-বাসনা অনুযায়ী) বাঁকা হয়ে যাক। এ লোকেরা গোমরাহীতে বহুদূরে চলে গেছে।"
সূরা ইবরাহীমের ২৭ আয়াতে বলেন: يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللهُ الظَّلِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ .
"ঈমান গ্রহণকারীদেরকে আল্লাহ এক প্রতিষ্ঠিত-প্রমাণিত কথার ভিত্তিতে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই প্রতিষ্ঠা দান করেন। আর যালেম লোকদেরকে আল্লাহ বিভ্রান্ত করে দেন। আল্লাহর ইখতিয়ার রয়েছে, যা চান করেন।"
সূরা আন নাহলের ২২ আয়াতে বলেন: إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ، فَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ قُلُوبُهُمْ مُنْكِرَةٌ وَهُمْ مُسْتَكْبِرُونَ
"তোমাদের ইলাহ শুধু এক ইলাহ। কিন্তু যারা আখিরাতকে মানে না তাদের অন্তরে আল্লাহর অস্বীকৃতি আসন গেড়ে বসেছে। আর তারা আত্ম-অহংকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।"
সূরা আন নাহলের ৩০ আয়াতে বলেন: وَقِيلَ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا مَاذَا أَنْزَلَ رَبُّكُمْ ، قَالُوا خَيْرًا لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ ، وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ ، وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِينَ
"অপরদিকে, আল্লাহভীরু লোকদের নিকট জিজ্ঞেস করা হয়: এটা কি জিনিস, যা তোমাদের আল্লাহর তরফ থেকে নাযিল হয়েছে? তখন তারা জবাব দেয়: খুবই উত্তম ও উৎকৃষ্ট জিনিস নাযিল হয়েছে। এ ধরনের নেক্কার লোকদের জন্য এ দুনিয়ায়ও কল্যাণ রয়েছে, আর আখিরাতের ঘর তো নিশ্চিতই তাদের পক্ষে খুবই কল্যাণকর হবে। বড়ই উত্তম ঘর মুত্তাকী লোকদের।"
সূরা আন নাহলের ৬০ আয়াতে বলেন: لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ ۖ وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَىٰ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
"খারাপ বিশেষণে অভিহিত হওয়ার যোগ্য তো সেই লোকেরা যারা আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। আর আল্লাহ, তাঁর জন্য তো সবচেয়ে উত্তম ও উন্নত গুণাবলী শোভনীয়। তিনিই তো সকলের উপর বিজয়ী এবং জ্ঞান-বুদ্ধিতে পরিপূর্ণ।”
সূরা আন নাহলের ১০৬-১০৭ আয়াতে বলেন: مَنْ كَفَرَ بِاللهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللهِ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ۞ ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ
“যে ব্যক্তি ঈমান গ্রহণের পর কুফরী করে, (সে যদি) বাধ্য হয়ে গিয়ে থাকে, অথচ তার অন্তর ঈমানের প্রতি পূর্ণ আস্থাবান ও অবিচল থাকে, তবে কোনো দোষ নেই কিন্তু যে লোক উন্মুক্ত মন নিয়ে কুফরী কবুল করে নিবে, তার ওপর আল্লাহর গযব বর্ষিত হবে এবং এমন সব লোকের জন্য বড়ো বড়ো আযাব রয়েছে। এটা এ কারণে যে, তারা আখিরাত অপেক্ষা ইহকালের জীবনকেই পসন্দ করে নিয়েছে। আর আল্লাহর নিয়ম হলো, তিনি সেই লোকদেরকে মুক্তির পথ দেখান না যারা তাঁর নেয়ামতের না-শোকরী করে।"
সূরা বনী ইসরাঈলের ১০ আয়াতে বলেন:
وَأَنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا "আর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদেরকে জানিয়ে দাও, তাদের জন্য আমরা অত্যন্ত পীড়াদায়ক আযাব প্রস্তুত করে রেখেছি।"
সূরা বনী ইসরাঈলের ১৭-১৯ আয়াতে বলেন: وَكَمْ أَهْلَكْنَا مِنَ الْقُرُونِ مِنْ بَعْدِ نُوحٍ ، وَكَفَى بِرَبِّكَ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُّرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ : يَصْلُهَا مَذْمُومًا مَّدْحُورًا وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأَوْلَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَّشْكُورًا
"চেয়ে দেখো, কতো শত বংশধারা এমন যারা নূহের পরে আমাদের হুকুমে ধ্বংস হয়ে গেলো। তোমার আল্লাহ তাঁর বান্দাদের গুনাহখাতা সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিফহাল। আর তিনি সবকিছু দেখছেন। যে কেউ (এ পৃথিবীতে) নগদ পেতে ইচ্ছুক তাকে আমরা এখানেই দিয়ে দিই। যাকেই যা দিতে চাই। অতপর তার ভাগ্যে জাহান্নাম লিখে দিই যা তাকে উত্তপ্ত করবে, সে হবে ভর্ৎসিত ও রহমত বঞ্চিত। আর যে লোক পরকালকামী এবং তার জন্য চেষ্টা-সাধনা করে, যতখানি তার জন্য চেষ্টা-সাধনা করা দরকার, সে যদি মু'মিন হয়, তাহলে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির চেষ্টা-সাধনাই সাদরে গৃহীত হবে।"
এভাবে গোটা কুরআনে প্রায় ৫৫ জায়গায় আখিরাতের অকাট্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00