📘 কুরআন তিলাওয়াত : ফযীলত ও আদব > 📄 অষ্টদশ আদব : উচ্চরব ও নিরবের মাঝামাঝি স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করা

📄 অষ্টদশ আদব : উচ্চরব ও নিরবের মাঝামাঝি স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করা


অষ্টদশ আদব : উচ্চরব ও নিরবের মাঝামাঝি স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করা। সরবে কুরআন তিলাওয়াত সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَا أَذِنَ اللهُ لِشَيْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيَّ حَسَنِ الصَّوْتِ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ.
'আল্লাহ তা'আলা কোনো নবীকে এতটুকু সুর দিয়ে পড়ার অনুমতি দেননি যতোটা দিয়েছেন নবীকে কুরআন তিলাওয়াতে সুরারোপ করার অনুমতি, যা তিনি সরবে পড়েন।'51
অনুরূপ তিনি ইরশাদ করেছেন,
الْجَاهِرُ بِالْقُرْآنِ كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ وَالْمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْمُسِرِّ بِالصَّدَقَةِ.
'সরবে কুরআন তিলাওয়াত প্রকাশ্য সদকাকারীর ন্যায় এবং নিরবে কুরআন তিলাওয়াত গোপনে সদকাকারীর ন্যায়। 152
প্রথম হাদীসে সরবে আর দ্বিতীয় হাদীসে নিরবে পড়ার ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। আমরা তাহলে কীভাবে সিদ্ধান্তে আসবো? হ্যা, উভয় হাদীসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে ইমাম নববী রহ. বলেন, যেখানে রিয়া, ঘুমন্ত ব্যক্তির ঘুম ভাঙ্গানো বা নামাজরত ব্যক্তি কষ্ট পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সেখানে নিরবে পড়া উত্তম। কারণ, নামাজী ব্যক্তির পাশে সরবে তিলাওয়াত করলে তার পড়ায় বিঘ্ন ঘটবে। তাছাড়া তিলাওয়াতেও ব্যাঘাত ঘটবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে নিরবে পড়াই শ্রেয়। এছাড়া অন্য সময় সরবে পড়া উত্তম। কারণ, এতে স্বর উঁচু করা, কষ্ট ও চেষ্টা ব্যয় করার অতিরিক্ত শ্রম দিতে হয়। তদুপরি সরবে তিলাওয়াত পাঠক হৃদয়কে জাগ্রত করে। তার চিন্তাকে কুরআনের প্রতি নিবিষ্ট এবং কর্ণকে এর দিকে উৎকর্ণ করে। এর ফলে পাঠক বেশি লাভবান হন। এভাবে তা বেশি আত্মস্থ হওয়া, শয়তানকে বিতাড়ন করা, ঘুম তাড়ানো ও উদ্যম সৃষ্টিতে অধিক সহায়ক। 53
আবূ বকর রা. নিরবে কুরআন তিলাওয়াত করতেন আর উমর করতেন সরবে। উমর রা. কে সরবে পড়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'সরবে পড়ে আমি শয়তানকে বিতাড়ন করি এবং ঝিমুনি তাড় guai। অতপর আবূ বকর রা. কে নির্দেশ দেয়া হলো আওয়াজ একটু বাড়াতে আর উমর রা. কে নির্দেশ দেয়া হলো আওয়াজ একটু কমাতে। 54
আরেকটি কথা, ধরুন আপনি কুরআন তিলাওয়াত করছেন। কিছুক্ষণ সরবে পড়ার পর একটু ক্লান্ত হয়ে গেলেন। এবার একটু আওয়াজ কমিয়ে পড়তে লাগলেন। তারপর যখন ক্লান্তি কেটে গেল তো আবার সরবে পড়া শুরু করলেন। আমাদের অনেকেরই হয়তো এমন হয় ঠিক না? জেনে রাখুন, এতে কোনো সমস্যা নেই।

টিকাঃ
৫১. আবূ দাউদ, সুনান : ১৪৭৫; নাসায়ী, সুনান : ১০১৭।
৫২. আবূ দাউদ : ১৩৩৫; মুসনাদ আহমদ : ১৮৩৬৮।
৫৩. আল-ইতকান : ১/২৯৯।
৫৪. আবদুর রাযযাক, মুসান্নাফ: ৪২১০।

📘 কুরআন তিলাওয়াত : ফযীলত ও আদব > 📄 ঊনবিংশ আদব : তিলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত এলে সিজদা দেয়া

📄 ঊনবিংশ আদব : তিলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত এলে সিজদা দেয়া


ঊনবিংশ আদব : তিলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত এলে সিজদা দেয়া। সিজদার নিয়ম হলো, তাকবীর দিয়ে সিজদায় চলে যাওয়া।

📘 কুরআন তিলাওয়াত : ফযীলত ও আদব > 📄 বিংশ আদব : যথাসম্ভব আদবসহ বসা

📄 বিংশ আদব : যথাসম্ভব আদবসহ বসা


বিংশ আদব : যথাসম্ভব আদবসহ বসা। বসা, দাঁড়ানো, চলমান ও হেলান দেয়া- সর্বাবস্থায় তিলাওয়াত করার অনুমতি রয়েছে। কারণ আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন,
الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ (۱۹۱)
'যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে'। 55
তবে উদাহরণ স্বরূপ বিনয়ের সঙ্গে বসে পড়া হেলান দিয়ে পড়ার চেয়ে উত্তম। জায়েযের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে কোনোটাতেই সমস্যা নেই। কিন্তু উত্তমের কথা বিবেচনা করলে বিনয় ও নম্রতার সঙ্গে বসে পড়াই শ্রেয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর নামাজের পর কিবলামুখী হয়ে চারজানু হয়ে বসে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার জিকির করতেন।

টিকাঃ
৫৫. সূরা আলে-ইমরান : ১৯১।

📘 কুরআন তিলাওয়াত : ফযীলত ও আদব > 📄 একবিংশ আদব : তিনদিনের কম সময়ে খতম না করা

📄 একবিংশ আদব : তিনদিনের কম সময়ে খতম না করা


একবিংশ আদব : কুরআন তিলাওয়াতের আরেকটি আদব হলো তিনদিনের কম সময়ে খতম না করা। কেননা আগেই উল্লেখ করেছি যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لا يَفْقَهُ مَنْ قَرَأُ الْقُرْآنَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثٍ.
'তিনদিনের কম সময়ে যে কুরআন খতম করবে, সে কুরআন বুঝবে না।'56

টিকাঃ
৫৬. আবূ দাউদ : ১৩৯৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00