📘 কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা > 📄 কয়েকটি প্রসিদ্ধ স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার বিবরণ

📄 কয়েকটি প্রসিদ্ধ স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার বিবরণ


তাবীর বা স্বপ্ন ব্যাখ্যার ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সীরীন রহ.র কাছে এক মহিলা আসল। তিনি তখন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। মহিলা বলল, হে আবূ বকর! আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। ইবন সীরীন রহ. বললেন, তুমি এক্ষুণি বলবে না আমাকে খেতে দেবে? মহিলা বলল, ঠিক আছে, আপনি খাওয়া শেষ করুন। খাওয়া শেষ করার পর তিনি মহিলাকে বললেন: এখন বল, তোমার দেখা স্বপ্ন। মহিলা বলল: আমি দেখলাম, আকাশের চন্দ্র সাতটি তারা (সুরাইয়া)-এর মধ্যে ঢুকে গেল। এরপর স্বপ্নের মধ্যে লোকেরা আমাকে বলল, ইবন সীরীনের কাছে খবরটা তাড়াতাড়ি পৌঁছে দাও।
ইবন সীরীন বললেন, ধিক! তোমাকে। কী দেখলে? আবার বল। এভাবে কয়েকবার তিনি বললেন। আর তিনি খুব অস্থির হয়ে গেলেন। তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তার বোন তাকে জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে? তিনি বললেন, এ মহিলাটি বলছে আমি সাত দিন পর মারা যাব। বর্ণনাকারী আসআছ বলেন, ঠিক সাত দিনের মাথায় আমরা ইমাম ইবন সীরীনকে দাফন করলাম।²³
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নের কথা শুনতে পছন্দ করতেন। তিনি একদিন জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ গত রাতে স্বপ্ন দেখেছ? আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন: আমি স্বপ্ন দেখেছি, আকাশ থেকে তিনটি চাঁদ আমার ঘরের মধ্যে পতিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, তাহলে তোমার ঘরে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তিন জন মানুষকে দাফন করা হবে।
এরপরে তো পর্যায়ক্রমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার ঘরে দাফন করা হয়েছে।²⁴
ইরাকের শাসক হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ একদিন স্বপ্নে দেখলেন, আকাশ থেকে জান্নাতের হুর সাদৃশ দুটো দাসী অবতীর্ণ হলো। একজনকে তিনি ধরতে পারলেন অন্য জন আকাশে উঠে গেল। স্বপ্ন দেখে তিনি খুব খুশী হলেন। এর ব্যাখ্যা জানার জন্য ইমাম ইবন সীরীনকে ডাকলেন।
ইবন সীরীন রহ. বললেন: এর ব্যাখ্যা হল, দুটো বিদ্রোহ (ফিতনা) সংঘটিত হবে। আপনি একটির মোকাবেলা করবেন। অন্যটিকে আপনি পাবেন না। (হয়ত আপনার পরে আসবে)
পরে দেখা গেল হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ, ইবনুল আসআছের বিদ্রোহ মোকাবেলা করলেন। আর ইবনুল মুলাহহাবের বিদ্রোহ তিনি দেখে যাননি।
কীভাবে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো? এর রহস্য কী?
এ স্বপ্নে দুটো ইঙ্গিত ছিল। প্রথমটি দাসী আর দ্বিতীয়টি হলো জান্নাতের হুর।
দুটো ইঙ্গিত পরস্পর বিরোধী। কারণ, হুর হল সুরক্ষিত। কিন্তু দাসী সুরক্ষিত নয়। অপর দিকে হুরের বিষয়টি দৃশ্যমান নয়, আর দাসীর বিষয়টি দৃশ্যমান। স্বপ্ন ব্যাখ্যার নিয়ম হল, এ রকম পরস্পর বিরোধী ইঙ্গিত দেখলে বাস্তব বা দৃশ্যমান ইঙ্গিত গ্রহণ করা হবে। এ বিবেচনায় এখানে দাসী দেখার বিষয়টি গ্রহণ করা হলো আর হুরের বিষয়টি গ্রহণ করা হল না।
আর দাসী হলো স্ত্রী নয়, এমন মেয়ে লোক। আর মেয়ে লোক হল ফিতনা-বিশৃংখলার উপকরণ। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার চলে যাওয়ার পর আমার উম্মতের ওপর সবচেয়ে ক্ষতিকর ফিতনা হিসেবে মেয়েদের রেখে গেলাম। তাই ইমাম ইবন সীরীন এ রকম ব্যাখ্যা করেছেন।²⁵
এক ব্যক্তি ইমাম জাফর সাদিকের কাছে এসে বলল, আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নটি হলো, একটি কাঁচের পেয়ালা আছে আমার। আমি তা থেকে পানাহার করি। কিন্তু তার মধ্যে একটি পিঁপড়া দেখলাম। সেও তা থেকে খাবার খায়। এর অর্থ কী?
ইমাম সাহেব বললেন, তোমার কি স্ত্রী আছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাসায় কি কোনো পুরুষ কাজের লোক (দাস) আছে? সে বলল, হ্যাঁ আছে। তিনি বললেন, কাজের লোকটিকে বিদায় করে দাও। তাকে রাখায় তোমার কোনো কল্যাণ নেই।
লোকটি বাড়ী গিয়ে স্ত্রীকে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার কথা বলল। স্ত্রী বলল, এখন তোমার সিদ্ধান্ত কী? লোকটি বলল, আমি দাসটিকে বিক্রি করে বিদায় করে দেব। স্ত্রী বলল, যদি তাকে বিদায় করো তাহলে আমাকে তালাক দাও। লোকটি স্ত্রীকে তালাক দিল। স্ত্রী দাসটিকে কিনে নিল ও তাকে বিয়ে করল।
এ স্বপ্নের মধ্যে তিনটি বিষয়কে ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রথম হলো, পুরুষ লোকটি। দ্বিতীয় হলো, পেয়ালা। আর তৃতীয়টি হলো, পিঁপড়া।
ইমাম জাফর সাদেক রহ. ব্যাখা করার আগে পুরুষ লোকটিকে জেনে নিলেন। আর এভাবেই কারো স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার আগে তার সম্পর্কে জেনে নিতে হয়।
দ্বিতীয় ইঙ্গিত, কাঁচের পেয়ালা দ্বারা স্ত্রীকে বুঝায়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের কাঁচের পাত্রের সাথে তুলনা করেছেন। যেমন, পূর্বোক্ত আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।
তার থেকে পানাহার করার অর্থ হলো সহবাস। আর পিঁপড়া ও তার খাওয়ার অর্থ হলো সে তার স্ত্রীতে অংশগ্রহণ করে। পিঁপড়া দ্বারা দুর্বল সত্তা ও চোর বুঝায়। সে এমনভাবে খায়, কেউ দেখে না। এর মানে কাজের লোকটি পিঁপড়ার মতো চুপিসারে তার স্ত্রীকে ভোগ করে।²⁶

টিকাঃ
²³ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান
²⁴ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান। বর্ণনায়: মুস্তাদরাক হাকেম
²⁵ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান
²⁶ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান

📘 কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা > 📄 মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা

📄 মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা


ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সীরীন রহ. বলেন: যদি স্বপ্নে কেউ মৃত ব্যক্তিকে দেখে তাহলে তাকে যে অবস্থায় দেখবে সেটাই বাস্তব বলে ধরা হবে। তাকে যা বলতে শুনবে, সেটা সত্যি বলে ধরা হবে। কারণ, সে এমন জগতে অবস্থান করছে যেখানে সত্য ছাড়া আর কিছু নেই।
যদি কেউ মৃত ব্যক্তিকে ভালো পোশাক পরা অবস্থায় বা সুস্বাস্থের অধিকারী দেখে, তাহলে বুঝতে হবে সে ভালো অবস্থায় আছে। আর যদি জীর্ণ, শীর্ণ স্বাস্থ্য বা খারাপ পোশাকে দেখে তাহলে বুঝতে হবে, ভালো নেই। তার জন্য তখন বেশি করে মাগফিরাত কামনা ও দো'আ-প্রার্থনা করতে হবে।
কয়েকটি উদাহরণ:
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বিদ্রোহীরা যখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাসভবন ঘেরাও করল। তখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি গত রাতে স্বপ্ন দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উসমান আমাদের সাথে তুমি ইফতার করবে। ঠিক ঐ দিনই উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হলেন।²⁷
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটি পাহাড়ের কাছে গেলাম। দেখি, পাহাড়ের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন আর পাশে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর হাত দিয়ে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর দিকে ইশারা করছেন।
আমি আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ স্বপ্নের কথা শুনে বললাম, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। আল্লাহর শপথ! উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তো মারা যাবেন! আচ্ছা আপনি কি বিষয়টি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লিখে জানাবেন? আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর নিজের মৃত্যু সংবাদ জানাব, এটা কী করে হয়? এর কয়েকদিন পরই স্বপ্নটা সত্যে পরিণত হলো। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হয়ে গেলেন। কারণ, মৃত্যু পরবর্তী সত্য জগত থেকে যা আসে, তা মিথ্যা হতে পারে না। সেখানে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।²⁸

টিকাঃ
²⁷ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান
²⁸ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান

📘 কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা > 📄 স্বপ্ন ব্যাখ্যার সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ.-এর কিছু বক্তব্য

📄 স্বপ্ন ব্যাখ্যার সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ.-এর কিছু বক্তব্য


বাস্তব জীবনে ঘটবে এমন কিছু আকৃতি-প্রকৃতি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার বান্দাদের দেখিয়ে থাকেন। এ দেখানোটা স্বপ্নে কখনো সরাসরি আবার কখনো ইঙ্গিত বা প্রতীকী বার্তায় হয়ে থাকে। যেমন আমরা বলে থাকি, স্বপ্নে কাপড় বা জামা দেখার মানে হল দীন-ধর্ম। যদি কাপড় ভালো ও বড় দেখা হয়, তবে তা দীন-ধর্ম, তাকওয়া-পরহেজগারীর উন্নতি নির্দেশ করে। আর তা যদি মলিন, সংকীর্ণ, ছেঁড়া-ফাটা দেখা হয় তবে তা দীন-ধর্মের অবনতি বলে মনে করা হয়ে থাকে।
দীন-ধর্ম যেমন মানুষের আত্মাকে রক্ষা করে, পোশাক তেমনি মানুষের শরীর-স্বাস্থ্যকে হিফাযত করে। এ জন্য পোশাক আর ধর্ম একে অপরের ইঙ্গিত বহন করে।
স্বপ্নে আগুন দেখা মানে ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা আর অরাজকতা নির্দেশ করে। কারণ, আগুন দৃশ্যমান ধন-সম্পদ জ্বালিয়ে দেয় আর ফিতনা-অরাজকতা মানুষের অন্তর জ্বালায়। মানুষকে অস্থির করে তোলে।
নক্ষত্র বা তারকা স্বপ্নে দেখলে তার অর্থ হয় আলেম-উলামা, জ্ঞানী-গুণি। কারণ, আলেম-উলামা ও জ্ঞানীরা মানুষকে পথ প্রদর্শন করেন। আলোর সন্ধান দেন।
স্বপ্নে ইয়াহূদী দেখার অর্থ হলো দীন-ধর্মের বিষয়ে অবাধ্যতা আর খৃষ্টান দেখার অর্থ হলো, দীন-ধর্মে বিদ'আত প্রবর্তন ও ধর্মীয় বিষয়ে পথভ্রষ্টতা।
স্বপ্নে লৌহ দেখার অর্থ হলো, শক্তি।
আর দাড়ি-পাল্লা দেখার অর্থ হলো, ন্যায়পরায়ণতা।
স্বপ্নে সাপ দেখার অর্থ হলো, শত্রু।
স্বপ্নে নিচে পড়ে যেতে দেখার অর্থ হলো, অবনতি আর উর্ধ্বে উঠতে দেখার অর্থ হলো, উন্নতি।
কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখে সে চুপচাপ ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, তাহলে এর অর্থ হবে মৃত্যু। আর যদি সে স্বপ্ন দেখে কথা বলতে বলতে সে ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, তাহলে এর অর্থ হবে জীবন ও সুস্থতা।
যদি কোনো ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে যে, তার মৃত্যু হচ্ছে, তাহলে এর অর্থ হবে সে পাপাচার থেকে তাওবা করবে। কেননা মৃত্যু মানে হলো, আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন:
ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَهُمُ الْحَقِّ ﴾ [الانعام: ٦٢]
“অতঃপর তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে তাদের সত্যিকার প্রভু আল্লাহর কাছে”। [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৬২]
এখানে ফিরিয়ে নেওয়া মানে মৃত্যু। আর তাওবা অর্থ ফিরে আসা।
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হাবেছ ইবন সাআদ আত-তাঈকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিলেন। একদিন হাবেছ উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি স্বপ্নে দেখলাম, চাঁদ আর সূর্য যুদ্ধ করছে। আর নক্ষত্রগুলো দু'পক্ষে বিভক্ত হয়ে গেছে। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এ কথা শুনে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তুমি কার পক্ষে ছিলে? চাঁদের পক্ষে না সূর্যের?
তিনি উত্তরে বললেন, আমি চাঁদের পক্ষে ছিলাম। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, তাহলে আমি তোমার নিয়োগ প্রত্যাহার করে নিলাম। কারণ, তুমি একটি মুছে যাওয়া শক্তির পক্ষে ছিলে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَجَعَلْنَا الَّيْلَ وَالنَّهَارَ ءَايَتَيْنِ فَمَحَوْنَا ءَايَةَ الَّيْلِ وَجَعَلْنَا ءَايَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً) [الاسراء: ١٢]
“আর আমরা রাত ও দিনকে করেছি দুটো নিদর্শন। অতঃপর মুছে দিয়েছি রাতের নিদর্শন (চাঁদকে) আর দিনের নিদর্শন (সূর্য) কে করেছি আলোকময়”। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১২]
আর তুমি একটি বিভ্রান্তিতে নিহত হবে। পরে দেখা গেল সত্যিই সে সিফফীনের যুদ্ধে সিরিয়াবাসীদের দলে থেকে নিহত হলো।²⁹
স্বপ্নে বাগান দেখার অর্থ হলো, কাজ ও চাকুরী। আর বাগান পুড়ে যাওয়া দেখলে অর্থ হবে বেকারত্ব ও পতন।

টিকাঃ
²⁹ সূত্র: আল ইসাবাহ ফী তামীযিস সাহাবাহ: ইবন হাজার রহ.

📘 কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা > 📄 ভালো স্বপ্ন বাস্তবায়ন দেরিতে হয়

📄 ভালো স্বপ্ন বাস্তবায়ন দেরিতে হয়


যে স্বপ্নের ফলাফল ভালো তা বাস্তবায়নে দেরী হয়। আর যার ফলাফল খারাপ তার বাস্তবায়নে কোন দেরী হয় না। দেখুন, ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্নে দেখেছিলেন, চন্দ্র, সূর্য আর এগারটি নক্ষত্র তাকে সাজদাহ করেছে। তার এ স্বপ্নটার বাস্তবায়ন অনেক বছর পর হয়েছে।
ইবন সীরীন রহ.র দরবারে একটি শিশুর মৃত্যুর কাহিনীতে আমরা দেখলাম, খারাপ স্বপ্নের বাস্তবায়ন তাড়াতাড়ি হয়ে গেল।
মক্কী জীবনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার স্বপ্ন দেখলেন, আবূ জাহল জান্নাতে ঘোরাফেরা করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাবলেন, তাহলে আবু জাহল ইসলাম গ্রহণ করবে। কিন্তু করল না। মক্কা বিজয়ের পর যখন আবূ জাহলের ছেলে ইকরামা ইসলাম গ্রহণ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটাই ছিল তার সেই স্বপ্নেরই বাস্তবায়ন।³⁰

টিকাঃ
³⁰ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00