📘 কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা > 📄 কুরআনের আয়াত দিয়ে স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার কয়েকটি দৃষ্টান্ত

📄 কুরআনের আয়াত দিয়ে স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার কয়েকটি দৃষ্টান্ত


স্বপ্নে রশি দেখার অর্থ হলো, ওয়াদা, অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি। এ ব্যাখ্যাটি আল-কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا) [ال عمران: ١٠٣]
“তোমরা আল্লাহ তা'আলার রশিকে শক্তভাবে ধারণ করো”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৩]
স্বপ্নে নৌকা বা জাহাজ দেখার ব্যাখ্যা হল মুক্তি পাওয়া। এ অর্থটি আল-কুরআনের এ আয়াত থেকে নেওয়া হয়েছে।
فَأَنجَيْنَهُ وَأَصْحَابَ السَّفِينَةِ وَجَعَلْنَهَا ءَايَةَ لِلْعَالَمِينَ ﴾ [العنكبوت: ١٥]
“আমরা তাকে উদ্ধার করেছি এবং উদ্ধার করেছি জাহাজের আরোহীদের”। [সূরা আল-'আনকাবূত, আয়াত: ১৫]
স্বপ্নে কাঠ দেখার ব্যাখ্যা হলো, মুনাফেকী বা কপটতা। এ ব্যাখ্যাটি আল-কুরআনের এ আয়াত থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন,
كَأَنَّهُمْ خُشُبٌ مُسَنَّدَةٌ ﴾ [المنافقون: ٤]
“যেন তারা দেওয়ালে ঠেস দেওয়া কাঠের মতই”। [সূরা আল-মুনাফিকূন, আয়াত: ৪]
পাথর স্বপ্ন দেখলে তার ব্যাখ্যা হবে অন্তরের কঠোরতা ও পাষণ্ডতা। এ ব্যাখ্যাটি আল-কুরআনের এ আয়াত থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُم مِّنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً ﴾ [البقرة: ٧٤]
“অতঃপর তোমাদের অন্তরগুলো কঠিন হয়ে গেল, যেন তা পাথরের মতো কিংবা তার চেয়েও শক্ত”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৭৪]
যদি স্বপ্নে রোগ-ব্যধি দেখা হয়, তাহলে তার ব্যাখ্যা হবে মুনাফিক। কারণ, আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন,
فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ ﴾ [البقرة: ١٠]
“তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যধি”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১০]
যদি স্বপ্নে গোশত খেতে দেখে তাহলে তার অর্থ হতে পারে গীবত বা পরনিন্দা। কেননা গীবত সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا ﴾ [الحجرات: ١٢]
“তোমাদের কেউ কি পছন্দ করবে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে?” [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১৩]
এই যে ব্যাখ্যার কথাগুলো বলা হলো, এগুলো যে এমন হতেই হবে তা জরুরি নয়। আবার সকলের ব্যাপারে ব্যাখ্যা একটিই হবে, তাও ঠিক নয়। একজন রোগীর স্বপ্ন আর সুস্থ মানুষের স্বপ্নের ব্যাখ্যা এক রকম হবে না। যদিও স্বপ্ন এক রকম হয়। তেমনি একজন মুক্ত মানুষ ও একজন বন্দী মানুষের স্বপ্নের ব্যাখ্যা এক রকম হবে না। স্বপ্নের ব্যাখ্যায় যেমন স্বপ্ন দ্রষ্টার অবস্থা লক্ষ্য করা হবে তেমনি স্বপ্নে যা দেখেছে তার অবস্থাও দেখতে হবে। যেমন কেউ স্বপ্নে দড়ি বা রশি দেখল। একজন স্বপ্নে দেখল সে একটি মজবুত রশি পেয়েছে। যা ছেঁড়া যাচ্ছে না। আরেকজন দেখল, সে একটা রশি ধরেছে কিন্তু তা ছিল নরম। দুটো স্বপ্নের ব্যাখ্যার মধ্যে বিশাল পার্থক্য হবে।
এক ব্যক্তি ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সীরীন রহ.র কাছে বলল, আমি স্বপ্ন দেখলাম যে আমি আযান দিচ্ছি। তিনি বললেন, এর ব্যাখ্যা হল, তুমি হজ করবে। আরেক ব্যক্তি এসে বলল, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আযান দিচ্ছি। তিনি বললেন, এর অর্থ হল, চুরির অপরাধে তোমার হাত কাটা যাবে।
লোকেরা জিজ্ঞেস করল, আপনি একই স্বপ্নের দু'ধরনের ব্যাখ্যা করলেন? তিনি বললেন, প্রথম লোকটি নেক আমল প্রিয়। সে ভালো কাজ করে থাকে। সে জন্য তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা নেক আমল হতে পারে। আমি আল-কুরআনের আয়াত-
وَأَذِن فِي النَّاسِ بِالْحَقِّ ﴾ [الحج: ٢٧]
“তুমি মানুষের মাঝে হজের জন্য আযান তথা এলান দাও”। [সূরা আল-হজ, আয়াত: ২৭]
আর দ্বিতীয় ব্যক্তি হচ্ছে পাপাচারী। তাই তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা পাপের শাস্তিই মানায়। তাই আমি আল-কুরআনের আয়াত-
ثُمَّ أَذَّنَ مُؤَذِّنُ أَيَّتُهَا الْعِيرُ إِنَّكُمْ لَسَرِقُونَ ﴾ [يوسف: ٧٠]
“অতঃপর এক মুয়াজ্জিন (ঘোষণাকারী) আযান (ঘোষণা) দিল, হে কাফেলা! তোমরা তো চোর”। [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৭০]

📘 কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা > 📄 হাদীস দিয়ে স্বপ্ন ব্যাখ্যার কয়েকটি দৃষ্টান্ত

📄 হাদীস দিয়ে স্বপ্ন ব্যাখ্যার কয়েকটি দৃষ্টান্ত


স্বপ্নে কাক দেখার ব্যাখ্যা হলো, পাপাচারী পুরুষ। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাকের নাম রেখেছেন ফাসেক মানে, পাপী।
তেমনি ইঁদুর স্বপ্নে দেখার ব্যাখ্যা হল, پاپاচারী নারী। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঁদুরের নাম রেখেছেন ফাসেকা। মানে پاپاচারী মহিলা।
স্বপ্নে পাঁজর বা পাঁজরের হাড় দেখলে এর ব্যাখ্যা হবে, নারী। কারণ, নারীকে পাঁজরের হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে হাদীসে এসেছে।
এমনিভাবে কাঁচের পানপাত্র স্বপ্ন দেখার ব্যাখ্যা হলো, নারী। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁচের পানপাত্রকে নারীর রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। যেমন, তিনি বলেছেন,
رُوَيْدَكَ يَا أَنْجَشَةُ، لَا تَكْسِرِ القَوَارِيرَ»
“হে আনজাশা! আরে আস্তে চল, নয়তো কাঁচের পান-পাত্রগুলো ভেঙ্গে যাবে”।²²
এখানে কাঁচের পান-পাত্র বলতে তিনি সফরসঙ্গী মেয়েদের বুঝিয়েছেন। মানে তাড়াতাড়ি হাঁটলে মেয়েরা পেছনে পড়ে যাবে। তাই তাদের জন্য তিনি ধীরে ধীরে পথ চলতে বললেন।

টিকাঃ
²² সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২১১

📘 কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা > 📄 বিপরীত অর্থ-গ্রহণনীতিতে স্বপ্ন ব্যাখ্যার দৃষ্টান্ত

📄 বিপরীত অর্থ-গ্রহণনীতিতে স্বপ্ন ব্যাখ্যার দৃষ্টান্ত


কোনো ব্যক্তি স্বপ্নে ভীতিকর কিছু দেখল বা ভয় পেল। তার অবস্থার বিবেচনায় এর ব্যাখ্যা হতে পারে শান্তি ও নিরাপত্তা। যেমন, আল্লাহর তা'আলার বাণী:
وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنَا ﴾ [النور: ٥٥]
“তিনি তাদের ভয়-ভীতিকে শান্তি ও নিরাপত্তায় পরিবর্তন করে দেবেন”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৫]
এমনিভাবে স্বপ্নে কান্না দেখলে এর ব্যাখ্যা হতে পারে আনন্দ। স্বপ্নে হাসতে দেখলে এর ব্যাখ্যা হতে পারে দুঃখ-কষ্ট। এ বিপরীত অর্থ-গ্রহণনীতি স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার রহস্য হল, স্বপ্নের দায়িত্বশীল ফিরিশতা যখন স্বপ্নে ইঙ্গিত প্রদান করে তখন সে বিষয়টি উল্টো করে দেখায়। কারণ, নিদ্রা আর জাগ্রত অবস্থা একটা আরেকটার বিপরীত।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা > 📄 কয়েকটি প্রসিদ্ধ স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার বিবরণ

📄 কয়েকটি প্রসিদ্ধ স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার বিবরণ


তাবীর বা স্বপ্ন ব্যাখ্যার ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সীরীন রহ.র কাছে এক মহিলা আসল। তিনি তখন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। মহিলা বলল, হে আবূ বকর! আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। ইবন সীরীন রহ. বললেন, তুমি এক্ষুণি বলবে না আমাকে খেতে দেবে? মহিলা বলল, ঠিক আছে, আপনি খাওয়া শেষ করুন। খাওয়া শেষ করার পর তিনি মহিলাকে বললেন: এখন বল, তোমার দেখা স্বপ্ন। মহিলা বলল: আমি দেখলাম, আকাশের চন্দ্র সাতটি তারা (সুরাইয়া)-এর মধ্যে ঢুকে গেল। এরপর স্বপ্নের মধ্যে লোকেরা আমাকে বলল, ইবন সীরীনের কাছে খবরটা তাড়াতাড়ি পৌঁছে দাও।
ইবন সীরীন বললেন, ধিক! তোমাকে। কী দেখলে? আবার বল। এভাবে কয়েকবার তিনি বললেন। আর তিনি খুব অস্থির হয়ে গেলেন। তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তার বোন তাকে জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে? তিনি বললেন, এ মহিলাটি বলছে আমি সাত দিন পর মারা যাব। বর্ণনাকারী আসআছ বলেন, ঠিক সাত দিনের মাথায় আমরা ইমাম ইবন সীরীনকে দাফন করলাম।²³
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নের কথা শুনতে পছন্দ করতেন। তিনি একদিন জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ গত রাতে স্বপ্ন দেখেছ? আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন: আমি স্বপ্ন দেখেছি, আকাশ থেকে তিনটি চাঁদ আমার ঘরের মধ্যে পতিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, তাহলে তোমার ঘরে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তিন জন মানুষকে দাফন করা হবে।
এরপরে তো পর্যায়ক্রমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার ঘরে দাফন করা হয়েছে।²⁴
ইরাকের শাসক হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ একদিন স্বপ্নে দেখলেন, আকাশ থেকে জান্নাতের হুর সাদৃশ দুটো দাসী অবতীর্ণ হলো। একজনকে তিনি ধরতে পারলেন অন্য জন আকাশে উঠে গেল। স্বপ্ন দেখে তিনি খুব খুশী হলেন। এর ব্যাখ্যা জানার জন্য ইমাম ইবন সীরীনকে ডাকলেন।
ইবন সীরীন রহ. বললেন: এর ব্যাখ্যা হল, দুটো বিদ্রোহ (ফিতনা) সংঘটিত হবে। আপনি একটির মোকাবেলা করবেন। অন্যটিকে আপনি পাবেন না। (হয়ত আপনার পরে আসবে)
পরে দেখা গেল হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ, ইবনুল আসআছের বিদ্রোহ মোকাবেলা করলেন। আর ইবনুল মুলাহহাবের বিদ্রোহ তিনি দেখে যাননি।
কীভাবে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো? এর রহস্য কী?
এ স্বপ্নে দুটো ইঙ্গিত ছিল। প্রথমটি দাসী আর দ্বিতীয়টি হলো জান্নাতের হুর।
দুটো ইঙ্গিত পরস্পর বিরোধী। কারণ, হুর হল সুরক্ষিত। কিন্তু দাসী সুরক্ষিত নয়। অপর দিকে হুরের বিষয়টি দৃশ্যমান নয়, আর দাসীর বিষয়টি দৃশ্যমান। স্বপ্ন ব্যাখ্যার নিয়ম হল, এ রকম পরস্পর বিরোধী ইঙ্গিত দেখলে বাস্তব বা দৃশ্যমান ইঙ্গিত গ্রহণ করা হবে। এ বিবেচনায় এখানে দাসী দেখার বিষয়টি গ্রহণ করা হলো আর হুরের বিষয়টি গ্রহণ করা হল না।
আর দাসী হলো স্ত্রী নয়, এমন মেয়ে লোক। আর মেয়ে লোক হল ফিতনা-বিশৃংখলার উপকরণ। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার চলে যাওয়ার পর আমার উম্মতের ওপর সবচেয়ে ক্ষতিকর ফিতনা হিসেবে মেয়েদের রেখে গেলাম। তাই ইমাম ইবন সীরীন এ রকম ব্যাখ্যা করেছেন।²⁵
এক ব্যক্তি ইমাম জাফর সাদিকের কাছে এসে বলল, আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নটি হলো, একটি কাঁচের পেয়ালা আছে আমার। আমি তা থেকে পানাহার করি। কিন্তু তার মধ্যে একটি পিঁপড়া দেখলাম। সেও তা থেকে খাবার খায়। এর অর্থ কী?
ইমাম সাহেব বললেন, তোমার কি স্ত্রী আছে? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাসায় কি কোনো পুরুষ কাজের লোক (দাস) আছে? সে বলল, হ্যাঁ আছে। তিনি বললেন, কাজের লোকটিকে বিদায় করে দাও। তাকে রাখায় তোমার কোনো কল্যাণ নেই।
লোকটি বাড়ী গিয়ে স্ত্রীকে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার কথা বলল। স্ত্রী বলল, এখন তোমার সিদ্ধান্ত কী? লোকটি বলল, আমি দাসটিকে বিক্রি করে বিদায় করে দেব। স্ত্রী বলল, যদি তাকে বিদায় করো তাহলে আমাকে তালাক দাও। লোকটি স্ত্রীকে তালাক দিল। স্ত্রী দাসটিকে কিনে নিল ও তাকে বিয়ে করল।
এ স্বপ্নের মধ্যে তিনটি বিষয়কে ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রথম হলো, পুরুষ লোকটি। দ্বিতীয় হলো, পেয়ালা। আর তৃতীয়টি হলো, পিঁপড়া।
ইমাম জাফর সাদেক রহ. ব্যাখা করার আগে পুরুষ লোকটিকে জেনে নিলেন। আর এভাবেই কারো স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার আগে তার সম্পর্কে জেনে নিতে হয়।
দ্বিতীয় ইঙ্গিত, কাঁচের পেয়ালা দ্বারা স্ত্রীকে বুঝায়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের কাঁচের পাত্রের সাথে তুলনা করেছেন। যেমন, পূর্বোক্ত আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।
তার থেকে পানাহার করার অর্থ হলো সহবাস। আর পিঁপড়া ও তার খাওয়ার অর্থ হলো সে তার স্ত্রীতে অংশগ্রহণ করে। পিঁপড়া দ্বারা দুর্বল সত্তা ও চোর বুঝায়। সে এমনভাবে খায়, কেউ দেখে না। এর মানে কাজের লোকটি পিঁপড়ার মতো চুপিসারে তার স্ত্রীকে ভোগ করে।²⁶

টিকাঃ
²³ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান
²⁴ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান। বর্ণনায়: মুস্তাদরাক হাকেম
²⁵ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান
²⁶ আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া: শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আস সাদহান

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00