📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 স্রষ্টা এবং তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্য ভূমিকা

📄 স্রষ্টা এবং তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্য ভূমিকা


আমরা নিজেরা নিজেদের তৈরি করিনি, এটাই চিরন্তন ও ধ্রুব সত্য। সৃষ্ট কোনো কিছুই নিজেকে শূন্য থেকে সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়। তাই আল্লাহ তাআলা কুরআনে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন-
أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ
তারা কি কোনো কিছু ছাড়া আপনাআপনিই সৃষ্ট, না তারা নিজেরাই (নিজেদের) স্রষ্টা?[২]
অতএব সৃষ্ট সকল কিছুরই একজন সৃষ্টিকর্তা আছে—
الكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَا شَيْءٍ وَكِيلٌ
তিনিই তো আল্লাহ, তোমাদের রব; তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা; কাজেই তোমরা তাঁর ইবাদত করো। আর তিনি সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক। (১)
لقد خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ
নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রেষ্ঠ এবং সুন্দর আকৃতিতে। (২)
অনন্যতা ও অদ্বিতীয়তা সৃষ্টিকর্তার একটি বৈশিষ্ট্য। তাঁর মতো আর কোনোকিছুই নেই, তাঁর প্রতিমূর্তি নির্মাণ তাই অসম্ভব। কোনো স্ত্রী-সন্তানের প্রয়োজন থেকে তিনি মুক্ত। তিনি এক ও অদ্বিতীয় ইলাহ।
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ( اللَّهُ الصَّمَدُ ( لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
বলুন, তিনি আল্লাহ; এক, অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। (৩)
তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু এবং প্রেমময়। পরম দানশীল হয়ে তিনি যথাযথভাবে সৎকাজের পুরস্কার দিয়ে থাকেন। প্রকৃত অনুতপ্ত অন্তরকে তিনি ক্ষমা করে দেন।
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
বলে দেন (আমার এ কথা), হে আমার বান্দারা, তোমরা যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ, তারা আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।[১]
সবই তিনি মাফ করে দেন, শুধু শিরকের স্পর্ধা বাদে। আল্লাহর সাথে অন্য কোনো কিছুকে ইলাহ (উপাস্য) মনে করে (তাওবা ছাড়া) ওই অবস্থার ওপরই মৃত্যু হলে ক্ষমার আর সুযোগ নেই।
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا
আর আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক সাব্যস্ত করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য পাপের ক্ষেত্রে যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন। আর যে-ই আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে অবশ্যই এক মহাপাপ রটনা করে।[২]

টিকাঃ
১. সুরা আনআম, আয়াত: ১০২
২. সুরা তিন, আয়াত: ৮
৩. সুরা ইখলাস, আয়াত: ১-৪
৪. সুরা যুমার, আয়াত: ৫৩
৫. সুরা নিসা, আয়াত: ৪৮

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য

📄 মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য


আল্লাহ মানুষকে শুধু তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন-
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
আমি সৃষ্টি করেছি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্য-তারা একমাত্র আমারই ইবাদতকরবে।

টিকাঃ
১. সুরা যারিয়াত, আয়াত: ৫৬

আল্লাহ মানুষকে শুধু তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন-
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
আমি সৃষ্টি করেছি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্য-তারা একমাত্র আমারই ইবাদতকরবে।

টিকাঃ
১. সুরা যারিয়াত, আয়াত: ৫৬

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 মনোনীত নবি-রাসুলদের প্রচারিত ওহি

📄 মনোনীত নবি-রাসুলদের প্রচারিত ওহি


আল্লাহ মানুষকে শুধু তাঁরই ইবাদত করার প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।[১] তবে সেটা তারা তখনই করবে, যখন বাইরের কোনো ধারণাপ্রসূত চিন্তা তাদের প্রভাবিত করবে না। আর এসব নবউদ্ভাবিত ধ্যান-ধারণা থেকে রক্ষা করার জন্যই আল্লাহ যুগে যুগে তাঁর নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। মানুষকে শিরক এবং কুসংস্কারের জাল থেকে উদ্ধার করে আবার সঠিক রাস্তা প্রদর্শন করে গেছেন তারা।
وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا )
আর আমি রাসুল প্রেরণ না করা পর্যন্ত কাউকেই শাস্তি দিই না।[২]
স্রষ্টা তাঁর নবি-রাসুলদের সকল প্রকার পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে সদ্‌গুণ ও তাকওয়ায় পরিপূর্ণ করে পাঠিয়েছেন। তারা ছিলেন মানবচরিত্রের জন্য আদর্শস্বরূপ নিজ সম্প্রদায়কে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন তারা। আর যুগে যুগে তাদের মূল বার্তা ছিল একই।
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ
আর আপনার পূর্বে আমি যে রাসুলই প্রেরণ করেছি, তার কাছে এ ওহিই পাঠিয়েছি-আমি ছাড়া অন্য কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো [৩]
আর সমস্ত রাসুলের বার্তা ছিল—
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো ও আমাকে মেনে চলো।[৪]

টিকাঃ
১. প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের (ইসলামের প্রকৃতির) ওপর। এরপর তার মা-বাবা (তথা তার পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ) তাকে ইহুদি বা খ্রিষ্টান বা অগ্নিপুজারী-রূপে গড়ে তোলে। (সহিরু বুখারি : ১৩৫৮, ১৩৫৯, ১৩৮৪, ১৩৮৫, ৪৭৭৫, ৬৫৯৯; সহিহ মুসলিম: ২৬৫৮)
২. সূরা ইসরা, আয়াত: ১৫
৩. সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ২৫
৪. সূরা ফুসসিলত, আয়াত: ১০৮; পাশাপাশি ১১০, ১২৬, ১৩১, ১৪৪, ১৫০, ১৬৩ এবং ১৭৯ নং আয়াতও দ্রষ্টব্য।

আল্লাহ মানুষকে শুধু তাঁরই ইবাদত করার প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।[১] তবে সেটা তারা তখনই করবে, যখন বাইরের কোনো ধারণাপ্রসূত চিন্তা তাদের প্রভাবিত করবে না। আর এসব নবউদ্ভাবিত ধ্যান-ধারণা থেকে রক্ষা করার জন্যই আল্লাহ যুগে যুগে তাঁর নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। মানুষকে শিরক এবং কুসংস্কারের জাল থেকে উদ্ধার করে আবার সঠিক রাস্তা প্রদর্শন করে গেছেন তারা।
وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا )
আর আমি রাসুল প্রেরণ না করা পর্যন্ত কাউকেই শাস্তি দিই না।[২]
স্রষ্টা তাঁর নবি-রাসুলদের সকল প্রকার পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে সদ্‌গুণ ও তাকওয়ায় পরিপূর্ণ করে পাঠিয়েছেন। তারা ছিলেন মানবচরিত্রের জন্য আদর্শস্বরূপ নিজ সম্প্রদায়কে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন তারা। আর যুগে যুগে তাদের মূল বার্তা ছিল একই।
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ
আর আপনার পূর্বে আমি যে রাসুলই প্রেরণ করেছি, তার কাছে এ ওহিই পাঠিয়েছি-আমি ছাড়া অন্য কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো [৩]
আর সমস্ত রাসুলের বার্তা ছিল—
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো ও আমাকে মেনে চলো।[৪]

টিকাঃ
১. প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের (ইসলামের প্রকৃতির) ওপর। এরপর তার মা-বাবা (তথা তার পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ) তাকে ইহুদি বা খ্রিষ্টান বা অগ্নিপুজারী-রূপে গড়ে তোলে। (সহিরু বুখারি : ১৩৫৮, ১৩৫৯, ১৩৮৪, ১৩৮৫, ৪৭৭৫, ৬৫৯৯; সহিহ মুসলিম: ২৬৫৮)
২. সূরা ইসরা, আয়াত: ১৫
৩. সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ২৫
৪. সূরা ফুসসিলত, আয়াত: ১০৮; পাশাপাশি ১১০, ১২৬, ১৩১, ১৪৪, ১৫০, ১৬৩ এবং ১৭৯ নং আয়াতও দ্রষ্টব্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00