📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 কিরাত একটি সুন্নাহ

📄 কিরাত একটি সুন্নাহ


কিরাত হলো সঠিক উচ্চারণ-রীতি। এই জ্ঞান সরাসরি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে এসেছে। প্রতিটি আয়াতের তিলাওয়াত-পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন তিনি। কুরআন নাযিলের সাথে এর সম্পর্ক ওতপ্রতভাবে জড়িত। কারণ কুরআন নাযিল ও প্রচারিত হয়েছে মৌখিকভাবে। ফলে আয়াত এবং তার উচ্চারণ দুটিই নবিজির মাধ্যমে পাওয়া যায়। তাই একটিকে অপরটির থেকে আলাদা করার কোনো অবকাশ নেই।
সুরা ফুরকানের একটি আয়াতের তিলাওয়াতে একবার উমার ইবনুল খাত্তাব এবং হিশাম ইবনু হাকিমের মাঝে পার্থক্য দেখা যায়। সরাসরি নবিজির কাছ থেকে শেখা থাকায় হিশামকে উমার তার শিক্ষক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জানা গেল হিশামও নবিজির কাছ থেকেই শিখেছেন।[৩] একই রকম ব্যাপার উবাই ইবনু কাবেরও
ঘটেছিল। [১] অথচ একটি বর্ণও তারা কেউ বানিয়ে বলেননি। তিলাওয়াতের প্রতিটি প্রকারই নবিজি থেকে এসেছে।
আমরা একজন ব্যাকরণবিদের[১] কথাও জানতে পারি, যিনি কিছু শব্দকে ব্যাকরণগত দিক থেকে আরও শুদ্ধ আকারে পাঠ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এতে করে হরকতের পরিবর্তন হলেও অর্থের কোনো পরিবর্তন হয় না। তবুও আলিমগণ এ নতুন মতের বিপক্ষে অটল থাকেন। কারণ কিরাত একটি সুন্নাহ এবং কেউ তা পরিবর্তনের অধিকার রাখে না।
কেউ চাইলেই সুরা মুখস্থ করার জন্য সকালের বাজার শেষে একটা কুরআনের মুসহাফ কিনে এনে পড়া শুরু করে দিতে পারত না।[২] ব্যাপারটা এমন ছিল না। তিলাওয়াত শেখার জন্য একজন স্বীকৃত শিক্ষকের সান্নিধ্য ছিল আবশ্যক। সাধারণত দৈনিক পাঁচটি করে আয়াত মুখস্থ করানোর রীতি প্রচলিত ছিল। আবু বকর ইবনু আইয়াশ (মৃত্যু: ১৯৩ হিজরি) এভাবেই ইবনু আবি নাজুদের (মৃত্যু: ১২৭ হিজরি) কাছ থেকে কুরআন শেখেন। [৩] সেটি দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকের কথা। কাজেই কোনো কিরাত শূন্য থেকে আবির্ভূত হয়নি কিংবা এতে জায়গা পায়নি কারও মনগড়া আবিষ্কারও। প্রতিটি কিরাতই নবিজি কর্তৃক স্বীকৃত। সাহাবিগণের জীবদ্দায় ছোট আকারে একাধিক কিরাতের ওপর একটি গ্রন্থ তৈরি করা হয়। [৪] সময়ের সাথে এর ওপর সম্পন্ন হয় আরও বড় বড় কাজ। ভিন্ন ভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিখ্যাত আলিমদের তিলাওয়াত সংগ্রহ করা হয়, যা ইবনু মুজাহিদের কাজে স্থান পেয়েছে।

টিকাঃ
১. সহিহ মুসলিম: ৮২০। পুরো ব্যাপারটি ভালোভাবে বোঝার সুবিধার্থে হাদিসটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো—উবাই ইবনু কাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—আমি মসজিদে থাকা অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে সালাত আদায় করা শুরু করল। সে এমন পদ্ধতিতে কিরাত পড়ল, যা আমার নিকট অভিনব মনে হলো। এরপর আরেক ব্যক্তি প্রবেশ করে আগের ব্যক্তি থেকে ভিন্ন (পদ্ধতিতে) কিরাত পড়ল। আমরা সালাত শেষ করে সকলে আল্লাহর রাসুলের কাছে গেলাম। আমি বললাম, ‘এই ব্যক্তি এমন (পদ্ধতিতে) কিরাত পড়েছে, যা আমার নিকট অভিনব মনে হয়েছে।’ তারপর আরেকজন প্রবেশ করে তার পূর্ববর্তী জনের থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) কিরাত পড়েছে। আল্লাহর রাসুল তাদের দুজনকেই কিরাত ধরতে আদেশ করলে তারা দুজনই তিলাওয়াত করলেন। এরপর তিনি তাদের দুজনের কিরাতই ‘ভালো’ বলে মন্তব্য করলেন। এতে আমার মনে (শয়তানের কুমন্ত্রণায় তার নবুয়তের প্রতি) অবিশ্বাসের উদ্রেক হলো; এমনকি জাহিলি যুগেও (তার নবুয়ত নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকাকালীন) এমন তীব্র অবিশ্বাসের উদ্রেক হয়নি। আমাকে যে চিন্তা আচ্ছন্ন করেছিল, আল্লাহর রাসুল তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে আমার বক্ষস্থলে আঘাত করলেন। এতে আমি ঘর্মাক্ত হয়ে পড়লাম। যেন আমি ভীতবিহ্বল হয়ে মহামহিম আল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি আমাকে বললেন, ‘উবাই, আমার কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে, আমি যেন এক হরফে (উচ্চারণ-পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ি।’ তখন আমি অনুরোধ করে বললাম, ‘আমার উম্মতের প্রতি সহজসাধ্য করে দেন।’ আমাকে প্রত্যুত্তরে বলা হলো, ‘তাহলে দুই হরফে (পদ্ধতিতে) পড়বেন।’ আমি পুনরায় অনুরোধ করলাম, ‘আমার উম্মতের প্রতি সহজসাধ্য করে দেন।’ তৃতীয়বারে আমাকে বলা হলো, ‘তাহলে সাত হরফে (পদ্ধতিতে) পাঠ করবেন এবং আমার এ তিনবার প্রত্যুত্তরের প্রতিটির পরিবর্তে আপনার জন্য একটি করে কিছু আমার নিকট চাইতে পারেন (যা আমি কবুল করব)।’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতকে ক্ষমা করে দেন; হে আল্লাহ, আমার উম্মতকে ক্ষমা করে দেন। আর তৃতীয় দুআটি আমি সেদিনের জন্য জমা করে রেখেছি, যেদিন সমগ্র সৃষ্টি, এমনকি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত আমার প্রতি আগ্রহান্বিত হবেন।’
২. ইবনু শানবুষ (মৃত্যু: ৩২৮ হিজরি)। অধ্যায় ১৩.৪.২ দ্রষ্টব্য।
৩. সপ্তম অধ্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মুসহাফ ক্রয়-বিক্রয়ের শুরুটা হয় প্রথম হিজরি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। ইসলামি শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে অক্ষরবিদ্যা শেখানো এবং একজন শিক্ষকের উপস্থিতিতে হুবহু কুরআন শিক্ষা দেওয়া। তাই কুরআনই ছিল তাদের জীবনের প্রথম পাঠ। শিক্ষা কার্যক্রম শেষে স্বাভাবিকভাবেই তাদের নিজস্ব মুসহাফের প্রয়োজন দেখা দিত। সেটি নিজের হিফজ কিংবা অন্যকে শেখানো, যেকোনো প্রয়োজনেই হতে পারে। তাই বাজার থেকে মুসহাফ ক্রয়কারী আগে থেকেই কিরাতের ওপর দক্ষ থাকত।
৪. ইবনু মুজাহিদ, কিতাবুস সাবা, পৃষ্ঠা: ৭১
৫. Arthur Jeffery (ed.), Muqaddimatan fi 'ulum al-Quran (Two Muqaddimas to the Quranic Scinces), Cairo, 1954, p. 276. লক্ষণীয় যে, এ বিষয়ের ওপর ইবন মুজাহিদের আগেই প্রায় ৪৪টি কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। (Dr. 'Abdul Hadi al-Fadli, Qjra'at Ibn Kathir wa Atharuha fi ad Dirasat an-Nahawiyya (Ph.D. Thesis), University of Cairo, 1975, pp. 60-65, as Quoted by Ghanim Qadduri, Rasm'al-Mushaf, p. 659)

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 বিভিন্ন পঠনরীতির কারণ ভূমিকা

📄 বিভিন্ন পঠনরীতির কারণ ভূমিকা


কুরআনকে ঘিরে প্রাচ্যবিদদের একটি অভিযোগ হলো—মূলপাঠের বিকৃতি। আমার ধারণা অনুযায়ী কুরআনের প্রায় আড়াই লাখ পাণ্ডুলিপি প্রথম হিজরি শতক থেকে পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক আকারে লিপিবদ্ধ আছে। বিদ্বান মহলে ত্রুটিযুক্ত পাণ্ডুলিপিকে দুভাগে ভাগ করা হয়—এক. ইচ্ছাকৃত। দুই. অনিচ্ছাকৃত।
এত পরিমাণ পাণ্ডুলিপির মাঝে কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকাটা স্বাভাবিক। লিপিকারদের সামান্য মনোযোগচ্যুতি বা শৈথিল্যের পরিণতি সম্পর্কে গবেষকগণ ভালোভাবে অবগত। এ নিয়ে খুব সুন্দরভাবে এই গ্রন্থগুলোতে আলোচনা রয়েছে—
>> Ernst Wurthwein, The Text of the Old Testament, 2nd edition revised and enlarged, William B. Eerdmans Publishing Company, Grand Rapids, Michigan, 1995.
» Bart D. Ehrman, The Orthodox Corruption of Scripture, Oxford Univ. Press, 1993.
» Bruce M. Metzger, The Text of the New Testament, 3rd enlarged edition, Oxford Univ. Press, 1992.
প্রথমগুলোতে ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং পরেরগুলোতে নিউ টেস্টামেন্টের ব্যাপারে আলোচনা আছে। তিনটি গ্রন্থেই এ ধরনের ভুলের জন্য ব্যবহৃত পরিভাষা হলো ট্রান্সপোজিশন (Transposition), হ্যাপলোগ্রাফি (Haplography) এবং ডিটোগ্রাফি (Dittography)। কখনো কখনো হাজার বছর আগের লিপিকারের
স্থানে নিজেকে বসিয়ে গবেষকরা এরকম সাধারণ একটি ভুলের কারণ নিয়ে চিন্তার চেষ্টা করা করেছেন।[১] কিন্তু একই নিয়ম কুরআনের ক্ষেত্রে প্রয়োগের বেলায় প্রবল অনীহা। লিখতে গিয়ে নিশ্চিত অনিচ্ছাকৃত ভুলকেও কুরআনের রূপভেদ হিসেবে গণ্য করা হয়। এগুলোকে আবার কুরআন পরিবর্তনের প্রমাণ হিসাবেও দাবি করে।
ভুলের পেছনে ইচ্ছা-অনিচ্ছা যাচাই করা কষ্টসাধ্য—এ কথা সত্য। এক্ষেত্রে দুটো সম্ভাবনাকেই মাথায় রেখে সামনে আগানো যাক।
উসমানি মুসহাফে কোনো নুকাত ছিল না। তাই কুরআনের পাঠপার্থক্যের জন্য গোল্ডজিহার আরবি পালিওগ্রাফিকে দায়ী করেন। কারণ এতে নুকাত ও তাশকিল অনুপস্থিত। নুকাত ও তাশকিল ছাড়া একই গঠনের শব্দের বিভিন্ন উচ্চারণ হতে পারে। যেমন : قبل শব্দটিকে - قبل، قبل، قبل ، قبل ، فيل، قُتِل সকল প্রকারে পড়া সম্ভব। এগুলোর অর্থ দাঁড়ায় যথাক্রমে: তাকে মারা হয়েছে, হাতি, আগে, শরীরের সামনের অংশ, চুমু খাওয়া এবং বলা হয়েছিল।[২] কিন্তু নুকাতহীন আরবির ফলে যে কুরআনে কোনো প্রকার বিকৃতি, পরিবর্তন বা ক্ষতি হয়নি, তা পরিষ্কার করাই এ অধ্যায়ের প্রতিপাদ্য বিষয়।

টিকাঃ
১. অধ্যায় ১৫ এবং ১৭-তে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
২. মুস্তাবিহীন লিপিকা কখন বিকৃতি সাধন করে আর কখন করে না—তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা তৃতীয় পরিচ্ছেদে আছে।

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 একাধিক কিরাতের প্রয়োজনীয়তা

📄 একাধিক কিরাতের প্রয়োজনীয়তা


মক্কায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আরবির সাথে পরিচিত ছিলেন, মদিনায় গিয়ে তাতে বৈচিত্র্য যুক্ত হয়। আরব জুড়ে ইসলাম বিস্তারের ফলে নতুন
নতুন গোত্র ইসলামের ছায়াতলে আসে এবং তৈরি হয় ভাষার বৈচিত্র্য। তাই কুরাইশী আরবিতে কথা বলা সবার জন্য সহজ ছিল না। সহিহ মুসলিমে রয়েছে—
উবাই ইবনু কাব থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গিফার গোত্রের জলাশয়ের (কূপের) কাছে ছিলেন। তখন জিবরিল তার কাছে এসে বলেন, ‘আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন—আপনি যেন আপনার উম্মতকে এক হরফে (পদ্ধতি, উপভাষা) কুরআন পড়ান।’
তিনি বললেন, ‘আমি আল্লাহর নিকট তাঁর মার্জনা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করি। কিছুতেই আমার উম্মত এতে সমর্থ হবে না।’
এরপর জিবরিল দ্বিতীয়বার এসে বলেন, ‘আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন—আপনি যেন আপনার উম্মতকে দুই হরফে কুরআন পড়ান।’
তিনি বললেন, ‘কিছুতেই আমার উম্মাত এতে সমর্থ হবে না। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর মার্জনা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করি।’
এরপর জিবরিল তৃতীয়বার এসে বলেন, ‘আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন—আপনি যেন আপনার উম্মতকে তিন হরফে কুরআন পড়ান।’
তিনি বললেন, ‘কোনোভাবেই আমার উম্মাত এতে সমর্থ হবে না। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর মার্জনা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করি।’
এরপর জিবরিল চতুর্থবার তার কাছে এসে বললেন, ‘আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন—আপনি যেন আপনার উম্মতকে সাত হরফে কুরআন শিক্ষা দেন। তারা এর যেকোনো পদ্ধতিতে তিলাওয়াত করলে তা যথার্থ হবে।’ [১]
উবাই ইবনু কাব থেকে আরও বর্ণিত আছে—‘আহজাবুল মিরা’ নামক স্থানে আল্লাহর রাসুলের সাথে জিবরিলের দেখা হলে তিনি তাকে বলেন, ‘আমাকে এক উম্মি (নিরক্ষর) জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বয়োবৃদ্ধ পুরুষ, বয়স্ক বৃদ্ধা নারী ও নাবালক শিশু।’
জিবরিল উত্তর দিলেন, ‘তাহলে তাদের সাতটি আহরুফে (পদ্ধতি/উপভাষা) কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দেবেন।’ [২]
বিশের অধিক সাহাবি থেকে সাতটি আহরুফ বা উপভাষায় কুরআন নাযিলের ব্যাপারে হাদিস বর্ণিত আছে।[১] 'আহরুফ'-এর অর্থ নিয়ে মতপ্রকার রয়েছে ৪০টি। এর অনেকগুলো বাস্তবতা বিবর্জিত। তবে এ ব্যাপারে অধিকাংশই একমত, এর উদ্দেশ্য কুরাইশি আরবির সাথে অপরিচিতদের জন্য কুরআন তিলাওয়াতকে সহজতর করা। এই অনুমোদন আল্লাহর রহমতস্বরূপ।[৩]
আহরুফের ভিন্নতার ফলে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় কয়েক দশক পর। এ কারণেই কুরাইশি আরবিতে কুরআনের মুসহাফ তৈরিতে উদ্বুদ্ধ হন উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু। নথিভুক্ত পাঁচটি মুসহাফের মাঝে পঠনগত পার্থক্য ছিল বড়জোর ৪০টি বর্ণে। মুসহাফের এই গাঠনিক পঠন অনুসরণ করতে বাধ্য ছিলেন মনোনীত কারিগণ। এছাড়া কে কার কাছ থেকে কুরআন শিখেছেন সেটাও উল্লেখ করতে হতো তাদের। কুরআন একত্রকরণ কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি যাইদ ইবনু সাবিত রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'কিরাত এমন একটি সুন্নাহ, যাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা হয়েছে।' এ বিষয়ে আগেও আলোচনা করেছি।
এক্ষেত্রে 'পাঠের ভিন্নতা' শব্দবন্ধটিই আসলে আমার পছন্দসই নয়। কারণ সংজ্ঞানুযায়ী, ভিন্ন পাঠ জিনিসটাই অনিশ্চয়তার ফল। ধরা যাক, লেখক লিখেছে একভাবে। কিন্তু অনুলেখক মূল লেখকের বাক্যের অনুলিখনে ভুল করল। এভাবে তৈরি হলো একটি অনিশ্চয়তা। পরবর্তী কোনো সম্পাদক যদি শুদ্ধ-অশুদ্ধ নির্ণয় করতে না পারেন, তাহলে তার মতে যেটি সঠিক বলে মনে হয়, সেটিকে মূলপাঠ্যে জায়গা দেবেন। অপর সংস্করণটি লেখবেন মার্জিনে। এটাকে বলে পাঠের ভিন্নতা।
কিন্তু কুরআনের ব্যাপারটি একদমই এমন নয়। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার ওহি গ্রহণ এবং তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে মনোনীত রাসুল। তিনি নিজেই কিছু আয়াতকে একাধিক রীতিতে তিলাওয়াত করেছেন। এখানে তাই অনিশ্চয়তার ব্যাপারটাই অপ্রাসঙ্গিক। কাজেই এটি 'পাঠের ভিন্নতা' হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। একে বরং বিকল্প পাঠ হিসেবে অভিহিত করাই ন্যায়সঙ্গত। তবে এর পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে-
এক. বৈচিত্র্যময় আরবীয় উপভাষাগুলোর মধ্যে স্বল্প সময়ে সামঞ্জস্য বিধান।
দুই. একটি আয়াতের মাঝে লুক্কায়িত অর্থের ব্যাপকতাকে দুটি ভিন্ন শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা। ওই দুটি শব্দই আবার স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমোদিত। যেমন : সুরা ফাতিহার চতুর্থ আয়াতে মা-লিক (অধিকারী) কিংবা মালিক (অধিপতি) উভয়ই তিলাওয়াত করা যায়। দুটিই নবিজি শিখিয়েছেন। তাই এটি পাঠের ভিন্নতা নয়; বরং বিকল্প।
তবে প্রাচ্যবিদ মহল মুসলিমদের এই ব্যাখ্যাকে অগ্রাহ্য করে নিজেদের মনমতো একটা তত্ত্ব ঠুসে দিতে তৎপর। আর্থার জেফরি আগে থেকেই কুরআনের একটি পর্যালোচনামূলক সংস্করণ তৈরির কাজে ব্যস্ত। এরই অংশ হিসেবে ১৯২৬ সালে অধ্যাপক বার্গস্ট্রেসারের সাথে মিলে এমন একটি আর্কাইভ তৈরির কাজে হাত দেন, যা দিয়ে হয়তো একদিন কুরআনের মূলপাঠ্যের ইতিহাস উদ্ধার করা যাবে। এ কাজের উদ্দেশ্য পাঠের ভিন্নতার ওপর আলোকপাত। [১] সেখানে প্রায় ১৭০টি খণ্ডের ওপর অনুসন্ধান চালান তিনি। তবে উৎসগুলোর সামান্য কিছু অংশ নির্ভরযোগ্য হলেও বাকি অংশের কোনো প্রামাণ্য নির্ভরযোগ্যতা নেই। সংগ্রহ করা তথাকথিত রূপভেদগুলোকে তিনি প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপিয়ে রেখেছেন। আনুমানিক ৩০ জন আলিমের ব্যক্তিগত মুসহাফও এর অন্তর্ভুক্ত। এ অধ্যায়ে আমি কেবল 'পাঠের ভিন্নতা' প্রসঙ্গে জেফরির কাজগুলো পর্যালোচনা করব।

টিকাঃ
১. সহিহ মুসলিম: ৮২১
২. মুসনাদু আহমাদ: ২১২০৪; হাদিসটি সহিহ।
৩. আস-সুযুতি, আল-ইতকান, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২১১
৪. এর আক্ষরিক অর্থ বর্ণসমূহ।
৫. আহরফের ব্যাপারে মত ৪০টি থাকলেও গবেষক আলিমদের নিকট বিশুদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত মত হলো- কুরআন তিলাওয়াতের ধরন সাত প্রকার। মূল ভাব ও মর্মে কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটা ছাড়াই আরবি ভাষারীতি অনুযায়ী শব্দের সামান্য কিছু পরিবর্তন। যে পরিবর্তনগুলো আরবি ভাষার সাত ধরনের পঠন-রীতির বাইরে যায় না-শারয়ি সম্পাদক
৬. A. Jeffery, Materials for the History of the Text of the Qur'an, E.J. Brill, Leiden, 1937. এই আর্কাইভ তৈরিতে জেফরি একগাদা জুডিও-খ্রিষ্টান পরিভাষা ব্যবহার করেছেন। যেমন: একাদশ পৃষ্ঠায় 'Canonization by Ibn Mujahid'; তৃতীয় ও পঞ্চম পৃষ্ঠার পাদটীকায় 'Muslim Massora'; চতুর্দশ পৃষ্ঠায় মৃত্যুসন বোঝাতে d এর বদলে রুশ চিহ্ন দিয়েছেন (যেন বেচারা অখ্রিস্টানটাকে খ্রিষ্টান বানাতে চাইছেন!) ইত্যাদি।
৭. A. Jeffery, 'The Textual History of the Qur'an', in A. Jeffery, The Qur'an as Scripture, R.E Moore Co., Inc., New York, 1952, p. 97

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 বিকল্প পাঠ বা তথাকথিত পাঠভিন্নতার দ্বিতীয় কারণ

📄 বিকল্প পাঠ বা তথাকথিত পাঠভিন্নতার দ্বিতীয় কারণ


গবেষণার উপকরণ সংগ্রহে জেফরি প্রাচ্যবিদদের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। কিন্তু পুরোপুরি উপেক্ষা করে গেছেন মুসলিমদের পর্যালোচনামূলক পদ্ধতি 'ইসনাদ'।[২] তিনি বলেছেন, 'বিশ্লেষক মহল প্রথমে সকল প্রকারের মত, ধারণা, মন্তব্য, অনুমান সংগ্রহ করেন। তারপর স্থান, কাল এবং শর্ত অনুযায়ী কোনটি সেই টেক্সটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা পর্যবেক্ষণ ও উদঘাটন করেন। বর্ণনার ধারা (ইসনাদ) যা-ই হোক। হোমারের কোনো কবিতা বা দার্শনিক এরিস্টলের কোনো চিঠির টেক্সট যে পন্থায় নির্ণয় করা হয়, তাওরাত ও বাইবেলের টেক্সট নির্ণয়েও তা-ই অনুসৃত হবে।[৩]
অতীতকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে সাক্ষী উপস্থাপন ও যাচাইয়ের মাধ্যমে এর বিভিন্ন অংশ উদঘাটন করা সম্ভব। একজন মিথ্যুক আর একজন সত্যবাদীর সাক্ষ্যকে একই সারিতে নামিয়ে আনা নিতান্তই অসততা। এটাই মুসলিম আলিমদের অবস্থান। অথচ জেফরির পদ্ধতি অনুযায়ী একজন সত্যবাদীর ওপরে একজন মিথ্যুকের সাক্ষ্য প্রাধান্য লাভ করার অবকাশ আছে।[৪] নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে তারা ইবনু
মাসউদ বা যে কারও নামে চালানো সকল সংস্করণ গ্রহণ করেছে। সূত্র যতই জাল, অবিশ্বস্ত কিংবা অবিদিত হোক না কেন। অথচ অগ্রাহ্য করে গেছে সুপরিচিত, বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য উৎসের বিশাল তথ্য ভান্ডারকে।
নুক্তার অনুপস্থিতির অভিযোগের খন্ডন আগেই করেছি। জেফরির আরেকটি দাবি হলো—কিছু কারি উসমানি মুসহাফের পূর্ববর্তী টেক্সট অনুসরণ করেছেন। সেগুলো উসমানি গঠন থেকে কিঞ্চিৎ আলাদা ছিল এবং খলিফার আদেশের পরেও তা ধ্বংস করা হয়নি।[১] কিন্তু এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ না দিয়েই তা প্রচার করে গেছেন তিনি। ইবনু মাসউদের মুসহাফের নামে উপস্থাপিত উদাহরণগুলো প্রথমেই বাতিল। কারণ তার কোনো তথ্যসূত্রে 'মুসহাফু ইবনি মাসউদ'-নামটাও উল্লেখ করা নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি কেবল 'ইবনু মাসউদ অমুক কায়দায় আয়াত তিলাওয়াত করেছেন' বলে চালিয়ে দিয়েছেন। কোনো প্রমাণ বা বর্ণনাধারার উল্লেখ নেই। এগুলো কেবল আষাঢ় গল্প এবং গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রমাণিত কিরাতের বিপক্ষে এরকম ভিত্তিহীন একটি বিষয়কে 'দলিল' হিসেবে দাঁড় করানোর অর্থ—সত্য ও মিথ্যা বর্ণনাকারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য না দেখা।[২]
জেফরির অভিযোগগুলো শুধু ইবনু মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রসঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। আলি রাযিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক পঠিত এমন একটি আয়াতের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন, যা কিনা উসমানি মুসহাফের সাথে সাংঘর্ষিক। এ ভ্রান্ত বর্ণনাও খণ্ডন করছি। তার আগে উত্থাপিত আয়াতটি উল্লেখ করা যাক: (وَالْعَصْرِ وَنَوَيْبِ الدَّهْرِ إِنَّ الإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ) (সুরা আসরের প্রথম আয়াতে দুটি অতিরিক্ত শব্দ যুক্ত করা হয়েছে)।[৩]
আল-মাসাহিফ গ্রন্থের লেখক উক্ত বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনটি কারণে[৪]— ক. আসিম ইবনু নাজুদ তার শিক্ষক আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেছেন, আলি রাযিয়াল্লাহু আনহু উক্ত আয়াতটি পুরোপুরি উসমানি মুসহাফ অনুযায়ী তিলাওয়াত করেছেন। উল্লেখ্য, আস-সুলামি ছিলেন আলির কৃতি ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম।
খ. উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদতের পর আলি রাযিয়াল্লাহু আনহু শাসনভার গ্রহণ করেন। যদি সত্যিই তিনি উক্ত আয়াত লুকানো হয়েছে বলে মনে করতেন, তাহলে নিজ দায়িত্বে সেই ভুল সংশোধন করতেন। নয়তো এটি তার বিশ্বাসবিরুদ্ধ কাজ হতো।
গ. উসমানের উদ্যোগের সাথে গোটা মুসলিমসমাজের সম্মতি ছিল। কেউ যে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি, তা স্বয়ং আলির মুখের কথা। একমত না হলে অবশ্যই তিনি এর বিরুদ্ধাচারণ করতেন। [১]
স্বয়ং নবির সাহাবিদের উপস্থিতিতে কুরআনের টুকরোগুলো আগুনে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে, এমন দৃশ্যই তো মুসহাফের বিশুদ্ধতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। হাজার হাজার সাহাবির অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে এখান থেকে। কোনো যোগ, বিয়োগ বা পরিবর্তন তাতে আনা হয়নি। তাই কোনো প্রাক-উসমানি টেক্সটের পক্ষে কোনো সাহাবির সমর্থন থাকার দাবি উত্থাপন করা মানে তাদের বিশ্বাসের ওপর কালিমা লেপন করা।
আল-মাসাহিফ গ্রন্থটি ইবনু আবি দাউদ রচনা করেছেন। তিনি উসমানি টেক্সটের সাথে সাংঘর্ষিক বহু কিরাতের সংগ্রাহক। কিন্তু সেগুলোর একটিকেও তিনি কুরআন হিসেবে অনুমোদন দেননি।[২] এ প্রসঙ্গে তার মত হলো, 'উসমানি মুসহাফ ব্যতীত আর কোনোকিছুকে আমরা কুরআন হিসেবে তিলাওয়াত করার পক্ষপাতী না। সালাতে কেউ এ মুসহাফ-বিরুদ্ধ কিছু তিলাওয়াত করলে আমি তাকে আবারও সালাত আদায় করার আদেশ দিচ্ছি।' [৩]
ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টের অস্তিত্বলাভের সময়টা ছিল ব্যাপক অস্থিতিশীল। রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফলে দুটিই একেবারেই ছিন্নমূল হয়ে পড়ে। একইরকম ত্রুটি
কুরআনের মধ্যে খুঁজে পেতে তাই পশ্চিমা পণ্ডিত মহল সদা ব্যস্ত। কুরআনকে একচোখা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলেও ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টের বেলায় ছাড় দিতে তারা এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে। [১] নিজের সংগৃহীত কিছু পাঠভিন্নতার বিশুদ্ধতা নিয়ে কিন্তু জেফরি নিজেই ছিলেন দোটানায়। অথচ সেগুলো উল্লেখ করে নিজেই বই ভরিয়ে ফেলতে একটুও কার্পণ্য করেননি। জেফরি বলেন—
'কিছু পাঠভিন্নতা ভাষাগতভাবে অসম্ভব বলেই মনে হয়... কোনোটা আবার মনে হয় যেন পরবর্তীকালের ভাষা-ইতিহাসবিদদের উদ্ভাবন... তবে এর বিরাট অংশ টিকে যাওয়া প্রাক-উসমানি টেক্সট হিসেবে বিবেচনা পাওয়ার যোগ্য দাবিদার। অবশ্য এদেরকেও আধুনিক পর্যালোচনা-বিদ্যার বৈতরণী পেরিয়েই আসতে হবে...তাহলেই আমরা এগুলোকে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করে টেক্সটের একটি ইতিহাস পুনর্নির্মাণের চেষ্টায় সফল হব।' [২]
চিন্তা করুন, 'যোগ্য দাবিদার', 'আধুনিক পর্যালোচনা-বিদ্যার বৈতরণী' এগুলো আসলে ফাঁপা কথার ফুলঝুরি ছাড়া কিছুই নয়।

টিকাঃ
১. Jeffery (ed.), al-Masahif, Introduction, pp. 7-8.
২. মুসহাফ ইবনি মাসউদ এবং জেফরির পর্যালোচনা নিয়ে ত্রয়োদশ অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।
৩. A. Jeffery, Materials, p. 192
৪. A. Jeffery (ed.), Muqaddimatan, pp. 103-4.
৫. অধ্যায় ৭.৪.iii দ্রষ্টব্য
৬. কোনো কিরাত কুরআন হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত। যথা : ১. উসমানি লিপিতে তার সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকা, ২. উক্ত কিরাত মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হওয়া, ৩. আরবি ভাষার ব্যাকরণের নীতিমালা অনুযায়ী উক্ত কিরাত শুদ্ধতার মানে উত্তীর্ণ হওয়া।
এ তিন শর্ত পাওয়া না গেলে তা কুরআন হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। দুর্বল সূত্রে বর্ণিত হলে পরিত্যাজ্য হবে। সহিহ সূত্রে বর্ণিত হলে, তা একটি সহিহ হাদিসের সমমর্যাদায় স্থান পাবে। কুরআনের কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা বা কোনো বিধানের বিশ্লেষণে তা কাজে লাগানো যাবে। কুরআন হিসেবে তিলাওয়াত বৈধ হবে না। মুফতি তাকি উসমানির উলমুল কুরআন গ্রন্থে রেফারেন্সসহ এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। শারয়ি সম্পাদক
৭. ইবনু আবু দাউদ, আল-মাসাহিফ, পৃষ্ঠা: ৫৩-৫৭
৮. সম্প্রতি Juynboll রচিত Muslim Tradition বইয়ের জ্যাকেট কাভার আবার উলটে পালটে দেখছিলাম। কাভারের ছবিটি কাগজে লিখিত প্রাচীনতম আরবি পান্ডুলিপি থেকে নেওয়া। নোটে লেখা : 'পান্ডুলিপিটি ২৫২ হিজরি/৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে অনলিখিত বলে দাবি করা হয়।' ওল্ড এবং নিউ টেস্টামেন্টসহ অন্যান্য গ্রন্থের ব্যাপারেও এহেন সতর্কতা কতটা আশা করা যায়?
৯. Jeffery, Materials, Preface, p. x.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00