📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 সুরা পৃথকীকরণ

📄 সুরা পৃথকীকরণ


প্রাথমিক উসমানি মুসহাফে কোনো সুরা পৃথককারী (فواصل السور) ছিল না। তবে ‘بسم الله الرحمن الرحيم’ দ্বারা পরিষ্কারভাবে সুরার শুরু চিহ্নিত করা যেত।
চিত্র: প্রথম শতাব্দীর একটি হিজাযি লিপি; সূত্র: মাসাহিফ সানআ, ফলক ৪
উসমানি মুসহাফের সামসময়িক নথি-বহির্ভূত অনুলিপিগুলোতে প্রতিটি সুরার শুরুতে হালকা নকশা করা কারুকাজ থাকত। আর "بسم الله الرحمن الرحيم" তো আছেই। উদাহরণ হিসেবে মালিক ইবনু আবি আমিরের মুসহাফের কথা বলা যেতে পারে।
চিত্র: প্রথম শতাব্দীর একটি হিজাযি লিপি; সূত্র: মাসাহিফ সানআ, ফলক: ১১
এরপর "بسم الله الرحمن الرحيم" এবং নকশা বহাল রেখে ভিন্ন কালিতে সুরার নাম যুক্ত করার প্রচলন শুরু হয়।
চিত্র: প্রথম শতাব্দীর শেষ কিংবা দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকের একটি মুসহাফ। এখানে নকশার পর সোনালী কালিতে সুরার নাম লেখা হয়েছে; সূত্র: National Archive Museum of Yemen

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 পাঠসহায়িকার ক্রমবিকাশ ভূমিকা

📄 পাঠসহায়িকার ক্রমবিকাশ ভূমিকা


জটিল আরবি পালিওগ্রাফি এবং নুক্তা পদ্ধতির আলোচনায় যাওয়ার আগে এ অধ্যায়ে আমরা কিছু মুসহাফ দেখব। আলোচনা করব লিপিকার হাতে সন্নিবেশিত বিভিন্ন সহায়িকা ও নন্দনতাত্ত্বিক ক্রমবিকাশ নিয়ে।

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 আয়াত পৃথকীকরণ

📄 আয়াত পৃথকীকরণ


উসমানি মুসহাফে আয়াত পৃথকীকরণ ছিল না। নিচের দুটি চিত্র তার প্রমাণ। হয়তো এগুলো মূললিপি অথবা মূল থেকে প্রতিলিখিত।
চিত্র: তাসখন্দের মুসহাফ। সূত্র: আল-মুনাজ্জিদ, Etudes, পৃষ্ঠা: ৫১
চিত্র: সমরখন্দের মুসহাফ। সূত্র: মাসাহিফ সানআ, পৃষ্ঠা: ৩৫
অল্প কিছুকাল পরেই চলে আসে আয়াত পথকীকরণ চিহ্ন। শুরুতে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম ছিল না। লেখকগণ নিজেদের খেয়াল অনুযায়ী চিহ্ন ব্যবহার করতেন। নিচে
হিজাযি লিপি থেকে তিনটি উদাহরণ এনেছি। প্রথমটিতে আয়াত পৃথক করার জন্য দুই কলামবিশিষ্ট তিনটি ফোঁটা ব্যবহৃত হয়েছে। দ্বিতীয়টিতে এক সারিতে চারটি ফোঁটা এবং তৃতীয়টিতে ত্রিভুজাকৃতির চিহ্ন।
চিত্র: প্রথম শতাব্দীর একটি মুসহাফ, যেখানে আয়াত পৃথকীকরণের জন্য ফোঁটাযুক্ত কলাম ব্যবহৃত হয়েছে। সূত্র: মাসাহিফ সানআ, ফলক: ৩, পৃষ্ঠা: ৬১
চিত্র: প্রথম শতাব্দীর একটি মুসহাফ, যেখানে চারটি ফোঁটা দ্বারা পৃথক আয়াত বোঝানো হয়েছে।
চিত্র: আরও একটি প্রথম শতাব্দীর মুসহাফ, যেখানে ত্রিভুজাকৃতির আয়াত পৃথকীকরণ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্র: National Archive Museum of Yemen
আরও অনেক কিছু ধীরে ধীরে সংযোজিত হতে থাকে। যেমন: প্রতি পাঁচ বা ১০ আয়াত পরপর বিশেষ চিহ্ন।
চিত্র: দ্বিতীয় শতাব্দীর একটি মুসহাফ, যেখানে ১০ আয়াত পরপর বিশেষ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়েছে। সূত্র: National Archive Museum of Yemen

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 অধ্যায় শেষে

📄 অধ্যায় শেষে


আগের অধ্যায়ে কুরআনের প্রতি তৃতীয়, চতুর্থ এবং সপ্তম ভাগ নিয়ে হাজ্জাজের আগ্রহের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কিছুকাল পরেই অর্থাৎ প্রথম শতাব্দীর শেষ ভাগে এসে মুসহাফকে সাতটি মঞ্জিলে ভাগ করা হয়। যারা এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো কুরআন খতম দিতে আগ্রহী, তাদের সুবিধার্থে এই উদ্যোগ। তৃতীয় শতাব্দীতে আরও কিছু চিহ্ন যুক্ত হয়। একমাসে শেষ করার সুবিধার্থে পুরো কিতাবকে বিভক্ত করা হয় ৩০টি জুয বা পারায়। এ সবকিছুর শুরু হাজ্জাজের আগ্রহ থেকে। তখন থেকেই তা পাঠকদের জন্য উপকারী সাব্যস্ত হয়ে আসছে।
কারুকার্যখচিত পাড় কিংবা সোনালি কালির মতো আরও অসংখ্য জিনিস যে যার পছন্দ এবং দক্ষতা অনুযায়ী যুক্ত করেছে। তবে এগুলোর উদ্দেশ্য কেবল সৌন্দর্যবর্ধন, পাঠের সুবিধা নয়। তাই এগুলো নিয়ে আর বিস্তারিত আলাপ করব না। পড়ার সুবিধার জন্য ফোঁটা এবং হরকতের ব্যবহারের ফলে অনারব মুসলিমদের জন্য কুরআন শেখা অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। সহায়ক চিহ্ন এবং এ সম্পর্কিত প্রাচ্যবিদদের বিরোধ প্রসঙ্গে পরের অধ্যায়ের মূল আলোচনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00