📄 অধ্যায় শেষে
ইসরাইলের আশেপাশের মুসলিম দেশগুলোকে জাতীয় পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার মন্ত্র শোনানো হয়েছে। ইহুদিদের পছন্দ নয়-এমন সকল চিন্তা নির্মূল করাই চূড়ান্ত লক্ষ্য। [২] এরপরও বাধা হিসেবে কুরআন থেকেই যায়। ইহুদিদের বাড়াবাড়ি এবং অবাধ্যতার ইতিহাস এই গ্রন্থে বারবার উচ্চারণ হয়েছে। স্কুলের শিশু থেকে শুরু করে মসজিদের জামাতে এবং গভীর রাতে তিলাওয়াতকারীর কণ্ঠে ক্রমাগত সে বাণী ধ্বনিত হয়। মুসলিম-জীবনের প্রতিটি অংশের সাথে তা সম্পৃক্ত। তাই একটি নির্দিষ্ট মহলের কুরআনি গবেষণাগুলোর উদ্দেশ্য আগে অনুধাবন করা আবশ্যক। কারণ একজন অসতর্ক পাঠকের পক্ষে হয়তো এসমস্ত গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের বাস্তবতা বোঝা সম্ভব না-ও হতে পারে।
ইহুদিদের বিষয়বস্তু নিয়ে স্ট্রাগনেল ও ডিলিৎশের গবেষণার ওপর এখন ইহুদি-বিদ্বেষের তকমা লাগিয়ে সেগুলো অগ্রহণযোগ্য করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইসরাইলের পুরাতত্ত্ব বিভাগ (IAD) গবেষকদের যোগ্যতা নিজেদের আদর্শগত মানদণ্ডে বিচার করে। অথচ যখন ইসলামের ইতিহাস, কর্মনীতি, কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ-সংক্রান্ত বিষয়ে খ্রিষ্টান, ইহুদি, নাস্তিক্যবাদীরা স্বেচ্ছাচারে লিপ্ত হয়, তখন নিজেদেরকে রীতিমতো তারা পির মনে করে। যেন মুসলিমরা তাদের অনুসন্ধান এবং সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার জন্য বাধ্য! এই মনোভাব কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
অ্যান্টি-সেমিটিজমের১) অভিযোগ এনে অ্যাকাডেমিকভাবে বিভিন্ন গবেষণাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়; কিন্তু সুপ্ত ইচ্ছা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসলামের নামে অপপ্রচার চালালে তা হয় না কেন? কেন মুসলিমদের প্রত্যাখ্যান করার ভিত্তি অমুসলিম মহল থেকে নির্ধারিত হবে? মনেপ্রাণে নিজেদের ধর্মকে ইসলামের উপরে দেখতে চাওয়া খ্রিষ্টান ধর্মালম্বী মিংগানা, গিয়োম, ওয়াট, অ্যান্ডারসনদের বিশাল ঝাঁককে কেন ইসলামের ‘নিরপেক্ষ’ গবেষণার মাপকাঠি ধরা হবে? কুরআনকে ‘স্বাধীনতা, সভ্যতা এবং সত্যের সবচেয়ে কঠিন শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিতকারী মুইর কেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের ওপর চূড়ান্ত মন্তব্য রাখার মর্যাদা পাবে?[২]
টিকাঃ
১. জর্ডান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি উদাহরণ দেখানো যাক। শান্তিচুক্তিকে আরও অগ্রবর্তী করতে সম্প্রতি ইসরাইল তার বন্ধু আরব-রাষ্ট্রগুলোকে পাঠ্যক্রম থেকে ক্রুসেড, সালাহউদ্দিন আইয়ুবি এবং তার আল-কুদস (জেরুসালেম) বিজয়-সংক্রান্ত সকল ইতিহাস বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
২. 'Anti-Semitic' শব্দটি মূলত anti-Judaic শব্দের ইচ্ছাকৃত ভুল উপস্থাপনা। কারণ বিগত ১৪শ বছরের ইতিহাসে সেমাইটদের সিংহভাগই মুসলিম।
৩. As quoted in M. Broomhall, Islam in China, New Impression, London, 1987, p. 2.