📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণে: ইহুদি, খ্রিষ্টান, রোমান

📄 ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণে: ইহুদি, খ্রিষ্টান, রোমান


প্রাচ্যবাদপন্থী বুদ্ধিবৃত্তির মূল প্রতিজ্ঞা হলো—কোনোকিছুকে পক্ষপাতহীন ও অধিকতর জ্ঞানী একজন বহিরাগতের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা; কিন্তু পশ্চিমা বা ইহুদি-খ্রিস্টান গোষ্ঠী কি আদৌ সেই উদ্দেশ্য পূরণ করেছে? তাদের ইতিহাস সংশ্লিষ্ট রচনাবলির অশ্লীল এবং পক্ষপাতদুষ্ট তালিকায় সেসব জ্ঞানগর্ভ আলোচনা কোথায়? অশ্লীল বলতেই হচ্ছে। কারণ ঈসা, মারিয়াম, মুসা, হারুন, ইসহাক, ইবরাহিম, দাউদ, সুলাইমান, লুত প্রমুখ নামের প্রতি মুসলিমদের ভক্তিকে এক পাল্লায় রাখুন। বিপরীত পাল্লায় রাখুন খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ইহুদিদের, ইহুদিদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের, প্রোটেস্ট্যান্টদের বিরুদ্ধে ক্যাথলিক এবং এদের সকলের সাথে প্রাচীন রোমানদের অমার্জিত খিস্তি-খেউর। এখন এড্রিয়ান রিল্যান্ডের একটি দীর্ঘ উদ্ধৃতি দিচ্ছি। ভদ্রলোক ইউট্রেক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা বিভাগের অধ্যাপক। ১৭০৫ সনে তিনি ল্যাটিন ভাষায় একটি অনন্য গ্রন্থ রচনা করেন। ১৭১২ সালে লন্ডন থেকে তা Four Treatises Concerning the Doctrine, Discipline and Worship of the Mahometans শিরোনামে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়।
'ইতিহাসের সবচেয়ে পবিত্র আইন এবং প্রতিষ্ঠান ছিল ইহুদি জাতির। তবুও... বদ লোকদের আক্রোশ থেকে তারা রক্ষা পায়নি। ইহুদিদের ওপর অনেক মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে দিয়েছে তারা। ইহুদিদের নিজস্ব বিষয়াবলিতে তাদের পরামর্শ গ্রহণ না করার পক্ষপাতী ছিলেন ট্যাসিটাস[১]। তিনি লিখেছেন, ইহুদিদের... মিশর থেকে চর্মরোগের কারণে নির্বাসিত করা হয়েছিল; তারা একটি গাধার প্রতিমূর্তিকে পবিত্র বলে বিশ্বাস করত।
প্লুটার্ক।[২] লিখেছেন, টেবারনেকেলস[৩] ভোজোৎসব বাকাস[৪]-এর সম্মানে হতো; শুধু তা-ই না, পুরো স্যাবাথই নাকি উৎসর্গ করা হয়েছিল এই দেবতার নামে... ইহুদিদের স্যাবাথকে রুটিলিয়াস[৫] শীতল স্যাবাথ বলে অভিহিত করেছেন। তার কাছে ইহুদিদের ধর্মকে তাদের অন্তরের চেয়েও শীতলতর মনে হয়েছে... কারণ স্যাবাথের দিন অনেক ইহুদি... আগুন জ্বালেনি।[৬]
কিন্তু খ্রিষ্টানরা ইহুদিদের থেকে পৃথক হয়ে আলাদা উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার পর... বিধর্মীরা কী জঘন্যভাবেই না আমাদের ধর্মকে বর্ণনা করল... তারা খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, তাদের ঈশ্বর নাকি গাধার মতো পা-বিশিষ্ট; তারা যাজকের লিঙ্গ পূজা করে; ফুল দিয়ে আচ্ছাদিত শিশুর ওপর তারা নতুন সদস্যদের ভোজোৎসবের দ্বারা বরণ করে; অনুষ্ঠান শেষে বাতি নিভিয়ে নারী-পুরুষ একে অপরকে আলিঙ্গন করে করে; এমনকি তারা বিশ্বকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে পারে... মানে কেবল একত্ববাদে বিশ্বাসের কারণেই তাদের নাস্তিকতার তকমা বরণ করতে হলো... Apology গ্রন্থে ট্যুটুলিয়ান[৭] লিখেছেন, তাদেরকে খুনি, অজাচারী, অশুচি, মানবতার প্রকাশ্য শত্রু এবং সকল প্রকার পাপে দুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। কাজেই তারা নৈতিকতা ও প্রকৃতিবিরুদ্ধ। তারা শাসকগোষ্ঠী ও দেবতাদের শত্রু।[৮]
মানব-সভ্যতার দিকে তাকালে দেখা যাবে—বর্তমানে মানুষ এর চেয়ে বিন্দু পরিমাণ ভিন্ন কিছু নয়... অথচ রোমের চার্চ থেকে পৃথক হওয়ার পর তারা আমাদের কোন অপরাধে দোষী করতে বাকি রেখেছে...? তারা নিজেদের বইগুলোতে লিখে রেখেছে—আমরা নাকি সৎকর্ম ঘৃণা করি; ঈশ্বরকে মন্দকর্তা বলে স্বীকার করি; দেবদূত, সাধুদের জীবনাচার এবং যিশুর মা মেরিকে নাকি অশ্রদ্ধা করি;... আমরা নাকি একশত ছাব্বিশটি নোংরা ভাগে বিভক্ত, যেগুলোর নাম নিতে গেলে হাসি পায়;... শয়তানের সাথে নাকি লুথারের ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং তিনি রশিতে ঝুলে জীবন সাঙ্গ করেন; কেলভিন নাকি কঠিন পাপাচারে লিপ্ত ছিলেন এবং দ্বৈব অভিশাপে গোপনাঙ্গে ঘা হয়ে মারা গেছেন;... হিব্রুতে লুথারের নাম (Lulter) নাকি অপখ্রিষ্টের (Anti-Christ) সংখ্যা ৬৬৬-এর সাথে মিলে যায়; তিনি নাকি এই অঞ্চলে মাহোমেটের (মুহাম্মদের) রাজ্য প্রতিষ্ঠা করবেন এবং তার অনুসারীরা সব মোহামেডানিজমের (ইসলামের) ফাঁদে পা রাখবে।[৯]
...বিপক্ষ শক্তির দ্বারা যদি কোনো ধর্ম আসলেই বিকৃত, অপমানিত এবং জবাব পাওয়ার অযোগ্য হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে, তাহলে তা শেষোক্ত ধর্মটি (ইসলাম)। কোনো ধর্মমতকে হীন এবং জঘন্য মনে হলে মানুষ মোহামেডান উপমাটি ব্যবহার করে। এমনকি তুর্কিরাও তা মেনে নিতে চায় না। মোহামেডানীয় আকিদা-বিশ্বাসের মধ্যে ভালো বলতে যেন কিছুই নেই। যেন এর প্রতিটি বিষয় অপভ্রষ্ট। এতে অবাক হই না। কারণ 4th Oration against Mahomet গ্রন্থের লেখক বিভিন্ন যুক্তির মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছেন... শয়তানের সবচেয়ে বড় সমার্থক মাহোমেট... আমাদের তরুণরা ধর্মবিদ্যা শিখতে গিয়ে যদি মোহামেডান ধর্ম সম্পর্কে জানার একটুও ইতিবাচক আগ্রহ দেখায়, তাহলে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় (অজ্ঞ পশ্চিমা লেখকদের লেখা গ্রন্থ থেকে শিক্ষা করতে)। প্রাচ্যের গ্রন্থগুলো পড়ে মাহোমেটকে তার নিজ ভাষায় জানার জন্য আরবি শেখার প্রতি উৎসাহিত করা হয় না। অন্যদের দৃষ্টিতে না দেখে নিজের দৃষ্টি খাটাতে বলা হয় না। কারণ হিসেবে বলা হয়—একজন গোঁড়া লোকের স্বপ্ন আর প্রলাপ নিয়ে গবেষণার জন্য এত কষ্ট ও শ্রম ব্যয় করার কোনো অর্থ নেই।'[১০]
শেষোক্ত চিন্তাধারা আজ পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই বিদ্যমান। রিভিশনিস্টরা বলতে চান, অমুসলিম সূত্র থেকে প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত মুসলিমদের কোনো তথ্য সত্য বলে গণ্য হবে না।[১১] ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা ইসলামকে বাঁকা চোখে দেখে এসেছে। তাহলে মধ্যযুগের একজন যাজক বা র‍্যাবাইয়ের পক্ষে কীভাবে সম্ভব তাদের কঠিনতম শত্রু মুসলিমদের ইতিহাস ও অর্জনসমূহকে বস্তুনিষ্ঠভাবে স্বীকৃতি দেওয়া? ইহুদি-খ্রিষ্টানরা একে অপরের বিরুদ্ধে যে অসংযত মর্যাদাহানি ঘটিয়েছে, তাকে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞ মহল মোটেই প্রশ্রয় দেয় না।[১২] কারণ ইহুদি-খ্রিষ্টানরা একে অন্যের প্রতি নিজ নিজ অপধারণা দ্বারা অবরুদ্ধ। তাহলে ঠিক একই অপধারণার বশবর্তী হয়ে তাদের সবার করা অসংযত মর্যাদাহানি মুসলিমদের বেলায় কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? [১৩]

টিকাঃ
১. আধুনিক পণ্ডিতগণের মতে, ট্যাসিটাস ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ রোমান ইতিহাসবেত্তাদের একজন।—অনুবাদক
২. প্লুটার্ক একজন প্রসিদ্ধ গ্রীক দার্শনিক এবং ইতিহাসবেত্তা ছিলেন।—অনুবাদক
৩. মিশর থেকে মুক্ত হয়ে পবিত্র ভূমির দিকে যাত্রার সময়ে ইসরায়েলিয়দের বহনযোগ্য মণ্ডপ বা উপাসনা তাঁবু।—সম্পাদক
৪. Bacchus একজন গ্রীক দেবতা। তাকে মদের দেবতাও বলা হয়।—অনুবাদক
৫. রুটিলিয়াস একজন রোমান ইতিহাসবেত্তা এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন।—অনুবাদক
৬. H. Reland, Four Treatises Concerning the Doctrine, Discipline and Worship of the Mahometans, London, 1712, pp.5-6.
৭. ট্যুটুলিয়ান কার্থেজের একজন প্রখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ববিদ ছিলেন।—অনুবাদক
৮. ibid, pp. 6-7.
৯. ibid, pp. 7-8.
১০. ibid. p. 12.
১১. এই গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে ইহুদা নেভার দেওয়া Revisionism-এর সংজ্ঞা দ্রষ্টব্য।
১২. See for example the apologist attitude inherent in the articles of both Joseph Blenkinsopp and Barclay Newman (Bible Review, vol. xii, no. 5, Oct. 1996, pp. 42-43), not reflected in my quotations from Ch. 17.7.
১৩. মুসলিমদের বিরুদ্ধে সপ্তদশ এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের আনিত কিছু অভিযোগ নিচে বর্ণিত হলো-(১) মুসলিমরা ভেনাসের উপাসনা করে; (২) তারা সকল সৃষ্টের পূজারি, (৩) দোযখের অস্তিত্বে বিশ্বাসী নয়; (৪) পাপমোচনের উপায় হলো শরীর ধৌতকরণ; (৫) তারা শয়তানকে ঈশ্বর এবং নবি মোহাম্মদের দোসর ভাবে; (৬) সকল শয়তান নাজাত পাবে; (৭) নারীরা স্বর্গে যাবে না, (৮) খেজুর খেয়ে মাতা মেরি যিশুকে পেটে ধরেছিলেন, এবং (৯) মোশিকে তারা অভিশপ্ত মনে করে। (Reeland, Four Treatises, pp. 47-102.)

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 আধুনিক গবেষণায় নিরপেক্ষতা

📄 আধুনিক গবেষণায় নিরপেক্ষতা


এডওয়ার্ড সাইদ Covering Islam নামক সুগভীর ও অসাধারণ গ্রন্থে রাজনীতি ও মিডিয়া-বিধৌত ইসলাম-বিরোধী চেতনার মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন। এই চেতনার দ্বারা আচ্ছাদিত করে রাখা হয়েছে পশ্চিমা জনসাধারণকে। ইসলাম সম্পর্কে নিজেদের বিকারগ্রস্ত চিন্তা সবার সামনে মেলে রেখেছে তারা। পশ্চিমা সভ্যতার প্রতি অত্যাসন্ন হুমকি হিসেবে ইসলামকে এমনভাবে চিত্রায়ণ করা হয়েছে যে-অন্য কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের পক্ষে এককভাবে এতটা ভয়ঙ্কর হওয়া রীতিমতো অসম্ভব।[১] তাই যেকোনো সামাজিক-রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বিষয় পশ্চিমের মনমতো না হলেই দোষ হয়ে যায় ইসলামের। এই ধর্ম সম্পর্কে খুব বেশি না জানলেও এর প্রতি বেশি অনুকূল হওয়ার মতো তেমন কিছু নেই বলে তারা রাজনৈতিকভাবে একতাবদ্ধ।[২] ইসলামকে খ্রিষ্টানরা হুমকি হিসেবে দেখে আসার ঐতিহাসিক প্রবণতাকে এডওয়ার্ড সাইদ এমন বৈরিতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা ইসলামকে তাদের ক্ষমতার প্রতি হুমকি এবং শত্রু হিসেবে গণ্য করত। মধ্যযুগে এটিকে, 'একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ঈশ্বর-বিরোধী শয়তানি ধর্ম হিসেবে মনে করা হতো। মুসলিমরা যে মুহাম্মাদকে ঈশ্বর নয়; বরং নবি হিসেবে মানে-এটা তাদের কাছে ধর্তব্যই নয়। খ্রিষ্টানরা শুধু এটুকুই বুঝত-তিনি একজন মিথ্যা নবি, মতবিভেদ সৃষ্টিকারী... শয়তানের দোসর।'[৩]
খ্রিষ্টান অধ্যুষিত ইউরোপ যখন মুসলিম শাসনামলে সমৃদ্ধি লাভ করে, তখনও তাদের ভয় এবং ঘৃণার ফেনা দূর হয়নি। 'মোহামেডানিজম' তাদের কাছে এমন এক শঙ্কার নাম, যা তারা কখনোই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। ভারত, চীন, ও অন্যান্য প্রাচ্যীয় সংস্কৃতিকে একবার বশে এনে ফেলার পর সেগুলো আর ইউরোপীয় প্রশাসন ও ধর্মবিদদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে থাকেনি। শুধু ইসলামই নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। অবাধ্য-রকমের স্বাধীনতা দেখিয়ে পশ্চিমের আনুগত্য অস্বীকার করে চলে।[৪] দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে এডওয়ার্ড সাইদ দেখিয়েছেন, আমেরিকা বা ইউরোপীয় ইতিহাসে ইসলাম 'নিয়ে সকল ভাবনা ও আলোচনা হয়েছে তাদের নিজস্ব (পশ্চিমা) আবেগ, সংস্কার-সংস্কৃতি, এবং রাজনৈতিক স্বার্থের কাঠামোতে।'[৫] পিটার দ্য ভেনারেবল, বার্থেলেমি ডি হার্বালো এবং পূর্বেকার অন্যান্য লেখকরা নিঃ সন্দেহে ইসলাম নামক প্রতিপক্ষকে গালমন্দ করায় ব্যস্ত খ্রিষ্টান তার্কিকদের কাতারে পড়ে যান।
চলতি যুগে আবার নতুন এক ধারণা জন্মেছে। তারা মনে করে, আধুনিকতাবাদের (Modernism) প্রভাবে প্রাচ্যবাদের বিগত পক্ষপাতদুষ্টতা দূর হয়ে গেছে। একজন কেমিস্ট এই যুগে আর অ্যালকেমি দ্বারা অনুপ্রাণিত নয়, সে এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পদার্থের গঠন বিশ্লেষণ করে। বর্তমান যুগে প্রাচ্যবিদরাও বুঝি সেরকম কিছু একটা করছে বলে মানুষের ধারণা।
সিলভাস্টার ডি স্যাসি, এডওয়ার্ড লেন, আর্নেস্ট রেনান, হ্যামিল্টন গিব এবং লুইস ম্যাসিগননের মতো বিশেষজ্ঞগণ কি তাহলে জ্ঞানবান এবং বস্তুনিষ্ঠ ছিলেন না? বিংশ শতাব্দীর আধুনিক সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, ভাষাতত্ত্ব এবং ইতিহাসে দক্ষ অধ্যাপকমহল প্রিন্সটন, শিকাগো, হার্ভার্ডের মতো জায়গায় মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসলাম বিষয়ে পাঠদান করেন। তারা তো পক্ষপাতহীন এবং বিশেষ গোষ্ঠীর ওকালতি-বিমুখ হওয়ার কথা, তাই না? এর উত্তর হলো—না।[৬]
ইসলাম সম্পর্কিত সকল গবেষণাই আজ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও চাপের প্রতি খেয়াল রেখে সম্পাদন করা হয়। প্রবন্ধ-নিবন্ধ, সমীক্ষা-পর্যালোচনা থেকে শুরু করে রচিত গ্রন্থগুলো রাজনৈতিক কদর বজায় রাখতে সদা সোচ্চার। যদিও এগুলোর রচয়িতারা 'বৈজ্ঞানিক পক্ষপাতহীনতা'-এর বয়ান তোলে। শব্দদ্বয়ের এহেন অপব্যবহারের আড়ালে তাদের মূল উদ্দেশ্য ঢাকা পড়ে যায়। এর পাশাপাশি নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পদবির জোর তো আছেই।[৭]

টিকাঃ
১. Edward Said, Covering Islam, Pantheon Books, New York, 1981, p. xii.
২. ibid. p. xv.
৩. ibid, pp. 4-5
৪. ibid. p. 5
৫. ibid. p. 23
৬. ibid. p. 23
৭. ibid. p. xvii. 23.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00