📄 বাইবেলের নকল
কুরআনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপন করেছেন হার্শফেল্ড।[১] বাইবেল বলতে যদি তিনি নিউ টেস্টামেন্ট বোঝান, তাহলে আদিপাপ এবং প্রায়শ্চিত্তের প্রসঙ্গে আসা যাক। এগুলো খ্রিষ্টধর্মের প্রধান দুটি বিশ্বাস। আদমসন্তান হওয়ার ফলে সকল মানুষ জন্ম থেকে পাপের ভার বহন করার বিশ্বাসকে আদিপাপ বলে। আর ঈশ্বর নিজ পুত্রকে উৎসর্গ করে মানবজাতিকে পাপমুক্ত করার বিশ্বাস হলো প্রায়শ্চিত্ত। কুরআন উভয় বিশ্বাসকেই স্পষ্টত প্রত্যাখ্যান করে—
'তারপর আদম তার রবের কাছ থেকে কিছু বাণী পেলেন। অতঃপর আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন।' [২]
'প্রত্যেকেই স্বীয় কৃতকর্মের জন্য দায়ী হবে এবং কেউ অন্য কারও ভার বহন করবে না।' [৩]
যিশুকে মুক্তিদাতা এবং ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করা বর্তমান খ্রিষ্টধর্মের মূল মতবাদ। অথচ কুরআনুল কারিমে তা সোজাসুজি প্রত্যাখান করা হয়েছে।
'আপনি বলুন-তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেনওনি। আর তাঁর কোনো সমকক্ষও নেই।' [৪] নকলটা তাহলে করা হয়েছে কোথায়? আর যদি ওল্ড টেস্টামেন্টের নকল বোঝানো
হয়ে থাকে (যেটা ওয়ান্সব্রোহ, নোয়েলডেক প্রমুখের অভিযোগ), সেখানে তো ইয়াহওয়েহকে একচ্ছত্রভাবে ইসরায়েলিদের ঈশ্বর বলা হয়েছে। এমনকি সামারীয় বা ইদোমীয়দের সাথেও তাঁকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়নি। তাহলে আল্লাহকে গোত্রীয় ঈশ্বর হিসেবে চিত্রিত করা একটি ধর্মগ্রন্থ থেকে কেন নবি নকল করতে উদ্যত হবেন?
অথচ কুরআনের শুরুতেই লেখা— 'অনন্ত করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)। সকল প্রশংসা আল্লাহর— যিনি সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক।'[১]
এখানে সর্বজনীনভাবে সকল জাতি, গোত্র নির্বিশেষে আল্লাহর দিকে ডাকা হচ্ছে। এমন সুন্দর হীরা কোনোদিন কুড়িয়ে পাওয়া নুড়ির অংশ হতে পারে না।
টিকাঃ
১. A. Mingana, 'The Transmission of the Koran', in Ibn Warraq (ed.), The Origins of the Koran, p. 112.
২. সুরা বাকারা, আয়াত: ৩৭
৩. সুরা আনআম, আয়াত: ১৬৪
৪. সুরা ইখলাস, আয়াত: ১-৪
৫. সুরা ফাতিহা, আয়াত: ১-২