📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস 📄 অধ্যায় শেষে

📄 অধ্যায় শেষে


উদাহরণ দিতে গেলে তালিকা কেবল বাড়তেই থাকবে। তবে প্রতিপাদ্য বিষয়টি
পরিক্ষার। যিশুর জীবনী থেকে প্রাপ্ত বলে দাবি করা অনেক ধ্যানধারণার পক্ষেই সংশোধিত আধুনিক সংস্করণগুলোতে কোনো প্রকার সমর্থন নেই। অথচ এগুলো খ্রিস্টান মতাদর্শের একেবারে মৌলিক ভিত্তি। KIV থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং সুপ্রচলিত বহু শ্লোক বাদ দেওয়ার পর নবসৃষ্ট এই খ্রিষ্টধর্মের ভিত্তির কী বাকি থাকে? এতে করে ধর্মতত্তীয় দিক থেকে তা যথেষ্ট দুর্বল প্রতিপন্ন হয়েছে। আজকের চার্চ তাহলে কোন মূলনীতি আর মতবাদ নিঃসংশয়ভাবে অনুসরণ করবে?
আগেই আমরা দেখেছি, ওল্ড টেস্টামেন্ট সংরক্ষণের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল না। তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ছিল সম্পূর্ণভাবে স্রোতের প্রতিকূলে। অধিকাংশ ইহুদি শাসক ব্যাপকভাবে বহুঈশ্বরবাদের সমর্থক ছিলেন। এর ওপর পাঠ্য হারিয়ে গেছে বারংবার। চূড়ান্তভাবে খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে আবার তা খুঁজে পাওয়ার পরও সেটি ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে।
এরপর নিউ টেস্টামেন্টের সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও আমরা প্রায় একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখি। যিশুখ্রিষ্ট হলেন খ্রিষ্টান ধর্মের প্রাণভোমরা। অথচ প্রাথমিক উৎসগুলো থেকে যিশুর অস্তিত্বকে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণ করা অসম্ভব। তার প্রচারিত শিক্ষার কিছু অংশ Q-এ ঠাঁই পেয়েছিল বটে। তবে কয়েক দশকের মধ্যেই তাতে বিভিন্ন প্রকার সংযোজন ঘটে। খ্রিষ্টান সমাজে যিশুকে ঘিরে বেড়ে ওঠা বিভিন্ন কল্পকথার ভিড়ে Q শেষমেশ হারিয়েও যায়।
এরপর প্রথম শতাব্দীর শেষদিকে কিছু জীবনী গ্রন্থ পাওয়া যায়, যেগুলোর লেখক আবার অজ্ঞাতনামা। যিশুর জীবন সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষ জ্ঞান তাদের ছিল না, তথ্যের উৎসও তারা উল্লেখ করেননি।
এরপর পরস্পরবিরোধী অনেকগুলো খ্রিষ্টীয় মতধারা গড়ে ওঠে। যিশু সম্পর্কে নিজস্ব মতবাদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রয়োজন মতো শ্লোক বিকৃত করতে পিছপা হয়নি কেউই। পাঠ্যের রকমফের তৈরি হয়, বিচ্যুতি ঘটে এবং নতুন পাঠ্যের সৃষ্টি হয় ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পাঠ্যগত বিশ্লেষণের ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক বাদ পড়ে যায়। আজও প্রতিটি বাইবেল প্রয়োজন মতো রূপভেদ ও শব্দ চয়ন করে যিশুর আরেকটু ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করতে পারে।
যিশুর কিছু শিক্ষা বাইবেলে বর্তমান আছে বলে যারা দাবি করেন, তারা মূল বিষয়টি বোধহয় এখনো ধরতে পারেননি। কথাগুলো অক্ষররূপে উপস্থিত, কিন্তু চেতনায় অনুপস্থিত। ওই সকল দয়া, ভালোবাসা, দান-সংক্রান্ত নির্দেশনা কী কাজে আসবে, যেখানে পুরো ধর্মটিই যিশুর মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে? Q-এর শিক্ষা
থেকে সরে গিয়ে তারা এখন যিশুকে ঈশ্বরের পুত্র ভেবে উপাসনা করে। মানবজাতির পাপের বোঝা নিয়ে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছেন বলে বিশ্বাস করলেই কেবল নাজাত পাওয়া যাবে বলে ধারণা রাখে তারা।
আলোচনার ভেলায় চড়ে আমরা ইসনাদ, পাঠসনদ, সাক্ষীর নিয়ম, প্রত্যক্ষ সান্নিধ্য, একঝাঁক হাফিজ, উসমানি মুসহাফ এবং ১৪০০ বছর দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশুদ্ধ থাকা সেই কিতাবের আলাপ থেকে বহুদূর চলে এসেছি। যেন একদিকে মধ্যগগনের জ্বলজ্বলে সূর্য, অন্যদিকে রাতের গহীনতম অন্ধকার। এই পার্থক্য কিছু বাইবেল বিশারদের চক্ষুশূল। সর্বশক্তিমান স্রষ্টা অন্য কোনো গ্রন্থকে কালের গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া থেকে সযত্নে রক্ষা করেছেন, এটা তাদের কাছে এক অসম্ভব চিন্তা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px