📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 বিভিন্ন প্রকার টেক্সটের অস্তিত্বলাভ

📄 বিভিন্ন প্রকার টেক্সটের অস্তিত্বলাভ


বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষ দিকে এসে নিউ টেস্টামেন্টের বিচ্যুতি (বা বিকৃতি) সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে। তৎকালীন চার্চের অধীন প্রতিটি প্রধান কেন্দ্র টেক্সটের নিজসু রূপভেদ প্রতিষ্ঠা করে। অঞ্চলভেদে এগুলোর মধ্যে ভিন্নতা ছিল। একাডেমিকগণ এই বিচ্যুত পাঠ্যগুলোকে প্রধান চারটি প্রকারে বিভক্ত করেছেন:
১. আলেকজান্দ্রিয় টেক্সট (The Alexandrian Text)
আলেকজান্দ্রিয়ার লিপিকাররা সাধারণত টেক্সটের বিষয়বস্তু পালটানো থেকে বিরত থেকেছেন। তারা কেবল ব্যাকরণ ও শৈলীগত সংস্করণ নিয়ে কাজ করেছেন। তাই অর্থের দিক থেকে তাদের পান্ডুলিপিগুলো বেশ নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করা হয়।[১]
২. পশ্চিমা টেক্সট (The Western Text)
উত্তর আফ্রিকা ও ইতালি থেকে আসা 'পশ্চিমা' রূপটি ছিল অবাধ এবং জনপ্রিয়। এর লিপিকাররা বিশুদ্ধতা যাচাই না করে প্রচলিত এবং অবাইবেলীয় বিষয়বস্তুকে পাঠ্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাদের হাতে তাই মারাত্মকভাবে এটি বিকৃত হয়।[২]
৩. সিজারীয় টেক্সট (The Caesarean Text)
এটি আগের দুটি পাঠ্যের মধ্যে এক প্রকার আপস ঘটিয়েছে। আলেক্সান্দ্রিয় পাঠ্যের বিষয়বস্তুর অনুসরণ করেছে এবং পশ্চিমা রূপভেদের খুব বেশি অসঙ্গত বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছে।[৩]
৪. বাইজেন্টাইন টেক্সট (The Byzantine Text)
চতুর্থ শতাব্দীতে সিরিয়ায় কাজ করার সূত্রে লুসিয়ান অব অ্যান্টিওক নিউ টেস্টামেন্টের বিভিন্ন পাঠ্য মিলিয়ে একটি সংশোধিত রূপ দাঁড়া করান। এর জন্য তিনি আলেকজান্দ্রিয়ের চেয়ে পশ্চিমা পাঠ্যের ওপর নির্ভর করেছেন অনেক বেশি। পাশাপাশি এতে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় এবং আন্তঃপ্রবেশও ঘটিয়েছেন। বাইজেন্টাইন পাঠ্য ভূ-মধ্যসাগরীয় এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্রিক অর্থোডক্স চার্চ তা গ্রহণ করে নেয়। প্রমিত সংস্করণ প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত পরবর্তী চার শতাব্দী পর্যন্ত আরও অনেক পরিমার্জন ঘটানো হয় এতে।[৪] দেখা যাচ্ছে, এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিস্তৃতি লাভ করে বাইজেন্টাইন টেক্সট। আর এটি ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছে সবচেয়ে অনির্ভরযোগ্য পশ্চিমা টেক্সটের ওপর। সূত্র হিসেবে অবাইবেলীয় এবং প্রচলিত উৎস ব্যবহার করাটা পশ্চিমা পাঠ্যের চিহ্নিত বৈশিষ্ট্য। লুসিয়ান নিশ্চয় এগুলোই ব্যবহার করেছেন। তাই টেক্সটের ভেতর এর অনুপ্রবেশ অপরিহার্য। এই পশ্চিমা টেক্সটের সামগ্রিক প্রভাব রীতিমতো বিস্ময়কর। এমনকি সিজারীয় টেক্সটের প্রণেতাও এই ফাঁদে পা দিয়েছেন। তিনি আলেক্সান্দ্রিয় পাঠ্যের তুলনামূলক বিশুদ্ধতাকে দূষিত করেছেন লোকপ্রিয় পশ্চিমা উৎস দিয়ে। অথচ পশ্চিমা টেক্সটের দুর্বলতা সম্পর্কে তিনি ভালো করেই জানতেন।

টিকাঃ
১. ibid. p. 12.
২. ibid. p. 13.
৩. Metzger. p. 215.
৪. Comfort, pp. 13-14.

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 সংশোধনের সময়-কাল

📄 সংশোধনের সময়-কাল


প্রাপ্ত সকল নথিপত্র নিরীক্ষণ করে তার মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যটি বেছে নেওয়া এবং সেটির ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে একটি সংশোধিত সংস্করণ তৈরির পুরো প্রক্রিয়াকে বলা হয় Recension (সংশোধন)।
প্রথম সংশোধনের তারিখ যত পরের হবে, পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে বিকৃতির সম্ভাবনা ততো বৃদ্ধি পাবে। কুইনস কলেজের অধ্যাপক জর্জ কিলপ্যাট্রিক বলেছেন, 'ইচ্ছাকৃত পরিবর্তনগুলোর অধিকাংশই ২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে (নিউ টেস্টামেন্টের) টেক্সটের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। এরপর টেক্সটের বিভিন্ন প্রকারকে লিপিকাররা গভীর অনুরক্তির সাথে ছড়িয়ে দেন।' [১] তৃতীয় শতাব্দীতে এসেও কোনো প্রকার সংশোধনের পক্ষে দৃঢ় প্রমাণ মেলে না। এ ব্যাপারে আধুনিক বিশেষজ্ঞগণ একমত।[২] এখান থেকে বোঝা যায়, অধিকাংশ ধর্মতাত্তিক বিকৃতি কোনো প্রকার সংশোধন প্রচেষ্টার আগেই টেক্সটের অংশ হয়ে গেছে। [৩] এসব পরিবর্তনের অনেকগুলোই নিউ টেস্টামেন্টে চূড়ান্ত জায়গা করে নেয়। ষোড়শ শতাব্দীতে এসেও বড় ধরনের ইচ্ছাকৃত বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। তা পরবর্তী সময়ে Comma Johanneum-এর ব্যাপারে আলোচনার সময় জানা যাবে।

টিকাঃ
১. Metzger, p. 177.
২. Comfort, p. 9.
৩. ibid. p. 15.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00