📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 সুসমাচারগুলো কি ঐশীপ্রেরণা?

📄 সুসমাচারগুলো কি ঐশীপ্রেরণা?


সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে কেউ অন্তর্দৃষ্টি বা অতিলৌকিক ক্ষমতা কিংবা প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত হওয়াকে ঐশীপ্রেরণা বলে। এটি সকল একেশ্বরবাদী ধর্মের একটি প্রধান ধারণা; কিন্তু খোদ নিউ টেস্টামেন্ট নিজেকে কোনো ধরনের ঐশীপ্রেরণা বলে দাবি করে না। একটি মাত্র শ্লোকে এ-সংক্রান্ত আবেদন পাওয়া যায়, 'সমস্ত শাস্ত্রলিপি ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং শিক্ষাদানের উপযোগী' [২]; কিন্তু এখানে শ্লোকটি মূলত ওল্ড টেস্টামেন্টকে নির্দেশ করছে। কারণ বর্তমানের মতো করে নিউ টেস্টামেন্ট তখনও সংকলিত হয়নি। [৩] এজন্য দ্বিতীয় শতাব্দীর লেখক জাস্টিন মার্টার ঐশীপ্রেরণার ব্যাপারটিকে মূল হিব্রু টেক্সটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলেছেন; বরং তা শুধু (হিব্রু
(থেকে করা) গ্রিক অনুবাদের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। [১]
খ্রিষ্টান লেখকরা অনেক সময় তাদের লেখায় 'ঐশীপ্রেরণা' পরিভাষাটিকে মসলা হিসেবে ব্যবহার করে। যেমন পি. ডাব্লিও. কমফোর্ট বলেছেন- 'কিছু ব্যক্তি... মৌখিক বর্ণনাগুলো প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে সুসমাচার লেখার জন্য ঐশীপ্রেরণা লাভ করেন।'[২] পরবর্তী সময়ে নিউ টেস্টামেন্টের প্রতিলিপি তৈরি করার সময় লিপিকারগণ 'কিছু বিষয়ের সমন্বয় সাধনের জন্য হয়তো নিজেদেরকে পবিত্র আত্মা কর্তৃক প্রেরণাপ্রাপ্ত বলে ভেবেছিলেন'।[৩]
কিন্তু অধ্যাপক কমফোর্টের এই বক্তব্যের সাথে সুসমাচারের অজ্ঞাতনামা লেখকবৃন্দ অতি অবশ্যই দ্বিমত করতেন। কারণ সুসমাচারগুলোর মধ্যে মার্ক লিখিত সুসমাচার সবচেয়ে পুরানো। পরবর্তীতে মথি এবং লুক নিজেদের লেখা সুসমাচারের উৎস হিসেবে ব্যবহারের জন্য এটি ঘেঁটে বের করেন। তারা মার্কের অনেক ঘটনা পরিবর্তন, সংক্ষেপণ এবং উপেক্ষা করেছেন। যদি এটিকে তারা অকাট্য সত্য বা ঐশীপ্রেরণাই ভাবতেন, তাহলে কস্মিনকালেও এমনটি করতেন না।[৪]
তাহলে দেখা গেল, নিউ টেস্টামেন্টকে ঐশীপ্রেরণা বলে দাবি করার মূলত কোনো ভিত্তি নেই। এখন এই পুস্তকগুলো খ্রিষ্টানরা আজ পর্যন্ত কীভাবে সামলেছে, সেটা দেখা যাক। পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে যথাবিহিত সম্মান এগুলো পেয়েছে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা করা জরুরি।

টিকাঃ
১. Helmut Koester, 'What Is -And Is Not-Inspired', Bible Review, vol. xi, no. 5, October 1995, p. 18.
২. ২ তিমথীয় ৩: ১৬
৩. "সমস্ত শাস্ত্রলিপি” বলতে এখানে বিশেষভাবে ওল্ড টেস্টামেন্টকে নির্দেশ করছে। কারণ তখনও পূর্ণাঙ্গ নিউ টেস্টামেন্টের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। পল যখন এগুলো লেখেছিলেন, তখন "যোহন লিখিত সুসমাচার” এবং “প্রত্যাদেশ”-এর মতো পুস্তকগুলো রচনাই হয়নি।' (BibleRef); ""সমস্ত শাস্ত্রলিপি” দ্বারা প্রকৃত অর্থে ওল্ড টেস্টামেন্টকে বোঝানো হয়েছে। নিউ টেস্টামেন্টের কোনো পুস্তকের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হবে না। শাস্ত্রলিপি হতে হলে তা লিখিত ছিল বলে দেখাতে হবে এবং অবশ্যই "শাস্ত্রলিপি" শিরোনামের অংশ হওয়া জরুরি... পল ওল্ড টেস্টামেন্টকে ঐশী প্রেরণা প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজে ঐশীপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলে যদি প্রমাণ করা যায়, তাহলে ওল্ড টেস্টামেন্টের ক্ষেত্রেও ঐশীপ্রেরণার ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।' (Barnes New Testament Notes) - অনুবাদক
৪. P.W. Comfort, Early Manuscripts & Modern Translations of the New Testament, Baker Books, 1990, p. 3. Cited thereafter as Comfort.
৫. ibid, p. 6.
৬. ibid, p. 6.
৭. H. Koester, 'What Is- And Is Not-Inspired', Bible Review, vol. xi, no. 5, Oct. 1995, pp. 18.48.

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 ইরাসমাস বাইবেল (The Erasmas Bible) এবং কমা জোহানিয়াম

📄 ইরাসমাস বাইবেল (The Erasmas Bible) এবং কমা জোহানিয়াম


১৫১৬ সালে ইরাসমাস তার প্রথম গ্রিক নিউ টেস্টামেন্ট প্রকাশ করেন। এর তিন
বছর পর আসে দ্বিতীয় সংস্করণ। এর ১ যোহন ৫: ৭ শ্লোকে ত্রিত্ববাদী বিবৃতি না থাকায় এই বাইবেলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হয়; কিন্তু নিজের দেখা কোনো গ্রিক পান্ডুলিপিতে ত্রিত্ববাদী শব্দগুলো পাননি বলে বার বার দাবি করেন তিনি। তারপরও প্রবল চাপের মুখে ভবিষ্যতে কোনো গ্রিক পাণ্ডুলিপিতে যোহনীয় কমা[১] (Comma Johanneum) পেলে তা যুক্ত করে দেবেন বলে স্বীকার করেন। এর কিছুকাল পরেই উক্ত ত্রিত্ববাদী শ্লোকবিশিষ্ট একটি গ্রিক পাণ্ডুলিপি তার কাছে পেশ করা হয়। তবে ১৫২০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে অক্সফোর্ডের জনৈক ফ্রানসিস্কান ফ্রায়ার বিরচিত সেই পান্ডুলিপিটি জাল হওয়ার সম্ভাবনা অতি প্রবল। নিজের কথা রাখতে ইরাসমাস তৃতীয় সংস্করণে উক্ত শ্লোকটি যুক্ত করেন বটে; কিন্তু পাণ্ডুলিপিটির ওপর জালিয়াতির সন্দেহ পোষণ করে তিনি একটি দীর্ঘ পাদটীকা লেখে দেন।[২]
ইরাসমাসের পর কমা জোহানিয়াম সম্বলিত মাত্র তিনটি গ্রিক পাণ্ডুলিপির সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনোটি দ্বাদশ শতাব্দীর হলেও সেখানে কমা জোহানিয়াম লেখা হয়েছে মার্জিনে, সেটাও আবার সপ্তদশ শতাব্দীর কোনো লেখকের হাতে।[৩] ১ যোহনের এই ত্রিত্ববাদী বিবৃতি ধর্মতত্ত্বের আলাপে খুবই গুরুত্ব বহন করে। ইতিহাসের এত পরের দিকে (রেনেসাঁ যুগে) এসেও গ্রিক পাণ্ডুলিপিতে নতুন সংযোজনের ঘটনা থেকে বোঝা যায়-নিউ টেস্টামেন্টের টেক্সট কতটা পরিবর্তনশীল ছিল।
শেষপর্যন্ত এসব জাল শ্লোকের কী হলো? ১৬১১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত Authorised King James Version-এর হাত ধরে এগুলো ইংরেজি ভাষায় প্রবেশ করে। ১৮৮১ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত জনপ্রিয় এই অনুবাদের কোনো পর্যালোচনামূলক সংশোধন প্রকাশ হয়নি। আমার লাইব্রেরিতে থাকা সংস্করণটিতে (Authorised Version © 1983) এখনো শ্লোকটি আছে-
6. This is he that came by water and blood, even Jesus Christ; not by water only, but by water and blood. And it is the Spirit that beareth witness, because the Spirit is truth.
7. For there are three that bear record in heaven, the Father, the Word, and the Holy Ghost: and these three are one.
8. And there are three that bear witness in earth, the Spirit, and the water, and the blood: and these three agree in one.[2]
কিছু ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের Revised Standard Version (RSV) বাইবেল থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দ বাদ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এটি হলো American version (1881) এর পুনঃশোধিত রূপ যেটি কিনা আবার ১৬১১ খ্রিষ্টাব্দের King James Version (KJV) বাইবেলেরই একটি সংস্করণ। তাহলে শ্লোকগুলো দেখা যাক—
6. This is he who came by water and blood, Jesus Christ, not with the water only but with the water and the blood.
7. And the Spirit is the witness, because the Spirit is the truth.
8. There are three witnesses, the Spirit, the water, and the blood; and these three agree.[2]
এসব বিভিন্ন প্রকার সংস্করণের সঠিক কালানুক্রম বেশ বিভ্রান্তিকর। বাইবেলের ইংরেজি অনুবাদের জন্য কমপক্ষে তিন শতাব্দী অপেক্ষা করতে হয়েছে। এর বেশিও হতে পারে। সন্দেহজনক শ্লোকগুলো বাদ দেওয়ার আগেই তা ইংরেজিতে প্রবেশ করে। এমনকি ষোড়শ শতাব্দীতে এসেও জালিয়াতির এই ধারা অব্যাহত ছিল।

টিকাঃ
১. Comma Johanneum হলো ১ যোহনের ৫ম অধ্যায়ের ৭-৮ নং শ্লোক সংশ্লিষ্ট পাঠ্যগত রূপভেদ। সাধারণভাবে Comma অর্থ অংশ এবং Johanneum অর্থ যোহন সংশ্লিষ্ট। Comma Johanneum বলতে ১ যোহনের উক্ত শ্লোকগুলোর সাথে সংযোজিত অংশকে বোঝায়। Comma বা সংযোজিত অংশ ব্যতীত শ্লোকগুলোর অর্থ থাকে, 'বস্তুত তিনের সাক্ষ্য দেওয়া হইতেছে, আত্মা ও জল ও রক্ত, এবং সেই তিনের সাক্ষ্য একই।' আর তা যুক্ত করার পর দাঁড়ায়, 'বস্তুত স্বর্গে তিনজন সাক্ষ্য বহন করেন, পিতা, বাক্য ও পবিত্র আত্মা, আর এই তিনজন এক। আর পৃথিবীতে তিন সাক্ষ্য বহনকারী হলো-আত্মা, জল ও রক্ত। এই তিন অভিন্নমত পোষণ করে।' উল্লেখ্য, বাইবেলের বাংলা সমকালীন সংস্করণেও (BCV) বর্ণিত হয়েছে, 'এগুলো চতুর্দশ শতাব্দীর পূর্ববর্তী কোনো গ্রিক সংস্করণে পাওয়া যায় না।' (আরও জানতে, https:// www.gotquestions.org/Comma-Johanneum.html)-অনুবাদক
২. Metzger, pp. 101-2
৩. ibid. p. 102.
৪. 1 John 5:6-8.
৫. RSV, Thomas Nelson & Sons, 1952, 1 John 5:6-8.

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 সমকালীন টেক্সট বিকৃতি

📄 সমকালীন টেক্সট বিকৃতি


নিউ টেস্টামেন্টের গ্রিক পাণ্ডুলিপির বিকৃতি প্রসঙ্গে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। কেউ কেউ বলতে পারেন, ১৮৮১ সালে Revised King James Version প্রকাশের মাধ্যমে আসলে পাঠ্য বিশুদ্ধ করার যাত্রা শুরু হয়েছে। মূলধারার প্রতিটি নতুন সংস্করণের উদ্দেশ্য হলো নিরীক্ষণের মাধ্যমে বাইবেলকে পর্যায়ক্রমে ত্রুটিমুক্ত
করা। অর্থাৎ ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তন সাধনের মাধ্যমে আসলে দূরত্ব বৃদ্ধি করা নয়; বরং সংস্করণগুলো পর্যায়ক্রমে মূল টেক্সটের নিকটবর্তী হচ্ছে; কিন্তু এই দাবি সর্বজনীন সত্য নয়।
প্রতিটি অনুবাদই নির্দিষ্ট স্থান এবং কালের প্রতিনিধিত্ব করে। চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলো দ্বারা অনুবাদকের চিন্তা প্রভাবিত থাকে। আর স্বাভাবিকভাবে চিন্তার প্রতিফলনও এসে পড়ে অনুবাদকর্মের ওপর। পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যালোচনামূলকভাবে যাচাই করা হোক বা না হোক, শেষমেশ মূল টেক্সট থেকে বিচ্যুতির মাত্রা কেবল বাড়ে।
'The Contemporary English Version: Inaccurate Translation Tries to Soften Anti-Judaic Sentiment' শীর্ষক প্রবন্ধে জোসেফ ব্লেনকিনসপ এরকম একটি উদাহরণই সামনে এনেছেন:
গতবছর আমেরিকান বাইবেল সোসাইটি থেকে The Contemporary English Version of the Bible (CEV) প্রকাশিত হয়... আমেরিকান ইন্টারফেইথ ইন্সটিউট প্রত্যক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতাও করেছে... এটিই প্রথম বাইবেল, যেখানে ইহুদিধর্মের প্রতি বিরূপ কোনো কিছু নেই। নিউ টেস্টামেন্টে ইহুদিদের বিপক্ষে যাওয়া ইঙ্গিতগুলো ভিন্ন ব্যাখ্যা, পুনঃঅনুবাদ কিংবা কেবল বাদ দিয়ে তারা এটি দাঁড় করিয়েছে।[১]
তিনি আরও অনেক উদাহরণ দেখিয়েছেন যেখানে 'the Jews' (ইহুদি) শব্দটির জায়গায় 'the people' (জনগণ); 'a great crowd of the Jews' (ইহুদিদের জমায়েত) এর স্থলে 'a lot of people' (প্রচুর মানুষ); 'Woe to you, scribes and Pharisees, hypocrites!'[২] (লিপিকার, ফারিসি, ভণ্ডদের প্রতি অভিশাপ!) এর পরিবর্তে 'You Pharisees and teachers of the Law of Moses are in for trouble! You're nothing but show-offs' (মোশির বিধান প্রচারক ফারিসিদের জন্য বিপদ! তোমরা কেবলই দন্তপ্রিয়) লেখা হয়েছে। এরকম আরও অনেক উদাহরণ আছে। তিনি মন্তব্য করেন, অনুবাদকের আবশ্যিক লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বস্ততার সাথে পাঠ্যের অনুসরণ করা। পাঠ্যের গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে দিয়ে নিজের পছন্দমতো কথা বলানোর কোনো অবকাশ নেই।[৩]
কিন্তু CEV-এর প্রধান সম্পাদক বারক্লে নিউম্যান জোর গলায় বলেছেন, তারা গ্রিক টেক্সটের উদ্দেশ্যের প্রতি সৎ থেকেছেন।[১]
'নিউ টেস্টামেন্টের অধিকাংশ জায়গায় "ইহুদি” বলতে মূলত "অন্য ইহুদিরা” বা "কিছু ইহুদি” বা “কতিপয় ইহুদি” বা “ইহুদি নেতা” বা “কিছু ইহুদি নেতা” বা "কতিপয় ইহুদি নেতা” বুঝিয়েছে। কখনোই তা পুরো ইহুদি-জাতিকে নির্দেশ করেনি... যিশুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল রোমান গভর্নর পন্টিয়াস পাইলেট! আর যারা যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করেছিল, তারা রোমান সৈন্য ছিল।' [২]
CEV-তে পরিবর্তন আনার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিউম্যান আরও বলেছেন—যিশুর বার্তার উদ্দেশ্য ছিল ইহুদি ও অইহুদিদের ঐক্যবদ্ধ করা। ইহুদি-বিরোধী মনোভাব তৈরি করা নয়। নিউ টেস্টামেন্টের নির্ভরযোগ্য অনুবাদের জন্য এমনভাবে অনুসন্ধান করতে হবে যেন 'মিথ্যা ধ্যান-ধারণাগুলো কমিয়ে আনা যায় এবং ঘৃণা থেকে মুক্তিলাভ হয়।' [৩] উক্ত উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য CEV রচনাকারী গোষ্ঠী উলটো নিজেরাই কিছু মিথ্যে ধ্যানধারণা তৈরি করে বসে আছে ইসরায়েলিদের ব্যাপারে।
উদাহরণ দেখা যাক:
২ বংশাবলি ২১ : ১১-১৩ শ্লোকগুলোর King James Version (KJV)-এর ইংরেজি অনুবাদ হলো—
11. Moreover (Jehoram) made high places in the mountains of Judah, and caused the inhabitants of Jerusalem to commit fornication, and compelled Judah thereto.
12. And there came a writing to him from Elijah the prophet, saying, Thus saith the LORD God of David thy father, Because
thou hast not walked in the ways of Jehoshaphat thy father, nor in the ways of Asa king of Judah,
13. But hast walked in the way of the kings of Israel, and hast made Judah and the inhabitants of Jerusalem to go a whoring, like to the whoredoms of the house of Ahab, and also hast slain thy brethren of thy father's house, which were better than thyself. [3]
অর্থাৎ 'তিনি ইয়াহুদার অনেক পর্বতে উঁচু জায়গা তৈরি করলেন এবং জেরুসালেমের অধিবাসীদের ব্যভিচার করালেন ও ইয়াহুদাকে বিপথে চালালেন। পরে তার কাছে এলিয় ভাববাদীর কাছ থেকে একটা লিপি আসল, তোমার বাবা দাউদের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই কথা বলেন—তুমি তোমার নিজের বাবা যিহোশাফটের পথে ও ইয়াহুদার রাজা আসা-এর পথে চলনি; কিন্তু ইসরায়েলের রাজাদের পথে চলেছ এবং আহাবের বংশের কাজ অনুসারে যিহুদা ও জেরুসালেমের লোকেদেরকে ব্যভিচার করিয়েছ; এছাড়াও তুমি তোমার ভাইদের, তোমার নিজের পরিবারের সেই লোকদের হত্যা করেছ, যারা তোমার চেয়ে ভালো ছিল।' [২]
RSV এবং New World Translation[৩] উভয় সংস্করণেই মোটামুটি কাছাকাছি অর্থ আছে। প্রথমটিতে 'unfaithfulness' এবং দ্বিতীয়টিতে 'immoral intercourse' ব্যবহার করা হয়েছে; কিন্তু CEV এর অনুবাদ খুবই অন্যরকম লেগেছে আমার কাছে—
11. Jehoram even built local shrines in the hills of Judah and let the people sin against the Lord by worshiping foreign gods.
12. Oneday, Jehoram received a letter from Elijahtheprophetthatsaid: I have a message for you from the Lord God your ancestor David worshiped. He knows that you have not followed the example of Jehoshaphat your father or Asa your grandfather.
13. Instead you have acted like those sinful kings of Israel and have encouraged the people of Judah to stop worshiping the Lord, just as Ahab and his descendants did. You even murdered your own brothers, who were better men than you.
অর্থাৎ ‘তিনি ইয়াহুদার পাহাড়গুলোর উপরে পূজার উঁচু স্থান তৈরি করালেন এবং তার জন্য জেরুসালেমের লোকেরা প্রতিমা-পূজায় নিজেদের বিক্রিয়ে দিল আর ইয়াহুদার লোকেরা বিপথে চলে গেল। তখন জিহোরাম নবি এলিয়ের কাছ থেকে একটি চিঠি পেলেন। তাতে লেখা ছিল—আপনার পূর্বপুরুষ দাউদের ঈশ্বর সদাপ্রভু বলছেন, তুমি তোমার বাবা যিহোশাফট অথবা যিহুদার রাজা আসার পথে চলনি, কিন্তু ইসরায়েলের রাজাদের পথে চলেছ। তোমার জন্য আহাবের বংশের লোকদের মত ইয়াহুদা ও জেরুসালেমের লোকেরা প্রতিমা পূজায় নিজেদের বিক্রিয়ে দিয়েছে। এছাড়া তুমি তোমার নিজের ভাইদের মেরে ফেলেছ, যারা ছিল তোমার রক্ত-মাংস এবং তোমার চেয়েও ভালো।’
ব্যভিচার এবং বেশ্যাবৃত্তি-সংক্রান্ত তথ্য পুরোপুরি ভিত্তিহীনভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন বিভাজিত রাজ্যের মানুষের নৈতিকতার প্রতি নেতিবাচক ধারণা জন্মানো থেকে পাঠককে বাঁচিয়ে রাখা হলো উদ্দেশ্য।
KJV থেকে যিশাইয় ৩৬-এর দুটি শ্লোক—
11. Then said Eliakim and Shebna and Joah unto Rabshakeh, Speak, I pray thee, unto thy servants in the Syrian language; for we understand it: and speak not to us in the Jews’ language, in the ears of the people that are on the wall.
13. Then Rabshakeh stood, and cried with a loud voice in the Jews’ language, and said, Hear ye the words of the great king, the king of Assyria.
অনুবাদ—
১১. তখন ইলিয়াকিম, শেবনা ও যোয়াহ তাকে বললেন, দয়া করে আমাদের সঙ্গে বিছুদি ভাষায় নয়, আরামীয় ভাষাতেই কথা বলুন, আমরা বুঝতে পারব।
১৩. তারপর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে যিহুদি ভাষায় বলতে আরম্ভ করলেন, শোনো তোমরা, আসিরিয়ার সম্রাট তোমাদের কী বলেছেন।’
'Jew's language' (or 'the language of Canaan') অর্থাৎ যিহুদি বা ইহুদিদের ভাষা (বা কেনানের ভাষা) প্রসঙ্গে যিশাইয় ১৯: ১৮, ২ রাজাবলি ১৮ : ২৬, ২ বংশাবলি ৩২ : ১৮ শ্লোকগুলোতে উল্লেখ রয়েছে; কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই ইহুদিদের ভাষা বলতে হিব্রুকে নির্দিষ্ট করা হয়নি। ব্যাপারটি যে কাকতালীয় নয়, সেটিও বোধগম্য।[১]
NWT এবং RSV বাইবেলেও প্রায় একই প্রজাতির শব্দ নির্বাচন করেছে; কিন্তু CEV সংস্করণের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই হিব্রু ভাষার কথা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা ঠিক যে, বাইবেলের একটি সহজ পাঠের জন্যই এই সংস্করণ, পাঠ্যের গবেষণার জন্য নয়; কিন্তু সেটি করতে গিয়ে কোনো প্রকার ভুল অনুবাদ এবং অনুমান প্রশ্রয় দেওয়ার অধিকার তা রাখে না। বিশেষ করে যেখানে সঠিক পরিভাষা কোনটি-তা সুস্পষ্ট।
যোহনের সুসমাচারে রয়েছে, 'These words spake his parents, because they feared the Jews: for the Jews had agreed already, that if any man did confess that he was Christ, he should be put out of the synagogue.'[২]
অর্থাৎ 'তার পিতামাতা ইহুদিদের ভয়ে একথা বলল। কারণ ইহুদিরা ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল-যিশুকে যে খ্রিষ্ট বলে স্বীকার করবে, সমাজভবন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে।'
এটি RSV সংস্করণের অংশ; কিন্তু CEV সংস্করণে আছে-
22-23 The man's parents said this because they were afraid of the Jewish leaders. The leaders had already agreed that no one was to have anything to do with anyone who said Jesus was the Messiah.
অর্থাৎ 'তার বাবা-মা ইহুদি নেতৃবৃন্দের ভয়ে এভাবে উত্তর দিল। নেতারা ঠিক করেছিলেন, যদি কেউ যিশুকে খ্রিষ্ট বলে স্বীকার করে তাহলে তার সাথে আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না।'
শ্লোকের 'put out of the synagogue' অংশটি উপেক্ষা করে অবশ্যই অনুবাদক এখানে একটি মিথ্যা চিত্রকল্প প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। শুনে মনে হয় যেন নেতারা
কিঞ্চিৎ বিরক্ত এবং কঠিন কিছু কথা বলেই ছেড়ে দেবেন।
বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের আগের অংশগুলো রচনা করতে গিয়ে কাকতালীয়ভাবে এ-সমস্ত উদাহরণ নজরে এসেছে। কেউ যদি স্বেচ্ছায় সময় নিয়ে অনুসন্ধান করেন, তাহলে অনুবাদকদের এহেন অসততার আরও অসংখ্য উদাহরণ খুঁজে পাবেন। CEV তো সাম্প্রতিক উদাহরণ। শুধু ইংরেজিতেই চল্লিশের বেশি অনুবাদ প্রকাশিত অবস্থায় আছে। আবার প্রতিটি অনুবাদের মধ্যেই কিছু না কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যেমন : Revised Standard Version-এর প্রাথমিক সংস্করণগুলোকে ইভাঞ্জেলিস্টরা অতিরিক্ত উদার মনে করত; the New Testament in Modern English এর মধ্যে অস্বাভাবিক শব্দের ব্যবহার লক্ষ্যণীয়; Living Bible এ মূলপাঠ্য ও ব্যাখ্যার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। এমন শব্দ ঢোকানো হয়েছে, যা নির্দিষ্ট একটি মৌলবাদী দৃষ্টিকোণকে সমর্থন করে।
অধিকাংশ বাইবেলেই রয়েছে যিশু সংক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন মত: 'এক কুমারী-কন্যা গর্ভবতী হবে' এর স্থলে 'এক তরুণী সন্তান-সম্ভবা হবেন' (যিশাইয় ৭: ১৪), 'এক ও অদ্বিতীয় পুত্র' এর জায়গায় 'একমাত্র জন্মজাত' (যোহন ১: ১৪-১৮), 'যিশু খ্রিষ্ট' এর স্থলে 'ঈশ্বরের পুত্র যিশু খ্রিষ্ট' (মার্ক ১: ১) প্রভৃতি।
এই বাইবেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় মতবাদ এবং অর্থগত পার্থক্য। অসংখ্য সংযোজন, বিয়োজন বা প্রতিস্থাপনের এই হলো ফলাফল। এছাড়া সুবিধা অনুযায়ী পাঠ্যের রূপভেদ বেছে নেওয়ার বিষয়টি তো বাদই দিলাম। সবকিছু মিলিয়ে পুরো ব্যাপারটিকে কেবল মূল গ্রন্থের বিকৃতি হিসেবে আখ্যা ছাড়া আর কোনো রাস্তা খোলা থাকে না।

টিকাঃ
১. Bible Review, vol. xii, no. 5, Oct. 1996, p. 42.
২. Revised Standard Version, Matthew 23.
৩. Bible Review, vol. xii, no. 5, Oct. 1996, p. 42.
৪. B.M. Newman, 'CEV's Chief Translator: We Were Faithful to the Intention of the Text', Bible Review, vol. xii, no. 5, Oct. 1996, p. 43.
৫. ibid, p. 43. নিউম্যানের মতের ঠিক বিপরীত মেরুতে তালমুদের অবস্থান। ইসরায়েল শাহাক লিখেছেন, 'মূর্তিপূজা, অন্য ইহুদিদের মূর্তিপূজায় উসকে দেওয়া ও ধর্মগুরুদের ক্রোধ উদ্রেকের অপরাধে যথাযথ ধর্মীয় আদালতের তত্ত্বাবধানে যিশু মৃত্যুদণ্ড পান। এটা তালমুদের বয়ান। যত সনাতন ইহুদি উৎসে তার মৃত্যুদণ্ডের কথা বলা আছে, সবকটাই এর দায়ভার নিতে পেরে সন্তুষ্ট। তালমুদীয় বর্ণনায় রোমানদের উল্লেখই নেই।' (Jewish History, Jewish Religion, pp. 97-98.) আর যিশুর পরিণতির ব্যাপারে তালমুদ বলে, 'নরকে তার শাস্তি ফুটন্ত মলমূত্রে ডুবতে থাকা।' (ibid, pp. 20-21)
৬. Bible Review, vol. xii, no. 5, Oct. 1996, p. 43.
৭. 2 Chronicles 21: 11-13.
৮. ২ বংশাবলি ২১: ১১-১৩
৯. New World Translation of the Holy Scriptures, Watchtower Bible and Tract Society of New York, Inc., 1984.
১০. অধ্যায় ১৫.২.i-ii দ্রষ্টব্য
১১. John 9:22.

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 অধ্যায় শেষে

📄 অধ্যায় শেষে


উদাহরণ দিতে গেলে তালিকা কেবল বাড়তেই থাকবে। তবে প্রতিপাদ্য বিষয়টি
পরিক্ষার। যিশুর জীবনী থেকে প্রাপ্ত বলে দাবি করা অনেক ধ্যানধারণার পক্ষেই সংশোধিত আধুনিক সংস্করণগুলোতে কোনো প্রকার সমর্থন নেই। অথচ এগুলো খ্রিস্টান মতাদর্শের একেবারে মৌলিক ভিত্তি। KIV থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং সুপ্রচলিত বহু শ্লোক বাদ দেওয়ার পর নবসৃষ্ট এই খ্রিষ্টধর্মের ভিত্তির কী বাকি থাকে? এতে করে ধর্মতত্তীয় দিক থেকে তা যথেষ্ট দুর্বল প্রতিপন্ন হয়েছে। আজকের চার্চ তাহলে কোন মূলনীতি আর মতবাদ নিঃসংশয়ভাবে অনুসরণ করবে?
আগেই আমরা দেখেছি, ওল্ড টেস্টামেন্ট সংরক্ষণের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল না। তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ছিল সম্পূর্ণভাবে স্রোতের প্রতিকূলে। অধিকাংশ ইহুদি শাসক ব্যাপকভাবে বহুঈশ্বরবাদের সমর্থক ছিলেন। এর ওপর পাঠ্য হারিয়ে গেছে বারংবার। চূড়ান্তভাবে খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে আবার তা খুঁজে পাওয়ার পরও সেটি ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে।
এরপর নিউ টেস্টামেন্টের সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও আমরা প্রায় একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখি। যিশুখ্রিষ্ট হলেন খ্রিষ্টান ধর্মের প্রাণভোমরা। অথচ প্রাথমিক উৎসগুলো থেকে যিশুর অস্তিত্বকে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণ করা অসম্ভব। তার প্রচারিত শিক্ষার কিছু অংশ Q-এ ঠাঁই পেয়েছিল বটে। তবে কয়েক দশকের মধ্যেই তাতে বিভিন্ন প্রকার সংযোজন ঘটে। খ্রিষ্টান সমাজে যিশুকে ঘিরে বেড়ে ওঠা বিভিন্ন কল্পকথার ভিড়ে Q শেষমেশ হারিয়েও যায়।
এরপর প্রথম শতাব্দীর শেষদিকে কিছু জীবনী গ্রন্থ পাওয়া যায়, যেগুলোর লেখক আবার অজ্ঞাতনামা। যিশুর জীবন সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষ জ্ঞান তাদের ছিল না, তথ্যের উৎসও তারা উল্লেখ করেননি।
এরপর পরস্পরবিরোধী অনেকগুলো খ্রিষ্টীয় মতধারা গড়ে ওঠে। যিশু সম্পর্কে নিজস্ব মতবাদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রয়োজন মতো শ্লোক বিকৃত করতে পিছপা হয়নি কেউই। পাঠ্যের রকমফের তৈরি হয়, বিচ্যুতি ঘটে এবং নতুন পাঠ্যের সৃষ্টি হয় ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পাঠ্যগত বিশ্লেষণের ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক বাদ পড়ে যায়। আজও প্রতিটি বাইবেল প্রয়োজন মতো রূপভেদ ও শব্দ চয়ন করে যিশুর আরেকটু ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করতে পারে।
যিশুর কিছু শিক্ষা বাইবেলে বর্তমান আছে বলে যারা দাবি করেন, তারা মূল বিষয়টি বোধহয় এখনো ধরতে পারেননি। কথাগুলো অক্ষররূপে উপস্থিত, কিন্তু চেতনায় অনুপস্থিত। ওই সকল দয়া, ভালোবাসা, দান-সংক্রান্ত নির্দেশনা কী কাজে আসবে, যেখানে পুরো ধর্মটিই যিশুর মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে? Q-এর শিক্ষা
থেকে সরে গিয়ে তারা এখন যিশুকে ঈশ্বরের পুত্র ভেবে উপাসনা করে। মানবজাতির পাপের বোঝা নিয়ে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছেন বলে বিশ্বাস করলেই কেবল নাজাত পাওয়া যাবে বলে ধারণা রাখে তারা।
আলোচনার ভেলায় চড়ে আমরা ইসনাদ, পাঠসনদ, সাক্ষীর নিয়ম, প্রত্যক্ষ সান্নিধ্য, একঝাঁক হাফিজ, উসমানি মুসহাফ এবং ১৪০০ বছর দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশুদ্ধ থাকা সেই কিতাবের আলাপ থেকে বহুদূর চলে এসেছি। যেন একদিকে মধ্যগগনের জ্বলজ্বলে সূর্য, অন্যদিকে রাতের গহীনতম অন্ধকার। এই পার্থক্য কিছু বাইবেল বিশারদের চক্ষুশূল। সর্বশক্তিমান স্রষ্টা অন্য কোনো গ্রন্থকে কালের গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া থেকে সযত্নে রক্ষা করেছেন, এটা তাদের কাছে এক অসম্ভব চিন্তা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00