📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 হারিয়ে যাওয়া ইঞ্জিল (Q)

📄 হারিয়ে যাওয়া ইঞ্জিল (Q)


বর্তমান সুসমাচারগুলোর আগে যিশুর একদম প্রথম অনুসারীবৃন্দের কাছে নিজস্ব লিখিত পুস্তিকা ছিল। যিশুর জীবন নিয়ে সেখানে কোনো নাটুকেপনা ছিল না। না ছিল নিজেকে উৎসর্গ এবং মুক্তিপ্রাপ্তি-সংক্রান্ত কোনো বর্ণনা। সম্পূর্ণভাবে যিশুর শিক্ষা, তার প্রচার করা চিন্তা-চেতনা, আদব-আচরণ এবং সামাজিক সংস্কারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে তাতে।[২] সেগুলোকে যিশুর প্রকৃত সুসমাচার (Q) নামে অভিহিত করা হয়; কিন্তু তৎকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মতো Q-এর পাঠ্যও স্থির থাকেনি। প্রথম শতাব্দীর ভয়াবহ অবস্থা পার করা খ্রিষ্টান জাতি তাই Q-এর টেক্সটে বিভিন্ন স্তরের সংযোজন ঘটায়। অথচ প্রাথমিক স্তর বা যিশুর মূল
শিক্ষা ছিল চমৎকার-সহজ, সুন্দর কথা। তাতে নতুন কোনো ধর্মের প্রতি আহ্বান কিংবা নিজেকে ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে উপস্থাপনের কোনো ইঙ্গিত নেই। [১]
পরের দফা বা দ্বিতীয় স্তরে টেক্সটের বাচনভঙ্গি পালটে গেল। এগুলো প্রত্যাখ্যানকারীদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। [২] তবে আমার মতে Q-এর তৃতীয় দফা বা চূড়ান্ত পরিবর্তনটি সবচেয়ে বিস্ময়কর। প্রথম ইহুদি-বিদ্রোহ (৬৬-৭০ খ্রিষ্টাব্দ) অর্থাৎ রোমান বাহিনী কর্তৃক দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংসের সময় খ্রিষ্টানরা এই পরিবর্তন ঘটায়।[৩] যিশুকে এসময়ে রাসুল থেকে আল্লাহর পুত্র হিসেবে সমাসীন করা হয়। তাকে উপস্থাপন করা হয় পিতার রাজ্যের উত্তরাধিকারী এবং সকল প্রলোভনের বিরুদ্ধে সফল সংগ্রামী চরিত্র হিসেবে। [৪]
দেখা গেল, যিশু-সংক্রান্ত অসংখ্য লোককথায় জর্জরিত এই গ্রন্থটিও বিকৃতি থেকে রক্ষা পায়নি। তথাপি এই তৃতীয় পর্যায়ে এসেও খোদ যিশুর উপাসনা, তাকে ঐশ্বরিক মনে করা বা প্রার্থনা-পার্বন দিয়ে তার স্মৃতি জিইয়ে রাখা-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশ পাওয়া যায় না। আন্দোলনের স্বার্থে ক্রুশারোহণের কথাও যুক্ত হয়নি তখনও, মানবজাতির হয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত আদায়ের কেচ্ছা-কাহিনি তো দূরের কথা।[৫]
এই Q-এর সাহায্য নিয়েই প্রথম শতাব্দীর শেষভাগে মার্ক, মথি এবং লুক সুসমাচার রচনা করেন; কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যার্জনের জন্য প্রত্যেকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের মতো করে পাঠ্যে পরিবর্তন আনেন।[৬] যা-ই হোক, ফলাফলস্বরূপ Q-এর স্বকীয়তা শীঘ্রই অবলুপ্ত হয়।[৭] সেই জায়গা দখল করে নেয় যিশুর জীবন-সংক্রান্ত নাটকীয় বর্ণনাসম্পন্ন পাঠ্য। এসব পাঠ্য প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকেও সরে যায়। ফলে যিশুকে ঘিরে প্রচলিত জল্পনা-কল্পনা এবং পুরাকথা জায়গা করে নেয়, যা আজ পর্যন্ত যত ধোঁয়াশার কারণ।

টিকাঃ
১. ibid, pp. 73-80.
২. ibid, p. 131.
৩. ibid. p. 172.
৪. ibid, pp. 82, 89, 173-4.
৫. ibid, pp. 4-5.
৬. ibid, p. 177.
৭. ibid. pp. 1-2. শুধু গত শতাব্দীর পাঠ্য-পর্যালোচনামূলক বিশ্লেষণের ফলেই অবশেষে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ধীরে ধীরে পুনর্গঠিত হচ্ছে।

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 প্রচলিত সুসমাচার চতুষ্টয়ের লেখক পরিচিতি

📄 প্রচলিত সুসমাচার চতুষ্টয়ের লেখক পরিচিতি


Q-এর উপস্থিতি-অনুপস্থিতি নির্বিশেষে সকল কালেই যিশু-সংক্রান্ত নানাপ্রকার লোককথা প্রচলিত ছিল। এগুলোর ভিত্তিতে অসংখ্য টেক্সট রচনা করা হয়। এর মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করে মাত্র চারটি : মথি, মার্ক, লুক এবং যোহন লিখিত সুসমাচার। তবে এগুলোর লিপিকারদের পরিচয় জানা যায় না। স্যার এডুইন হস্কিন্স এবং নোয়েল ডেভির ভাষায়-
কিছু নজির পাওয়া গেলেও সুসমাচারগুলোর লেখকদের নাম জানা কঠিন। আর এর চেয়েও কঠিন-সেগুলোর সময়-কাল নির্ধারণ করা। কারণ এ সম্পর্কিত কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। কাজেই সহিহ-শুদ্ধ তারিখ নিরূপণ করা একেবারেই অসম্ভব। এগুলোর সম্ভাব্য রচনাকাল অবশ্যই ১০০ খ্রিষ্টাব্দের আশেপাশে হবে।[১]
আদি চার্চের প্রভাবে তৈরি সুসমাচারগুলো তৎকালীন মৌখিক বর্ণনাগুলোরই প্রতিনিধিত্ব করে। তাই এর রচনাকাল এবং লেখক-সংক্রান্ত বিভ্রান্তি রয়েই যাবে। হস্কিন্স এবং ডেভি বলতে চান-লেখক ও তারিখ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও এই নথিগুলোর নিজস্ব অ্যাকাডেমিক গুরুত্ব হ্রাস পায় না।[২] কিন্তু (তাতে প্রশ্ন ওঠে) এ-সব নাম-পরিচয়হীন কর্মের বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা কী? কে বা কারা লিখেছে-তা নিশ্চিত হওয়া যদি গুরুত্বপূর্ণ না হয়, তাহলে টেক্সটের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করব কী করে? অবশ্যই এটি ধর্মীয় মূলনীতির ক্ষেত্রে অসম্ভবরকম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। প্যারিস ক্যাথলিক ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ফাদার ক্যানেনগিজারের কিছু কথা বুকাইলি তার গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন-
যিশুর ব্যাপারে সুসমাচারের বর্ণনাগুলো 'আক্ষরিক অর্থে নেওয়া উচিত হবে না' বলে (ফাদার) সাবধান করেছেন। কারণ সেগুলো 'নির্দিষ্ট কোনো উপলক্ষ্য' কিংবা 'জবাব দেওয়ার জন্য' তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর লেখকরা 'যিশু সম্পর্কে নিজেদের সমাজে প্রচলিত বয়ান লিপিবদ্ধ করেছেন।' এদিকে খ্রিষ্টের পুনর্জীবিত হওয়া সম্পর্কে... তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সুসমাচারগুলোর লেখকদের কেউই নিজেকে প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে দাবি করতে পারেন না। একই কথা যিশুর সাধারণ
জীবন (রচনার) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে তিনি মত ব্যক্ত করেছেন। কারণ শিষ্যত্বের শুরু থেকে যিশুর পার্থিব জীবনের শেষ পর্যন্ত সাথে ছিলেন তার শিষ্যরা। কোনো সুসমাচারেই যিহূদা বাদে আর কোনো অনুসারী যিশুকে ত্যাগ করার কথা পাওয়া যায় না। (অর্থাৎ জীবনের শেষপর্যন্ত একমাত্র যিশুর অনুসারীরাই প্রত্যক্ষভাবে তার সাথে ছিলেন।)
দেখা গেল, পুস্তকগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই, বিশুদ্ধতাও প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ এগুলোকেই গির্জা থেকে মর্যাদা প্রদান করা হয়। প্রচলিত মৌখিক বর্ণনাগুলোর বৈধতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ওই সকল কাজ ঈশ্বর কর্তৃক অনুপ্রাণিত বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।

টিকাঃ
১. Sir E. Hoskyns and N. Davey, The Riddle of the New Testament, Faber & Faber, London, 1963, p. 196.
২. ibid. p. 201.
৩. Maurice Bucaille, The Bible, The Quran and Science, pp. 47-48. এই চমৎকার গ্রন্থটিতে বিজ্ঞান সংক্রান্ত জ্ঞান ভাণ্ডারের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক এবং কুরআনের অনেক ইতিহাস আছে, যেখান থেকে বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে বেশকিছু তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 সুসমাচারগুলো কি ঐশীপ্রেরণা?

📄 সুসমাচারগুলো কি ঐশীপ্রেরণা?


সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে কেউ অন্তর্দৃষ্টি বা অতিলৌকিক ক্ষমতা কিংবা প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত হওয়াকে ঐশীপ্রেরণা বলে। এটি সকল একেশ্বরবাদী ধর্মের একটি প্রধান ধারণা; কিন্তু খোদ নিউ টেস্টামেন্ট নিজেকে কোনো ধরনের ঐশীপ্রেরণা বলে দাবি করে না। একটি মাত্র শ্লোকে এ-সংক্রান্ত আবেদন পাওয়া যায়, 'সমস্ত শাস্ত্রলিপি ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং শিক্ষাদানের উপযোগী' [২]; কিন্তু এখানে শ্লোকটি মূলত ওল্ড টেস্টামেন্টকে নির্দেশ করছে। কারণ বর্তমানের মতো করে নিউ টেস্টামেন্ট তখনও সংকলিত হয়নি। [৩] এজন্য দ্বিতীয় শতাব্দীর লেখক জাস্টিন মার্টার ঐশীপ্রেরণার ব্যাপারটিকে মূল হিব্রু টেক্সটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলেছেন; বরং তা শুধু (হিব্রু
(থেকে করা) গ্রিক অনুবাদের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। [১]
খ্রিষ্টান লেখকরা অনেক সময় তাদের লেখায় 'ঐশীপ্রেরণা' পরিভাষাটিকে মসলা হিসেবে ব্যবহার করে। যেমন পি. ডাব্লিও. কমফোর্ট বলেছেন- 'কিছু ব্যক্তি... মৌখিক বর্ণনাগুলো প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে সুসমাচার লেখার জন্য ঐশীপ্রেরণা লাভ করেন।'[২] পরবর্তী সময়ে নিউ টেস্টামেন্টের প্রতিলিপি তৈরি করার সময় লিপিকারগণ 'কিছু বিষয়ের সমন্বয় সাধনের জন্য হয়তো নিজেদেরকে পবিত্র আত্মা কর্তৃক প্রেরণাপ্রাপ্ত বলে ভেবেছিলেন'।[৩]
কিন্তু অধ্যাপক কমফোর্টের এই বক্তব্যের সাথে সুসমাচারের অজ্ঞাতনামা লেখকবৃন্দ অতি অবশ্যই দ্বিমত করতেন। কারণ সুসমাচারগুলোর মধ্যে মার্ক লিখিত সুসমাচার সবচেয়ে পুরানো। পরবর্তীতে মথি এবং লুক নিজেদের লেখা সুসমাচারের উৎস হিসেবে ব্যবহারের জন্য এটি ঘেঁটে বের করেন। তারা মার্কের অনেক ঘটনা পরিবর্তন, সংক্ষেপণ এবং উপেক্ষা করেছেন। যদি এটিকে তারা অকাট্য সত্য বা ঐশীপ্রেরণাই ভাবতেন, তাহলে কস্মিনকালেও এমনটি করতেন না।[৪]
তাহলে দেখা গেল, নিউ টেস্টামেন্টকে ঐশীপ্রেরণা বলে দাবি করার মূলত কোনো ভিত্তি নেই। এখন এই পুস্তকগুলো খ্রিষ্টানরা আজ পর্যন্ত কীভাবে সামলেছে, সেটা দেখা যাক। পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে যথাবিহিত সম্মান এগুলো পেয়েছে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা করা জরুরি।

টিকাঃ
১. Helmut Koester, 'What Is -And Is Not-Inspired', Bible Review, vol. xi, no. 5, October 1995, p. 18.
২. ২ তিমথীয় ৩: ১৬
৩. "সমস্ত শাস্ত্রলিপি” বলতে এখানে বিশেষভাবে ওল্ড টেস্টামেন্টকে নির্দেশ করছে। কারণ তখনও পূর্ণাঙ্গ নিউ টেস্টামেন্টের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। পল যখন এগুলো লেখেছিলেন, তখন "যোহন লিখিত সুসমাচার” এবং “প্রত্যাদেশ”-এর মতো পুস্তকগুলো রচনাই হয়নি।' (BibleRef); ""সমস্ত শাস্ত্রলিপি” দ্বারা প্রকৃত অর্থে ওল্ড টেস্টামেন্টকে বোঝানো হয়েছে। নিউ টেস্টামেন্টের কোনো পুস্তকের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হবে না। শাস্ত্রলিপি হতে হলে তা লিখিত ছিল বলে দেখাতে হবে এবং অবশ্যই "শাস্ত্রলিপি" শিরোনামের অংশ হওয়া জরুরি... পল ওল্ড টেস্টামেন্টকে ঐশী প্রেরণা প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজে ঐশীপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলে যদি প্রমাণ করা যায়, তাহলে ওল্ড টেস্টামেন্টের ক্ষেত্রেও ঐশীপ্রেরণার ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।' (Barnes New Testament Notes) - অনুবাদক
৪. P.W. Comfort, Early Manuscripts & Modern Translations of the New Testament, Baker Books, 1990, p. 3. Cited thereafter as Comfort.
৫. ibid, p. 6.
৬. ibid, p. 6.
৭. H. Koester, 'What Is- And Is Not-Inspired', Bible Review, vol. xi, no. 5, Oct. 1995, pp. 18.48.

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 ইরাসমাস বাইবেল (The Erasmas Bible) এবং কমা জোহানিয়াম

📄 ইরাসমাস বাইবেল (The Erasmas Bible) এবং কমা জোহানিয়াম


১৫১৬ সালে ইরাসমাস তার প্রথম গ্রিক নিউ টেস্টামেন্ট প্রকাশ করেন। এর তিন
বছর পর আসে দ্বিতীয় সংস্করণ। এর ১ যোহন ৫: ৭ শ্লোকে ত্রিত্ববাদী বিবৃতি না থাকায় এই বাইবেলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হয়; কিন্তু নিজের দেখা কোনো গ্রিক পান্ডুলিপিতে ত্রিত্ববাদী শব্দগুলো পাননি বলে বার বার দাবি করেন তিনি। তারপরও প্রবল চাপের মুখে ভবিষ্যতে কোনো গ্রিক পাণ্ডুলিপিতে যোহনীয় কমা[১] (Comma Johanneum) পেলে তা যুক্ত করে দেবেন বলে স্বীকার করেন। এর কিছুকাল পরেই উক্ত ত্রিত্ববাদী শ্লোকবিশিষ্ট একটি গ্রিক পাণ্ডুলিপি তার কাছে পেশ করা হয়। তবে ১৫২০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে অক্সফোর্ডের জনৈক ফ্রানসিস্কান ফ্রায়ার বিরচিত সেই পান্ডুলিপিটি জাল হওয়ার সম্ভাবনা অতি প্রবল। নিজের কথা রাখতে ইরাসমাস তৃতীয় সংস্করণে উক্ত শ্লোকটি যুক্ত করেন বটে; কিন্তু পাণ্ডুলিপিটির ওপর জালিয়াতির সন্দেহ পোষণ করে তিনি একটি দীর্ঘ পাদটীকা লেখে দেন।[২]
ইরাসমাসের পর কমা জোহানিয়াম সম্বলিত মাত্র তিনটি গ্রিক পাণ্ডুলিপির সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনোটি দ্বাদশ শতাব্দীর হলেও সেখানে কমা জোহানিয়াম লেখা হয়েছে মার্জিনে, সেটাও আবার সপ্তদশ শতাব্দীর কোনো লেখকের হাতে।[৩] ১ যোহনের এই ত্রিত্ববাদী বিবৃতি ধর্মতত্ত্বের আলাপে খুবই গুরুত্ব বহন করে। ইতিহাসের এত পরের দিকে (রেনেসাঁ যুগে) এসেও গ্রিক পাণ্ডুলিপিতে নতুন সংযোজনের ঘটনা থেকে বোঝা যায়-নিউ টেস্টামেন্টের টেক্সট কতটা পরিবর্তনশীল ছিল।
শেষপর্যন্ত এসব জাল শ্লোকের কী হলো? ১৬১১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত Authorised King James Version-এর হাত ধরে এগুলো ইংরেজি ভাষায় প্রবেশ করে। ১৮৮১ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত জনপ্রিয় এই অনুবাদের কোনো পর্যালোচনামূলক সংশোধন প্রকাশ হয়নি। আমার লাইব্রেরিতে থাকা সংস্করণটিতে (Authorised Version © 1983) এখনো শ্লোকটি আছে-
6. This is he that came by water and blood, even Jesus Christ; not by water only, but by water and blood. And it is the Spirit that beareth witness, because the Spirit is truth.
7. For there are three that bear record in heaven, the Father, the Word, and the Holy Ghost: and these three are one.
8. And there are three that bear witness in earth, the Spirit, and the water, and the blood: and these three agree in one.[2]
কিছু ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের Revised Standard Version (RSV) বাইবেল থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দ বাদ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এটি হলো American version (1881) এর পুনঃশোধিত রূপ যেটি কিনা আবার ১৬১১ খ্রিষ্টাব্দের King James Version (KJV) বাইবেলেরই একটি সংস্করণ। তাহলে শ্লোকগুলো দেখা যাক—
6. This is he who came by water and blood, Jesus Christ, not with the water only but with the water and the blood.
7. And the Spirit is the witness, because the Spirit is the truth.
8. There are three witnesses, the Spirit, the water, and the blood; and these three agree.[2]
এসব বিভিন্ন প্রকার সংস্করণের সঠিক কালানুক্রম বেশ বিভ্রান্তিকর। বাইবেলের ইংরেজি অনুবাদের জন্য কমপক্ষে তিন শতাব্দী অপেক্ষা করতে হয়েছে। এর বেশিও হতে পারে। সন্দেহজনক শ্লোকগুলো বাদ দেওয়ার আগেই তা ইংরেজিতে প্রবেশ করে। এমনকি ষোড়শ শতাব্দীতে এসেও জালিয়াতির এই ধারা অব্যাহত ছিল।

টিকাঃ
১. Comma Johanneum হলো ১ যোহনের ৫ম অধ্যায়ের ৭-৮ নং শ্লোক সংশ্লিষ্ট পাঠ্যগত রূপভেদ। সাধারণভাবে Comma অর্থ অংশ এবং Johanneum অর্থ যোহন সংশ্লিষ্ট। Comma Johanneum বলতে ১ যোহনের উক্ত শ্লোকগুলোর সাথে সংযোজিত অংশকে বোঝায়। Comma বা সংযোজিত অংশ ব্যতীত শ্লোকগুলোর অর্থ থাকে, 'বস্তুত তিনের সাক্ষ্য দেওয়া হইতেছে, আত্মা ও জল ও রক্ত, এবং সেই তিনের সাক্ষ্য একই।' আর তা যুক্ত করার পর দাঁড়ায়, 'বস্তুত স্বর্গে তিনজন সাক্ষ্য বহন করেন, পিতা, বাক্য ও পবিত্র আত্মা, আর এই তিনজন এক। আর পৃথিবীতে তিন সাক্ষ্য বহনকারী হলো-আত্মা, জল ও রক্ত। এই তিন অভিন্নমত পোষণ করে।' উল্লেখ্য, বাইবেলের বাংলা সমকালীন সংস্করণেও (BCV) বর্ণিত হয়েছে, 'এগুলো চতুর্দশ শতাব্দীর পূর্ববর্তী কোনো গ্রিক সংস্করণে পাওয়া যায় না।' (আরও জানতে, https:// www.gotquestions.org/Comma-Johanneum.html)-অনুবাদক
২. Metzger, pp. 101-2
৩. ibid. p. 102.
৪. 1 John 5:6-8.
৫. RSV, Thomas Nelson & Sons, 1952, 1 John 5:6-8.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00