📄 খ্রিষ্টের ভাষা
তথ্যের অপ্রতুলতার দরুণ যিশুর চরিত্রের মৌলিক অনেক বৈশিষ্ট্যই আমরা জানি না। তার প্রচারিত বাণীর পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা তার অনুসারীরা তৈরি করতে পারেননি। অন্তত তিনি যেই ভাষায় এগুলো বলেছিলেন, তার ব্যাপারেও কি বিশেষজ্ঞগণ একমত হতে পেরেছেন? সুসমাচার থেকে এর কোনো নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায় না। বর্তমান ও অতীতের খ্রিষ্টান রচয়িতারাও এর পরিষ্কার কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এই বিষয়ে পূর্বেকার বিশেষজ্ঞগণের কিছু অনুমানভিত্তিক মত রয়েছে। সম্ভাব্য ভাষাগুলো হলো ক্যালডাইক (জে. জে. স্ক্যালিগার); সিরিয়াক (ক্লড সমেইজ); ওঙ্কেলোস এবং জোনাথনের আঞ্চলিক ভাষা (ডিলিটশ ও রেশ); আরামাইক (মায়ার)। এমনকি ল্যাটিনের পক্ষেও মত মেলে, যার প্রবক্তা ইনশোফার বলেছেন, 'এছাড়া পৃথিবীতে প্রভু আর কোনো ভাষা ব্যবহার করতে পারেন না। কারণ স্বর্গবাসী সাধুরা এই ভাষায় কথা বলেন।' [১]
টিকাঃ
১. Schweitzer, pp. 271, 275.
📄 খ্রিষ্ট : ঈশ্বরের নৈতিক বৈশিষ্ট্য?
খ্রিস্টকে বলা হয় ঐশীসত্ত্বার তিন অংশের একটি; কিন্তু যেকোনো গির্জায় প্রবেশ করলে এই ঐশীসত্তার বাকি দুই অংশের অনুপস্থিতি স্পষ্ট ধরা পড়বে। শুধু যিশুর প্রতিকৃতিকেই মনে হবে প্রধান। একদিকে পিতা এবং পবিত্র আত্মা প্রায় পুরোপুরি উপেক্ষিত, অন্যদিকে যিশু প্রকটভাবে পরিস্ফুট।
আবার এত বেশি সম্মানের পাত্র হওয়ার পরেও কিছু খ্রিষ্টান লেখকের কলমে তার চরিত্রের ওপর প্রচুর কালিমা পড়েছে। ফলে যিশু বিশ্বজনীনভাবে খ্রিষ্টানদের ভালোবাসার পাত্র কি না বা অন্তত নৈতিকভাবে অনুকরণযোগ্য কি না-তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
ক. ক্যানন মন্টেফিওর: যিশু কি সমকামী ছিলেন?
১৯৬৭ সালে অক্সফোর্ডে মডার্ন চার্চমেনস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ক্যানন হিউ মন্টেফিওর তখন কেমব্রিজের গ্রেট সেন্ট মেরির ভিকার পদে ছিলেন। যিশু সম্পর্কে নিজের বক্তৃতায় তিনি বলেছেন-
'নারীরা তার বন্ধু ছিল; কিন্তু বলা হয়, তিনি ভালোবাসতেন মূলত পুরুষদের। এক্ষেত্রে তার অবিবাহিত থাকাটা একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার। পুরুষরা বিয়ে না করার কারণ ছিল সাধারণত তিনটি-
১. সামর্থ্যের অভাব, ২. নারীর অভাব, অথবা ৩. স্বভাবগত সমকামিতা।'[১]
খ. মার্টিন লুথার : যিশুর তিনবার যিনা
লুথারের রচনা থেকেও যিশুর মন্দ চিত্র প্রকাশ পায়। তার Table Talk গ্রন্থে পাওয়া যাবে এটি। বিব্রতকর হলেও এর সত্যতা নিয়ে আজ পর্যন্ত কেউ প্রশ্ন তোলেনি। আরনল্ড লুন লিখেছেন-
'Table Talk থেকে উইমার একটি অংশ উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে যিশু তিনবার ব্যভিচার করেছেন বলে লুথার বিবৃত করেন। প্রথমবার কুয়োর পাশে মহিলার সাথে, দ্বিতীয়বার মেরি ম্যাগড্যালেন এবং তৃতীয়বার ব্যভিচারে ধৃত মহিলার সাথে; যাকে তিনি অনেক সহজে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এইভাবে মহাপবিত্র খ্রিষ্টও মৃত্যুর আগে ব্যভিচারে লিপ্ত হন।'[২]
টিকাঃ
১. The Times, Jul 28, 1967.
২. Arnold Lunn, The Revolt Against Reason, Eyre & Spottiswoode (Publishers). London, 1950. p. 233. Original: “Christus adulter. Christus ist am ersten ein ebrecher worden Joh. 4, bei dem brunn cum muliere, quia illi dicebant: Nemo significat, quid facit cum ea? Item cum Magdalena, item cum adultera Joan. 8, die er so leicht davon lies. Also mus der from Christus auch am ersten ein ebrecher werden ehe er starb.”