📄 তালমুদে ইসলামের প্রভাব
বনি ইসরাইলের মহাযাত্রার তেরশ বছর পর ধর্মপুস্তকগুলো ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে শূন্যস্থান দেখা দেয়। অসংখ্য মিশনাহ প্রচলিত থাকায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নির্মূলের প্রচেষ্টাও চলতে থাকে। আনুমানিক ২০০ খ্রিষ্টাব্দে র্যাবাই জুদাহ হা-নাসির সম্পাদনা কর্মের ফলে অন্য সংকলনগুলো গুরুত্বহীন হয়ে যায়। অবশ্য তার শিক্ষার্থী এবং আরও কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরও এতে সমন্বিত অবদান আছে। [১] তালমুদের একদম মূলের সাথে এই মিশনাহর সম্পর্ক বিদ্যমান। এর সাথে আরও মন্তব্য ও ব্যাখ্যা যুক্ত হয়।
'ধর্মের সকল বিষয়ে তালমুদকে অন্তত অর্থোডক্স ইহুদিরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনে করে... মন্তব্য এবং ব্যাখ্যাগুলোর মাধ্যমে ধর্মপুস্তকের অর্থ জানা যায়। এই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাগুলো ছাড়া ধর্মীয় পুস্তকের প্রায়োগিক মূল্য ইহুদিদের জন্য অনেকটাই কমে যেত... তাই অর্থোডক্স ইহুদিধর্মে তালমুদের অবস্থান ধর্মীয় গ্রন্থের মতোই বলাটা কোনো অত্যুক্তি নয়।' [২]
তালমুদ রচিত হয় দুটি—এক. ফিলিস্তিনি। দুই. ব্যাবিলনীয়।
এর মধ্যে দ্বিতীয়টি বেশি প্রসিদ্ধ। তবে তাদের রচনাকাল নিয়ে রয়েছে প্রচণ্ড মতবিরোধ। [৩]
ব্যাবিলনীয় তালমুদের রচনাসমাপপ্তির আনুমানিক সময়কাল হিসেবে প্রস্তাব করা হয় ৪০০, ৫০০, ৬০০ ও ৭০০ খ্রিষ্টাব্দকে। এতেই বোঝা যায় তথ্য-প্রমাণ যা-ও বা আছে, সেটাও কতটা অনিশ্চিত। তবে নিউজনারের তারিখ নিরূপণ সঠিক হলেও এর চূড়ান্ত সম্পাদনা সংঘটিত হয় ইসলামি শাসনামলে ইরাকে ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের ছায়াতলে। এমনকি ১৩ শতাব্দীতেও মিশনাহর ব্যাখ্যা রচনা চলমান ছিল; যার ওপর মুসলিম সংস্কৃতির বিপুল প্রভাব বিদ্যমান। ড্যানবির ভাষায়—
মুসলিমদের ব্যাবিলন জয়ের পর কয়েক শতাব্দী ধরে তা র্যাবাইদের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে... আরব আলিমদের সান্নিধ্যে আসার ফলে যেন নতুন উদ্যম সৃষ্টি হয়। নবম এবং দশম শতাব্দীতে হয় হিব্রু সাহিত্যের ব্যাকরণ এবং ভাষাবিজ্ঞানের সূচনা। অদ্যাবধি পাওয়া মিশনাহর সবচেয়ে পুরোনো ব্যাখ্যা (সাধারণ অর্থে) প্রদান করেছেন হাই গাওন... তিনি প্রায় পুরোপুরিভাবে ভাষাতাত্ত্বিক সমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন। অস্পষ্ট শব্দগুলোর উৎপত্তি অন্বেষণে তিনি আরবিকে বেশ ভালোভাবেই ব্যবহার করেছেন। [৪]
মধ্যযুগের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইমোনিডিজ (১১৩৫-১২০৪) যুবক বয়সের প্রথমদিকে সম্পূর্ণ মিশনাহর ভূমিকা এবং ব্যাখ্যা লিখেছিলেন। আরবি ভাষায় লিখিত এই গ্রন্থটির নাম ছিল কিতাবুস সিরাজ অর্থাৎ 'আলোর কিতাব'। শুধু ব্যাখ্যা করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। পাঠকের সামনে পাঠ্য বিষয়ের সাধারণ মূলনীতিও তুলে ধরার চেষ্টা করেন। মিশনাহ বোঝার ক্ষেত্রে বড় একটি সমস্যা দূরীভূত হয়।[৫]
টিকাঃ
১. Dictionary of the Bible, p. 954.
২. ibid, p. 956.
৩. অধ্যায় ১৫.৬. দ্রষ্টব্য।
৪. Danby (trans), The Mishnah, Introduction, pp. xxviii-xxix.
৫. ibid, p. xxix.