📄 ১০০ খ্রিষ্টাব্দের আগ পর্যন্ত ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রামাণ্য টেক্সটের অনুপস্থিতি
কুমরান থেকে প্রাপ্ত কিছু পাণ্ডুলিপির সাথে মেসোরীয় টেক্সটের অনেকটাই মিল আছে। এগুলোর কাজ মধ্যযুগে সমাপ্ত হয়েছে।
'কিন্তু বাহ্যিক অনেক মিল থাকলেও একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। মেসোরীয় সদৃশ কুমরান পাঠ্যগুলো ছিল প্রচলিত কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের মধ্যে একটি মাত্র... অন্যগুলোর চেয়ে তা পাঠ্যগুলোর ক্ষেত্রে তো বটেই, পুরো ইহুদিজগতেও একটিও প্রামাণ্য পাঠ্য ছিল না।'[১]
ইহুদি পুনর্জাগরণ যুগে এসে এই টেক্সটগুলোর মধ্যে একটি প্রাধান্য পেতে শুরু করে। প্রথম খ্রিষ্টীয় শতাব্দীর আগপর্যন্ত প্রচলিত বাকি সব টেক্সটকে ছাপিয়ে ওঠে এটি।
কুমরান গুহায় মূলত তিন প্রকারের স্বতন্ত্র টেক্সট পাওয়া যায়: সামারীয় পেন্টাটিউক, সেপ্টুয়াগিন্ট এবং মেসোরীয়। উয়ের্থওয়াইনের সূত্রমতে এগুলো ৭০-১৩৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে প্রামাণ্য হয়ে উঠতে থাকে।[২] যদিও এই উপসংহারের ভিত্তি ত্রুটিপূর্ণ। কুমরান এবং ওয়াদি মুরাব্বায়াতের কিছু গুহার বয়স নির্ণয় করা হয়েছে ভুলভাবে। সেখান থেকেই উক্ত সিদ্ধান্তের উদ্ভব। এ বিষয়ে সামনে আলোচনা আসবে।
টিকাঃ
১. ibid, p. 14
২. ibid, p. 14
📄 দশম শতাব্দীতে ওল্ড টেস্টামেন্ট বিধিবদ্ধকরণ এবং পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপি ধ্বংস
ত্রুটিপূর্ণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি ধ্বংস করা ইহুদিদের জন্য জরুরি হয়ে পড়ে। দশম শতাব্দীতে পণ্ডিতগণ অবশেষে টেক্সট বিধিবদ্ধ করতে সক্ষম হন। ক্রমবিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ের পুরোনো সকল পাণ্ডুলিপি তখন স্বাভাবিকভাবেই অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হতে থাকে। সময়ের সাথে হারিয়ে যায় সেগুলো।[১]
দশম শতাব্দীতে যখন এই একক পাঠ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, একই সময়ে আত্মপ্রকাশ ঘটে মেসোরার। অর্থাৎ উচ্চারণ এবং স্বরচিহ্ন পদ্ধতি, যার উদ্দেশ্য ভবিষ্যৎ লেখিক ত্রুটি এড়ানো। এরমধ্যে ইহুদিদের প্রধান ব্যাবিলনীয় বসতি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে এবং দশম এবং একাদশ শতাব্দীর মধ্যে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে আরও সহজ হয়ে যায় এই 'ত্রুটিপূর্ণ' পাণ্ডুলিপি ধ্বংস এবং মেসোরাহ পদ্ধতির বাস্তবায়ন কার্যক্রম।
'পশ্চিমারা আবারও ইহুদিধর্মের আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব অধিগ্রহণ করে। পশ্চিমা মেসোরীয়রা নেমে পড়ে নিজেদের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সকল টেক্সট নিশ্চিহ্ন করার কাজে। (পশ্চিমা) টাইবেরিয়াস ঘরানার চিন্তাধারা ভবিষ্যতের আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। হাজার বছরের জন্য হারিয়ে যায় পূর্বীয় ধারা।'[২]
মেসোরা পদ্ধতি যুক্ত করার পর এটিকেই ভবিষ্যৎ সকল প্রজন্মের জন্য পাঠ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। অথচ দশম ও একাদশ শতাব্দীর এই অতিগুরুত্বপূর্ণ হিব্রু পাণ্ডুলিপিগুলো সংখ্যার দিক থেকে খুবই দুর্লভ, মাত্র একত্রিশটি। এর অধিকাংশ আবার খণ্ডিত আকারের।[৩]
টিকাঃ
১. ibid, p. 11
২. ibid, p. 12
৩. অধ্যায় ১৫.৪. দ্রষ্টব্য
📄 মেসোরা এবং পাঠ্যের শুদ্ধতা
নির্দিষ্ট এক প্রকারের পাঠ্যের প্রচলন শুরু হয়ে গেল। ফলে টেক্সট পরিবর্তনে আগের মতো স্বাধীনতা চর্চার স্থানও থাকল না আর। র্যাবাই আকিবাকে উদ্ধৃত করে উয়ের্থওয়াইন লিখেছেন, 'মেসোরা হলো বিধানকে (The Law) ঘিরে থাকা একটি (নিরাপত্তা) বেষ্টনী। লিপিকারদের যত্নশীল কাজের উদ্দেশ্য এটিই ছিল। তারা বিধান এবং গ্রন্থাবলির প্রতিটি শ্লোক, শব্দ এবং বর্ণসংখ্যা গুনে রেখেছেন। এটি ছিল পাণ্ডুলিপি নিরীক্ষা এবং তার বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের একটি অংশ।' [১]
র্যাবাই আকিবার বক্তব্য ঠিক পরিষ্কার নয়। শ্লোক এবং শব্দ গণনার ব্যাপারটি তার সময়ের (আনুমানিক ৫৫-১৩৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) সাথে একেবারেই যায় না। নবমের শেষ এবং দশম শতাব্দীর শুরুর ভাগ হলে তা যুক্তিসংগত হতো। তখন মেসোরীয় পদ্ধতির প্রচলন ঘটে। উয়ের্থওয়াইন নিজেই মন্তব্য করেছেন—
কাজেই আমরা ধরে নিতে পারি, আনুমানিক ১০০ খ্রিষ্টাব্দে ব্যঞ্জননির্ভর পাঠ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সাথে সাথেই অন্য সকল প্রকার পাঠ্য ধামাচাপা পড়ে যায়নি। ভিন্ন ভিন্ন পাঠ্য সংবলিত পাণ্ডুলিপি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত চালু থেকেছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যাপারটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য। দশম শতাব্দী থেকে সব পাণ্ডুলিপি চমৎকারভাবে একইরকম হয়ে যাওয়ার কারণ হলো... পর এবং পূর্বেকার মেসোরেটদের শ্রম। প্রামাণ্য পাঠ্যটিকে সর্বত্র প্রচলিত করার মাধ্যমে তারা একে অন্য সকল পাঠ্যভিন্নতার ওপর জয়ী করেন।[২]
উয়ের্থওয়াইনের নিজের ভাষ্য অনুযায়ীই তাই প্রমাণ মেলে, টেক্সটের এই চমৎকার মিল দশম শতাব্দীর অর্জন, প্রথম শতাব্দীর নয়।
টিকাঃ
১. Wuerthwein, p. 19. পাদটীকায় উয়ের্থওয়াইন আবার নিজের জায়গা ঠিক রেখেছেন—অবশ্য এটা নিশ্চিত না যে, রযাবাই আকিবার বক্তব্যে (Pirqe Aboth 3: 13) 'মেসোরা' শব্দটি দিয়ে কি সাধারণভাবে গৃহীত অর্থে পাঠ্য প্রচার-প্রসার কর্মকাণ্ড বুঝিয়েছেন... নাকি বুঝিয়েছেন যে, মৌখিক আইনের উদ্দেশ্য ছিল লিখিত আইনের বিকৃতি প্রতিরোধ।' (p. 18, footnote 24).
২. ibid, p. 20