📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 প্রাচীন ইহুদি-লিপি: কেনানীয় এবং আসিরীয়

📄 প্রাচীন ইহুদি-লিপি: কেনানীয় এবং আসিরীয়


ব্যাবিলনে নির্বাসিত হওয়ার আগে ইহুদিরা কেনানীয় লিপি ব্যবহার করত।[১] প্রাচীন নিকট প্রাচ্যের মুখের ভাষা হিসেবে আরামীয় প্রাধান্য লাভ করার পর তা ইহুদিরাও তা গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে লেখার ক্ষেত্রেও এই ভাষাই ব্যবহার করে, যা তখন আসিরীয় নামে পরিচিত ছিল।[২]
'এই כתב אשור বা אשורית "আসিরীয় লিপি”-কে এই নামে ডাকার কারণ এটি আসলে “ফোনেশীয় লিপি”-এর আরামীয় রূপ। এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল... খ্রিষ্টপূর্ব ৮ম শতক থেকে। নির্বাসনোত্তর ইহুদিরা আবার এটিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এই বর্ণমালা থেকেই চতুর্ভুজাকৃতির লিপি বা "Square script" (כתב מרבע) উদ্ভূত হয়।'[৩]
এই চতুর্ভুজ লিপিও হিব্রু হিসেবে পরিচিত ছিল না শুরুতে। ১ম খ্রিষ্ট শতাব্দীতে ইবনু সারা এবং জোসেফাস এই লিপি ব্যবহার করে। মিশনাহ এবং তালমুদও লিখিত আকার লাভ করে এই লিপিতেই।[৪] এগুলো অনেক পরে অস্তিত্ব লাভ করলেও এর ফলে আনুষ্ঠানিক ভাষাটির নাম হয় হিব্রু।
তাহলে ওল্ড টেস্টামেন্ট মূলত কোন ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়েছিল? ওপরে প্রদত্ত তথ্য থেকে আমরা ক্রমপরিবর্তনের যে ধারা দেখতে পাই তা হলো-কেনানীয়, আরামীয় (আসিরীয়) এবং সবশেষে চতুর্ভুজাকৃতির লিপি; যা পরবর্তী সময়ে হিব্রু হিসেবে পরিচিতি পায়। তাহলে পরিষ্কারভাবে, ব্যাবিলনের নির্বাসন থেকে ফেরার আগে অর্থাৎ ৫৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দের আগে ইহুদিদের নিজস্ব কোনো লিপি ছিল না। মজার বিষয় হলো, কেনানীয় বর্ণমালার ব্যাপারে উর্থওয়াইন (Wuerthwein) বলেছেন, 'এটি হলো ফোনেশীয়-সনাতন হিব্রু লিপি এবং বর্তমান ও পূর্বের সকল বর্ণমালার জনক।'[৫]

টিকাঃ
১. Wilfinson, p. 91.
২. Ernst Wuerthwein, The Text of the Old Testament, 2nd Edition, William B. Eerdmans Publishing Company, Grand Rapids, Michigan, 1995, pp. 1-2. Cited thereafter as Wuerthwein.
৩. ibid, p. 2, footnote 4.
৪. Wilfinson, p. 75
৫. Wuerthwein, p. 2. ইতিহাস বিকৃতির এই মহড়ায় আরও একটি ব্যাপার রয়ে গেছে। মিশরের ১৯০০-১৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে খোদাই করা লিপিটি আবিষ্কার করেছেন ড. ডার্নেল এবং তার স্ত্রী ডেবোরাহ। বিস্তারিত ছবি তুলতে সেখানে যান (J.N. Wilford, “Discovery of Egyptian Inscriptions Indicates an Earlier Date for Origin of the Alphabet”, The New York Times, Nov. 13, 1999): ইদানীং সেমিটিক এবং এন্টি-সেমিটিক শব্দগুলো যেহেতু আরব এবং আরামীয়দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত না হয়ে শুধু ইহুদিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাই বর্ণমালা আবিষ্কারের কৃতিত্ব এখন ফোনেশীয়দের থেকে সরিয়ে ইহুদিদের পূর্বপুরুষদেরকে প্রদান করার পাঁয়তারা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 তাওরাতের উৎস

📄 তাওরাতের উৎস


ক. ইহুদি উৎস
জুলিয়াস ওয়েলহাউসেন (১৮৮৪-১৯১৮) তাওরাতের চারটি মূল উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো- J (ইয়াহওয়েহীয় প্রফেটিক বর্ণনা, আনুমানিক ৮৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), E (এলহীয় প্রফেটিক বর্ণনা), D (দ্বিতীয় বিবরণ এবং অন্যান্য দ্বিতীয় বিবরণীয় নোট, আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), P (প্রিস্টলি কোড, লেবীয় পুস্তক এবং অন্যান্য সংস্করণে এর বিশেষ উল্লেখ আছে, আনুমানিক ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। [১] আরও অনেক সূত্র পাওয়া গিয়েছে। সেগুলোর সবই ইহুদি উৎস বলে অনুমান করা হয়।
খ. অ-ইহুদীয় উৎস
সমস্যা হলো অ-ইহুদীয় উৎস থেকেও একই রকম বার্তা পাওয়া যায় যেগুলোর কোনো কোনোটা খোদ ওল্ড টেস্টামেন্টের চেয়েই অন্তত পাঁচশ বছর পুরোনো। যাত্রাপুস্তক ২০ অনুযায়ী, ঈশ্বর মৌখিকভাবে ১০টি আজ্ঞা ঘোষণা করেন এবং দুটি প্রস্তর ফলকে তা খোদাই করে সিনাই পর্বতে মোশিকে প্রদান করেন।
‘সাদৃশ্যের দিক থেকে সবচেয়ে নিকটতম এবং বিখ্যাত হলো হাম্মুরাবি কোড... (আনুমানিক ১৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)। সদৃশতার আধিক্যে প্রথম প্রথম এমন বিবৃতিও এসেছে যে, ঐশী আজ্ঞাগুলো হাম্মুরাবির বিধান থেকে ধার বা গ্রহণ করা হয়েছে। উভয়ই যে একই উৎস এবং সুবিস্তৃত একটি বিধানের অংশ, তা এখন বোধগম্য। হিব্রু বিধান যদিও পরবর্তী সময়ে এসেছে, তবুও তা হাম্মুরাবি অপেক্ষা অধিকতর সহজ এবং বুনিয়াদি।' [২]
সিরিয়ার রাস শামরা থেকে প্রাপ্ত লিখিত উৎস থেকে আরও চাঞ্চল্যকর উদাহরণ পাওয়া যায়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিন থেকে তুলে ধরছি—
‘এমনকি অ্যাডাম এবং ইভের কথাও রাস শামরার টেক্সটগুলোতে আছে। পূর্বের কোনো এক চোখ ধাঁধান বাগানে তারা বাস করতেন। বাসস্থানের বিবরণ অস্পষ্ট হলেও তা বাইবেলের বর্ণনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ... উগারীয় লিপিকার সেখানে লিখেছেন, অ্যাডাম ছিল কেনানীয় সেমাইট জাতির জনক। সম্ভবত তিনি ছিলেন প্রাচীনতম একজন রাজা বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব।' [৩]
লেখক-প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী এই ফলকগুলো খ্রিষ্টপূর্ব ১৪ বা ১৫ শতকের সময়কার। কাজেই তা মোশিরও অন্তত প্রায় এক শতাব্দী আগের।

টিকাঃ
১. Dictionary of the Bible, p. 104.
২. ibid, p. 568; The Book of the Covenant or Covenant Code is roughly Ex 20:22-23 :19. (ibid, p. 568). অ্যাসিরিয়বিদ্যার জনক ফ্রেডরিখ ডিলিৎশ Babel and Bible এবং Die Grosse Taeuschung গ্রন্থদ্বয়ে দেখিয়েছেন—ইসরাইলি বিশ্বাস, ধর্ম, ও সমাজের উৎসগুলো মূলত ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে উদ্ভূত। (S. Bunimovitz, 'How Mute Stones Speak: Interpreting What We Dig Up'. Biblical Archaeology Review, March/April 1995, vol. 21, no. 2, p. 61).
৩. C.EA. Schaeffer, 'Secrets from Syrian Hills', The National Geographic Magazine, vol. Ixiv. no. 1, July 1933, pp. 125-6.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00