📄 আধুনিক গবেষকদের দৃষ্টিতে তাওরাতের ইতিহাস
বাইবেল পর্যালোচনাশাস্ত্রে ওল্ড টেস্টামেন্টের কালানুক্রমিক রূপরেখা নিয়ে, সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য একটি মত আছে। সেটা দিয়ে শুরু করলে ভালো হবে। নিচের টেবিলটির উৎস The Bible Today. [১] নোট: তারিখগুলো ত্রুটিপূর্ণ। ওল্ড টেস্টামেন্টের পুস্তকগুলোর তারিখ নির্ধারণের বিভিন্ন ধারা সম্পর্কে রাওলির আলোচনা রয়েছে। [২] তবে এই পার্থক্যগুলো আলোচ্য বিষয়ের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না।
খ্রিষ্টপূর্ব শতক ঘটনা
XIII (বা তার আগে) মিশর থেকে যাত্রা
XII ফিলিস্তিনে বসবাস
কেনানীয়দের সাথে সংঘর্ষ ইত্যাদি।
রাজশাসন প্রতিষ্ঠা।
XI (দাউদ, ১০০০ খ্রিষ্টপূর্ব) (পরবর্তী সময়ে লিখিত সংরক্ষণে আসা মৌখিক প্রচলন (আইন, উপকথা কবিতা))
X রাজাবলির শুরু।
IX প্রাথমিক নিয়ম-নীতি লিপিবদ্ধ: ইহুদী সংকলন (J), এফ্রাইমীয় সংকলন (E)। পরবর্তী সময়ে আদিপুস্তক-জিহোশুয়ের পুস্তকের অন্তর্ভুক্ত।
VIII আমোস, হোসিয়া, মিকাহ, ইসাইয়া। (সামারিয়ার পতন, ৭২১ খ্রিষ্টপূর্ব)
VII জোসিয়ার সংস্কারকর্ম, খ্রিষ্টপূর্ব ৬২১: দ্বিতীয় বিবরণ, জিরমিয়, সফনিয়, নহুম।
VI হবকুক, বিচারপতি ও জননায়কদের বিবরণ, শামুয়েল, রাজাবলি। (জেরুযালেমের পতন, ৫৮৬ খ্রিস্টপূর্ব), জিহিঙ্কেল, জিশাইয়, হগয়, সখরিয়।
V পূর্ববর্তী বর্ণনানুসারে ‘প্রিস্টলি’ কোড এবং আদিপুস্তক-জিহোশুয় ('P') পর্যন্ত ধারাবাহিক বর্ণনা লিপিবদ্ধ। মালাখি, ইয়োবে।
IV আদিপুস্তক থেকে জিহোশুয়েত সংকলন ('J, 'E', 'P' এবং দ্বিতীয় বিবরণ থেকে)।
III বংশাবলি, উপদেশক।
II গীতসংহিতার কাজ সম্পন্ন।
I বুক অব উইজডম প্রভৃতি
ইসরায়েলের পুরোনো বিধানাবলিকে একত্র করে তথাকথিত পেন্টাটিউক [৩] বা মোশির পাঁচ গ্রন্থ নাম দেওয়া হয়েছে। সি.এইচ. ডডের মতে এগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় আনুমানিক চতুর্থ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। সম্পাদনা করা হয় নবিদের ঘটনাগুলো। ঐতিহাসিক তথ্যগুলোতে তাদের শিক্ষানুযায়ী পরিববর্তন আনা হয়।[৪]
ক. খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম থেকে দ্বিতীয় শতকে বাইবেলের উৎস পরিমার্জনা
উইলিয়াম ডেভারের কথা এখানে উল্লেখযোগ্য। তিনি অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ার ইস্টার্ন আর্কিওলোজি অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলোজির অধ্যাপক। তার মতে, পারসিক শাসনের (খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম-৪র্থ শতাব্দী) শেষভাগ এবং হেলিনিস্টিক আমলে (খ্রিষ্টপূর্ব ৩য়-২য় শতাব্দী) বাইবেলীয় উৎসগুলোকে পরিমার্জিত করা হয়। এছাড়াও কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টম থমসন, নিলস লেমশে এবং শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিপ ডেভিস, 'এবং ইউরোপ-আমেরিকার আরও অনেক বিদ্বান বিশ্বাস করেন যে, পারসিক/হেলিনিস্টিক আমলে হিব্রু বাইবেল শুধু পরিমার্জনই নয়; বরং লেখাও হয়েছে।'[৫]
কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রেডরিখ ক্রাইয়ার হিব্রু বাইবেল সম্পর্কে বলেছেন, 'এতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো এখন যেভাবে আছে, হেলিনিস্টিক আমলের আগে সেভাবে ছিল না।'[৬]
আজকে যাদের আমরা ইসরায়েলি বলে ডাকি, খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকের আগে তারা নিজেরাও এই নামে তাদের পরিচয় দিত না। সাউল এবং ডেভিড সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সম্রাট আলেকজান্ডারকে নিয়ে লেখা হেলিনিস্টিক সাহিত্য দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ধর্মগ্রন্থের পাঠ্যগুলো এত পরে লেখা হয়েছে যে, বাধ্য হয়ে এটিকে শুধুই একটি ঐতিহাসিক উৎসগ্রন্থ বলতে হয়।[৭]
নিলস লেমশে তো আদি ইসরাইলের ধারণার সাথে জার্মানির তুলনা দিয়েছেন, যারা সকল সভ্যতাকে নিজেদের জাতি-রাষ্ট্রের ধারণার ভিত্তিতেই দেখত। তার মতে, আদি ইসরাইল সম্পর্কিত সামাজিক ও রাজনৈতিক ধারণাগুলো কল্পনাপ্রসূত [৮] জাতিরাষ্ট্র সম্পর্কে ঊনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপের আহ্লাদ থেকে এর জন্ম।
টিকাঃ
১. C.H. Dodd, The Bible To-day, Cambridge University Press, 1952, p. 33.
২. H.H. Rowley, The OT and Modern Study, Oxford University Press, 1961, p. xxvii.
৩. ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রথম পাঁচটি পুস্তক অর্থাৎ আদিপুস্তক, যাত্রাপুস্তক, লেবীয় পুস্তক, গণনা পুস্তক এবং দ্বিতীয় বিবরণকে একত্রে Books of Moses বা Pentateuch বলা হয়। এটা Torah নামেও প্রচলিত। - অনুবাদক
৪. C. H. Dodd, The Bible To-day, pp. 59-60.
৫. H. Shanks, 'Is This Man a Biblical Archaeologist?', Biblical Archaeology Review, July/August 1996, vol. 22, no. 4, p. 35
৬. H. Shanks, 'New Orleans Gumbo: Plenty of Spice at Annual Meeting', Biblical Archaeology Review, March/April 1997, vol. 23, no. 2, p. 58.
৭. ibid.
৮. ibid, p. 58.
৯. মুসলিমরা এরকম ধারণা লালন করতে পারে না। আসল তাওরাতের দাউদ আলাইহিস সালাম ও সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর অস্তিত্ব বিশ্বাস আনতে হবে তাদের।