📄 ডেভিড (দাউদ)-এর শাসনামল (খ্রিষ্টপূর্ব আনুমানিক ১০০০-৯৬২ অব্দ)
শৌলের দরবারে অনাহূত হলেও নেতৃত্বগুণ সব সময়ই প্রতীয়মান ছিল ডেভিডের মাঝে। গিলবোয়ার যুদ্ধে শৌলের মৃত্যু হলে তিনি নিজেকে রাজা ঘোষণা করেন।[১]
বাতসেবার গল্পটি উল্লেখ না করলেই নয়। ডেভিড একবার চাঁদের আলোয় স্নানরত এক নারীকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সে হিত্তীয় উরিয়ের স্ত্রী বাতসেবা। উরিয় তখন যুদ্ধে। এই সুযোগে বাতসেবাকে ডেকে পাঠিয়ে শয্যাসঙ্গিনী করে নেন তিনি। ফলে সন্তানও চলে এল গর্ভে। বাতসেবার অনুরোধে কলঙ্ক এড়াতে ডেভিড তার স্বামীকে যুদ্ধ থেকে ফেরত আনেন। উদ্দেশ্য ছিল স্বামী-স্ত্রীকে মিলিত করা; কিন্তু উরিয়া তার স্ত্রীর কাছে না এসে বন্ধুদের সাথে ছুটি পার করে দেয়। তাই ডেভিড তাকে যুদ্ধের ময়দানে হত্যা করানোর ষড়যন্ত্র করেন। এরপর তার বিয়ে হয় বাতসেবার সাথে; কিন্তু গর্ভের সন্তানটি বাঁচেনি। দ্বিতীয়বারে তার গর্ভে সলোমন এল। সলোমনের রাজা হওয়ার পেছনে তার মায়ের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল।[২]
টিকাঃ
১. ২ শামুয়েল ২:৪
২. Who's Who, i: 65-6, 93. ইসলাম অনুযায়ী এগুলো সত্য নয়।
📄 সলোমন (সুলাইমান)-এর শাসনামল (খ্রিষ্টপূর্ব আনুমানিক ৯৬২-৯৩১ অব্দ)
পিতা ডেভিড এবং পুত্র সলোমনের মাঝে বিরাট ব্যবধান ছিল। একজন সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত হলেও পরেরজন অপব্যয়ী। বাইবেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সলোমন বহু রাজকন্যাকে বিয়ে করেন। তাদেরকে পেয়েও খুশি ছিলেন না তিনি। তার হেরেমে আরও অনেক নারী ছিল। ১ রাজাবলি ১১: ৩ অনুযায়ী, তার স্ত্রীর সংখ্যা ৭০০ এবং উপপত্নী ৩০০ [১]
ইয়াহওয়েহণি-এর উপাসনা করার জন্য জেরুসালেমে তিনি বিরাট উপাসনালয় নির্মাণ করেন।[২] অসংখ্য অইহুদি স্ত্রীর জন্য তিনি পৌত্তলিক মন্দিরও নির্মাণ করেন। তাদের অনুরোধে সেই দেবতাদের সম্মানও জানান, তবে 'তিনি নিজে একজন ইয়াহওয়েহবাদী ছিলেন।'[৩]
টিকাঃ
১. Dictionary of the Bible, p. 435.
২. ঈশ্বরের হিব্রু পরিভাষা
৩. ১ রাজাবলি, অধ্যায় ৫-৮