📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 জ্যাকবের সাথে ঈশ্বরের যুদ্ধ

📄 জ্যাকবের সাথে ঈশ্বরের যুদ্ধ


'তিনি সেখানে একাই রইলেন আর এক ব্যক্তি তার সঙ্গে সকাল পর্যন্ত মল্লযুদ্ধ করলেন। জ্যাকবকে পরাস্ত করতে না পেরে সেই ব্যক্তি তার উরুদেশে আঘাত করলেন। ফলে জ্যাকোবের উরুফলক স্থানচ্যুত হলো। তখন তিনি বললেন, রাত শেষ হয়ে এল, এবার আমাকে ছেড়ে দাও; কিন্তু জ্যাকব বললেন, আমাকে যতক্ষণ না আশীর্বাদ করছেন, ততক্ষণ আপনাকে ছাড়ছি না। সেই ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নাম কী? তিনি বললেন, জ্যাকব। সেই ব্যক্তি বললেন, তোমার নাম আর জ্যাকব থাকবে না। তোমার নাম হবে ইসরাইল (অর্থাৎ ঈশ্বরের সঙ্গে যুদ্ধ করে যে জয়ী হয়েছে)।[১]

টিকাঃ
১. আদিপুস্তক ৩২: ২৪-২৮; বাইবেলে 'ইসরাইল'-এর এ অর্থই লেখা আছে। এ অর্থ ইসলামি আকিদার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত ভয়ংকর ও পরিত্যাজ্য। কুরআনে ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে 'ইসরাইল' বলা হয়েছে 'আল্লাহর বান্দা' অর্থে। আল্লাহু আলাম।—শারয়ি সম্পাদক

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 জ্যাকবের পরিবার

📄 জ্যাকবের পরিবার


জ্যাকবের দুজন স্ত্রী— ক) লেয়া। তার গর্ভে এসেছে—১. রুবেন, ২. শিমিয়োন, ৩. লেবি, ৪. ইহুদা, ৫. ইযাখর, ৬. সবুলুন
খ) রাহেল। তার গর্ভে জন্মেছে—১. জোসেফ, ২. বেনজামিন
তার দুজন উপপত্নীও ছিল— ক) বিলহা। তিনি রাহেলের দাসী। তার গর্ভে জন্মগ্রহণ করে—১. ড্যান, ২. নাফতালি
খ) সিলপা। তিনি লেয়ার দাসী। তার গর্ভে জন্মায়—১. গাদ, ২. আশের
সুতরাং জ্যাকবের মোট পুত্র ১২ জন।[১]
বৃদ্ধ বয়সে এসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে জ্যাকব মিশরে পাড়ি জমান।[২] ততদিনে তার পুত্র জোসেফ (ইউসুফ) মিশরের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত হয়ে গেছেন। তাই পরিবার-পরিজনদের মিশরের সমৃদ্ধ ভূমিতে চলে আসার আহ্বান জানান।[৩] 'জ্যাকবের সঙ্গে তার বংশধর যারা মিশরে গিয়েছিল, তাদের সংখ্যা মোট ছেষট্টি। জ্যাকবের পুত্রবধূদের এর মধ্যে ধরা হয়নি। জোসেফের দুই পুত্র মিশরেই জন্মগ্রহণ করে। অতএব, মিশরে যাওয়ার পর জ্যাকবের পরিবারের লোকসংখ্যা হলো মোট সত্তরজন।'[৪] এর ভেতর তার সকল সন্তান, নাতি-নাতনি এবং দুই স্ত্রী ও উভয় দাসীও অন্তর্ভুক্ত।

টিকাঃ
১. আদিপুস্তক ৩৫: ২৩-২৬
২. আদিপুস্তক ৪১: ৫৩-৫৭
৩. আদিপুস্তক ৪৫, ৪৬: ২৬-২৭
৪. আদিপুস্তক ৪৬: ২৬-২৭

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 মোশি/মুসা (Moses)

📄 মোশি/মুসা (Moses)


মুসার দাদার নাম কোহাথ। কোহাথ তার দাদা জ্যাকবের সাথে কেনান ছেড়ে মিশরে আসেন।[১] এই বংশ থেকে জন্মগতভাবে একমাত্র মিশরীয় ছিল মুসার পিতা আমরাম।[২] মিশরে জন্মালেও মৃত্যুর প্রায় চল্লিশ বছর আগে সেখান থেকে চলে যান মুসা। তাই জ্যাকবের বংশধর অর্থাৎ বনি ইসরাইল মিশরে অবস্থান করে মাত্র ২১৫ বছর।[৩] তারা বিপুল সমৃদ্ধি লাভ করে এবং সংখ্যার দিক থেকেও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে করে মিশরের লোকেরা তাদের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে তাদেরকে দাসে পরিণত করে। লোহিত সাগর পাড়ি দেওয়ার ৮০ বছর আগে ফিরাউনের নির্দেশে তাদের সকল ছেলেশিশুকে হত্যা করা হয়।[৪]
আল্লাহর কৃপায় শিশুকালে মুসা ফিরাউনের হাত থেকে রক্ষা পান; কিন্তু একজনকে হত্যা করার দায়ে মিশর ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয় তাকে। এছাড়া শাসকগোষ্ঠী এবং সেনাবাহিনী তার ইথিওপিয়া অভিযানের সাফল্য দেখে ঈর্ষান্বিত ছিল। যা হোক, মাদায়িনে গিয়ে তিনি বিয়ে করেন এবং সেখানেই মনোনীত হন ঈশ্বরের বার্তাবাহক হিসেবে। তাকে জন্মভূমিতে ফিরে ইসরাইলিদের বন্দীদশা থেকে উদ্ধার করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।[৫]

টিকাঃ
১. আদিপুস্তক ৪৬ : ৮-১৫
২. যাত্রাপুস্তক ৬ : ১৬-২০
৩. রাহমাতুল্লাহ আল-হিন্দি, ইযহারুল হক, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৬৬-৬৮; উক্ত গ্রন্থে লেখক কিছু ইহুদি উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানকার P সূত্র মতে, আব্রাহামের কেনান যাত্রা এবং জ্যাকবের মিশর যাত্রার মধ্যে ২১৫ বছরের ব্যবধান আছে। (আদিপুস্তক ১২ : ৪, ২১:৫, ২৫:২৬, ৪৭:৯) কেনান ও মিশরে মোট ৪৩০ বছর কাটে। (যাত্রাপুস্তক ১২:৪০) কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী তা ৪৩৫ বছর। কাজেই মিশরে তারা অবস্থান করেছিল ২১৫ বছর।
৪. রাহমাতুল্লাহ আল-হিন্দি, ইযহারুল হক, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা : ৬৪
৫. যাত্রাপুস্তক ১-৪

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 বনি ইসরাইলকে ধন-রত্ন চুরি করার ঐশী উপদেশ

📄 বনি ইসরাইলকে ধন-রত্ন চুরি করার ঐশী উপদেশ


ইসরাইলিদের মুক্তি চেয়ে ফিরাউনের কাছে অনুরোধ করেও মুসা ও হারুন কোনো সফলতা পাননি। এরপর একের পর এক মহামারী লন্ডভন্ড করে দেয় গোটা মিশরকে। 'প্রভু পরমেশ্বর মোশিকে বললেন, আমি আরও একবার ফারাও এবং মিশরীদের বিরুদ্ধে আঘাত হানব, তারপর সে তোমাদের মুক্তি দেবে। সেই সময় সে তোমাদের সকলকে এখান থেকে তাড়িয়ে দেবে। তুমি এখন ইস্রায়েলিদের বল যে, প্রত্যেক পুরুষ ও নারী যেন তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সোনা ও রূপার অলঙ্কার চেয়ে নেয়। [১]
মুসার কথা মতো বনি ইসরাইল মিশরীয়দের কাছ থেকে সোনা, রূপা এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ধার করে। ঈশ্বর তাদের মন নরম করে দেওয়ায় ইসরাইলিদের কথামতো তারা সবকিছু দিয়ে দেয়। 'প্রভু পরমেশ্বর ইসরায়েলীদের জন্য মিশরীদের মনে প্রীতির সঞ্চার করেছিলেন, তাই তারা যা চেয়েছিল মিশরীয়রা তাদের সবই দিয়েছিল। এভাবেই তারা মিশরীয়দের ধন-সম্পদ হস্তগত করল।' [২]
এই শ্লোকে ঈশ্বর বনি-ইসরাইলের জন্য মিশরীয়দের ধন-রত্ন নিয়ে নেওয়াকে বৈধতা দিচ্ছেন। এসব সম্পদ যেন শুধু তার মনোনীত জাতির অধিকার। দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩:২ অনুযায়ী, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর অ-ইহুদি জাতিদের কাছেও তাওরাত পৌঁছে দিয়েছিলেন; কিন্তু তারা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে ঈশ্বর তাঁর নিরাপত্তা বলয় তুলে নেন। তাদের সম্পত্তির অধিকারও বনি ইসরাইলকে প্রদান করেন। কারণ তারা তাঁর বিধানের অনুগত ছিল। হাবাক্কুক থেকে উদ্ধৃত একটি শ্লোক এর সপক্ষে প্রমাণ বহন করে। [৩]

টিকাঃ
১. যাত্রাপুস্তক ১১: ১-২
২. যাত্রাপুস্তক ১২: ৩৬
৩. 'Gentile', The Jewish Encyclopaedia, Funk and Wagnalls Company, New York/ London, 1901-1912, v:620. একইরকম পরিস্থিতিতে ষড়যন্ত্রকারী কুরাইশদের সাথে নবিজির আচরণ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম; অধ্যায় ২.২.ix দ্রষ্টব্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00