📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 নিজের পিতার সাথে জ্যাকবের (ইয়াকুব) প্রতারণা

📄 নিজের পিতার সাথে জ্যাকবের (ইয়াকুব) প্রতারণা


দীর্ঘ সময় সন্তানহীন থাকার পর রেবেকা (ইসহাকের স্ত্রী) দুজন যমজ সন্তান ধারণ করেন। তার গর্ভ থেকে প্রথমে জন্ম নেয় এষৌ। সে তার বাবার স্নেহ লাভ করে। এদিকে রেবেকার প্রিয় সন্তান জ্যাকব। একদিন এষৌ শিকার শেষে ক্লান্ত শরীরে জ্যাকবের কাছে ডালের ঝোল খেতে চায়; কিন্তু তিনি এর বিনিময়ে এষৌকে ‘প্রথম সন্তান’ হওয়ার অধিকার ছেড়ে দিতে বললে এষৌ এক পর্যায়ে তাতে সম্মত হয়।[১]
এরপর একদিন রেবেকা এবং জ্যাকব মিলে আইজ্যাককে (ইসহাক) ধোঁকা দেওয়ার পরিকল্পনা করে। তাদের চক্রান্তের ফলে জ্যাকবকে আইজ্যাক এষৌ মনে করে আশীর্বাদ করলেন, ‘জাতিবৃন্দ তোমার দাস্যবৃত্তি করবে, জাতিবৃন্দ করবে প্রণিপাত তোমার কাছে। জাতিবর্গের ওপর তুমি কর্তৃত্ব করবে, তোমার সহোদরগণ হবে তোমার অধীন।’[২]

টিকাঃ
১. আদিপুস্তক ২৫: ২৯-৩৪
২. আদিপুস্তক ২৭: ১-২৯

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 শ্বশুর হয়ে জামাইয়ের সাথে প্রতারণা

📄 শ্বশুর হয়ে জামাইয়ের সাথে প্রতারণা


চক্রান্ত করে এযৌর প্রাপ্য আশীর্বাদ জ্যাকব চুরি করায় ভাইয়ের ওপর সে প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হয়। তাই জ্যাকবকে রেবেকা হারান অঞ্চলে প্রেরণ করে তার ভাই লাবানের কন্যাকে বিয়ে করে সেখানে বাস করার উদ্দেশ্যে। হারানে পৌঁছে সে লাবানের কন্যা রাহেলকে[১] ভালোবেসে ফেলে তাকে বিয়ে করতে চায়; কিন্তু তার আগে তাকে সাত বছর মামার জন্য কাজ করার শর্তে রাজি হতে হয়। অবশেষে সাত বছর পর বিয়ে হয়; কিন্তু অন্ধকারে স্ত্রীর সাথে রাত কাটানোর পর পরদিন সকালে সে হতবিহ্বল হয়ে যায়। কারণ মামা তাকে রাহেলের স্থলে আরেক মেয়ে লেয়ার সাথে বিয়ে দেন।
প্রায় সপ্তাহকাল পরে রাহেলের সাথেও তার বিয়ে হয় আরও সাত বছর কাজ করার শর্তে। অবশেষে লাবানের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় তার দুই স্ত্রী, দুজন দাসী, এগারজন পুত্র এবং একটি কন্যা সন্তান সফরসঙ্গী হিসেবে যোগদান করে।[২] বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে পিতার দেবমূর্তিগুলো চুরি করে রাহেল। লাবান তাই ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের খুঁজে বের করে মূর্তিগুলো সন্ধান করতে লাগে; কিন্তু রাহেল সেগুলো উটের পিঠে থলিতে রেখে এর ওপর বসে থাকে। লাবান তাই কিছুই খুঁজে পায় না।[৩]
ঈশ্বরের সাথে চুক্তিবদ্ধ জাতি এভাবেই আগলে রাখে দেবমূর্তিগুলোকে।

টিকাঃ
১. আদিপুস্তক ২৯ : ১-৭
২. আদিপুস্তক ৩১
৩. আদিপুস্তক ৩১: ১৯-৩৫

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 জ্যাকবের সাথে ঈশ্বরের যুদ্ধ

📄 জ্যাকবের সাথে ঈশ্বরের যুদ্ধ


'তিনি সেখানে একাই রইলেন আর এক ব্যক্তি তার সঙ্গে সকাল পর্যন্ত মল্লযুদ্ধ করলেন। জ্যাকবকে পরাস্ত করতে না পেরে সেই ব্যক্তি তার উরুদেশে আঘাত করলেন। ফলে জ্যাকোবের উরুফলক স্থানচ্যুত হলো। তখন তিনি বললেন, রাত শেষ হয়ে এল, এবার আমাকে ছেড়ে দাও; কিন্তু জ্যাকব বললেন, আমাকে যতক্ষণ না আশীর্বাদ করছেন, ততক্ষণ আপনাকে ছাড়ছি না। সেই ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নাম কী? তিনি বললেন, জ্যাকব। সেই ব্যক্তি বললেন, তোমার নাম আর জ্যাকব থাকবে না। তোমার নাম হবে ইসরাইল (অর্থাৎ ঈশ্বরের সঙ্গে যুদ্ধ করে যে জয়ী হয়েছে)।[১]

টিকাঃ
১. আদিপুস্তক ৩২: ২৪-২৮; বাইবেলে 'ইসরাইল'-এর এ অর্থই লেখা আছে। এ অর্থ ইসলামি আকিদার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত ভয়ংকর ও পরিত্যাজ্য। কুরআনে ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে 'ইসরাইল' বলা হয়েছে 'আল্লাহর বান্দা' অর্থে। আল্লাহু আলাম।—শারয়ি সম্পাদক

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 জ্যাকবের পরিবার

📄 জ্যাকবের পরিবার


জ্যাকবের দুজন স্ত্রী— ক) লেয়া। তার গর্ভে এসেছে—১. রুবেন, ২. শিমিয়োন, ৩. লেবি, ৪. ইহুদা, ৫. ইযাখর, ৬. সবুলুন
খ) রাহেল। তার গর্ভে জন্মেছে—১. জোসেফ, ২. বেনজামিন
তার দুজন উপপত্নীও ছিল— ক) বিলহা। তিনি রাহেলের দাসী। তার গর্ভে জন্মগ্রহণ করে—১. ড্যান, ২. নাফতালি
খ) সিলপা। তিনি লেয়ার দাসী। তার গর্ভে জন্মায়—১. গাদ, ২. আশের
সুতরাং জ্যাকবের মোট পুত্র ১২ জন।[১]
বৃদ্ধ বয়সে এসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে জ্যাকব মিশরে পাড়ি জমান।[২] ততদিনে তার পুত্র জোসেফ (ইউসুফ) মিশরের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত হয়ে গেছেন। তাই পরিবার-পরিজনদের মিশরের সমৃদ্ধ ভূমিতে চলে আসার আহ্বান জানান।[৩] 'জ্যাকবের সঙ্গে তার বংশধর যারা মিশরে গিয়েছিল, তাদের সংখ্যা মোট ছেষট্টি। জ্যাকবের পুত্রবধূদের এর মধ্যে ধরা হয়নি। জোসেফের দুই পুত্র মিশরেই জন্মগ্রহণ করে। অতএব, মিশরে যাওয়ার পর জ্যাকবের পরিবারের লোকসংখ্যা হলো মোট সত্তরজন।'[৪] এর ভেতর তার সকল সন্তান, নাতি-নাতনি এবং দুই স্ত্রী ও উভয় দাসীও অন্তর্ভুক্ত।

টিকাঃ
১. আদিপুস্তক ৩৫: ২৩-২৬
২. আদিপুস্তক ৪১: ৫৩-৫৭
৩. আদিপুস্তক ৪৫, ৪৬: ২৬-২৭
৪. আদিপুস্তক ৪৬: ২৬-২৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00