📄 মূলনীতি রক্ষা না করার জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত আলিম
» ইবনু শানবুষ (মৃত্যু: ৩২৮ হিজরি) তার সময়কার একজন বিখ্যাত কারি। কিন্তু তিনি উসমানি মুসহাফ অনুযায়ী তিলাওয়াত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন। কারণ তার তিলাওয়াত বিভিন্ন সূত্র মতে শুদ্ধ এবং ব্যাকরণসম্মত। তাই উসমানি মুসহাফ থেকে ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তিনি তা বৈধ বলে দাবি করেন। এটা নিয়ে বিচার বসলে তিনি তওবা করেন এবং তাকে ১০ দোররা শাস্তি দেওয়া হয়। [১]
তার স্বীকারোক্তিমূলক পত্র আন-নাদিম বর্ণনা করেছেন, [২]
وكتب : يقول محمد بن أحمد بن أيوب قد كنت أقرأ حروفا تخالف مصحف عثمان بن عفان) المجمع عليه, والذي اتفق أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم على قرائته, ثم بان لي أن ذلك خطأ وأنا من نائب, وعنه مقلع, وإلى الله جل اسمه منه برئ, إذ كان مصحف عثمان هو الحق الذي لا يجوز خلافه ولا يقرأ غير
উক্ত পত্রে ইবনু শানবুষ মুসলিমজাতির একমাত্র মুসহাফ অবমাননার অপরাধ স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
» ইবনু মিকসামকেও (মৃত্যু: ৩৫৪ হিজরি) ফকিহ ও কারিগণের সামনে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। তার মতে, মুসহাফ এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো কিরাত শুদ্ধ। এখানে বর্ণনাসূত্র এবং সঠিক হরকত যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই।[৩]
তাদের একজন দ্বিতীয় মূলনীতি এবং অপরজন প্রথম মূলনীতি লঙ্ঘন করেছেন। রেভারেন্ড মিংগানার মনে তাদের জন্য বড়ই সহমর্মিতা। [৪] অবশ্য উইলিয়াম টিনডেলের (মৃত্যু: ১৫৩৬ খ্রিষ্টাব্দ) মতো অবস্থা তাদের হয়নি। বাইবেলের ইংরেজি অনুবাদ করার অপরাধে তাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।[৫]
টিকাঃ
১. আল জাজারি, তাবাকাতুল কুররা, ii: ৫৩-৫৪
২. আন-নাদিম, আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা: ৩৫
৩. প্রাগুক্ত, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১২৪
৪. Mingana, Transmission, pp. 231-2.
৫. ‘William Tyndale’, Encyclopaedia Britannica (Micropaedia), 15th edition. 1974. x 218