📄 পরিচয় নির্ণয়
এমন অনেক পান্ডুলিপি রয়েছে, যার লিপিকার বহু আগে প্রয়াত হয়েছেন; কিন্তু এটি আদৌ উল্লিখিত লিপিকারের রচিত কি না, তা নিশ্চিত করব কীভাবে? হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের মতো হাদিস সংকলন যাচাইয়েরও অনেকগুলো ধাপ রয়েছে।
এখানে লেখা রয়েছে, 'আবু আব্দিল্লাহ আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি হাম্বল রচিত কিতাবুল আশরিবা। আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি আব্দিল আযিয আল-বাগাবি ইবনু বিনতি আহমাদ ইবনি মানির নিকট পড়ে শোনানো।'
(দ্বিতীয় পৃষ্ঠা) 'পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। কিতাবুল আশরিবার ভূমিকা। আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি আব্দিল আযিয আল-বাগাবি ইবনু বিনতি আহমাদ ইবনি মানি আল-বাগদাদি আমাদের এটি বাগদাদে পাঠ করে শুনিয়েছেন। ২২৮ সালে আবু আব্দিল্লাহ আহমাদ ইবনু হাম্বল তাকে তা পড়ে শুনিয়েছেন বলে বর্ণনা করেছেন...।'
এখানে লিপিকারের পরিচয় নির্ণয়ে কয়েকটি সাধারণ পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়—
> মূল লিপিকার অর্থাৎ আহমাদ ইবনু হাম্বলের জীবনী অধ্যয়ন করতে হবে। আর এর অধিকাংশ তথ্য পাওয়া যাবে তার সামসময়িক ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে। আমাদের অনুসন্ধান এখানে দুটি ভাগে বিভক্ত—এক. ইমাম আহমাদ কিতাবুল আশরিবা নামের গ্রন্থ রচনা করেছেন কি না—তা নিশ্চিত করতে হবে। দুই. তার সকল ছাত্রের তালিকা বের করে সেখানে আবুল কাসিমের অস্তিত্ব যাচাই করতে হবে। যদি দুক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়, তাহলে সামনে এগোতে পারি।
> আবুল কাসিম ইবনু বিনতি আহমাদ ইবনি মানির জীবনীও আমরা বিশ্লেষণ করব দুটি উদ্দেশ্যে। প্রথম উদ্দেশ্য তার বিশ্বস্ততা যাচাই করা, অতঃপর তার ছাত্রদের তালিকা একত্র করা।
> প্রত্যেক বর্ণনাকারীর জীবনী গবেষণা করা।
সব যাচাই-বাছাই শেষে যদি জানা যায়—আলোচ্য গ্রন্থের মূল লিপিকার ইমাম আহমাদ নিজে, বর্ণনাকারীরা বিশ্বস্ত এবং ক্রমধারাও অবিচ্ছিন্ন, কেবল তখনই লিপিকারের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারব। কিছু পাণ্ডুলিপির মধ্যে অনেক সময় জটিলতা ও অস্পষ্টতা থাকে। এগুলোর ব্যাপারে করণীয় সম্বন্ধে জানতে হলে এত ছোট আলোচনা যথেষ্ট নয়। আগ্রহীরা এক্ষেত্রে মুসতালাহুল হাদিস (مصطلح الحديث) বা হাদিসের পরিভাষাশাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারেন।[১]
টিকাঃ
১. উক্ত বিষয়ের ওপর কিছু গ্রন্থ : ইবনুস সালাহ, আল-মুকাদ্দিমা ফি উলুমিল হাদিস, আর-রামাহুরমুজি, আল-মুহাদ্দিমূল ফাসিল, ইবনু হাজার, নুযহাতুর নাযার শরহু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার ইত্যাদি।