📄 টীকা: ব্যাখ্যা সংযুক্তি
শিক্ষার্থীরা অনেক সময় নিজস্ব অনুলিপির কোনো অস্পষ্টতা দূর করার জন্য কিছু তথ্য সংযুক্ত করেন, যা মূললিপিতে উপস্থিত নয়। এতে হাদিসের কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ নতুন সংযোজনগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন ইসনাদ থেকে নেওয়া। অন্ততপক্ষে সংযুক্তকারীর সূত্র উল্লেখ থাকে সেখানে। আমার একটি কাজ থেকে এর উদাহরণ দেওয়া যায়, প্রতিলেখক বাক্যের শেষে দুটি লাইন যুক্ত করেছিলেন।[১] এছাড়াও আল-মুহাব্বার গ্রন্থের অতিরিক্ত দুই লাইন[২] এবং সহিহুল বুখারি গ্রন্থে আল-ফিরাবরির কিছু তথ্য সংযোজন উল্লেখযোগ্য[৩]। উভয় ক্ষেত্রেই নতুন ইসনাদ সহজেই শনাক্তযোগ্য।
প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীর খ্রিষ্টান লিপিকাররা নিজেদের ঐশী অনুপ্রাণিত দাবি করে টেক্সট পরিবর্তন করেছে।[৪] ইহুদিরা পরিবর্তন ঘটিয়েছে নিজেদের মূলনীতি-বিশ্বাসেই [৫] কিন্তু ইসলামের ক্ষেত্রে এমন পরিবর্তন-পরিবর্ধন প্রযোজ্য নয়। নিজস কোনো মতের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের নাম উল্লেখ এবং প্রয়োজনে নতুন ইসনাদ প্রদর্শন করতে হবে। এসব বিধিবিধানের ফলে সংযুক্ত টাকা বা ব্যাখ্যার দ্বারা মূল হাদিসের কোনো পরিবর্তন হয়নি। কারণ নতুন তথ্যগুলোর উৎস তাতে পরিষ্কার উল্লেখ করা থাকত।
টিকাঃ
১. Studies in Early Hadith Literature, Al-Azami, appendix 4.
২. আল-মুহাব্বার, ইবনু হাবিব, পৃষ্ঠা: ১২২
৩. সহিহুল বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪০৭, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা : ১০৭; আরও দেখুন, সহিহ মুসলিম: ৪০৪
৪. Early Manuscripts & Modern Translations of the New Testament, P.W. Comfort, p. 6.
৫. The Text of the Old Testament, 2nd Edition, Ernst Wuerthwein, W.B. Eerdmans Publishing Company, Grand Rapids, Michigan, 1995, p. 17.
📄 পরিচয় নির্ণয়
এমন অনেক পান্ডুলিপি রয়েছে, যার লিপিকার বহু আগে প্রয়াত হয়েছেন; কিন্তু এটি আদৌ উল্লিখিত লিপিকারের রচিত কি না, তা নিশ্চিত করব কীভাবে? হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের মতো হাদিস সংকলন যাচাইয়েরও অনেকগুলো ধাপ রয়েছে।
এখানে লেখা রয়েছে, 'আবু আব্দিল্লাহ আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি হাম্বল রচিত কিতাবুল আশরিবা। আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি আব্দিল আযিয আল-বাগাবি ইবনু বিনতি আহমাদ ইবনি মানির নিকট পড়ে শোনানো।'
(দ্বিতীয় পৃষ্ঠা) 'পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। কিতাবুল আশরিবার ভূমিকা। আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি আব্দিল আযিয আল-বাগাবি ইবনু বিনতি আহমাদ ইবনি মানি আল-বাগদাদি আমাদের এটি বাগদাদে পাঠ করে শুনিয়েছেন। ২২৮ সালে আবু আব্দিল্লাহ আহমাদ ইবনু হাম্বল তাকে তা পড়ে শুনিয়েছেন বলে বর্ণনা করেছেন...।'
এখানে লিপিকারের পরিচয় নির্ণয়ে কয়েকটি সাধারণ পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়—
> মূল লিপিকার অর্থাৎ আহমাদ ইবনু হাম্বলের জীবনী অধ্যয়ন করতে হবে। আর এর অধিকাংশ তথ্য পাওয়া যাবে তার সামসময়িক ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে। আমাদের অনুসন্ধান এখানে দুটি ভাগে বিভক্ত—এক. ইমাম আহমাদ কিতাবুল আশরিবা নামের গ্রন্থ রচনা করেছেন কি না—তা নিশ্চিত করতে হবে। দুই. তার সকল ছাত্রের তালিকা বের করে সেখানে আবুল কাসিমের অস্তিত্ব যাচাই করতে হবে। যদি দুক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়, তাহলে সামনে এগোতে পারি।
> আবুল কাসিম ইবনু বিনতি আহমাদ ইবনি মানির জীবনীও আমরা বিশ্লেষণ করব দুটি উদ্দেশ্যে। প্রথম উদ্দেশ্য তার বিশ্বস্ততা যাচাই করা, অতঃপর তার ছাত্রদের তালিকা একত্র করা।
> প্রত্যেক বর্ণনাকারীর জীবনী গবেষণা করা।
সব যাচাই-বাছাই শেষে যদি জানা যায়—আলোচ্য গ্রন্থের মূল লিপিকার ইমাম আহমাদ নিজে, বর্ণনাকারীরা বিশ্বস্ত এবং ক্রমধারাও অবিচ্ছিন্ন, কেবল তখনই লিপিকারের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারব। কিছু পাণ্ডুলিপির মধ্যে অনেক সময় জটিলতা ও অস্পষ্টতা থাকে। এগুলোর ব্যাপারে করণীয় সম্বন্ধে জানতে হলে এত ছোট আলোচনা যথেষ্ট নয়। আগ্রহীরা এক্ষেত্রে মুসতালাহুল হাদিস (مصطلح الحديث) বা হাদিসের পরিভাষাশাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারেন।[১]
টিকাঃ
১. উক্ত বিষয়ের ওপর কিছু গ্রন্থ : ইবনুস সালাহ, আল-মুকাদ্দিমা ফি উলুমিল হাদিস, আর-রামাহুরমুজি, আল-মুহাদ্দিমূল ফাসিল, ইবনু হাজার, নুযহাতুর নাযার শরহু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার ইত্যাদি।