📄 অধ্যায় শেষে
নুকাতের ব্যবহার প্রাক-ইসলামি আরবে প্রচলিত ছিল। আর উচ্চারণ চিহ্ন মুসলিমদেরই আবিষ্কার। কিন্তু উসমানি মুসহাফে কোনোটিই নেই। সম্পূর্ণ নুকাত এবং হরকতবিহীন থাকায় তা মনোনীত শিক্ষক ছাড়া নিজে নিজে পড়া অসম্ভব ছিল। এতে করে এমন একটি পদ্ধতি দাঁড়িয়ে যায়, কেউ নিজস্ব তরিকায় পড়তে গেলেই জনসম্মুখে ধরা পড়ে যাবে। মুসহাফে এসব অতিরিক্ত বিষয়াদি যুক্ত না করার ব্যাপারে ইবন মাসউদও সম্মতি দেন। পরে ইবরাহিম নাখয়িও একই পথ অনুসরণ করেন। তিনি একবার
একটি সুরার শুরুতে 'অমুক সুরার শুরু' লেখা দেখে তা অপসারণের নির্দেশ দেন। ইয়াহইয়া ইবনু কাসির বলেছেন, 'মুসলিমরা সর্বপ্রথম নুকাতকে মুসহাফের সাথে যুক্ত করে। তাদের মতে এতে করে পাঠ্য আরও সহজে পঠনযোগ্য হয়। তারপর এল আয়াত পৃথকীকরণ চিহ্ন এবং সবশেষে সুরার শুরু ও শেষ নির্দেশক।'[১]
সম্প্রতি কুরআনি অর্থোগ্রাফি সম্পর্কে একটি বিরূপ মন্তব্য চোখে পড়ে। আগের নিয়মের পরিবর্তে বর্তমান আরবি গঠনপ্রণালি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে সেখানে। আর উসমানি মুসহাফের লিপিকারদের রীতিকে বলা হয়েছে মূর্খদের নির্বুদ্ধিতা। আমি এর সাথে পুরোপুরো অসম্মতি জ্ঞাপন করছি। এটি বরং মন্তব্যকারী এবং কিছু প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের নির্বুদ্ধিতা।
কারণ তারা ভুলে গেছে-ভাষা সময়ের সাথে রূপান্তরিত হয়। বর্তমান আরবি গঠনপ্রণালি গ্রহণ করার কয়েক শতাব্দী পর অন্যরাও যে তাদের অবদানকে মূর্খদের নির্বুদ্ধিতা বলে অভিহিত করবে না-এর নিশ্চয়তা কী? অথচ মহাবিশ্বের ১৪শ বছরের কোনো পরিবর্তন একটি কিতাবের মৌলিকতায় কোনো আঁচড়ই কাটতে পারল না। এটি যে আল্লাহর প্রেরিত শব্দ সমাহার এবং তিনিই যে এর রক্ষাকর্তা, তার প্রমাণ কুরআন নিজেই। এত দীর্ঘ সময় ধরে এর বিশুদ্ধতা এবং পবিত্রতা অটুট রয়েছে, বাইবেলের মতো টানাহ্যাঁচড়া [২] এর সাথে করা যায়নি।
টিকাঃ
১. ইবনু কাসির, ফাযায়িল, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৪৬৭
২. বাইবেলের বিকৃতি সম্পর্কে ১৫ এবং ১৭ অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে।