📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 প্রেরিত মুসহাফের সাথে সংযুক্ত নির্দেশ

📄 প্রেরিত মুসহাফের সাথে সংযুক্ত নির্দেশ


১. উসমানি মুসহাফের সাথে অসাঞ্জস্যপূর্ণ সকল ব্যক্তিগত সংগ্রহ পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ প্রদান করা হয়। তা না হলে ভবিষ্যতে এ নিয়ে বৈপরীত্য সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যেত। আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত— খলিফা উসমান প্রতিটি মুসলিম সেনা শিবিরের কাছে মুসহাফ প্রেরণ করার পর সেটির সাথে বিভেদপূর্ণ অনুলিপিগুলো পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।[১]
এছাড়াও অন্যান্য বর্ণনা থেকে উসমান কর্তৃক পূর্ববর্তী অনুলিপিগুলো ছিঁড়ে বা পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ পাওয়া যায়।[২] আবার কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় কালি মুছে ফেলার নির্দেশ। আবু কিলাবা বলেছেন, 'প্রতিটি কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে খলিফা উসমান লিখে পাঠান, আমি... নিজের সংগ্রহে যা ছিল তা মুছে ফেলেছি। এখন তোমাদের কাছে যা আছে তা মুছে ফেলো।'[৩]
একবার ইরাক থেকে মদিনায় সফর করে উবাই ইবনু কাবের পুত্রের কাছে একটি প্রতিনিধিদল আসে। তারা জানায়, অনেক কষ্ট করে তারা উবাইয়ের মুসহাফ দেখার জন্য এসেছে। তখন তিনি জানান, উসমান তা নিয়ে গেছেন। শুনে তারা ভাবে, তিনি বুঝি দেখাতে চাইছেন না। তাই তারা আবার অনুরোধ করল। কিন্তু এবারও তারা একই উত্তর পেল।[৪]
যদিও অধিকাংশ বর্ণনায় 'আত-তাহরিক' অর্থাৎ পোড়ানো শব্দটি এসেছে, তবুও সম্ভাব্য সকল পদ্ধতিই মাথায় রাখা চাই। এটি ইবনু হাজারের মত। হয়তো কেউ পুড়িয়ে ফেলেছে, কেউ ছিঁড়ে ফেলেছে বা মুছে দিয়েছে।[৫] তবে আরও একটি সম্ভাবনা থেকে যায়। কেউ কেউ হয়তো উসমানি মুসহাফের সাথে নিজেরটি তুলনা করে পার্থক্যের জায়গাগুলো শুধরে নিয়েছে। আব্দুল আলা ইবনু হাকাম কিলাবির বর্ণনা এক্ষেত্রে তুলে ধরা যায়—
'একদিন আবু মুসা আশআরি রাযিয়াল্লাহু আনহুর ঘরে গেলাম। দেখি, তিনি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ওপর তলায়। উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর পাঠানো একটি মুসহাফ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তারা। নির্দেশনা ছিল—যেন এর সাথে মিলিয়ে তাদের নিজেদেরগুলো তারা শুধরে নেন।'[৬]
২. খলিফা উসমানের দ্বিতীয় নির্দেশনা ছিল মুসহাফ বহির্ভূত লিপি থেকে পাঠ না করা। সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বের সকল অনুলিপি নষ্ট বা সংশোধন করা হয়েছে। তাই স্বভাবতই উসমানি লিপি এবং বানানরীতি এখন নতুন আদর্শ। তখন থেকে চালু হয় উসমানি লিপি অনুযায়ী কুরআন শিক্ষার রীতি। কেউ হয়তো আগে অন্য রীতিতে শিখেছে। এখন থেকে তার আর ওই রীতিতে তিলাওয়াত বা শিক্ষাদানের অনুমতি নেই।[৭] নতুন করে প্রমিতরীতি শিখে নেওয়াই তার একমাত্র সমাধান। সেটা হয়ে গেলে সে আবারও তিলাওয়াত এবং শিক্ষাদানের মর্যাদা ফিরে পেত। সব মিলিয়ে এ ব্যাপারে গোটা মুসলিমজাতির অবিচ্ছিন্ন সমর্থনই ছিল উসমানের অসামান্য সাফল্যের সবচেয়ে বড় নিদর্শন।

টিকাঃ
১. ইবনু আবি দাউদ, আল-মাসাহিফ, পৃষ্ঠা: ১৯-২০; সহিহুল বুখারি: ৪৯৮৭; ইবনু কাসির, ফাযায়িল, vi: ৪৪১
২. ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ২০
৩. প্রাযুক্ত, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ২১
৪. ইবনু আবি দাউd, আল-মাসাহিফ, পৃষ্ঠা: ২৫
৫. ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২১
৬. ইবনু আবি দাউদ, আল-মাসাহিফ, পৃষ্ঠা: ৩৫
৭. বিস্তারিত আলোচনা ১২তম অধ্যায়ে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00