📄 রাষ্ট্রীয়ভাবে পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ
সংকলন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর খলিফা আবু বকরের তত্ত্বাবধানে তা রাষ্ট্রীয় সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করা হয়। মোটকথা বিক্ষিপ্ত কুরআনকে একক খন্ড আকারে সাজান তিনি। একেই বলা হয় ‘সুহূফ’। শব্দটি বহুবচন। এর একবচন হলো ‘মুসহাফ’—যা আমার মতে ভিন্ন অর্থ বহন করে। যাইদ ইবনু সাবিতের চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলে সকল সুরা ও আয়াত যথাযথভাবে সজ্জিত হয়। তিনি মদিনার অধিবাসী হওয়ায় প্রসিদ্ধ মাদানি লিপি ও বানানরীতি অনুসরণ করেন। তবে সংকলনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পত্র বা চামড়াগুলো আকারে বিসদৃশ হওয়ায় এগুলো একটি স্তূপে রূপ নেয়। তাই একে বহুবচনে সুহুফ বা পত্রপুঞ্জ বলে সম্বোধন করা হয়।
মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে সুদূর বিস্তৃত ইসলামি খিলাফতের সর্বত্র কুরআনের প্রতিলিপি প্রেরণ করার উদ্যোগ নেন খলিফা উসমান। জিহাদ থেকে অর্জিত সম্পদের ফলে মানসম্মত লেখার উপাদানও সহজলভ্য হয়ে ওঠে ততদিনে। ফলে সমআকৃতির পত্রবিশিষ্ট গ্রন্থ তৈরি করা সম্ভব হয়। এগুলোই মূলত মুসহাফ নামে পরিচিতি লাভ করে।[১]
টিকাঃ
১. সহিহুল বুখারি: ৪৯৮৬; সহিতু ইবনি হিববান: ৪৫০৬; আবু উবাইদ, ফাযায়িল, পৃষ্ঠা: ২৮১