📄 ওহি লেখক
মদিনার সময়কাল সম্পর্কে আমাদের হাতে তথ্যের প্রাচুর্য রয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৬৫ জন সাহাবির নাম পাওয়া যায় যারা কোনো না কোনো সময় নবিজির ওহি লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন-
আবান ইবনু সাইদ, আবু উমামা, আবু আইয়ুব আনসারি, আবু বকর সিদ্দিক, আবু হুযাইফা, আবু সুফিয়ান, আবু সালামা, আবু আবাস, উবাই ইবনু কাব, আল-আরকাম, উসাইদ ইবনু হুদাইর, আউস, বুরাইদা, বাশির, সাবিত ইবনু কাইস, জাফর ইবনু আবি তালিব, জাহম ইবনু সাদ, জুহাইম, হাতিব, হুযাইফা, হুসাইন, হানযালা, হুওয়াইতিব, খালিদ ইবনু সাদ, খালিদ ইবনু ওয়ালিদ, যুবাইর ইবনু আওয়াম, যুবাইর ইবনু আরকাম, যাইদ ইবনু সাবিত, সাদ ইবনু রাবি, সাদ ইবনু উবাদা, সাইদ ইবনু সাইদ, শুরাহবিল ইবnu হাসানা, তালহা, আমির ইবnu ফুহাইরা, আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবnu আরকাম, আব্দুল্লাহ ইবnu আবি বকর, আব্দুল্লাহ ইবnu রাওয়াহা, আব্দুল্লাহ ইবnu যাইদ, আব্দুল্লাহ ইবnu সাদ, আব্দুল্লাহ ইবnu আব্দিল্লাহ, আব্দুল্লাহ ইবnu আমর, উসমান ইবnu আফফান, উকবা, আলা-হাদরামি, আলা ইবnu উকবা, আলি ইবnu আবি তালিব, উমার ইবnu খাত্তাব, আমর ইবnu আস, মুহাম্মাদ ইবnu মাসলামা, মুয়ায ইবnu জাবাল, মুআবিয়া, মান ইবnu আদি, মুয়াইকিব, মুগিরা, মুনজির, মুহাজির, ইয়াজিদ ইবnu আবি সুফিয়ান রাযিয়াল্লাহু আনহুম। [১]
টিকাঃ
১. বিস্তারিত জানতে দেখুন, আল-আযমি, কুততাবুন নাবি
📄 শ্রুতিলিখন
ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো একজন ওহি লেখককে খবর দিতেন। লেখক এসে নতুন আয়াতগুলো লিপিবদ্ধ করতেন।[১] যাইদ ইবনু সাবিত বলেন, মসজিদে নববির নিকটবর্তী এলাকায় বাস করায় প্রায়ই তাকে ওহি লিপিবদ্ধ করার জন্য ডাকা হতো। [২] জিহাদের আয়াত নাযিল হওয়া পর নবিজি তাকে ফলক, দোয়াত ও লেখার সরঞ্জাম নিয়ে আসতে বলেন এবং তিলাওয়াত শুরু করেন। জিহাদের কথা শুনে নbiজির পাশে থাকা আমর ইবনু উম্মি মাকতুম রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আমার কী উপায়? আমি তো অন্ধ।' এরপরই সেই আয়াত এল, 'অক্ষম নয় এমন... '[৩]
শ্রুতিলিখনের পর তা নিশ্চিত হতে পুনরায় মিলিয়ে নেওয়ার প্রমাণও পাওয়া যায়। আয়াত লেখা শেষ হয়ে গেলে যাইদ ইবনু সাবিত সেগুলো আবার নবিজিকে পড়ে শুনিয়ে বিশুদ্ধতা যাচাই করে নিতেন।[৪]
টিকাঃ
১. আবু উবাইদ, ফাযায়িল, পৃষ্ঠা: ২৮০; ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ২২
২. ইবনু আবি দাউদ, আল-মাসাহিফ, পৃষ্ঠা: ৩; সহিহুল বুখারি: ৪৯৮৯
৩. সুরা নিসা, আয়াত: ১৫; ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ২২; সাআতি, মিনহাতুল মাবুদ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৭
৪. খুলি, আদাবুল কুততাব, পৃষ্ঠা: ১৬৫; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, পৃষ্ঠা: ১৫২
📄 কুরআন লিখনের ব্যাপকতা
সবাই ব্যাপকভাবে কুরআন লিখে রাখা শুরু করলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন ছাড়া আর কিছু না লেখার নির্দেশ জারি করলেন—
'কুরআন ছাড়া কেউ যদি আমার থেকে কিছু লিখে থাকে, তবে যেন তা মুছে ফেলে।'[১]
এর অর্থ কুরআন এবং কুরআন-বহির্ভূত বাণী (হাদিস) যেন একই সাথে লিপিবদ্ধ না করা হয়। সন্দেহের অবকাশ না রাখতে এমনটি করা হয়। যারা লিখতে পারত না, তারাও মসজিদে লেখার সরঞ্জাম নিয়ে আসত; যাতে কেউ তাদের লিখে দেয়।[২]
তার মানে ওহি লেখকদের সংখ্যা বিপুল। আবার নতুন আয়াত আসার পরপর সেগুলো লিপিবদ্ধ করাও ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কাজেই নবিজির জীবদ্দশায়ই যে সম্পূর্ণ কুরআন লিখিত আকারে বিদ্যমান ছিল, এ কথা সহজেই অনুমেয়।
টিকাঃ
১. সহিহ মুসলিম: ৩০০৪; বিস্তারিত জানতে দেখুন, M.M. Al-Azami, Studies in Early Hadith Literature, American Trust Publications, Indiana, 1978, pp. 22-24
২. আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি ১১০৬৫; হাদিসটি সহিহ।