📄 অধ্যায় শেষে
অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের ব্যাপারে ইতিহাস কিন্তু খুব একটা উদারতা দেখায়নি। ঈসা আলাইহিস সালামের মূল ও অবিকৃত ইঞ্জিল শুরুর যুগেই হারিয়ে যায়। এমনভাবেই তা নষ্ট হয়েছে, সেটা আর পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি। মূল ধর্মগ্রন্থের স্থলে জায়গা করে নিয়েছে ঈসা আলাইহিস সালামের জীবনী। তা-ও আবার লিখেছে যথাযথ নাম-পরিচয়হীন এমন সব লেখক, যাদের কেউ নবি ঈসা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান রাখে না। দীর্ঘকালের অযত্ন-অবহেলা এবং পৌত্তলিক চর্চার সময়ে ওল্ড টেস্টামেন্টও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এসবের বিপরীতে কুরআনের অবস্থা দেখুন। নবিজির জীবদ্দশাতেই তা সমগ্র আরব উপদ্বীপে দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়ে। আর তা এগিয়ে নিয়ে গেছেন সেসব সাহাবি যারা এর শিক্ষা ও শিক্ষণের অনুমতি পেয়েছেন স্বয়ং নবিজির কাছ থেকে। আজকের
বিশাল সংখ্যক কুরআনের হাফিজ সেই সার্থকতার সাক্ষ্যই বহন করে চলেছে।
কিন্তু কুরআনের প্রচার কি শুধু মৌখিক পন্থায় হয়েছে? আগেই জেনেছি, নবিজির একটি মূল লক্ষ্য ছিল কুরআনকে লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা। তিনি সেই লক্ষ্যে কীভাবে পৌঁছলেন? এগুলো নিয়েই সামনের অধ্যায়ের আলোচনা।