📄 কুরআন তিলাওয়াত : শেখা ও শেখানো
আল্লাহর কালাম শিক্ষার প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করে তুলতে নবিজি কোনো চেষ্টা বাকি রাখেননি।
উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
তোমাদের মধ্যে সে-ই সর্বোত্তম, যে নিজে কুরআন শেখে ও অপরকে শেখায়।[৬]
একই হাদিস আলি রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত হয়েছে।[১]
ইবনু মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে—
যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি বর্ণ পাঠ করবে, তার একটি নেকি হবে। আর একটি নেকি ১০টি নেকির সমান। বলছি না যে—আলিফ-লাম-মিম একটি বর্ণ; বরং আলিফ একটি বর্ণ, লাম একটি বর্ণ, মিম একটি বর্ণ।[২]
কুরআন শিক্ষার ত্বরিত পুরস্কার ছিল জামাতে মুসলিমদের ইমামতি করার মর্যাদা। সে যুগে এ পদমর্যাদা অত্যধিক গুরুত্ব বহন করত। আবু মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে কুরআন হিফজ এবং শিক্ষা করেছে, সালাতে সে ইমামতি করবে।[৩]
নিজের গোত্রসমেত নবিজির কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন আমর ইবনু সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহু। চলে যাওয়ার আগে তারা জিজ্ঞেস করে, ‘আমাদের সালাতের ইমাম কে হবে?’
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে দিলেন—
তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি কুরআন সংরক্ষণ বা আয়ত্ত করেছে, সে।[৪]
ইন্তেকালের আগে নবিজির স্থলে ইমামতির সুযোগ লাভ করেন আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু। আর এ বিষয়টাই খলিফা মনোনয়নের সময় তার যোগ্যতার প্রমাণ হিসাবে কাজ করে।
এর আরেকটি উপকার হলো স্বচক্ষে ফেরেশতা দেখার মতো শিহরণ-জাগানিয়া অভিজ্ঞতার সম্ভাবনা। উসাইদ ইবনু হুদাইর নিজ ঘরে একরাতে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। এমন সময় বাইরে তার ঘোড়া উত্তেজিত হয়ে লাফানো শুরু করে দেয়। তিনি থামলে ঘোড়াও থেমে যায়। আবার পড়া শুরু করলে ঘোড়াও লাফানো শুরু
করে। নিজের ছেলে ঘোড়ার পায়ের নিচে পড়ে গেল কি না-এ ভয়ে পড়া থামিয়ে দেখতে গেলেন তিনি। গিয়ে দেখেন চাদরাবৃত একটি আলোকিত অবয়ব ভাসতে ভাসতে আসমান পানে উঠে যাচ্ছে। পরের দিন নবিজির কাছে গিয়ে তিনি ঘটনার বিবরণ দিলেন। শুনে নবিজি তাকে বললেন, 'তুমি তিলাওয়াত না থামালেই ভালো হতো।'
উসাইদ জানালেন, ছেলের জন্য চিন্তা হওয়ায় তিলাওয়াত থামিয়ে দিয়েছিলেন।
রাসুল বললেন, 'তারা ফেরেশতা। তুমি তিলাওয়াত চালিয়ে গেলে মানুষ সকালেও দেখতে পেত তাদেরকে। তারা নিজেদের আড়াল করতেন না।' [১]
ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- দুটি বিষয় ছাড়া আর কিছু নিয়ে ঈর্ষা করতে নেই-
এক. সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের জ্ঞান দান করেছেন আর সে তা দিনরাত অধ্যয়ন করে।
দুই. সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তা সে সকাল-সন্ধ্যায় দান করে।[২]
উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- এ কিতাবের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা অনেক লোককে মর্যাদায় উন্নীত করেন আর অনেককে অবনত করেন। (অর্থাৎ যারা এ কিতাবের অনুসারী হবে, তারা দুনিয়ায় মর্যাদাবান এবং আখিরাতে জান্নাত লাভ করবে। আর যারা একে অস্বীকার করে অমান্য করবে, তারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত এবং পরকালে জাহান্নামে পতিত হবে।) [৩]
কয়েকজন নিরক্ষর বৃদ্ধ লোকের পক্ষে কুরআন মুখস্থ করা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছিল। তাদের শরীরের অবস্থা ছিল ভগ্নপ্রায়। কিন্তু কুরআনুল কারিমের কল্যাণ থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়নি। কারণ যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত শুনবে, তার
জন্যও রয়েছে বিরাট পুরস্কার। ইবনু আব্বাস বলেছেন, 'আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত শোনা ব্যক্তিকে বিচারের দিনে আলো প্রদান করা হবে।' [১]
ভালোভাবে মুখস্থ নেই-এরকম দুর্বল স্মৃতিওয়ালা ব্যক্তি লিখিত প্রতিলিপি জোগাড় করতে আলসেমি করতে পারে। তাই নবিজির ঘোষণা, 'মুসহাফ (লিখিত প্রতিলিপি) ছাড়া কুরআন তিলাওয়াতের পুরস্কার ১ হাজার গুণ বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু মুসহাফসহ তিলাওয়াত সেই পুরস্কারকে দ্বিগুণ করে দেয়...।'[২]
কুরআনের হাফিজদের মাহাত্ম্য হাদিসে আলাদা করে এসেছে। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতকারী, হাফিজ ও এর ওপর আমলকারীকে (কিয়ামতের দিন) বলা হবে, কুরআন পড়তে থাকো ও ওপরে উঠতে থাকো। দুনিয়ায় যেভাবে স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে পড়তে, সেভাবে। কেননা (জান্নাতে) তোমার স্থান ঠিক সেখানে হবে, যেখানে তোমার শেষ আয়াতটি খতম হবে। [৩]
এত কল্যাণ উপেক্ষা করেও কেউ কেউ নিশ্চেষ্ট বসে থাকতে পারে। তাদের উদ্দেশ্যে সাবধানবাণী জানিয়ে দিয়েছেন নবিজি। ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত—
যে হৃদয়ে কুরআনুল কারিমের কোনো জ্ঞান নেই, সে হৃদয় বিরান ঘরের সমতুল্য [৪]
কুরআন হিফজ করার পর তা ভুলে যাওয়াকেও একটি বড় গুনাহ হিসেবে তিরস্কৃত করেছেন তিনি। পরামর্শ দিয়েছেন দৈনিক কুরআন তিলাওয়াতের। আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
কুরআনের জ্ঞান বারবার ঝালাই করো। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! উট তার রশি থেকে যেমন দ্রুত পালিয়ে যায়, এর চেয়েও তীব্র বেগে পালায় এ কুরআন [৫]
নবিজির ইন্তেকাল-পরবর্তী একটি ঘটনা বর্ণনায় হারিস আওয়ার বলেন—
একবার মসজিদে গিয়ে দেখি কিছু লোক নানারকম আলাপ করছে। আমি আলি রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গিয়ে বললাম, 'আমিরুল মুমিনিন, দেখলেন মানুষ কীসব অযথা আলাপে লিপ্ত!'
তিনি প্রশ্ন করলেন, 'আসলেই?'
আমি তাকে নিশ্চিত করলাম। তিনি বললেন, 'শোনো, আমি আল্লাহর রাসুলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সাবধান! শীঘ্রই ফিতনা-ফাসাদ দেখা দেবে।'
আলি বলেন, 'আমি প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর রাসুল, এ ফিতনা হতে আত্মরক্ষার উপায় কী?'
তিনি বললেন-
আল্লাহ তাআলার কিতাব (কুরআন)। এতে আছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের তথ্য ও পরবর্তীদের সংবাদ এবং তোমাদের মাঝে ফয়সালার বিধান। এটা (সত্য-মিথ্যার মধ্যে) সুস্পষ্ট বিভাজনকারী, কোনো খেল-তামাশা নয়। যে ব্যক্তি অহংকার করে এটা ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তার দম্ভ চূর্ণ করবেন। এটাকে বাদ দিয়ে যে পথনির্দেশ খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটা আল্লাহর মজবুত রশি, প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং সহজ-সরল পথ। এর অনুসরণে মানুষের চিন্তাধারা বিপথগামী হয় না এবং এতে জবানও বিভ্রান্ত হয় না।
জ্ঞানীদের তৃষ্ণা শেষ হয় না, বারবার পড়লেও এটা পুরোনো হয় না এবং এর রহস্য ও বিস্ময়ের কোনো অন্ত নেই। এটা সেই গ্রন্থ যা শোনামাত্রই জিনেরা বলে উঠেছিল, 'আমরা এক আশ্চর্যজনক কুরআন শুনলাম, যা সঠিক পথের সন্ধান দেয়। সুতরাং আমরা এতে ঈমান এনেছি।' (সুরা জিন, আয়াত: ১-২)
যে ব্যক্তি কুরআন অনুযায়ী কথা বলে সে সত্য বলে। যে ব্যক্তি তদনুযায়ী কর্ম পরিচালনা করে সে তার প্রতিদান পায়। যে ব্যক্তি এর সাহায্যে ফয়সালা করে সে ইনসাফ করে এবং যে ব্যক্তি এর দিকে আহ্বান করে সে সঠিক পথ দেখায়।
(হারিস আওয়ার বলেন, অতঃপর আলি রাযিয়াল্লাহু আনহু আমাকে লক্ষ্য করে বললেন) 'আওয়ার, এটা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো।' [১]
এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, প্রত্যেক মুসলিমকে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার এই বিশাল
কাজটা নবিজি কীভাবে সামাল দিলেন? এর উত্তর দিতে হলে আলোচনাকে এখন নবিজির মক্কা ও মদিনার জীবনে ভাগ করে নিতে হবে।
টিকাঃ
১. সুনানু তিরমিযি : ২৬৪৯; সুনানু আবি দাউদ: ৩৬৫৮; হাদিসটি সহিহ।
২. আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব: ২০৪; মাজমাউয যাওয়ায়িদ: ৭৪৮
৩. আল-কাত্তানি, আত তারাতিব আল-ইদারিয়া, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৩৯
৪. সুনানু আবি দাউদ: ৩৪১৬; মুসনাদু আহমাদ: ২২৭৬৬; হাদিসটি সহিহ।
৫. মুসনাদু আহমাদ: ২২১৬; মুস্তাদরাকুল হাকিম: ২৬২১; হাদিসটি হাসান।
৬. সহিহুল বুখারি: ৫০২৭; সুনানু আবি দাউদ: ১৪৫২
৭. সুনানু তিরমিযি: ২৯০৯; সুনানু দারিমি: ৩৩৮০; হাদিসটি হাসান।
৮. সুনানু তিরমিযি: ২৯১০; মুস্তাদরাকুল হাকিম: ২০৪০; হাদিসটি সহিহ।
৯. সহিহ মুসলিম: ৬৭৩; সুনানু আবি দাউদ: ৫৮২, ৫৮৫
১০. সুনানু আবি দাউদ: ৫৮৭; মুসনাদু আহমাদ: ২০৩৩২, ২০৬৮৬; হাদিসটি হাসান।
১১. সহিহুল বুখারি: ৫০১৮; সহিহ মুসলিম: ৭৯৬
১২. সহিহুল বুখারি: ৫০২৫, ৭৫২৯; সহিহ মুসলিম: ৮১৫
১৩. সহিহ মুসলিম: ৮১৭; সুনানু ইবনি মাজাহ: ২১৮
১৪. আবু উবাইদ, ফাযায়িল, পৃষ্ঠা: ৬২; আল-ফারাবি, ফাযায়িল, পৃষ্ঠা: ১৭০
১৫. সুয়ুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা: ৩০৪
১৬. সুনানু আবু দাউদ: ১৪৬৪; সুনানুত তিরমিযি: ২৯১৪; হাদিসটি সহিহ।
১৭. সুনানু তিরমিযি: ২৯১৩; মুস্তাদরাকুল হাকিম: ২০৩৭; হাদিসটি হাসান।
১৮. সহিহুল বুখারি: ৫০৩২, ৫০৩৯; সহিহ মুসলিম: ৭৯০
১৯. সুনানুত তিরমিযি: ২৯০৬; সুনানুদ দারিমি: ৩৩৭৪
📄 শিক্ষা কার্যক্রমের ফলাফল : কুরআনে হাফিজ সাহাবি
কুরআনুল কারিম শিক্ষার জন্য এভাবে একের পর এক কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। তৈরি করা হয় বিভিন্ন সুযোগ। এর সাথে যুক্ত হয় অসংখ্য মানুষ, যারা দেশ-বিদেশে এর প্রচার-প্রচারণায় লেগে যায়। ফলাফলস্বরূপ সাহাবিদের মাঝে তৈরি হয় বিপুল সংখ্যক হাফিজ। তাদের মধ্যে অনেকেই বিরে মাউনা ও ইয়ামামায় শাহাদাতবরণ করেন। তাদের অনেকের নামই সংরক্ষিত হয়নি ইতিহাসে। তবে জীবিতদের নাম পাওয়া যায়। তারা মদিনা কিংবা ক্রম বিকাশমান মুসলিম সাম্রাজ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। সেসব সাহাবির মধ্যে রয়েছেন—
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ, [২] আবু আইয়ুব আনসারি, [৩] আবু বকর সিদ্দিক, [৪] আবু দারদা, [৫] আবু যাইদ, [৬] আবু মুসা আশআরি, [৭] আবু হুরাইরা, [৮] উবাই ইবনু কাব, [৯] উম্মু সালামা, [১০] তামিম আদ-দারি, [১১] হুযাইফা, [১২] হাফসা, [১৩] যাইদ ইবনু সাবিত, [১৪]
সালিম মাওলা আবি হুযাইফা, [১] সাদ ইবনু উবাদা, [২] সাদ ইবনু উবাইদ, [৩] সাদ ইবনু মুনযির, [৪] শিহাব কুরাশি, [৫] তালহা, [৬] আয়িশা, [৭] উবাদা ইবনু সামিত, [৮] আব্দুল্লাহ ইবনু সাইব, [৯] আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস, [১০] আব্দুল্লাহ ইবনু উমার, [১১] আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, [১২] উসমান ইবনু আফফান, [১৩] আতা ইবনু মারকায়ুদ (ইয়েমেনে বাসকারী একজন ফারসি), [১৪] উকবা ইবনু আমির, [১৫] আলি ইবনু আবি তালিব, [১৬] উমার
ইবনু খাত্তাব, [১] আমর ইবনুল আস, [২] ফুজালা ইবনু উবাইদ, [৩] কায়িস ইবনু আবি সাসাআ, [৪] মুজাম্মা ইবনু জারিয়া, [৫] মাসলামা ইবনু মাখলাদ, [৬] মুয়ায ইবনু জাবাল, [৭] মুয়ায আবু হালিমা, [৮] উম্মু ওয়ারকা বিনতু আব্দিল্লাহ ইবনি হারিস, [১] আব্দুল ওয়াহিদ রাযিয়াল্লাহু আনহুম।[১০]
টিকাঃ
১. যাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৪৫; ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২
২. ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫৩
৩. ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২; কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা: ৪৫-৬
৪. ইবনু হাবিব, আল-মুহাব্বার, পৃষ্ঠা: ২৮৬; আন-নাদিম, আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা: ২৭; দুলাবি, আল-কুনা, পৃষ্ঠা: ৩১-২, কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা: ৪৬
৫. Ibn Sa'd, Tabaqat, vol : 2, part: 2, p. 112.
৬. ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২
৭. ইবনু হাবিব, আল-মুহাব্বার, পৃষ্ঠা: ৮৬, আন-নাদিম, আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা: ২৭; যাহাবি, তাবাকাতুল কুররা, পৃষ্ঠা: ৯
৮. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২
৯. সহিহুল বুখারি: ৫০০৩; ইবnu হাবিব, আল-মুহাব্বার, পৃষ্ঠা: ৮৬, আন-নাদিম, আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা: ২৭; যাহাবি, তাবাকাতুল কুররা, পৃষ্ঠা: ৯
১০. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২
১১. প্রাগুক্ত
১২. কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা: ৪৫; ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২
১৩. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২; সুযুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা: ২০২
১৪. Ibn Sa'd, Tabaqat, vol: 2, part: 2, p. 112; সহিহুল বুখারি, ৫০০৩, ৫০০৪; ইবnu হাবিব, আল-মুহাব্বার, পৃষ্ঠা: ৮৬, আন-নাদিম, আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা: ২৭; যাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা,
খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ২৪৫, ৩১৮
১৫. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২; কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা : ৪৫
১৬. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২
১৭. ইবnu হাবিব, আল-মুহাব্বার, পৃষ্ঠা : ২৮৬; হাকিম, মুস্তাদরাক, পৃষ্ঠা : ২৬০, আন-নাদিম, আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা : ২৭; যাহাবি, তাবাকাতুল কুররা, পৃষ্ঠা : ১৫; ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২; সুয়ুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা : ২০২
১৮. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫৩
১৯. ইবnu হাজার, আল-ইসাবা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা : ১৫৯; আল-কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা : ৪৬
২০. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২; আল-কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা : ৪৫
২১. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২; আস-সুয়ুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা : ২০২
২২. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২-৫৩
২৩. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২; আল-কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা : ৪৫
২৪. ইবnu কাসির, ফাযায়িলুল কুরআন, পৃষ্ঠা : ৭, ৪৭১; ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২
২৫. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, ix : ৫২; সুয়ুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা : ২০২; যাহাবি, তাবাকাতুল কুররা, পৃষ্ঠা : ১৯
২৬. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২
২৭. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২; যাহাবি, তাবাকাতুল কুররা, পৃষ্ঠা : ৫
২৮. ইবnu হিব্বান, সিকাত, পৃষ্ঠা : ২৮৬; আর-রাজি, তারিখু মাদিনাতি সানআ, পৃষ্ঠা : ৩৩৭
২৯. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২; সুয়ুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা : ২০৩; যাহাবি, তাবাকাতুল কুররা, পৃষ্ঠা : ১৯; তাবাকাতুল কুররা
৩০. আন-নাদিম, আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা : ২৭; ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ১৩, ৫২; মাহানি, তাবাকাতুল কুবরা, পৃষ্ঠা : ৭; কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা : ৪৫; সুয়ুতি, আল-ইবnu কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা: ৪৫; ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২; সুয়ুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা: ২০২; ইবnu ওয়াহব, জামি ফি উলুলুমিল কুরআন, পৃষ্ঠা: ২৮০
৩১. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২
৩২. সুয়ুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা: ২০২; ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২
৩৩. সুয়ুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা: ২০৩; ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড : ৯, পৃষ্ঠা: ৫২
৩৪. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২; কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা: ৪৬
৩৫. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২; সুয়ুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা: ২০২
৩৬. সহিহ্বল বুখারি, হাদিস ৫০০৩, ৫০০৪; ইবnu হাবিব, আল-মুহাব্বার, পৃষ্ঠা: ২৮৬; যাহাবি, তাবাকাতুল কুররা, পৃষ্ঠা: ১৯; আন-নাদিম, আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা: ২৭; ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫৩
৩৭. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২
৩৮. ইবnu হাজার, ফাতহুল বারি, খন্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫২, সুয়ুতি, আল-ইতকান, পৃষ্ঠা: ২০৩-৪; কাত্তানি, আত-তারাতিবুল ইদারিইয়া, পৃষ্ঠা: ৪৭
৩৯. ইবnu ওয়াহব, আল-জামি ফি উলুমিল কুরআন, পৃষ্ঠা: ২৬৩
📄 অধ্যায় শেষে
অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের ব্যাপারে ইতিহাস কিন্তু খুব একটা উদারতা দেখায়নি। ঈসা আলাইহিস সালামের মূল ও অবিকৃত ইঞ্জিল শুরুর যুগেই হারিয়ে যায়। এমনভাবেই তা নষ্ট হয়েছে, সেটা আর পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি। মূল ধর্মগ্রন্থের স্থলে জায়গা করে নিয়েছে ঈসা আলাইহিস সালামের জীবনী। তা-ও আবার লিখেছে যথাযথ নাম-পরিচয়হীন এমন সব লেখক, যাদের কেউ নবি ঈসা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান রাখে না। দীর্ঘকালের অযত্ন-অবহেলা এবং পৌত্তলিক চর্চার সময়ে ওল্ড টেস্টামেন্টও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এসবের বিপরীতে কুরআনের অবস্থা দেখুন। নবিজির জীবদ্দশাতেই তা সমগ্র আরব উপদ্বীপে দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়ে। আর তা এগিয়ে নিয়ে গেছেন সেসব সাহাবি যারা এর শিক্ষা ও শিক্ষণের অনুমতি পেয়েছেন স্বয়ং নবিজির কাছ থেকে। আজকের
বিশাল সংখ্যক কুরআনের হাফিজ সেই সার্থকতার সাক্ষ্যই বহন করে চলেছে।
কিন্তু কুরআনের প্রচার কি শুধু মৌখিক পন্থায় হয়েছে? আগেই জেনেছি, নবিজির একটি মূল লক্ষ্য ছিল কুরআনকে লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা। তিনি সেই লক্ষ্যে কীভাবে পৌঁছলেন? এগুলো নিয়েই সামনের অধ্যায়ের আলোচনা।