📄 অধ্যায় শেষে
কুরআন হিফজ, শিক্ষাদান, সংরক্ষণ, সংকলন এবং ব্যাখ্যা করা ছিল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রধান দায়িত্ব। কুরআনের প্রবল আকর্ষণে শোনার জন্য কান পেতে থাকত মুশরিকরা। নবিজি এবং প্রথম যুগের মুসলিম সমাজ কুরআনের অপরিবর্তিত এবং বিশুদ্ধরূপ নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করব।
এই অধ্যায় শেষ করার আগে বর্তমানের একটি বাস্তবতার দিকে তাকাই। চলমান যুগে কতটা সফলতার সাথে কুরআন শিক্ষার ধারা অব্যাহত আছে, তা খেয়াল করি। পৃথিবীজুড়ে মুসলিমরা ইতিহাসের অসহায়তম সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এমন এক যুগ, যেখানে ধর্মবিশ্বাস টিকিয়ে রাখাই দায়। এরকম অবস্থার মাঝেও ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, দেশ-জাতি নির্বিশেষে লক্ষ লক্ষ মুসলিম পরিপূর্ণভাবে কুরআন হিফজ করেছে।
এখন এর সাথে বাইবেলের তুলনা করা যাক। প্রায় ২ হাজার ভাষায় অনূদিত এই গ্রন্থ বিশদভাবে মুদ্রিত এবং বণ্টিত হচ্ছে। তাদের তহবিল দেখে তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রীয় বাজেটও লজ্জা পেয়ে যাবে। ফলে বাইবেল এমন এক বেস্টসেলার, যা কিনতে প্রচুর মানুষ আগ্রহী হলেও পাঠের ক্ষেত্রে খুব একটা নয়।[১] আর এমন ঔদাসীন্যের গভীরতার মাত্রা সাধারণ মানুষের চিন্তারও বাইরে।
১৯৯৭ সালের ২৬ জানুয়ারিতে The Sunday Times পত্রিকায় খ্রিষ্টানদের ঐশী ১০ আজ্ঞা বা Ten Commandments-এর ওপর করা একটি জরিপের ফলাফল ছাপা হয়। ২০০ এঙ্গলিকান পাদ্রির ওপর করা হয় সেই জরিপ। তারা কোনো ধর্মজ্ঞানহীন সাধারণ খ্রিষ্টান নন। অথচ জরিপ বলছে ব্রিটেনের দুই তৃতীয়াংশ যাজকও ঈশ্বরের ১০ আজ্ঞা সঠিকভাবে বলতে পারেননি! শ্লোকগুলো কিন্তু তাদের একদম মৌলিক নীতিগত বিধান। এই হলো ধর্মপ্রতিনিধিদের অবস্থা!
অন্যদিকে কুরআনের প্রতিটি আয়াত লক্ষ লক্ষ মানুষের স্মৃতিতে সম্পূর্ণরূপে সংরক্ষিত
আছে।[১] তাই নবিজি থেকে চলে আসা শিক্ষার এ সফলতার ধারা এবং কুরআনের প্রভাব কল্পনার সীমানাকেও হার মানায়।
টিকাঃ
১. যদিও ২৮৬টি (শেষ গণনা অনুযায়ী) ভাষায় বাইবেল অনুদিত হয়েছে এবং প্রচার-প্রকাশের এই যুগে তা বেস্টসেলের মর্যাদা লাভ করেছে, তবুও খুব কম লোকই তা পাঠ করতে আগ্রহী। সুপার মার্কেট, হোটেল, ক্যাসেট এবং প্রচলিত সমাজ-সংস্কৃতিতে তা সর্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকলেও পড়ার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের শতকরা পনেরো ভাগের মতো তা পাঠ করে থাকে। (Manfred Barthel, What Does the Bible Really Say?, England, Souvenir Press Ltd, 1982)
২. খ্রিস্টান ধর্মের প্রথম তিন-চার শতাব্দীতে যাজক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীকে ধর্মগ্রন্থের নির্দিষ্ট কিছু অংশ মুখস্থ করতে হতো। তবে পরিমাণের মাত্রা ছিল একেক রকম। কোথাও যোহনের সুসমাচার, কোথাও সামসঙ্গীত বা তিমথির যেকোনো একটি বা উভয়টি মুখস্থ চাওয়া হতো। (Bruce Metzger, The Text of the New Testament, p. 87, footnote no.1) তবে ধর্মগুরু হয়ে কয়েকটি শ্লোক মুখস্থ করার সাথে মুসলিম শিশুদের গোটা কুরআন হিফয করার কোনো তুলনাই চলে না।