📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 অধ্যায় শেষে

📄 অধ্যায় শেষে


বিশাল ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ লাভ নিঃসন্দেহে বড় সম্পদ। কিন্তু ইন্তেকালের আগে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতের জন্য সবচেয়ে দামি যে দুটি সম্পদ রেখে গেছেন, তা হলো কুরআনুল কারিম এবং তার সুন্নাহ।[১]
তার নিজের দায়িত্বকে শেষ করে একে রেখে যান সাহাবিদের কাঁধে। সাহাবিগণও নিজেদের কাঁধে তুলে নেন এই দায়িত্ব। তারা তাকে কাছ থেকে জেনেছেন, সাথে থেকেছেন, একই সাথে আহার ও অনাহার সবই ভাগ করে নিয়েছেন, পাশে থেকে লড়াই করেছেন। প্রতিটি প্রয়োজনে তারা প্রকৃতই নিজের জীবন নিঃসংকোচে উৎসর্গ করেছেন নবীর জন্য। তাদের প্রকৃত সংখ্যা অজানা। তবে মুসাইলামার ৪০ হাজারের বাহিনীর মতো আরও প্রায় ডজন খানেক মুরতাদবাহিনীকে একের পর এক পরাজিত করেছে মুসলিমরা। তাই সাহাবিগণ সংখ্যায় যথেষ্ট ছিলেন। তবে তা অবশ্যই মুসা আলাইহিস সালামের সময়ের মতো ছিল না। তার সময় যুদ্ধপোযুক্ত পুরুষের সংখ্যাই
ছিল ৬ লক্ষ।[২] এত বিশাল জনসংখ্যা নিয়েও বনি ইসরাইল মরুভূমিতে কেবল দিগ্বিদিক ঘুরে ফেরে। এদিকে আল্লাহর রহমতপুষ্ট সাহাবিরা অর্জন করেন একের পর এক বিজয়মুকুট, বিশাল বিশাল যুদ্ধজয়। তাদের হাতে দ্বীন সুরক্ষিত ছিল। আর তাদের বিশাল বিশাল যত অর্জন, তার সবকিছু পরিচালনার মূলভিত্তি ছিল নবিজির রেখে যাওয়া সেই দুটি জিনিস—কুরআন ও সুন্নাহ। তাই ধর্মদ্রোহিতাকে অঙ্কুরিত কিংবা বিকাশ লাভ করার বিন্দুমাত্র সুযোগও দেওয়া হতো না। আর এমন একটি আদর্শ পরিবেশের ফলেই মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলো সংরক্ষণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে বিন্দু পরিমাণ বিচ্যুতিও ঘটেনি। সামনেই এ ব্যাপারে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

টিকাঃ
১. নবীজির বিশুদ্ধ হাদিসসমগ্রকে সুন্নাহ বলা হয়। তার বর্ণিত বাণী, কৃত আমল এবং তার সম্মতিতে কৃত কাজের সবই সুন্নাহ। এরকম হাজার হাজার সুন্নাহর বর্ণনা রয়েছে যার একেকটিকে হাদিস বলে।
২. চতুর্দশ অধ্যায়ের '২০ লক্ষ হিজরতকারী' সংশ্লিষ্ট আলোচনা দ্রষ্টব্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00