📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 খলিফা উমার এবং উসমানের সময় বিজিত অঞ্চলসমূহ

📄 খলিফা উমার এবং উসমানের সময় বিজিত অঞ্চলসমূহ


» ইয়ারমুক, ৫ রজব, ১৩ হিজরি (সেপ্টেম্বর, ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ)
» কাদিসিয়ার যুদ্ধ, রামাদান, ১৪ হিজরি (নভেম্বর, ৬৩৫ খ্রিষ্টাব্দ)
» বালা-বাক, ২৫ রবিউল আউয়াল, ১৫ হিজরি (৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দ)
» হিমস এবং কিন্নাসরিন, ১৫ হিজরি (৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দ)
» ফিলিস্তিন এবং কুদস (জেরুযালেম), রবিউস সানি, ১৬ হিজরি (৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দ)
» মাদইয়ান, ১৫-১৬ হিজরি (৬৩৬-৩৭ খ্রিষ্টাব্দ)
» খ্রিষ্টান অধ্যুষিত জাযিরা, ১৮-২০ হিজরি (৬৩৯-৪০ খ্রিষ্টাব্দ)
» পারস্য অভিযান : নেহাবন্দ, ১৯-২০ হিজরি (৬৪০ খ্রিষ্টাব্দ)
» মিশর, ২০ হিজরি (৬৪০ হিজরি)
» আলেকজান্দ্রিয়া, ২১ হিজরি (৬৪১ খ্রিষ্টাব্দ)
» বারকা (লিবিয়া), ২২ হিজরি (৬৪২ খ্রিষ্টাব্দ)
» ত্রিপলি (লিবিয়া), ২৩ হিজরি (৬৪৩ খ্রিষ্টাব্দ)
» সাইপ্রাস, ২৭ হিজরি (৬৪৭ খ্রিষ্টাব্দ)
» আর্মেনিয়া, ২৯ হিজরি (৬৪৯ খ্রিষ্টাব্দ)
» যাতুস সাওয়ারি, ৩১ হিজরি (৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ)
» আজারবাইজান, দিউলাও, মার্ভ, সারাখ, ৩১ হিজরি (৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ)
» কিরমান, সিজিস্তান, খুরাসান, বলখ, ৩১ হিজরি (৬৫১ খ্রিষ্টাব্দ)
৩৯৫ বছর ধরে শাসন করার পর সাসানীয় (পারস্য) সাম্রাজ্য এমন এক জাতির সামনে পরাজিত হয়, যাদের উত্থানের বয়স মাত্র তিন দশক। যাদের না ছিল কোনো সামরিক অভিজ্ঞতা, না কোনো প্রশাসনিক দক্ষতা। আর এই অসাধ্য সাধিত হয়েছে কেবল আল্লাহর ওপর তাদের একচ্ছত্র বিশ্বাসের কারণে। তাঁর প্রেরিত রাসুলের আনুগত্য এবং ইসলামের ঐশ্বরিক আধিপত্যে ঈমান আনার কারণে।
৩৫ হিজরিতে খলিফা উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফত সমাপ্ত হয়। এই সময়কাল পর্যন্ত বিজিত অঞ্চলের একটি হিসাব [১] নিচে দেখানো হলো-
মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম ১১ হিজরি পর্যন্ত ১,০০০,০০০ বর্গ মাইল
আবু-বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু ১১-১৩ হিজরি ২০০,০০০ বর্গ মাইল
উমার ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু ১৩-২৫ হিজরি ১,৫০০,০০০ বর্গ মাইল
উসমান ইবনু আফফান রাযিয়াল্লাহু আনহু ২৫-৩৫ হিজরি ৮০০,০০০ বর্গ মাইল
সর্বমোট ৩,৫০০,০০০ বর্গ মাইল
বনি ইসরাইলের ১২টি গোত্র আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে সিনাইয়ের মরু এলাকায় শাস্তিস্বরূপ ঘুরে ফিরেছে। ৪০ বছর ধরে তারা ১০০ মাইলের বেশি ভ্রমণ করতে সক্ষম হয়নি। অথচ এর চেয়ে কত কম সময়ে মুসলিমজাতি জয় করে ফেলেছে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন বর্গ মাইল। একেই আমরা এখন মধ্যপ্রাচ্য নামে ডাকি। এ সাফল্য আল্লাহর আদেশ মান্য করার ফল।

টিকাঃ
১. M. Hamidullah, al-Watha'iq as-Siyasiyya, pp. 498-99.

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 অধ্যায় শেষে

📄 অধ্যায় শেষে


বিশাল ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ লাভ নিঃসন্দেহে বড় সম্পদ। কিন্তু ইন্তেকালের আগে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতের জন্য সবচেয়ে দামি যে দুটি সম্পদ রেখে গেছেন, তা হলো কুরআনুল কারিম এবং তার সুন্নাহ।[১]
তার নিজের দায়িত্বকে শেষ করে একে রেখে যান সাহাবিদের কাঁধে। সাহাবিগণও নিজেদের কাঁধে তুলে নেন এই দায়িত্ব। তারা তাকে কাছ থেকে জেনেছেন, সাথে থেকেছেন, একই সাথে আহার ও অনাহার সবই ভাগ করে নিয়েছেন, পাশে থেকে লড়াই করেছেন। প্রতিটি প্রয়োজনে তারা প্রকৃতই নিজের জীবন নিঃসংকোচে উৎসর্গ করেছেন নবীর জন্য। তাদের প্রকৃত সংখ্যা অজানা। তবে মুসাইলামার ৪০ হাজারের বাহিনীর মতো আরও প্রায় ডজন খানেক মুরতাদবাহিনীকে একের পর এক পরাজিত করেছে মুসলিমরা। তাই সাহাবিগণ সংখ্যায় যথেষ্ট ছিলেন। তবে তা অবশ্যই মুসা আলাইহিস সালামের সময়ের মতো ছিল না। তার সময় যুদ্ধপোযুক্ত পুরুষের সংখ্যাই
ছিল ৬ লক্ষ।[২] এত বিশাল জনসংখ্যা নিয়েও বনি ইসরাইল মরুভূমিতে কেবল দিগ্বিদিক ঘুরে ফেরে। এদিকে আল্লাহর রহমতপুষ্ট সাহাবিরা অর্জন করেন একের পর এক বিজয়মুকুট, বিশাল বিশাল যুদ্ধজয়। তাদের হাতে দ্বীন সুরক্ষিত ছিল। আর তাদের বিশাল বিশাল যত অর্জন, তার সবকিছু পরিচালনার মূলভিত্তি ছিল নবিজির রেখে যাওয়া সেই দুটি জিনিস—কুরআন ও সুন্নাহ। তাই ধর্মদ্রোহিতাকে অঙ্কুরিত কিংবা বিকাশ লাভ করার বিন্দুমাত্র সুযোগও দেওয়া হতো না। আর এমন একটি আদর্শ পরিবেশের ফলেই মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলো সংরক্ষণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে বিন্দু পরিমাণ বিচ্যুতিও ঘটেনি। সামনেই এ ব্যাপারে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

টিকাঃ
১. নবীজির বিশুদ্ধ হাদিসসমগ্রকে সুন্নাহ বলা হয়। তার বর্ণিত বাণী, কৃত আমল এবং তার সম্মতিতে কৃত কাজের সবই সুন্নাহ। এরকম হাজার হাজার সুন্নাহর বর্ণনা রয়েছে যার একেকটিকে হাদিস বলে।
২. চতুর্দশ অধ্যায়ের '২০ লক্ষ হিজরতকারী' সংশ্লিষ্ট আলোচনা দ্রষ্টব্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00