📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 মুরতাদ নির্মূলে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু

📄 মুরতাদ নির্মূলে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু


১১ হিজরি সনে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন। প্রসারমাণ মুসলিম খিলাফতের দায়িত্ব ন্যস্ত হয় আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহুর ওপর। নবিজীবনের সাঁঝবেলায় কিছু মুনাফিক ধর্মদ্রোহিতা প্রকাশ করতে শুরু করেছিল। তাদের এই ধর্মদ্রোহিতার একটি ধরন ছিল-নিজেকে নবি হিসেবে দাবি করা। তাদের মধ্যেও আবার মুসাইলামার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাকে ডাকা হতো ‘কাযযাব’ বা মিথ্যাবাদী নামে। আর নবিজির ইন্তেকালের পর তো রীতিমতো ধর্মত্যাগের হিড়িক লেগে যায়। [১] তার শাসনামলে যেসব গোত্রপতি নিজেদের ক্ষমতা হারিয়েছিল, তারাও অনুসরণ করে মুসাইলামার পথ। তুলাইহা ইবনু খুওয়াইলিদ এবং সাজাহ বিনু হারিসের মতো ভণ্ড নবির আত্মপ্রকাশ ঘটে।[২]
উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি। যাকাত অস্বীকার করে বসে একটি দল। এমনকি উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে সাময়িক নমনীয়তা প্রদর্শন করার পরামর্শ দেন। কিন্তু আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু হুংকার দিয়ে বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! যারাই যাকাত আর সালাতের মাঝে পার্থক্য করবে, আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করব। এটি ধনীদের ওপর ফরয। আল্লাহর শপথ! তারা যদি উটের গলার একটি রশিও দিতে অস্বীকার করে, যা তারা আল্লাহর রাসুলের সময়ে দিত, তাহলে এ অস্বীকৃতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।’ [৩] প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার পক্ষাবলম্বন করার আগ পর্যন্ত তিনি নিজ সংকল্পের ওপর পাহাড়ের মতো অনড় থাকেন।
বিদ্রোহীদের দমন করতে অবিলম্বে মদিনা থেকে ছয় মাইল দূরে যুল-কাসসায় যান আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু।[৪] মুসলিম বাহিনীকে একত্র করে তিনি ১১টি রেজিমেন্ট গঠন করেন। একজন সেনাপতি, একটি পতাকা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় প্রত্যেকটির জন্য। খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে তুলাইহা ইবনু খুওয়াইলিদের বিপক্ষে; ইকরিমা ইবনু আবি জাহল ও শুরাহবিল রাযিয়াল্লাহু আনহুমাকে মুসাইলামার বিপক্ষে; মুহাজির ইবনু আবি উমাইয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুকে আসওয়াদ আনসির বিরুদ্ধে এবং পরে হাদরামউতে; খালিদ ইবনু সাইদ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে হামকাতাইনে; আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুকে কুযুয়াহতে; হুযাইফা ইবনু মিহসিন রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ওমানের দাবায়; আরফাজা ইবনু হারসামা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে মাহারায়; তুরাইফা ইবনু হাজিয রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বনু সুলাইমের বিপক্ষে; সুওয়াইদ ইবনু মুকাররিন রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়েমেনের তিহামাহ; আল-আলা ইবনু হাদরামি রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বাহরাইনে এবং শুহরাবিল ইবনু হাসানা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামামা এবং কুদাআতে প্রেরণ করা হয়।[৫]
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর যুদ্ধ হয় ইয়ামামায় মুসাইলামার বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষ বাহিনীতে ৪০ হাজারেরও বেশি সৈন্য। তাদের আঞ্চলিক প্রভাব-প্রতিপত্তিও ব্যাপক। সেখানে ইকরিমাকে পাঠানো হলেও তিনি খুব একটা সফল হতে পারেননি। তাই তাকে অন্যত্র প্রেরণ করে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। আল্লাহর কুদরতে মুসাইলামার বিরাট সেনাবহর চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন তিনি।
বিদ্রোহীদের নির্মূল করার পর গোটা আরব আবার মুসলিমদের অধীন হয়। এরপর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে ইরাকে প্রেরণ করেন খলিফা আবু বকর।[৬] সেখানে গিয়ে তিনি উবুল্লা, মাজার, উলাইসের যুদ্ধ জয় করেন। সময়টা ছিল ১২ হিজরির সফর মাস। একই মাসে ওয়ালাজায় রক্তনদী প্রবাহিত হয়। এরপর আমগিসিয়া এবং হিরা জয় হয় একই বছরের জিলকদ মাসে।[7] সেখানেই প্রধান অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়।[৮] হিরার পর সেনাপতি খালিদ আম্বারের দিকে অগ্রসর হন। তিনি সেখানে একটি খন্দকাবৃত সুরক্ষিত শহর খুঁজে পান। তবে তার প্রস্তাবিত যুদ্ধ অথবা শান্তিচুক্তির প্রস্তাবের মধ্যে তারা শান্তিচুক্তি গ্রহণ করে। আম্বর থেকে তিনদিনের দূরত্বে তিনি মরু শহর আইনুত তামরে যান।[৯] প্রতিপক্ষ এবার পারস্য ও আরব খ্রিষ্টান-শক্তি। এদের মধ্যে খ্রিষ্টান নবি-দাবিদার সাজাহর অনুসারীরাও ছিল।[১০] যুদ্ধে ইরানিদের চেয়ে খ্রিষ্টানরাই অধিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে তারা সবাই পরাজিত হয় এবং শহরটি মুসলিমদের অধীনে চলে আসে।

টিকাঃ
১. অনেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে যাকাত দিতে অস্বীকার করে।
২. তাবারি, তারিখ, iii: ২৭২
৩. সহিহ বুখারী: ১৩৯৯, ১৪০০; সহিহ মুসলিম: ২০
৪. তাবারি, তারিখ, iii: ২৪৮
৫. তাবারি, তারিখ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৪৯; উইলিয়াম মুইরের Annals of the Early Caliphate গ্রন্থের ১৭-১৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য
৬. ইতিহাসবিদ খলিফা ইবনু খইয়াতের মতে তা ছিল দ্বাদশ হিজরি। তারিখ, পৃষ্ঠা: ১০০
৭. H. Mones, Atlas of the History of Islam, az-Zahra' for Arab Mass Media, Cairo, 1987, p. 128.
৮. W. Muir, Annals of the Early Caliphate, p. 81.
৯. ibid, p. 85.
১০. ibid, p. 85.

১১ হিজরি সনে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন। প্রসারমাণ মুসলিম খিলাফতের দায়িত্ব ন্যস্ত হয় আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহুর ওপর। নবিজীবনের সাঁঝবেলায় কিছু মুনাফিক ধর্মদ্রোহিতা প্রকাশ করতে শুরু করেছিল। তাদের এই ধর্মদ্রোহিতার একটি ধরন ছিল-নিজেকে নবি হিসেবে দাবি করা। তাদের মধ্যেও আবার মুসাইলামার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাকে ডাকা হতো ‘কাযযাব’ বা মিথ্যাবাদী নামে। আর নবিজির ইন্তেকালের পর তো রীতিমতো ধর্মত্যাগের হিড়িক লেগে যায়। [১] তার শাসনামলে যেসব গোত্রপতি নিজেদের ক্ষমতা হারিয়েছিল, তারাও অনুসরণ করে মুসাইলামার পথ। তুলাইহা ইবনু খুওয়াইলিদ এবং সাজাহ বিনু হারিসের মতো ভণ্ড নবির আত্মপ্রকাশ ঘটে।[২]
উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি। যাকাত অস্বীকার করে বসে একটি দল। এমনকি উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে সাময়িক নমনীয়তা প্রদর্শন করার পরামর্শ দেন। কিন্তু আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু হুংকার দিয়ে বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! যারাই যাকাত আর সালাতের মাঝে পার্থক্য করবে, আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করব। এটি ধনীদের ওপর ফরয। আল্লাহর শপথ! তারা যদি উটের গলার একটি রশিও দিতে অস্বীকার করে, যা তারা আল্লাহর রাসুলের সময়ে দিত, তাহলে এ অস্বীকৃতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।’ [৩] প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার পক্ষাবলম্বন করার আগ পর্যন্ত তিনি নিজ সংকল্পের ওপর পাহাড়ের মতো অনড় থাকেন।
বিদ্রোহীদের দমন করতে অবিলম্বে মদিনা থেকে ছয় মাইল দূরে যুল-কাসসায় যান আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু।[৪] মুসলিম বাহিনীকে একত্র করে তিনি ১১টি রেজিমেন্ট গঠন করেন। একজন সেনাপতি, একটি পতাকা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় প্রত্যেকটির জন্য। খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে তুলাইহা ইবনু খুওয়াইলিদের বিপক্ষে; ইকরিমা ইবনু আবি জাহল ও শুরাহবিল রাযিয়াল্লাহু আনহুমাকে মুসাইলামার বিপক্ষে; মুহাজির ইবনু আবি উমাইয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুকে আসওয়াদ আনসির বিরুদ্ধে এবং পরে হাদরামউতে; খালিদ ইবনু সাইদ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে হামকাতাইনে; আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুকে কুযুয়াহতে; হুযাইফা ইবনু মিহসিন রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ওমানের দাবায়; আরফাজা ইবনু হারসামা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে মাহারায়; তুরাইফা ইবনু হাজিয রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বনু সুলাইমের বিপক্ষে; সুওয়াইদ ইবনু মুকাররিন রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়েমেনের তিহামাহ; আল-আলা ইবনু হাদরামি রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বাহরাইনে এবং শুহরাবিল ইবনু হাসানা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামামা এবং কুদাআতে প্রেরণ করা হয়।[৫]
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর যুদ্ধ হয় ইয়ামামায় মুসাইলামার বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষ বাহিনীতে ৪০ হাজারেরও বেশি সৈন্য। তাদের আঞ্চলিক প্রভাব-প্রতিপত্তিও ব্যাপক। সেখানে ইকরিমাকে পাঠানো হলেও তিনি খুব একটা সফল হতে পারেননি। তাই তাকে অন্যত্র প্রেরণ করে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। আল্লাহর কুদরতে মুসাইলামার বিরাট সেনাবহর চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন তিনি।
বিদ্রোহীদের নির্মূল করার পর গোটা আরব আবার মুসলিমদের অধীন হয়। এরপর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে ইরাকে প্রেরণ করেন খলিফা আবু বকর।[৬] সেখানে গিয়ে তিনি উবুল্লা, মাজার, উলাইসের যুদ্ধ জয় করেন। সময়টা ছিল ১২ হিজরির সফর মাস। একই মাসে ওয়ালাজায় রক্তনদী প্রবাহিত হয়। এরপর আমগিসিয়া এবং হিরা জয় হয় একই বছরের জিলকদ মাসে।[7] সেখানেই প্রধান অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়।[৮] হিরার পর সেনাপতি খালিদ আম্বারের দিকে অগ্রসর হন। তিনি সেখানে একটি খন্দকাবৃত সুরক্ষিত শহর খুঁজে পান। তবে তার প্রস্তাবিত যুদ্ধ অথবা শান্তিচুক্তির প্রস্তাবের মধ্যে তারা শান্তিচুক্তি গ্রহণ করে। আম্বর থেকে তিনদিনের দূরত্বে তিনি মরু শহর আইনুত তামরে যান।[৯] প্রতিপক্ষ এবার পারস্য ও আরব খ্রিষ্টান-শক্তি। এদের মধ্যে খ্রিষ্টান নবি-দাবিদার সাজাহর অনুসারীরাও ছিল।[১০] যুদ্ধে ইরানিদের চেয়ে খ্রিষ্টানরাই অধিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে তারা সবাই পরাজিত হয় এবং শহরটি মুসলিমদের অধীনে চলে আসে।

টিকাঃ
১. অনেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে যাকাত দিতে অস্বীকার করে।
২. তাবারি, তারিখ, iii: ২৭২
৩. সহিহ বুখারী: ১৩৯৯, ১৪০০; সহিহ মুসলিম: ২০
৪. তাবারি, তারিখ, iii: ২৪৮
৫. তাবারি, তারিখ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৪৯; উইলিয়াম মুইরের Annals of the Early Caliphate গ্রন্থের ১৭-১৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য
৬. ইতিহাসবিদ খলিফা ইবনু খইয়াতের মতে তা ছিল দ্বাদশ হিজরি। তারিখ, পৃষ্ঠা: ১০০
৭. H. Mones, Atlas of the History of Islam, az-Zahra' for Arab Mass Media, Cairo, 1987, p. 128.
৮. W. Muir, Annals of the Early Caliphate, p. 81.
৯. ibid, p. 85.
১০. ibid, p. 85.

📘 কুরআন সংকলনের ইতিহাস > 📄 সিরিয়ায় সেনাদল প্রেরণ

📄 সিরিয়ায় সেনাদল প্রেরণ


১২ হিজরির শেষ দিকে সম্পূর্ণভাবে ইসলামি খিলাফতের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে জাযিরাতুল আরব। এরপর খলিফা আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়া বিজয়ের পরিকল্পনা করেন। প্রাথমিকভাবে খুব একটা সাফল্য এনে দিতে পারেননি সেনাপতি খালিদ ইবনু সাইদ এবং ইকরিমা ইবনু আবি জাহল। তাই খliফা পুরো অঞ্চলটিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করে প্রতিটির জন্য আলাদা সেনাপতি নিযুক্ত করেন। ইয়াজিদ ইবনু আবি সুফিয়ানকে দামেশকে; আমর ইবনুল আসকে ফিলিস্তিনে, শুরাহবিল ইবনু হাসানাকে জর্ডানে এবং আবু উবাইদা ইবনুল জাররাকে সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চল হিমসে প্রেরণ করা হয়।
রোমানরাও অনুরূপ চারটি রেজিমেন্ট স্থাপন করে। তাই যুদ্ধনীতি পরিবর্তন করে চার সেনাধ্যক্ষকে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দেন খলিফা। খালিদ ইবনু ওয়ালিদকে প্রধান সেনাপতি হিসেবে তার অর্ধেক সৈন্য নিয়ে সিরিয়ায় যেতে বলেন। আল্লাহ তাকে অসাধারণ সফলতা দান করেন সেখানে। অন্যত্রও মুসলিমবাহিনী নানামুখী প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে।

১২ হিজরির শেষ দিকে সম্পূর্ণভাবে ইসলামি খিলাফতের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে জাযিরাতুল আরব। এরপর খলিফা আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়া বিজয়ের পরিকল্পনা করেন। প্রাথমিকভাবে খুব একটা সাফল্য এনে দিতে পারেননি সেনাপতি খালিদ ইবনু সাইদ এবং ইকরিমা ইবনু আবি জাহল। তাই খliফা পুরো অঞ্চলটিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করে প্রতিটির জন্য আলাদা সেনাপতি নিযুক্ত করেন। ইয়াজিদ ইবনু আবি সুফিয়ানকে দামেশকে; আমর ইবনুল আসকে ফিলিস্তিনে, শুরাহবিল ইবনু হাসানাকে জর্ডানে এবং আবু উবাইদা ইবনুল জাররাকে সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চল হিমসে প্রেরণ করা হয়।
রোমানরাও অনুরূপ চারটি রেজিমেন্ট স্থাপন করে। তাই যুদ্ধনীতি পরিবর্তন করে চার সেনাধ্যক্ষকে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দেন খলিফা। খালিদ ইবনু ওয়ালিদকে প্রধান সেনাপতি হিসেবে তার অর্ধেক সৈন্য নিয়ে সিরিয়ায় যেতে বলেন। আল্লাহ তাকে অসাধারণ সফলতা দান করেন সেখানে। অন্যত্রও মুসলিমবাহিনী নানামুখী প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00