📄 “আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন” এ কথা বলা এবং “আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” এ কথা বলার মধ্যে পার্থক্য
প্রশ্ন: "আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন" ( واو দ্বারা عطف করা হয়েছে) সাহাবীদের কথাকে সমর্থন করা এবং "আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” এ কথাকে প্রত্যাখ্যান করার মধ্যে কিভাবে বিরোধ নিরসন করব?।
উত্তর: "আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন" বলা বৈধ। কারণ, রাসূলের ইলম আল্লাহর আল্লাহর ইলম থেকে। কোন মানুষ যা জানতে পারে না তা আল্লাহ তা'আলাই তাকে জানিয়ে দেন। এ কারণেই واو দ্বারা বাক্যটি বলা হয়।
অনুরূপভাবে শরীআতের মাসায়েল বিষয়ে এ কথা বলা হয় যে, "আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন।" কারণ, আল্লাহর শরীআত বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত মাখলুকের তুলনায় সর্বাধিক জ্ঞাত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, .. وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُن تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا ﴾ [النساء : ١١٣] “আর আল্লাহ তোমার প্রতি নাযিল করেছেন কিতাব ও হিকমাত এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। আর তোমার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে মহান।" [সূরা আন- নিসা, আয়াত: ১১৩] "আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” কথাটি ঐ কথার মতো নয়। কারণ, এ কথাটি কুদরাত ও চাওয়া অধ্যায়ের কথা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কুদরাত ও চাওয়া বিষয়ে অংশিদা হতে পারেন না।
সুতরাং, শরীআতের বিষয়সমূহে এ কথা বলা যাবে "আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন।” কিন্তু আল্লাহর কুদরতী বিষয়সমূহে ঐ কথা বলা যাবে না।
এ দ্বারা এ কথা স্পষ্ট হয় যে, যারা কোন কোন আমলের ক্ষেত্রে এ আয়াত...পেশ করে তাদের দাবি সঠিক নয় তারা বিভ্রান্ত ও মূর্খ। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পর আমল দেখতে পায় না। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.
📄 সাইয়্যেদ বলার বিধান
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «السَّيِّدُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى» “আল্লাহ তা'আলা সাইয়্যেদ।” তাশাহুদ পাঠে এসেছে- “হে আল্লাহ তুমি রহমত বর্ষণ করা আমাদের সরদার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর।”
প্রশ্ন: আব্দুল্লাহ বিন শিখির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বনী আমেরের লোকদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাই এবং আমি বলি হে রাসূল আপনি আমাদের সরদার। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাইয়্যেদ কেবল আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা।⁷⁶ অথচ তাশাহুদ বিষয়ে হাদীসে এসেছে- “হে আল্লাহ তুমি রহমত বর্ষণ করা আমাদের সাইয়্যেদ-সরদার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং আমাদের সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার পরিজনের ওপর।” এবং অপর হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমি আদম সন্তানের সাইয়্যেদ।” উভয় হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্যতা কীভাবে নিরসন হবে?
উত্তর: এতে কোন সন্দেহ নেই যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী আদমের সরদার। প্রতিটি জ্ঞানী মু'মিন বলতেই এ কথা বিশ্বাস করেন যে, তিনি আমাদের সরদার। আর সরদার অর্থ হলো, সম্মানী, আনুগত্যশীল এবং ক্ষমতাবান। আল্লাহর রাসূলের অনুসরণ করা আল্লাহরই অনুসরণ। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ﴾ [النساء : ٨٠] "যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল।" [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০]
আমরা মু'মিনগণ এ কথা বিশ্বাস করি যে, আমাদের নবীই আমাদের সরদার, সবার চেয়ে উত্তম মানব, সর্বচ্চো মার্যাদার অধিকারী এবং তিনিই একমাত্র অনুকরণীয় মহা মানব। তার প্রতি আমাদের বিশ্বাসের দাবি হলো, তিনি আমাদের জন্য কথা, কর্ম ও বিশ্বাসের বিষয়ে যে দীন বা শরীআত নিয়ে এসেছেন তার প্রতি পূর্ণাঙ্গ অনুকরণ ও বিশ্বাস করা। তিনি আমাদের সালাত আদায়ের প্রদ্ধতিতে তাশাহুদে এ কথা اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ গুলা বা এ ধরনের বিভিন্ন গুনাবলী যেগুলো হাদীসে বর্ণিত রয়েছে তা বলতে বলেছেন। তবে প্রশ্নকারীর প্রশ্নে বর্ণিত গুনটি উল্লিখিত শব্দে বর্ণিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। অর্থাৎ السّيد । যদি এ শব্দাবলী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে বলে প্রমাণিত না হয়, তবে উত্তম হলো আমরা উল্লিখিত শব্দাবলী দ্বারা সালাতে দুরূদ পড়ব না। আমরা ঐ সব শব্দ দ্বারা দরূদ পড়বো যে শব্দগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি আমাদের শিখিয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় একটি বিষয়ে সতর্ক করাকে পছন্দ করি, আর তা হলো, যে কোন ঈমানদার লোক এ কথা বিশ্বাস করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সরদার, তার এ বিশ্বাস ও ঈমানের দাবি হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দীন বা শরীআতের প্রচলন করেছেন তা অতিক্রম না করা, তাতে কোন প্রকার বাড়ানো ও কমানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। সুতরাং সে আল্লাহর দীনের মধ্যে এমন কিছু বাড়াবে না যা দীনের বিষয় নয় এবং কোন কিছুকে কমাবে না যা দীনের অংশ। কারণ, এটিই হলো কাউকে সরদার হিসেবে মানার প্রকৃত বাস্তবায়ন যা কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এটি তাঁরই হক।
এরই ভিত্তিতে বলা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে যে সব দুরূদ বা যিকির শরীআত হিসেবে আল্লাহ তা'আলা তার নবীর ওপর নাযিল করেননি সে সব দরূদ বা যিকিরের আবিষ্কার করা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সরদার বলে বিশ্বাস করার দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত ও পরিপন্থী। কারণ, এ বিশ্বাসের দাবি হলো শরীআতের অতিক্রম না করা এবং তার থেকে কোন কিছু বাদ না দেয়া। সুতরাং একজন মানুষকে অবশ্যই এ বিষয়ে চিন্ত ফিকির করতে হবে যাতে তার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, সে একজন অনুসারী মাত্র সে কোন শরীআতের প্রবর্তক নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত তিনি বলেন, ....তার এ বাণী এবং অপর বাণী... এর মধ্যে নিষ্পত্তি হলো, সামগ্রীক ক্ষমতাধর হওয়া বা সরদারী করা একমাত্র আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য। কারণ, যাবতীয় বিষয় সমূহ কেবল আল্লাহর। তিনি হুকুমদাতা, বাকীরা সবাই তার হুকুমের গোলাম। তিনি হাকিম বাকীরা মাহকুম। আল্লাহর ছাড়া অন্যদের ক্ষমতা আপেক্ষিক। নির্দিষ্ট বস্তুর মধ্যে, নির্দিষ্ট সময়ে জন্য, নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এবং সৃষ্টি কোন শ্রেণির ক্ষেত্রে তা সীমাবদ্ধ।
টিকাঃ
⁷⁶ আবূ দাউদ, হাদীস নং ৪৮০৮
📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া কারো থু থু দ্বারা বরকত হাসিল করার বিধান
প্রশ্ন: কিতাবুল ফাতওয়া পৃ: ১০৭, ১০৮ থেকে একটি ফাতওয়া নং ৪৬ সম্পর্কে শাইখ ইবন উসাইমীনের দৃষ্টি আর্কষণ করা হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থু থু ছাড়া আর কারো থু থু দ্বারা বরকত হাসিল করা হারাম এবং এক প্রকারের শির্ক। তবে কুরআন দ্বারা ফুঁ দেয়ার কথাটি ভিন্ন। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত একটি হাদীসের সাথে বিষয়টির অসঙ্গতি পরিলক্ষিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝাঁড়-ফুঁকে বলতেন- بِسْمِ اللَّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا يُشْفَى سَقِيمُنَا "বিছমিল্লাহী, আমাদের জমিনের মাটি দ্বারা, আমাদের অনেকের থু থু দ্বারা, আল্লাহর অনুমতিতে আমাদের রোগীদের সুস্থতা দান করা হোক।"⁷⁷ বিষয়টিকে স্পষ্ট করার জন্য আপনার নিকট আমরা আশাবাদী।
উত্তর: কোন কোন আলেমগণ বলেছেন, বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এবং মদীনার মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। যদি বিষয়টি এমন হয়ে থাকে তাহলে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু জামহুর আলেমগণ বলেন, বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বা মদীনার মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য কথাটি সঠিক নয়। বরং বিষয়টি প্রতিটি ঝাঁড়-ফুঁকদাতা এবং যে কোন জায়গার মাটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ও ব্যাপক। তবে বিষয়টি শুধু থু থু বা মাটি দ্বারা বরকত হাসিল করার বিষয় নয়। বরং বিষয়টি থু থু বা মাটির সাথে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত আরোগ্য লাভ করার দো'য়ার সাথে সম্পৃক্ত। প্রশ্নে উল্লিখিত পূর্বের ফাতওয়ায় আমাদের উত্তর ছিল শুধু থু থু দ্বারা বরকত হাসিল করা প্রসঙ্গে। সুতরাং দু'টি উত্তরের ধরন দুই রকম হওয়ার কারণে এখন প্রশ্ন করার আর কোন সুযোগ নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।
শাইখ মুহাম্মাদ বিন উসাইমীন রহ.
টিকাঃ
⁷⁷ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৪৫
📄 যে ব্যক্তি ইসলামে ভালো কোন আদর্শ স্থাপন করল, তার জন্য রয়েছে তার সাওয়াব আলোচনা
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,,مَنْ سَنَّ فِي الإِسْلَامِ سُنَّةٌ حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا إلى يوم القيامة “যে ব্যক্তি ইসলামে ভালো কোন আদর্শ স্থাপন করল, তার জন্য রয়েছে তার সাওয়াব এবং কিয়ামত অবধি যত মানুষ তার ওপর আমল করবে তার সাওয়াব।” এটি কি হাদীস? যদি হাদীস হয় তাহলে ইসলামে কারো জন্য কোন একটি সুন্নাত চালু করার সুযোগ কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেখে গিয়েছেন? আশা করি বিষয়টি বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর: হাদীসটি বিশুদ্ধ। হাদীসটি সুন্নাতকে জীবিত করা, সুন্নাতের প্রতি মানুষকে দাওয়াত দেওয়া এবং বিদআত ও অন্যায়ের প্রচলন করা থেকে মানুষকে সতর্ক করার প্রমাণ। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ سَنَّ فِي الإِسْلَامِ سُنَّةٌ حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ ) يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ وَمَنْ سَنَّ فِي الإِسْلامِ سُنَّةً سَيِّئَةٌ كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا له مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ ) “যে ব্যক্তি ইসলামে ভালো কোন আদর্শ স্থাপন করল, তার জন্য রয়েছে তার সাওয়াব এবং তার পরবর্তী কিয়ামত অবধি যত মানুষ তার ওপর আমল করবে তার সাওয়াব। তাতে তার সাওয়াব থেকে কোন প্রকার ঘাটতি হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন খারাপ কর্ম চালু করল, তার জন্য রয়েছে তার কর্মে গুনাহ এবং তার পরবর্তী কিয়ামত অবধি যত মানুষ তার ওপর আমল করবে তাদের গুনাহ। তাতে তাদের গুনাহে কোন ঘাটতি হবে না।"⁷⁸
একই ধরনের হাদীস আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ سَنَّ سُنَّةً سَيِّئَةً فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ كَانَ عَلَيْهِ مِنْ وِزْرِهِ وَمِثْلُ أَوْزَارِهِمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْئًا». হিদায়াতের প্রতি দাওয়াত দেয়, যে তার অনুসরণ করে তার সাওয়াবের মধ্যে কম করা ছাড়া তার সমপরিমাণ সাওয়াব তাকে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কোন গোমরাহীর দিকে কাউকে আহ্বান করে, তার অনুসরণ কারীর গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ হবে। তবে তার গুনাহের মধ্যে কোন কমতি করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন খারাপ কর্ম চালু করল, তার জন্য রয়েছে তার কর্মের গুনাহ এবং তার পরবর্তী কিয়ামত অবধি যত মানুষ তার অনুসরণ করবে তাদের গুনাহ। তাতে তার গুনাহ একটুও কমানো হবে না।"⁷⁹
অনুরূপভাবে আবু মাসউদ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ » فَاعِلِهِ “যে ব্যক্তি কোন মানুষকে ভালো কর্মের প্রতি পথ দেখালো, তার জন্য ঐ ভালো কর্মটি করার সমপরিমাণ সাওয়াব মিলবে।”⁸⁰ এর অর্থ, যে সুন্নাতটি মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে এমন একটি সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করলো, প্রচার করল এবং তুলে ধরল। সে মানুষকে তার প্রতি আহ্বান করতে থাকে, তার প্রচার করে, গুরুত্ব বর্ণনা করে। তখন যারা তার কথায় অনুসরণ করবে তাদের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। এর অর্থ এ নয় যে, কোন একটি সুন্নাতকে আবিষ্কার করা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদআত থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, وان كل بدعة ضلالة “সব বিদআতই গোমরাহী।”⁸¹ সমস্ত আহলে ইলমদের মতৈক্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী একটি অপরটির সত্যায়ন কারী একটি অপরটির বিরোধী নয়। হাদীস দ্বারা জানা গেল হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য পুনর্জীবিত করা, প্রচার করা।
এর দৃষ্টান্ত: যে দেশে কুরআন বা হাদীসের শিক্ষা চালু নেই সে দেশে একজন আলেম কুরআন ও হাদীসের শিক্ষা চালু করল, মানুষকে কুরআন ও হাদীস শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করল এবং দেশের মধ্যে শিক্ষার সুন্নাতটি চালু করল। অথবা এ দেশে বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষকদের উপস্থিত করে কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করল। অথবা কোন দেশের মানুষ তাদের দাড়ি মুন্ডায় বা ছোট করে। তখন লোকটি ঐ দেশে গিয়ে দাড়ি লম্বা করা এবং দাড়ি না কাটার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করল। দেশটির মানুষ যে সুন্নাত সম্পর্কে জানতো না লোকটি সে মহান সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করল। তার কারণে যে সব লোকেরা এ মহান সুন্নাতটির অনুসরণ করবে সে তাদের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ قُصُّوا الشَّوَارِبَ وَأَعْفُوا اللَّحَى “তোমরা গোপ ছোট কর এবং দাড়ি লম্বা কর মুশরিকদের বিরোধিতা করা।”⁸²
মানুষ যখন দেখল, লোকটি নিজে দাড়ি রেখেছে এবং মানুষকে দাড়ি রাখার প্রতি দাওয়াত দিয়েছে তখন তার অনুসরন করল। ফলে তাদের মাঝে সুন্নাতটি চালু করার কারণে তাদের আমল করার সাওয়াব তিনি পেয়ে যাবেন। ওপরে উল্লিখিত হাদীস এবং একই অর্থের আরো অন্যান্য হাদীসের কারণে সুন্নাতটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়াজিব যা ছেড়ে দেওয়া কোন ক্রমেই বৈধ নয়।
অনুরূপভাবে কোন দেশের মানুষ জুমুআর সালাত আদায় করত না। একজন লোক সেখানে গিয়ে জুমু'আর সালাত চালু করল। তাহলে তিনি তাদের জু'মুআর সালাত আদায় করা সাওয়াব পেয়ে যাবেন। অনুরূপভাবে কোন এলাকার মানুষ সালাতুল ভিতির সম্পর্কে অজ্ঞ। তখন তিনি তাদের সালাতুল ভিতির শেখালেন এবং তার অনুসরণে সালাতুল ভিতির আদায় করল। অথবা এ ধরনের অন্য কোন ইবাদত বা শরী'আতের জরুরী কোন বিধান কোন দেশে চালু করল। সুতরাং, যে ব্যক্তি তাদের মধ্যে সুন্নাতটি প্রচার করল, পুনর্জীবিত করল এবং মানুষের মধ্যে তুলে ধরল, তাকে বলা হবে, ইসলামে সে একটি ভালো রীতি চালু করল। অর্থাৎ, ইসলামের বিধান প্রচার করল এবং সে এমন লোকদের অর্ন্তভুক্ত হবে যারা ইসলামের মধ্যে একটি ভালো রীতি চালু করলেন।
এ দ্বারা দীনের মধ্যে এমন কিছু আবিষ্কার করা উদ্দেশ্য নয়, যার অনুমতি আল্লাহ তা'আলা দেননি। সব ধরনের বিদআতি গোমরাহী। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশুদ্ধ হাদীসে বলেছেন - وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ “তোমরা নব আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাক। কারণ প্রতিটি নব আবিষ্কৃত বস্তু বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত গোমরাহী।”⁸³ অপর একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ “যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করল যার ওপর আমাদের কোন নির্দেশনা নেই তা প্রত্যাখ্যাত।” অপর শব্দে مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدُّ “যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনের মধ্যে এমন কোন কর্ম আবিষ্কার করল যা এ দীনের বিষয় নয় তা প্রত্যাখ্যাত। "⁸⁴
জুমু'আর সালাতের খুতবায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّd وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ “অতঃপর সবোত্তম কথা হলো, আল্লাহ কিতাব, আর সবোত্তম আদর্শ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো নব আবিষ্কৃত বিষয়। এবং প্রতিটি নব আবিষ্কৃত বিষয় গোমরাহী।"⁸⁵ যে ইবাদতের প্রচলন আল্লাহ তা'আলা করেননি, তার প্রতি মানুষকে আহ্বান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অবৈধ। এ ধরনের লোককে সাওয়াব দেওয়া হবে না বরং এ ধরনের কর্ম করা এবং তার প্রতি দাওয়াত দেওয়া সম্পূর্ণ বিদআত এবং আহ্বানকারী গোমরাহীর প্রতি দাওয়াত দাতা হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের লোকদের দুর্নাম করে আল্লাহ তা'আলা বলেন, لَهُمْ شُرَكُوا شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنَ بِهِ اللَّهُ ﴾ [الشورى: ٢١] “তাদের জন্য কি এমন কিছু শরীক আছে, যারা তাদের জন্য দীনের বিধান দিয়েছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি”? [সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ২১]। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
⁷⁸ বর্ণনায় সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৯৮
⁷⁹ বর্ণনায় সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৯৮০
⁸⁰ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫০০৭
⁸¹ ইবনু মাযা, হাদীস নং ৪২
⁸² সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮৯২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬২৫
⁸³ সহীহ বুখারী, হাদীন নং ৭২৫০
⁸⁴ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৫৫০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫৮৯
⁸⁵ বর্ণনায় সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০৪২