📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 আল্লাহ তা‘আলা আদম আলাইহিস সালামকে স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন

📄 আল্লাহ তা‘আলা আদম আলাইহিস সালামকে স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন


প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, فإن الله خلق آدم على صورته “আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।” এর অর্থ কি এই যে, আদম আলাইহিস সালামের যে সব গুণাগুণ রয়েছে তা আল্লাহর জন্যও হবে?
উত্তর: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- «فإن الله خلق آدم على صورته» "আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।"⁷⁵ ইমাম আহমাদ ও এক জামাআত হাদীস বিশারদদের বর্ণনায় বর্ণিত, "রহমানের আকৃতিতে।” প্রথম হাদীসে সর্বনামটি আল্লাহর পরিবর্তে ব্যবহারিত। ইমাম আহমদ, ইসহাক ইবন রাহওয়াই ও পূর্বসূরী ইমামগণ বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের সে পথ চলাই ওয়াজিব যে পথ আল্লাহর অন্যান্য সিফাতের ক্ষেত্রে আমরা চলে আসছি। কোন প্রকার সাদৃস্যতা, দৃষ্টান্ত ও অকার্যকরিতা স্থাপন করা ছাড়া আল্লাহর সাথে যা প্রযোজ্য তাই মানতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এ কথা বাধ্য করে না যে, আল্লাহর আকৃতি আদম আলাইহিস সালামের আকৃতি হতে হবে। যেমন, আল্লাহর জন্য হাত, পা, আঙ্গুল, খুশি হওয়া, রাগ হওয়া ইত্যাদি গুনাগুণ তার জন্য সাব্যস্ত করা এ কথাকে বাধ্য করে না যে, আল্লাহ তা'আলাও মানুষের মতো। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তার নিজের সম্পর্কে তিনি নিজে বা তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গুণ সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছেন সে সব গুনে তিনি তার শান অনুযায়ী মাখলুকের সাথে কোন প্রকার সাদৃশ্য ছাড়া গুনান্বিত। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, «لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴾ [الشورى: ١١] “তাঁর মত কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩৭] সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা মেনে নেয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উদ্দেশ্য নিয়েছেন সে অনুযয়ী কোন প্রকার ধরণ, প্রকৃতি ও দৃষ্টান্ত ছাড়া গ্রহণ করা।
"আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা তার স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" এ হাদীসটির অর্থ-আল্লাহ ভালো জানেন- তিনি চেহারা, কান ও চোখ বিশিষ্ট। তিনি শোনেন, দেখেন, কথা বলেন এবং যা ইচ্ছা করেন। তবে এ অর্থ দ্বারা এ কথা মানাকে বাধ্য করে না যে, তার চেহারা মাখলুকের চেহারার মতো, তার কান মাখলুকের কানের মতো এবং চোখ মাখলুকের চোখের মতো...ইত্যাদি। অনুরূপভাবে আদম আলাইহিস সালামের আকৃতি আর আল্লাহর আকৃতি একই হবে তা মানাকেও এ হাদীস বাধ্য করে না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে এটি একটি সামগ্রিক ও সার্বজনিন মূলনীতি যে- আল্লাহর সিফাত সম্বোলিত কুরআনের আয়াত ও হাদীসসমূহকে কোন প্রকার বিকৃতি, ধরণ বর্ণনা করা, দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এবং বেকার মনে করা ছাড়া তার বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করতে হবে। এমনকি তারা আল্লাহর নামসমূহ ও সিফাতসমূহকে কোন প্রকার দৃষ্টান্ত ছাড়াই সাব্যস্ত করে থাকেন এবং তারা আল্লাহকে মাখলুকের সাথে সাদৃস্য হওয়া থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র সাব্যস্ত করেন। মুআত্তালা ও সাদৃস্যবাদী বিদআতীরা এ ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করে।
সুতরাং, যদিও মাখলুক ও খালেক-আল্লাহ তা'আলা উভয়েই ইলম, চোখ ও কান থাকা বিষয়ে একই এবং অভিন্ন। মনে রাখতে হবে, মাখলুকের কান, মাখলুকের চোখ এবং মাখলুকের ইলম আল্লাহ তা'আলার চোখ, কান ও ইলমের মতো নয়। কিন্তু যে গুনাগুনটি নিতান্তই আল্লাহর বিশেষ বৈশিষ্ট্য, তার মাখলুকের কেউ তাতে আল্লাহর সাদৃস হতে পারে না। তার মতো কোন বস্তুই নেই। আল্লাহর গুনাগুন বা সিফাত অবশ্যই পরিপূর্ণ, স্থায়ী ও অক্ষয়। কোন ভাবেই তার কোন গুন বা সিফাতের মধ্যে কোন প্রকার অপূর্ণাঙ্গতা, দূর্বলতা বা খুঁত ও ক্ষয় পরিলক্ষিত হতে পারে না। প্রক্ষান্তরে মাখলুকের গুণাগুণ অর্থাৎ শোনা, দেখা এবং জানা ইত্যাদি সব গুণই ত্রুটি যুক্ত, অসম্পূর্ণ ও ক্ষণস্থায়ী। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

টিকাঃ
⁷⁵ মুসলিম হাদীস নং 2612

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 গুহা বাসী তিনজনের একজনের ঘটনা

📄 গুহা বাসী তিনজনের একজনের ঘটনা


[বাহ্যিকভাবে মেয়েটি অবিবাহিত হওয়ার পরও তাকে কেন বিবাহ করেনি?]
প্রশ্ন: গুহার তিন জনের একজনের ঘটনা বিষয়ে প্রশ্ন জাগে যে, নির্জনে একাকী অবস্থায় স্বীয় চাচাতো বোনের সাথে ব্যভিচার করতে যখন আল্লাহ তা'আলার ভয় বিরত রাখল, তখন অবিবাহিত হওয়া সত্বেও তাকে কেন বিবাহ করল না?। অপর জন সম্পর্কে প্রশ্ন জাগে যে, দুধ দোহানোর পর স্বীয় মাতা-পিতাকে ঘুমে দেখে তাদের ঘুম থেকে জাগানোকে অপছন্দ করল এবং তার পরিবারের সদস্য ও নিষ্পাপ শিশুরা ক্ষুধার জালায় যখন কাঁদছিল এ অবস্থায় তাদের খেতে দেওয়া ওয়াজিব হওয়া সত্বেও তাদেরও পান করানোকে অপছন্দ করেন। অথচ এ অবস্থায় তাদের খেতে দেওয়া তার মাতা-পিতার সাথে ভালো আচরণের পরিপন্থী নয়। এটি কীভাবে সমর্থনযোগ্য?
উত্তর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন ব্যক্তির থেকে প্রতি জনের ঘটনা আলোচনা করেছেন তাদের উন্নত আখলাক দ্বারা সর্বচ্চ সফলতা অর্জনের বিষয়টিকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে। ফলে তিনি ঘটনার আনুসাঙ্গিক যে সব আপত্তিকর ও প্রশ্নাতীত বিষয়গুলো রয়েছে তার গভীরতায় না গিয়ে তাদের একজনের সবোর্চ্চ পুত-পবিত্র হওয়া, একজনের মাতা-পিতার জন্য সর্বচ্চো ত্যাগ স্বীকার করা এবং একজনের আমানত দারিতার সবোর্চ্চ্ গুরুত্ব প্রদান করাকে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছেন। কারণ, উদ্দেশ্য তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা আনুসাঙ্গিক বিধি-বিধান উল্লেখ করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। এখানে জানা অজানা অনেক আপত্তিই থাকতে পারে যা এখানে আলোচনার বিষয় নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
শাইখ আব্দুর রহমান আস-সা 'আদী রহ.

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 “আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন” এ কথা বলা এবং “আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” এ কথা বলার মধ্যে পার্থক্য

📄 “আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন” এ কথা বলা এবং “আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” এ কথা বলার মধ্যে পার্থক্য


প্রশ্ন: "আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন" ( واو দ্বারা عطف করা হয়েছে) সাহাবীদের কথাকে সমর্থন করা এবং "আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” এ কথাকে প্রত্যাখ্যান করার মধ্যে কিভাবে বিরোধ নিরসন করব?।
উত্তর: "আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন" বলা বৈধ। কারণ, রাসূলের ইলম আল্লাহর আল্লাহর ইলম থেকে। কোন মানুষ যা জানতে পারে না তা আল্লাহ তা'আলাই তাকে জানিয়ে দেন। এ কারণেই واو দ্বারা বাক্যটি বলা হয়।
অনুরূপভাবে শরীআতের মাসায়েল বিষয়ে এ কথা বলা হয় যে, "আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন।" কারণ, আল্লাহর শরীআত বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত মাখলুকের তুলনায় সর্বাধিক জ্ঞাত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, .. وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُن تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا ﴾ [النساء : ١١٣] “আর আল্লাহ তোমার প্রতি নাযিল করেছেন কিতাব ও হিকমাত এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। আর তোমার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে মহান।" [সূরা আন- নিসা, আয়াত: ১১৩] "আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” কথাটি ঐ কথার মতো নয়। কারণ, এ কথাটি কুদরাত ও চাওয়া অধ্যায়ের কথা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কুদরাত ও চাওয়া বিষয়ে অংশিদা হতে পারেন না।
সুতরাং, শরীআতের বিষয়সমূহে এ কথা বলা যাবে "আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন।” কিন্তু আল্লাহর কুদরতী বিষয়সমূহে ঐ কথা বলা যাবে না।
এ দ্বারা এ কথা স্পষ্ট হয় যে, যারা কোন কোন আমলের ক্ষেত্রে এ আয়াত...পেশ করে তাদের দাবি সঠিক নয় তারা বিভ্রান্ত ও মূর্খ। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পর আমল দেখতে পায় না। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 সাইয়্যেদ বলার বিধান

📄 সাইয়্যেদ বলার বিধান


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «السَّيِّدُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى» “আল্লাহ তা'আলা সাইয়্যেদ।” তাশাহুদ পাঠে এসেছে- “হে আল্লাহ তুমি রহমত বর্ষণ করা আমাদের সরদার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর।”
প্রশ্ন: আব্দুল্লাহ বিন শিখির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বনী আমেরের লোকদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাই এবং আমি বলি হে রাসূল আপনি আমাদের সরদার। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাইয়্যেদ কেবল আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা।⁷⁶ অথচ তাশাহুদ বিষয়ে হাদীসে এসেছে- “হে আল্লাহ তুমি রহমত বর্ষণ করা আমাদের সাইয়্যেদ-সরদার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং আমাদের সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার পরিজনের ওপর।” এবং অপর হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমি আদম সন্তানের সাইয়্যেদ।” উভয় হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্যতা কীভাবে নিরসন হবে?
উত্তর: এতে কোন সন্দেহ নেই যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী আদমের সরদার। প্রতিটি জ্ঞানী মু'মিন বলতেই এ কথা বিশ্বাস করেন যে, তিনি আমাদের সরদার। আর সরদার অর্থ হলো, সম্মানী, আনুগত্যশীল এবং ক্ষমতাবান। আল্লাহর রাসূলের অনুসরণ করা আল্লাহরই অনুসরণ। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ﴾ [النساء : ٨٠] "যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল।" [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০]
আমরা মু'মিনগণ এ কথা বিশ্বাস করি যে, আমাদের নবীই আমাদের সরদার, সবার চেয়ে উত্তম মানব, সর্বচ্চো মার্যাদার অধিকারী এবং তিনিই একমাত্র অনুকরণীয় মহা মানব। তার প্রতি আমাদের বিশ্বাসের দাবি হলো, তিনি আমাদের জন্য কথা, কর্ম ও বিশ্বাসের বিষয়ে যে দীন বা শরীআত নিয়ে এসেছেন তার প্রতি পূর্ণাঙ্গ অনুকরণ ও বিশ্বাস করা। তিনি আমাদের সালাত আদায়ের প্রদ্ধতিতে তাশাহুদে এ কথা اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ গুলা বা এ ধরনের বিভিন্ন গুনাবলী যেগুলো হাদীসে বর্ণিত রয়েছে তা বলতে বলেছেন। তবে প্রশ্নকারীর প্রশ্নে বর্ণিত গুনটি উল্লিখিত শব্দে বর্ণিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। অর্থাৎ السّيد । যদি এ শব্দাবলী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে বলে প্রমাণিত না হয়, তবে উত্তম হলো আমরা উল্লিখিত শব্দাবলী দ্বারা সালাতে দুরূদ পড়ব না। আমরা ঐ সব শব্দ দ্বারা দরূদ পড়বো যে শব্দগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি আমাদের শিখিয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় একটি বিষয়ে সতর্ক করাকে পছন্দ করি, আর তা হলো, যে কোন ঈমানদার লোক এ কথা বিশ্বাস করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সরদার, তার এ বিশ্বাস ও ঈমানের দাবি হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দীন বা শরীআতের প্রচলন করেছেন তা অতিক্রম না করা, তাতে কোন প্রকার বাড়ানো ও কমানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। সুতরাং সে আল্লাহর দীনের মধ্যে এমন কিছু বাড়াবে না যা দীনের বিষয় নয় এবং কোন কিছুকে কমাবে না যা দীনের অংশ। কারণ, এটিই হলো কাউকে সরদার হিসেবে মানার প্রকৃত বাস্তবায়ন যা কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এটি তাঁরই হক।
এরই ভিত্তিতে বলা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে যে সব দুরূদ বা যিকির শরীআত হিসেবে আল্লাহ তা'আলা তার নবীর ওপর নাযিল করেননি সে সব দরূদ বা যিকিরের আবিষ্কার করা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সরদার বলে বিশ্বাস করার দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত ও পরিপন্থী। কারণ, এ বিশ্বাসের দাবি হলো শরীআতের অতিক্রম না করা এবং তার থেকে কোন কিছু বাদ না দেয়া। সুতরাং একজন মানুষকে অবশ্যই এ বিষয়ে চিন্ত ফিকির করতে হবে যাতে তার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, সে একজন অনুসারী মাত্র সে কোন শরীআতের প্রবর্তক নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত তিনি বলেন, ....তার এ বাণী এবং অপর বাণী... এর মধ্যে নিষ্পত্তি হলো, সামগ্রীক ক্ষমতাধর হওয়া বা সরদারী করা একমাত্র আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য। কারণ, যাবতীয় বিষয় সমূহ কেবল আল্লাহর। তিনি হুকুমদাতা, বাকীরা সবাই তার হুকুমের গোলাম। তিনি হাকিম বাকীরা মাহকুম। আল্লাহর ছাড়া অন্যদের ক্ষমতা আপেক্ষিক। নির্দিষ্ট বস্তুর মধ্যে, নির্দিষ্ট সময়ে জন্য, নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এবং সৃষ্টি কোন শ্রেণির ক্ষেত্রে তা সীমাবদ্ধ।

টিকাঃ
⁷⁶ আবূ দাউদ, হাদীস নং ৪৮০৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00