📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 কুরআনের আয়াত ও সালাফদের একটি উক্তি প্রসঙ্গে আলোচনা

📄 কুরআনের আয়াত ও সালাফদের একটি উক্তি প্রসঙ্গে আলোচনা


আল্লাহ তা'আলার বাণী: [ النجم: ۳۸] أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى "তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।" [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৭] এবং অপর উক্তি عِفُّوا تَعِفُّ نِسَاؤُكُمْ “তোমরা পাক-পবিত্র থাক, তোমাদের নারীরাও পাক-পবিত্র থাকবে।"
প্রশ্ন: সালাফদের উক্তি عفوا تعف نساءكم "তোমরা পাক-পবিত্র থাক, তোমাদের নারীরাও পাক-পবিত্র থাকবে।” দ্বারা অনেকে এ কথা প্রমাণ করে, যে ব্যক্তি ব্যভিচার করে তার ঘরের স্ত্রীও ব্যভিচার করবে। এ কথা কতটা বিশুদ্ধ? এ কথা এবং আল্লাহ তা'আলার বাণী: ]৩৮: النجم [ ﴿ أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ﴾ “তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৯]-এর মধ্যে যে বিরোধ তা কিভাবে নিরসন করব?
উত্তর: সর্ববস্থায় প্রসংশা কেবল আল্লাহরই। সালাফদের কথা ও কুরআনের বাণীর মধ্যে কোন বিরোধ নেই। সালাফদের উক্তির অর্থ হলো, যখন কোন ব্যক্তি বার বার ব্যভিচার করে, তখন পরিবারের মধ্যে ব্যভিচার সংঘটিত হওয়া দ্বারা তাকে শাস্তি দেওয়া হয়ে থাকে। তবে বিষয়টি হবেই এমন নয়। এটি কেবল আশঙ্কা। আল্লাহর বাণী— [৩৮: النجم ] ﴿ أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ﴾ এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৯] এর অর্থ কোন মানুষকে অপরের গুনাহের কারণে পাকড়াও করা হবে না। কিন্তু একজন মানুষ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এটি তার পরিবারের জন্য নিরাপত্তা। যেমন কোন ব্যক্তি যখন অবাধ্য হয়, মদ পান করে বা অন্য কোন খারাপ কর্মে জড়িয়ে পড়ে, তার প্রভাব তার পরিবার পরিজনের মধ্যেও পড়ে। ফলে দেখা যায় তারাও তার অনুকরণে খারাপ কর্মে লিপ্ত হয় এবং তার অনুসরণ করতে থাকে। অনুরূপভাবে যখন কোন ব্যক্তি ব্যভিচার করে -নাউযুবিল্লাহ- তখন তার ছেলে মেয়েরাও তার অনুকরণ করে। তার স্ত্রীও তার মতো যিনা-ব্যভিচার করে। সুতরাং আমাদের সবাইকে এ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু কাউকে অপরের গুনাহের কারণে কখনোই পাকড়াও করা হবে না। প্রত্যেককে তার নিজের অপরাধের কারণে পাকড়াও করা হবে। অভিভাবকের ব্যভিচার করা তার পরিবার ও ছেলে-মেয়েরা তার অনুসরণে ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ আশঙ্কাটি খুবই প্রকট। আল্লাহর নিকট আমরা নিরাপত্তা কামনা করি।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 আল্লাহ তা‘আলা আদম আলাইহিস সালামকে স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন

📄 আল্লাহ তা‘আলা আদম আলাইহিস সালামকে স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন


প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, فإن الله خلق آدم على صورته “আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।” এর অর্থ কি এই যে, আদম আলাইহিস সালামের যে সব গুণাগুণ রয়েছে তা আল্লাহর জন্যও হবে?
উত্তর: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- «فإن الله خلق آدم على صورته» "আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।"⁷⁵ ইমাম আহমাদ ও এক জামাআত হাদীস বিশারদদের বর্ণনায় বর্ণিত, "রহমানের আকৃতিতে।” প্রথম হাদীসে সর্বনামটি আল্লাহর পরিবর্তে ব্যবহারিত। ইমাম আহমদ, ইসহাক ইবন রাহওয়াই ও পূর্বসূরী ইমামগণ বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের সে পথ চলাই ওয়াজিব যে পথ আল্লাহর অন্যান্য সিফাতের ক্ষেত্রে আমরা চলে আসছি। কোন প্রকার সাদৃস্যতা, দৃষ্টান্ত ও অকার্যকরিতা স্থাপন করা ছাড়া আল্লাহর সাথে যা প্রযোজ্য তাই মানতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এ কথা বাধ্য করে না যে, আল্লাহর আকৃতি আদম আলাইহিস সালামের আকৃতি হতে হবে। যেমন, আল্লাহর জন্য হাত, পা, আঙ্গুল, খুশি হওয়া, রাগ হওয়া ইত্যাদি গুনাগুণ তার জন্য সাব্যস্ত করা এ কথাকে বাধ্য করে না যে, আল্লাহ তা'আলাও মানুষের মতো। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তার নিজের সম্পর্কে তিনি নিজে বা তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গুণ সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছেন সে সব গুনে তিনি তার শান অনুযায়ী মাখলুকের সাথে কোন প্রকার সাদৃশ্য ছাড়া গুনান্বিত। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, «لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴾ [الشورى: ١١] “তাঁর মত কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩৭] সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা মেনে নেয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উদ্দেশ্য নিয়েছেন সে অনুযয়ী কোন প্রকার ধরণ, প্রকৃতি ও দৃষ্টান্ত ছাড়া গ্রহণ করা।
"আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা তার স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" এ হাদীসটির অর্থ-আল্লাহ ভালো জানেন- তিনি চেহারা, কান ও চোখ বিশিষ্ট। তিনি শোনেন, দেখেন, কথা বলেন এবং যা ইচ্ছা করেন। তবে এ অর্থ দ্বারা এ কথা মানাকে বাধ্য করে না যে, তার চেহারা মাখলুকের চেহারার মতো, তার কান মাখলুকের কানের মতো এবং চোখ মাখলুকের চোখের মতো...ইত্যাদি। অনুরূপভাবে আদম আলাইহিস সালামের আকৃতি আর আল্লাহর আকৃতি একই হবে তা মানাকেও এ হাদীস বাধ্য করে না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে এটি একটি সামগ্রিক ও সার্বজনিন মূলনীতি যে- আল্লাহর সিফাত সম্বোলিত কুরআনের আয়াত ও হাদীসসমূহকে কোন প্রকার বিকৃতি, ধরণ বর্ণনা করা, দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এবং বেকার মনে করা ছাড়া তার বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করতে হবে। এমনকি তারা আল্লাহর নামসমূহ ও সিফাতসমূহকে কোন প্রকার দৃষ্টান্ত ছাড়াই সাব্যস্ত করে থাকেন এবং তারা আল্লাহকে মাখলুকের সাথে সাদৃস্য হওয়া থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র সাব্যস্ত করেন। মুআত্তালা ও সাদৃস্যবাদী বিদআতীরা এ ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করে।
সুতরাং, যদিও মাখলুক ও খালেক-আল্লাহ তা'আলা উভয়েই ইলম, চোখ ও কান থাকা বিষয়ে একই এবং অভিন্ন। মনে রাখতে হবে, মাখলুকের কান, মাখলুকের চোখ এবং মাখলুকের ইলম আল্লাহ তা'আলার চোখ, কান ও ইলমের মতো নয়। কিন্তু যে গুনাগুনটি নিতান্তই আল্লাহর বিশেষ বৈশিষ্ট্য, তার মাখলুকের কেউ তাতে আল্লাহর সাদৃস হতে পারে না। তার মতো কোন বস্তুই নেই। আল্লাহর গুনাগুন বা সিফাত অবশ্যই পরিপূর্ণ, স্থায়ী ও অক্ষয়। কোন ভাবেই তার কোন গুন বা সিফাতের মধ্যে কোন প্রকার অপূর্ণাঙ্গতা, দূর্বলতা বা খুঁত ও ক্ষয় পরিলক্ষিত হতে পারে না। প্রক্ষান্তরে মাখলুকের গুণাগুণ অর্থাৎ শোনা, দেখা এবং জানা ইত্যাদি সব গুণই ত্রুটি যুক্ত, অসম্পূর্ণ ও ক্ষণস্থায়ী। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

টিকাঃ
⁷⁵ মুসলিম হাদীস নং 2612

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 গুহা বাসী তিনজনের একজনের ঘটনা

📄 গুহা বাসী তিনজনের একজনের ঘটনা


[বাহ্যিকভাবে মেয়েটি অবিবাহিত হওয়ার পরও তাকে কেন বিবাহ করেনি?]
প্রশ্ন: গুহার তিন জনের একজনের ঘটনা বিষয়ে প্রশ্ন জাগে যে, নির্জনে একাকী অবস্থায় স্বীয় চাচাতো বোনের সাথে ব্যভিচার করতে যখন আল্লাহ তা'আলার ভয় বিরত রাখল, তখন অবিবাহিত হওয়া সত্বেও তাকে কেন বিবাহ করল না?। অপর জন সম্পর্কে প্রশ্ন জাগে যে, দুধ দোহানোর পর স্বীয় মাতা-পিতাকে ঘুমে দেখে তাদের ঘুম থেকে জাগানোকে অপছন্দ করল এবং তার পরিবারের সদস্য ও নিষ্পাপ শিশুরা ক্ষুধার জালায় যখন কাঁদছিল এ অবস্থায় তাদের খেতে দেওয়া ওয়াজিব হওয়া সত্বেও তাদেরও পান করানোকে অপছন্দ করেন। অথচ এ অবস্থায় তাদের খেতে দেওয়া তার মাতা-পিতার সাথে ভালো আচরণের পরিপন্থী নয়। এটি কীভাবে সমর্থনযোগ্য?
উত্তর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন ব্যক্তির থেকে প্রতি জনের ঘটনা আলোচনা করেছেন তাদের উন্নত আখলাক দ্বারা সর্বচ্চ সফলতা অর্জনের বিষয়টিকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে। ফলে তিনি ঘটনার আনুসাঙ্গিক যে সব আপত্তিকর ও প্রশ্নাতীত বিষয়গুলো রয়েছে তার গভীরতায় না গিয়ে তাদের একজনের সবোর্চ্চ পুত-পবিত্র হওয়া, একজনের মাতা-পিতার জন্য সর্বচ্চো ত্যাগ স্বীকার করা এবং একজনের আমানত দারিতার সবোর্চ্চ্ গুরুত্ব প্রদান করাকে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছেন। কারণ, উদ্দেশ্য তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা আনুসাঙ্গিক বিধি-বিধান উল্লেখ করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। এখানে জানা অজানা অনেক আপত্তিই থাকতে পারে যা এখানে আলোচনার বিষয় নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
শাইখ আব্দুর রহমান আস-সা 'আদী রহ.

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 “আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন” এ কথা বলা এবং “আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” এ কথা বলার মধ্যে পার্থক্য

📄 “আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন” এ কথা বলা এবং “আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” এ কথা বলার মধ্যে পার্থক্য


প্রশ্ন: "আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন" ( واو দ্বারা عطف করা হয়েছে) সাহাবীদের কথাকে সমর্থন করা এবং "আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” এ কথাকে প্রত্যাখ্যান করার মধ্যে কিভাবে বিরোধ নিরসন করব?।
উত্তর: "আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন" বলা বৈধ। কারণ, রাসূলের ইলম আল্লাহর আল্লাহর ইলম থেকে। কোন মানুষ যা জানতে পারে না তা আল্লাহ তা'আলাই তাকে জানিয়ে দেন। এ কারণেই واو দ্বারা বাক্যটি বলা হয়।
অনুরূপভাবে শরীআতের মাসায়েল বিষয়ে এ কথা বলা হয় যে, "আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন।" কারণ, আল্লাহর শরীআত বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত মাখলুকের তুলনায় সর্বাধিক জ্ঞাত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, .. وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُن تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا ﴾ [النساء : ١١٣] “আর আল্লাহ তোমার প্রতি নাযিল করেছেন কিতাব ও হিকমাত এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। আর তোমার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে মহান।" [সূরা আন- নিসা, আয়াত: ১১৩] "আল্লাহ যা চান এবং তুমি যা চাও” কথাটি ঐ কথার মতো নয়। কারণ, এ কথাটি কুদরাত ও চাওয়া অধ্যায়ের কথা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কুদরাত ও চাওয়া বিষয়ে অংশিদা হতে পারেন না।
সুতরাং, শরীআতের বিষয়সমূহে এ কথা বলা যাবে "আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন।” কিন্তু আল্লাহর কুদরতী বিষয়সমূহে ঐ কথা বলা যাবে না।
এ দ্বারা এ কথা স্পষ্ট হয় যে, যারা কোন কোন আমলের ক্ষেত্রে এ আয়াত...পেশ করে তাদের দাবি সঠিক নয় তারা বিভ্রান্ত ও মূর্খ। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পর আমল দেখতে পায় না। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00