📄 সালাত আপকারীর বিধান
সালাত ত্যাগকারী কাফের হওয়া বিষয়ক হাদীসসমূহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী- أقوام يدخلون الجنة ولم يسجدوا الله سجدة “এমন সম্প্রদায়ের লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে যারা আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও কখনো করেনি。
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- إنهم يدخلون الجنة ولم يسجدوا الله سجدة “এমন সম্প্রদায়ের লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে যারা আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও কখনো করেনি” ঐ সব লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা সালাত ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে অজ্ঞ। যেমন, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী রাষ্ট্র থেকে দূরবর্তী স্থানে অথবা প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে যেখানে সালাতের দাও'আত পৌঁছেনি। অথবা বাণীটি ঐ সব লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা ইসলাম গ্রহণ করার পর সাথে সাথে মারা গেছেন- আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও করতে পারেননি। এ কথাটি বলার কারণ, মূলত: হাদীসটি ঐ সব হাদীসের অর্ন্তভুক্ত যেগুলোকে মুতাসাবেহ বলা হয়। আর সালাত ত্যাগকারী হাদীস স্পষ্ট ও মুহকাম। কুরআন ও সুন্নাত দ্বারা দলীল দেয়ার ক্ষেত্রে একজন মু'মিনের ওপর ওয়াজিব হলো মুতাসাবেহকে মুহকামের ওপর প্রয়োগ করা। মুহকামকে বাদ দিয়ে মুতাশাবেহের অনুসরণ করা তাদের স্বভাব যাদের অন্তরে রয়েছে বক্রতা ও কপটতা। আল্লাহ আমাদের তা থেকে হেফাযত করুন। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, هُوَ الَّذِي أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ ءَايَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْعٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَبَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ، وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ وَ إِلَّا اللهُ وَالرَّسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ ءَامَنَّا بِهِ كُلٌّ مِّنْ عِندِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُوا الْأَلْبَابِ ﴾ [ال عمران: ٧]
নাযিল করেছেন, তার মধ্যে আছে মুহকাম আয়াতসমূহ। সেগুলো কিতাবের মূল, আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ্। ফলে যাদের অন্তরে রয়েছে সত্যবিমুখ প্রবণতা, তারা ফিতনার উদ্দেশ্যে এবং ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে মুতাশাবিহ্ আয়াতগুলোর পেছনে লেগে থাকে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে পরিপক্ক, তারা বলে, আমরা এগুলোর প্রতি ঈমান আনলাম, সবগুলো আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর বিবেক সম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে।” [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৮] আব্দুল আসহাল গোত্রের আসীরমের ঘটনা কারো অজানা নয়। তিনি ওহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদ হন। তার স্বজাতি লোকেরা ময়দানের এক প্রান্তে সর্বশেষ শহীদদের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পান। তারা জিজ্ঞাসা করল, তুমি কেন তোমার স্বজাতির বিরুদ্ধে গেলে নাকি ইসলামের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলে? বলল, না বরং আমি আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান আনলাম। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বিষয়টি অবহিত করলে, তিনি বললেন, নিশ্চয় তিনি জান্নাতী। অথচ লোকটি আল্লাহর জন্য একটি সেজদাও করেননি। কিন্তু তার উত্তম পরিণতি দ্বারা আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দয়া করেছেন। আল্লাহর নিকট আমাদের ও তোমাদের জন্য উত্তম পরিণতি কামনা করি।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.
📄 কিয়ামতের আলামত বিষয়ক দুইটি হাদীস
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: لا تقوم الساعة حتى يعم الإسلام الأرض "ইসলামের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠা ছাড়া কিয়ামত হবে না।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর বাণী: إنها لا تقوم ويبقى من يقول لا إله الا الله في الأرض "যতক্ষণ পর্যন্ত জমিন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলার মত একজন লোকও অবশিষ্ট থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না।"
প্রশ্ন: আমরা প্রায় এ কথা শুনে থাকি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠা ছাড়া কিয়ামত হবে না। অপরদিকে আমরা অন্যদের কাছে শুনতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জমিন জমিনে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলার মত একজন লোকও অবশিষ্ট থাকতে কিয়ামত কায়েম হবে না। উভয় বাণীর মধ্যে কিভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করব?
উত্তর: উভয় বাণীই বিশুদ্ধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, তিনি বলেন, ঈসা ইবন মারিয়ামের আগমন ছাড়া কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তিনি এসে দাজ্জালকে হত্যা করবেন, শুকর নিধন করবেন, সুলিক ভেঙ্গে দেবেন, সম্পদকে ব্যাপক করবেন এবং ট্যেক্স তুলে দেবেন। তিনি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু তিনি গ্রহণ করবেন না অন্যথায় যারা ইসলাম গ্রহণ করবে তাদের সাথে যুদ্ধ। তার আমলে আল্লাহ তা'আলা ইসলাম ছাড়া সব ধর্মকে ধ্বংস করে দেবেন। তখন জমিনে সেজদা কেবল আল্লাহর জন্য হবে।
এ কথা স্পষ্ট যে, ঈসা আলাইহিস সালামের যুগে ইসলাম সারা দুনিয়াতে বিজয়ী হবে এবং ইসলাম ছাড়া আর কোন দীন পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অসংখ্য হাদীস এ মর্মে বর্ণিত যে, কিয়ামত কেবল নিকৃষ্ট মানুষের ওপর কায়েম হবে। ঈসা আলাইহিস সালাম এ মৃত্যুর পর যখন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদয় হবে তখন আল্লাহ তা'আলা এক ধরনের পবিত্র বাতাস প্রেরণ করবেন। এ বাতাস প্রতিটি মু'মিন বান্দা-বান্দির জীবনকে কবজ করে নিয় যাবে। জমিন খারাপ মানুষ ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না তখন তাদের ওপর কিয়ামত কায়েম হবে। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
📄 কুরআনের আয়াত ও সালাফদের একটি উক্তি প্রসঙ্গে আলোচনা
আল্লাহ তা'আলার বাণী: [ النجم: ۳۸] أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى "তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।" [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৭] এবং অপর উক্তি عِفُّوا تَعِفُّ نِسَاؤُكُمْ “তোমরা পাক-পবিত্র থাক, তোমাদের নারীরাও পাক-পবিত্র থাকবে।"
প্রশ্ন: সালাফদের উক্তি عفوا تعف نساءكم "তোমরা পাক-পবিত্র থাক, তোমাদের নারীরাও পাক-পবিত্র থাকবে।” দ্বারা অনেকে এ কথা প্রমাণ করে, যে ব্যক্তি ব্যভিচার করে তার ঘরের স্ত্রীও ব্যভিচার করবে। এ কথা কতটা বিশুদ্ধ? এ কথা এবং আল্লাহ তা'আলার বাণী: ]৩৮: النجم [ ﴿ أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ﴾ “তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৯]-এর মধ্যে যে বিরোধ তা কিভাবে নিরসন করব?
উত্তর: সর্ববস্থায় প্রসংশা কেবল আল্লাহরই। সালাফদের কথা ও কুরআনের বাণীর মধ্যে কোন বিরোধ নেই। সালাফদের উক্তির অর্থ হলো, যখন কোন ব্যক্তি বার বার ব্যভিচার করে, তখন পরিবারের মধ্যে ব্যভিচার সংঘটিত হওয়া দ্বারা তাকে শাস্তি দেওয়া হয়ে থাকে। তবে বিষয়টি হবেই এমন নয়। এটি কেবল আশঙ্কা। আল্লাহর বাণী— [৩৮: النجم ] ﴿ أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ﴾ এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৯] এর অর্থ কোন মানুষকে অপরের গুনাহের কারণে পাকড়াও করা হবে না। কিন্তু একজন মানুষ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এটি তার পরিবারের জন্য নিরাপত্তা। যেমন কোন ব্যক্তি যখন অবাধ্য হয়, মদ পান করে বা অন্য কোন খারাপ কর্মে জড়িয়ে পড়ে, তার প্রভাব তার পরিবার পরিজনের মধ্যেও পড়ে। ফলে দেখা যায় তারাও তার অনুকরণে খারাপ কর্মে লিপ্ত হয় এবং তার অনুসরণ করতে থাকে। অনুরূপভাবে যখন কোন ব্যক্তি ব্যভিচার করে -নাউযুবিল্লাহ- তখন তার ছেলে মেয়েরাও তার অনুকরণ করে। তার স্ত্রীও তার মতো যিনা-ব্যভিচার করে। সুতরাং আমাদের সবাইকে এ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু কাউকে অপরের গুনাহের কারণে কখনোই পাকড়াও করা হবে না। প্রত্যেককে তার নিজের অপরাধের কারণে পাকড়াও করা হবে। অভিভাবকের ব্যভিচার করা তার পরিবার ও ছেলে-মেয়েরা তার অনুসরণে ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ আশঙ্কাটি খুবই প্রকট। আল্লাহর নিকট আমরা নিরাপত্তা কামনা করি।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
📄 আল্লাহ তা‘আলা আদম আলাইহিস সালামকে স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, فإن الله خلق آدم على صورته “আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।” এর অর্থ কি এই যে, আদম আলাইহিস সালামের যে সব গুণাগুণ রয়েছে তা আল্লাহর জন্যও হবে?
উত্তর: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- «فإن الله خلق آدم على صورته» "আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।"⁷⁵ ইমাম আহমাদ ও এক জামাআত হাদীস বিশারদদের বর্ণনায় বর্ণিত, "রহমানের আকৃতিতে।” প্রথম হাদীসে সর্বনামটি আল্লাহর পরিবর্তে ব্যবহারিত। ইমাম আহমদ, ইসহাক ইবন রাহওয়াই ও পূর্বসূরী ইমামগণ বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের সে পথ চলাই ওয়াজিব যে পথ আল্লাহর অন্যান্য সিফাতের ক্ষেত্রে আমরা চলে আসছি। কোন প্রকার সাদৃস্যতা, দৃষ্টান্ত ও অকার্যকরিতা স্থাপন করা ছাড়া আল্লাহর সাথে যা প্রযোজ্য তাই মানতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এ কথা বাধ্য করে না যে, আল্লাহর আকৃতি আদম আলাইহিস সালামের আকৃতি হতে হবে। যেমন, আল্লাহর জন্য হাত, পা, আঙ্গুল, খুশি হওয়া, রাগ হওয়া ইত্যাদি গুনাগুণ তার জন্য সাব্যস্ত করা এ কথাকে বাধ্য করে না যে, আল্লাহ তা'আলাও মানুষের মতো। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা তার নিজের সম্পর্কে তিনি নিজে বা তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গুণ সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছেন সে সব গুনে তিনি তার শান অনুযায়ী মাখলুকের সাথে কোন প্রকার সাদৃশ্য ছাড়া গুনান্বিত। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, «لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴾ [الشورى: ١١] “তাঁর মত কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩৭] সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা মেনে নেয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উদ্দেশ্য নিয়েছেন সে অনুযয়ী কোন প্রকার ধরণ, প্রকৃতি ও দৃষ্টান্ত ছাড়া গ্রহণ করা।
"আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা তার স্বীয় আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" এ হাদীসটির অর্থ-আল্লাহ ভালো জানেন- তিনি চেহারা, কান ও চোখ বিশিষ্ট। তিনি শোনেন, দেখেন, কথা বলেন এবং যা ইচ্ছা করেন। তবে এ অর্থ দ্বারা এ কথা মানাকে বাধ্য করে না যে, তার চেহারা মাখলুকের চেহারার মতো, তার কান মাখলুকের কানের মতো এবং চোখ মাখলুকের চোখের মতো...ইত্যাদি। অনুরূপভাবে আদম আলাইহিস সালামের আকৃতি আর আল্লাহর আকৃতি একই হবে তা মানাকেও এ হাদীস বাধ্য করে না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট আল্লাহর সিফাতের ক্ষেত্রে এটি একটি সামগ্রিক ও সার্বজনিন মূলনীতি যে- আল্লাহর সিফাত সম্বোলিত কুরআনের আয়াত ও হাদীসসমূহকে কোন প্রকার বিকৃতি, ধরণ বর্ণনা করা, দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এবং বেকার মনে করা ছাড়া তার বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করতে হবে। এমনকি তারা আল্লাহর নামসমূহ ও সিফাতসমূহকে কোন প্রকার দৃষ্টান্ত ছাড়াই সাব্যস্ত করে থাকেন এবং তারা আল্লাহকে মাখলুকের সাথে সাদৃস্য হওয়া থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র সাব্যস্ত করেন। মুআত্তালা ও সাদৃস্যবাদী বিদআতীরা এ ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করে।
সুতরাং, যদিও মাখলুক ও খালেক-আল্লাহ তা'আলা উভয়েই ইলম, চোখ ও কান থাকা বিষয়ে একই এবং অভিন্ন। মনে রাখতে হবে, মাখলুকের কান, মাখলুকের চোখ এবং মাখলুকের ইলম আল্লাহ তা'আলার চোখ, কান ও ইলমের মতো নয়। কিন্তু যে গুনাগুনটি নিতান্তই আল্লাহর বিশেষ বৈশিষ্ট্য, তার মাখলুকের কেউ তাতে আল্লাহর সাদৃস হতে পারে না। তার মতো কোন বস্তুই নেই। আল্লাহর গুনাগুন বা সিফাত অবশ্যই পরিপূর্ণ, স্থায়ী ও অক্ষয়। কোন ভাবেই তার কোন গুন বা সিফাতের মধ্যে কোন প্রকার অপূর্ণাঙ্গতা, দূর্বলতা বা খুঁত ও ক্ষয় পরিলক্ষিত হতে পারে না। প্রক্ষান্তরে মাখলুকের গুণাগুণ অর্থাৎ শোনা, দেখা এবং জানা ইত্যাদি সব গুণই ত্রুটি যুক্ত, অসম্পূর্ণ ও ক্ষণস্থায়ী। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
⁷⁵ মুসলিম হাদীস নং 2612