📄 আল্লাহর দু‘টি হাতই ডান নাকি ডান ও বাম দু‘টি হাত তার আলোচনা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, وَكِلْنَا يَدَيْهِ يَمِينُ “তাঁর দু'টি হাতই ডাম।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর বাণী:
الْمُتَكَبِّرُونَ ثُمَّ يَطْوِي الْأَرَضِينَ بِشِمَالِهِ "তারপর তিনি সাত স্তর জমিন গুটিয়ে দিবেন এবং স্বীয় বাম হাত দ্বারা সেগুলোকে পাকড়াও করবেন।"
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী—তিনি বলেন, الْمُقْسِطُونَ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ “ন্যায় বিচারকারীগণ রহমানের ডান পাশের নূরের মিম্বারের ওপর অধিষ্ঠিত হবে। তার দুই হাতই ডান।”⁴⁹ অপর হাদীস যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি يَطْوِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ السَّمَوَاتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِيَدِهِ الْيُمْنَى وَيَطْوِي الْأَرَضِينَ ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِشِمَالِهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ الْجَبَّارُونَ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ ثُمَّ يَطْوِي الْأَرَضِينَ ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِشِمَالِهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ الْجَبَّارُونَ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ ".
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহকে গুটিয়ে দেবেন তারপর তিনি ডান হাতে নিয়ে বলবেন, আমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, অত্যাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়, তারপর তিনি সাত স্তর জমিন গুটিয়ে দিবেন এবং স্বীয় বাম হাত দ্বারা সেগুলোকে পাকড়াও করবেন এবং, আমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, অত্যাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়।”⁵⁰ হাদীস দু'টির মধ্যে কীভাবে বিরোধ নিরসন করা হবে?
উত্তর: হাদীসে 'ডান হাত দ্বারা' বাক্যটি বিষয়ে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ বাক্যটিকে সাব্যস্ত করেছেন আবার কেউ কেউ বাক্যটিকে অস্বীকার করে বলেছেন এ বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুদ্ধ সনদে প্রমাণিত নয়। এখানে বিভ্রান্তির মূলে রয়েছে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, الْمُقْسِطُونَ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ “ন্যায় বিচারকারীগণ রহমানের ডান পাশে নূরের মিম্বারের ওপর অধিষ্ঠিত হবে। আর তার দুই হাতই ডান।" এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, আল্লাহর ডান হাত ও বাম হাত বলতে কোন কিছু নেই। কিন্তু ইমাম মুসলিম স্বীয় সহীহতে অপর একটি হাদীস বর্ণনা করেন যাতে আল্লাহর জন্য বাম হাত সাব্যস্ত করা হয়। যদি হাদীসটি শুদ্ধ হয় তারপরও আমার মতে وَكِلْنَا يَدَيْهِ يَمِينُ "উভয় হাতই ডান” এ হাদীসের সাথে কোন বিরোধ নেই। কারণ, হাদীসের অর্থ হলো, তার অপর হাত মানুষের বাম হাতের মতো নয়। কারণ, মানুষের বাম হাত ডান হাতের তুলনায় দুর্বল হয়ে থাকে। কিন্তু আল্লাহর উভয় হাতই একই। উভয় হাতের মধ্যে কোন ব্যবধান নেই। এ কারণে তিনি বলেন, وَكِلْنَا يَدَيْهِ يَمِينُ "উভয় হাতই ডান" অর্থাৎ তার উভয় হাতে কোন দুর্বলতা নেই। বাম হাত সাব্যস্ত করা দ্বারা এ ধারণা জন্মিতে পারে যে, তার বাম হাত ডান হাতের তুলনায় দুর্বল এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, وَكِلْنَا يَدَيْهِ يَمِينُ "তার উভয় হাতই ডান।” এ কথা সমর্থনে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী-তিনি বলেন, الْمُقْسِطُونَ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ “ন্যায় বিচারকারীগণ রহমানের ডান পাশের নূরের মিম্বারের ওপর অধিষ্ঠিত হবে। তার দুই হাতই ডান।” এখানে উদ্দেশ্য তাদের মর্যাদা ও ফযীলত বর্ণনা করা আর তারা যে রহমানের ডান পাশে হবে সে কথা বলা।
মোট কথা, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলার ভিন্ন ভিন্ন দু'টি হাত রয়েছে। আমরা যদি একটি হাতকে বাম বলি, তবে তার অর্থ এ নয় যে, তার একটি হাত অপর হাতের তুলনায় দুর্বল। বরং তার উভয় হাতই ডান হাতের মতো শক্তিশালী। আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বাম হাত থাকা যদি প্রমাণিত হয়, তবে তার প্রতি ঈমান আনা। আর যদি বাম হাতের বিষয়টি প্রমাণিত না হয়, আমরা বলব, وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ "তার উভয় হাতই ডান।" আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ ইবন উসাইমীন।
টিকাঃ
⁴⁹ মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৬৪৯২
⁵⁰ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭২২৮
📄 দুনিয়াকে অভিশপ্ত বলা ও যুগকে গাল দেওয়ার অর্থ সম্পর্কীয় দু‘টি হাদীস
হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ "আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়...।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী : الدنيا ملعونة . ملعون مافيها "দুনিয়া অভিশপ্ত এবং তাতে যা কিছু আছে তাও অভিশপ্ত।”
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা «قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ يَسُبُّ الدَّهْرَ وَأَنَا الدَّهْرُ أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارُ» অর্থ, আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয় তারা যুগকে গাল দেয় অথচ আমিই যুগ আমি রাত দিনের পরিবর্তনকারী।"⁵¹ বলেছেন, তার মধ্যে এবং তার অপর বাণী الدنيا ملعونة . ملعون مافيها إلا ذكر الله وما والاه أو عالما أو متعلما "দুনিয়া অভিশপ্ত এবং তাতে যা কিছু আছে তাও অভিশপ্ত তবে আল্লাহর যিকির ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ অথবা আলিম অথবা শিক্ষার্থী।"⁵²-এর মধ্যে কীভাবে বিরোধ নিরসন করব?
উত্তর: শাইখ রহ. এ কথা বলে উত্তর দেন যে, "দুনিয়া অভিশপ্ত এবং তাতে যা কিছু আছে তাও অভিশপ্ত” হাদীসটির বিশুদ্ধতা আমার জানা নেই। আমার জানা মতে হাদীসটি দুর্বল। কিন্তু যদি হাদীসটি বিশুদ্ধও ধরা হয়, তবে হাদীসটি গাল দেয়ার অধ্যায়ের হাদীস নয়। বরং হাদীসটি সংবাদ দেওয়া অধ্যায়ের। অর্থাৎ হাদীসে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তাতে কোন কল্যাণ নেই কিন্তু যাবতীয় কল্যাণ আলেম, শিক্ষার্থী অথবা আল্লাহর যিকির এবং তার অর্ন্তভুক্ত বিষয়সমূহে নিহিত থাকবে। আর যুগকে গাল দেওয়ার অর্থ, তার মধ্যে সংঘটিত দোষ, ত্রুটি ও তাতে যা সংঘটিত হয় তার প্রতি অসন্তুষ্টি। আর এখানে বিষয়টিকে শুধু যুগের দিকে নিসবত করা হয়েছে। যদিও সবকিছুই আল্লাহর হাতে। যেমন একই হাদীসে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমিই যুগ আমার নিয়ন্ত্রণেই যাবতীয় সব বিষয়- আমিই রাত ও দিনকে পরিবর্তন করি। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ ইবন উসাইমীন রহ.
টিকাঃ
⁵¹ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬০০০
⁵² ইবন মাযা, হাদীস নং ৪১১২
📄 একজনের অপরাধের কারণে অন্য জনকে পাঁকড়াও করা যাবে কিনা
আল্লাহর কথা [৩৮: النجم] ﴿ أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ﴾ "তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।" [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৮] দ্বারা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার প্রমাণ পেশ করা। আর রাসূলুল্লাহ
إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذِّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ : “নিশ্চয় মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের লোক জনের কান্নার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।"
প্রশ্ন: ইমাম বুখারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেন-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذِّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ “নিশ্চয় মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের লোক জনের কান্নার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।" অপর একটি হাদীস আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, যা এ হাদীসটিকে প্রত্যাখ্যান করে যাতে তিনি বলেন, তোমাদের জন্য কুরআনই যথেষ্ট। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴾ أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ﴿ [৩৮ : النجم] "তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৮] উভয়ের মধ্যে যে বিরোধ পরিলক্ষিত সে বিষয়ে আপনাদের উত্তর কি? মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার পরিজনের কান্নার কারণে কি শাস্তি দেওয়া হবে? নাকি মানুষের জন্য তাই রয়েছে যা সে অর্জন করে। ﴾ أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ﴿ [النجم : ৩৮] “তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৮]
উত্তর: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যে আয়াত উল্লেখ করেছেন এবং উল্লিখিত হাদীসগুলোর মধ্যে কোন বিরোধ নেই। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু মুগীরা রা. সহ অন্যান্যদের থেকেও সহীহ বুখারী ও মুসলিমে একই হাদীস বর্ণিত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذِّبُ بِمَا يُنَاحُ بِهِ عَلَيْهِ “মৃত ব্যক্তিকে তার ওপর উচ্চ আওয়াজে কান্না-কাটির কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।" বুখারীর অপর একটি বর্ণনায় বর্ণিত, بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ “তার ওপর তার পরিবারের কান্নার কারণে” নিয়াহা অর্থ উচ্চ আওয়াজ। কিন্তু চোখের পানি ফেলানোতে কোন ক্ষতি নেই। ক্ষতি হলো উচ্চ আওয়াজে কান্নাকাটি করাতে। আর উচ্চ আওয়াজে কান্নাকাটি করাকেই নিয়াহা বলা হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথা দ্বারা উদ্দেশ্য মানুষকে মৃত ব্যক্তিদের জন্য উচ্চ আওয়াজে কান্নাকাটি করা থেকে বিরত রাখা এবং তারা যেন ধৈর্য অবলম্বন করে। তবে চোখের পানি বা অন্তরের ব্যথাতে কোন ক্ষতি নেই। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ইবরাহীম মারা গেলে তিনি বললেন, ﴿إِنَّ الْعَيْنَ تَدْمَعُ وَالْقَلْبَ يَحْزَنُ وَلَا نَقُولُ إِلَّا مَا يَرْضَى رَبُّنَا وَإِنَّا بِفِرَاقِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُونُونَ﴾ “চোখ অশ্রু শিক্ত হয়, অন্তর ব্যথিত হয় আল্লাহ তা'আলা যে কথায় খুশি হন সে কথাই বলব। হে ইব্রাহীম আমি তোমার বিচ্ছেদে অত্যন্ত ব্যথিত।”⁵³
সুতরাং, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের উচ্চ আওয়াজে কান্নার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। কান্নাকাটি করার কারণে তার যে শাস্তি হয় তার ধরণ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন। বিষয়টি আল্লাহ তা'আলার এ ﴿أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى﴾ [النجم: ৩৮] “তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ৩৮] বিধান থেকে বাদ রাখা হয়েছে। কারণ, কুরআন ও সুন্নাহের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। বরং একটি অপরটির সত্যায়ন ও ব্যাখ্যা। আয়াতটি এখানে ব্যাপক আর হাদীসটি খাস। সুন্নাহ সাধারণত কুরআনের ব্যাখ্যা ও বর্ণনা হয়। সুতরাং পরিবারের লোকদের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তির শাস্তির আয়াত থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ফলে আয়াতের মধ্যে এবং হাদীসগুলো মধ্যে কোন বিরোধ নেই। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথাটি তার ইজতিহাদ ও গবেষণা এবং ভালো কর্মের প্রতি তার অধির আগ্রহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা তার কথার ওপর এবং অন্যদের কথার ওপর অবশ্যই প্রাধান্য। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبِّي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ ﴾ [الشورى: ١٠] “আর যে কোন বিষয়েই তোমরা মতবিরোধ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে; তিনিই আল্লাহ, আমার রব; তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী হই।” [সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ১০] আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا ﴾ [النساء : ٥٩] “অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও- যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯] একই অর্থে আরো অনেক আয়াত রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
⁵³ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩০৩
📄 সাক্ষ্য প্রদান বিষয়ক দু‘টি হাদীস
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী : الذي يأتي بالشهادة قبل أن يسألها “সে সাক্ষ্য প্রদান করে তার কাছে সাক্ষ্য প্রদান তলব করার পূর্বে।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ “তোমাদের এমন এক সম্প্রদায়ের লোকদের আগমন ঘটবে যারা তাদের কাছে সাক্ষ্য তলব করার পূর্বে সাক্ষ্য প্রদান করবে।”
প্রশ্ন: হাফেয আল-মুনযিরী রহ, সংক্ষিপ্ত সহীহ মুসলিমে পৃষ্ঠা নং ২৮১, হাদীস নং ১০৫৯ যায়েদ ইবন খালেদ আল-জুহানী থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, قال ألا أخبركم بخير الشهداء ؟ الذي يأتي بالشهادة قبل أن يسألها "আমি কি তোমাদের সর্বোত্তম সাক্ষ্যগণ কারা সে বিষয়ে সংবাদ দেব? তারা হলো, যারা তাদের নিকট সাক্ষ্য তলব করার পূর্বে সাক্ষ্য প্রদান করে।”⁵⁴ এ হাদীসটির মাঝে এবং পরবর্তী হাদীস – إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ "তোমাদের পর এমন এক সম্প্রদায়ে আগমন ঘটবে তারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হয়নি।”⁵⁵ এর মধ্যে বিরোধ নিরসন কীভাবে?
উত্তর: যে সব হাদীসে আগে আগে সাক্ষ্য প্রদানকে নিন্দা করা হয়েছে, ঐ হাদীসগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ সব যারা সাক্ষ্য প্রদানকে হালকা করে দেখে। তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই এবং ঈমানের দুর্বলতার কারণে যারা সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা বজায় রাখে না।
আর যে সব হাদীসে আগ বাড়িয়ে সাক্ষ্য প্রদানকে প্রশংসা করা হয়েছে তারা হলো ঐ সব লোক যারা সাক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছেন। তারা ছাড়া আর কেউ সাক্ষ্য দেয়ার নেই এবং তাদের উদ্দেশ্য হলো সত্যকে প্রমাণ করা যাতে সত্য চাপা পড়ে না যায়। এ বিষয়ে আরো জানার জন্য দেখুন-ফাতহুল বারী এবং ফাতহুল মাজীদ। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
টিকাঃ
⁵⁴ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭১৯; তিরমিযি, হাদীস নং ২২৯৫
⁵⁵ বর্ণনায় সহীহ বুখারী হাদীস নং ৩৬৫০, মুসলিম, তিরমিযি, ইবনু মাযাহ, মুয়াত্তা মালেক, মুসনাদে আহমদেও হাদীসটি রয়েছে। যেমনটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় মিফতাহু কুনূযুস সূন্নাহ কিতাবে।