📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 সংম্রণ বৃদ্ধি সম্পর্কে ইসলামের বিধান

📄 সংম্রণ বৃদ্ধি সম্পর্কে ইসলামের বিধান


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী : لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ "ইসলামে কোন সংক্রমণ নেই এবং পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করা নেই” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর বাণী : وَفِرَّ مِنْ الْمَجْدُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنْ الْأَسَدِ “তুমি কুষ্ঠ রোগ থেকে এমনভাবে পলায়ন কর যেমন তুমি বাঘ থেকে পলায়ন কর।"
প্রশ্ন: নিম্ন বর্ণিত দু'টি হাদীস- لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ "ইসলামে কোন সংক্রমণ নেই এবং পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করা নেই।” এবং وَفِرَّ مِنْ الْمَجْدُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنُ الْأَسَدِ “তুমি কুষ্ঠ রোগ থেকে পলায়ন কর যেমন তুমি বাঘ থেকে পলায়ন কর" এর মাঝে কীভাবে বিরোধ নিরসন করব?
উত্তর: আহলে ইলমদের নিকট উভয় হাদীসের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। উভয় হাদীসই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী। তিনি বলেন, لَا عَدْوَى وَلا طِيَرَةَ وَلَا صَفَرَ وَلَا هَامَةَ এ হাদীস দ্বারা জাহিলিয়্যাতের যুগের কু-সংস্কারকে না করা হয়েছে। তারা এ কথা বিশ্বাস করত যে, কিছু রোগ এমন রয়েছে যেগুলো নিজ ক্ষমতায় একজন থেকে অপর জনের দেহে বিস্তার করতে পারে এবং রোগীর সাথে উঠবস করলে তাতে সেও আক্রান্ত হবে। এ বিশ্বাস ছিল ভ্রান্ত ও কু-সংস্কার। মূলত: মানুষের রোগ-ব্যাধি আল্লাহর কুদরত ও ইচ্ছায় হয়ে থাকে। বাস্তবতা হলো অনেক সময় দেখা যায় একজন সুস্থ ব্যক্তি রোগীর সাথে উঠবস করার পরও সে আক্রান্ত হয় না। এ কারণে খুজলি পাঁচড়ায় আক্রান্ত উটের সাথে সুস্থ উট মেশা বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, فمن أجرب الأول "প্রথমটির মধ্যে কোথা থেকে সংক্রমণ ঘটল।”³⁹ আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- “তুমি কুষ্ঠ রোগ থেকে এমনভাবে পলায়ন কর যেমন তুমি বাঘ থেকে পলায়ন কর।"⁴⁰ অপর হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী - لَا يُورِدُ مُمْرِضُ عَلَى مُصِحٌ "অসুস্থ ব্যক্তি যেন সুস্থ ব্যক্তিদের নিকট গমন না করে।”⁴¹ এর উত্তর হলো, রোগের মধ্যে সংক্রমণের ক্ষমতা আছে এ কথা বিশ্বাস না করা। কিন্তু একজন সুস্থ ব্যক্তির জন্য যে সব কারণগুলো দ্বারা রোগমুক্ত থাকা যায় সেগুলো গ্রহণ করা বৈধ। যেমন-আল্লাহর ইচ্ছায় রোগটি অসুস্থ ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমণ হতে পারে এ আশঙ্কায় আক্রান্ত রোগী থেকে দূরে থাকা। অনুরূপভাবে খারাবীর কারণসমূহ থেকে সতর্ক থাকা ও শয়তানের কু-মন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকার লক্ষে সুস্থ উটগুলোকে খুজলি পাঁচড়া বা সংক্রমণ ব্যাধিতে আক্রান্ত উটগুলোর নিকট নিয়ে না যাওয়া এবং দূরে রাখা। অন্যথায় শয়তান মানুষকে এ বলে ধোঁকা দিতে পারে যে, নিশ্চয় সে সংক্রমণের কারণে আক্রান্ত হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা বা কুদরতের কারণে নয়। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ,

টিকাঃ
³⁹ ইবন মাযাহ, হাদীস নং ৩৫৪০
⁴⁰ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৯২২
⁴¹ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৯২২

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 আল্লাহর সর্ব প্রথম সৃষ্টি

📄 আল্লাহর সর্ব প্রথম সৃষ্টি


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ الْقَلَمَ« "আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন।"⁴² রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী - كَانَ اللَّهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ قَبْلَ “আল্লাহ ছিলেন তার পূর্বে কোন কিছুই ছিল না।"
প্রশ্ন: নিম্ন বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে কীভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, . كَانَ اللَّهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ قَبْلَهُ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ ثُمَّ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ “আল্লাহ ছিলেন, তার পূর্বে আর কোন কিছু ছিল না। তার আরশ ছিল পানির ওপর। তিনি নিজ হাতে সবকিছু লিপিবদ্ধ করেন তারপর তিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেন।"⁴³ মুসনাদে ইমাম আহমাদে লাকীত ইবনে সাবুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি قلت يا رسول الله أين كان ربنا قبل أن يخلق خلقه ؟ قال كان في عماء ما تحته )هواء وما فوقه هواء وما ثم خلق عرشه على الماء "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মাখলুক সৃষ্টি করার পূর্বে আমাদের রব কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন, মেঘের মধ্যে তার উপরেও পানি ছিল না এবং তার নিচেও পানি ছিল না এবং সেখানে কোন মাখলুক ছিল না, তার আরশ ছিল পানির উপর।"⁴⁴ অপর হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ الْقَلَمَ "আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন।” সৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রথম মাখলুক কি এ বিষয়ে হাদীসগুলোর বাহ্যিক অর্থ বিরোধপূর্ণ। অনুরূপভাবে অপর একটি হাদীস রয়েছে যাতে বলা হয়েছে-“সর্ব প্রথম সৃষ্টি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম"। এ সব বিরোধপূর্ণ হাদীসের সমাধান কি?
উত্তর: হাদীসগুলো মীমাংসিত সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিরোধপূর্ণ নয়। আমাদের জানা সর্বপ্রথম তিনি আরশ সৃষ্টি করেছেন। আসমানসমূহ সৃষ্টির পর তিনি আরশে আরোহণ করেন। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ﴾ [হুদ: ٧] "আর তিনিই আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপর, যাতে তিনি পরীক্ষা করেন, কে তোমাদের মধ্যে আমলে সর্বোত্তম।” [সূরা হূদ, আয়াত: ৭] কলম সম্পর্কীয় হাদীসে এ কথার প্রমাণ নেই যে, সর্ব প্রথম কলমকে সৃষ্টি করা হয়েছে। বরং হাদীসের অর্থ হলো, আল্লাহ তা'আলা যখন কলম সৃষ্টি করেন তখন তাকে তিনি লিখতে নির্দেশ দেন। তখন প্রতিটি বস্তুর ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেন। আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি অন্যান্য মানুষের মতোই একজন মানুষ। তার পিতা আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল মুত্তালিবের বীর্য থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সৃষ্টির দিক বিবেচনায় অন্য মাখলুকের তুলনায় তার কোন ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্য নেই। তিনি নিজেই তার নিজের সম্পর্কে বলেন, إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ “নিশ্চয় আমি একজন মানুষ আমিও ভুল করি যেমন তোমরা ভুল কর।”⁴⁵ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুধার্ত হন, তৃষ্ণার্ত হন, তার ঠাণ্ডা লাগে, গরম লাগে, অসুস্থ হয়, মৃত্যু বরণ করেন এবং মানুষ হিসেবে মানবিক যত দুর্বলতা অন্য মানুষের থাকে তাকেও তার সবকিছুরই সম্মুখীন হতে হয়েছে। অন্যান্য মানুষের তুলনায় তার পার্থক্য হলো, তার কাছে অহী প্রেরণ করা হয়েছে অন্যদের কাছে নয়, তিনি রিসালাতের অধিকারী অন্যরা নয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ ﴾ [الانعام: ١২৪ “আল্লাহ ভালো জানেন, তিনি কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন।” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১২৪] আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা। শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.

টিকাঃ
⁴² আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭০২
⁴³ সহীহ বুখারী হাদীস নং 7418
⁴⁴ ইবন মাযা, হাদীস নং 182 আলবানী হাদীসটিকে দূর্বল বলেছেন।
⁴⁵ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪০১

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 ‘যদি তুমি চাও’ এ কথা বলার বিধান

📄 ‘যদি তুমি চাও’ এ কথা বলার বিধান


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: فَلَا يَقُلِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ “হে আল্লাহ যদি তুমি চাও আমাকে ক্ষমা কর” এবং অপর বাণী- وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ "যদি আল্লাহ চান বিনিময় মিলবে"
প্রশ্ন: একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلَا يَقُلِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ وَلَكِنْ لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ وَلْيُعَظْمِ الرَّغْبَةَ .» فَإِنَّ اللهَ لَا يَتَعَاظَمُهُ شَيْءٌ أَعْطَاهُ "যখন তোমাদের কেউ দো'য়া করে সে যেন এ কথা না বলে, হে আল্লাহ যদি চাও তুমি ক্ষমা কর। যদি তুমি চাও দয়া কর। তবে যখন আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইবে তখন দৃঢ়তার সাথে চাইবে এবং বড় গলায় চাইবে। কারণ, আল্লাহর নিকট কোন কিছুই মহান নয়। ”⁴⁶ এবং হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন - ذَهَبَ الطَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ». "তৃষ্ণা দূরীভূত হয়ে গেছে এবং রগগুলো শুকিয়ে গেছে এবং বিনিময়ও সাব্যস্ত হয়ে গেছে ইনশা আল্লাহ।"⁴⁷ উভয় হাদীসের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি কীভাবে?
উত্তর: প্রথম হাদীসটি বিশুদ্ধ। যে শব্দটি বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, তার কারণ, তাতে একাধিক ত্রুটি রয়েছে যা আকীদা ও বিশ্বাসের পরিপন্থী। যেমন-
১- কেই এমন আছে যে, আল্লাহকে বাধ্য করেন।
২- আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত এতো মহান যা তুমি পেতেই পারো না। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'লাআ যে জিনিষটি দিয়ে থাকেন তাকে মহান ভাবা যাবে না। যখন তুমি কোন মানুষকে বললে যদি চাও আমাকে এক মিলিয়ন ডলার দাও। সে একে বড় মনে করছ বলেই, তুমি বলছ, إِنْ شِئْتَ 'যদি চাও'। আর অনুরূপভাবে তুমি তাকে এ কথাও জানিয়ে দিচ্ছ যে, তুমি তার অনুদানের প্রতি অমুখাপেক্ষি। যদি সে দেয় তাহলে ভালো আর যদি না দেয় তাতেও কোন অসুবিধা নেই। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নিকট কোন কিছু চাওয়ার ক্ষেত্রে إِنْ شِئْتَ 'যদি চাও' এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
আর দ্বিতীয় হাদীসে إِنْ شَاءَ اللَّهُ 'যদি আল্লাহ চান' বলা আর প্রথম হাদীসের إِنْ شِئْتَ 'যদি তুমি চাও' উভয়টি এক নয়। কারণ, দ্বিতীয় হাদীসে إِنْ شَاءَ اللَّهُ 'যদি আল্লাহ চান' এ কথাটি প্রথমটি তুলনায় অনেকটা সহনীয় ও হালকা। আর এ কথা দ্বারা উদ্দেশ্য বরকত হাসিল করা, শর্ত যুক্ত করা নয়। সুতরাং উভয় হাদীসের বিরোধ নিরসন এভাবে করা যাবে যে, প্রথম হাদীসের তুলনায় দ্বিতীয় হাদীসের বিষয় সহনীয় পর্যায়ের।
এর ওপর প্রশ্ন হয় যে, যদি তিনি চান এ কথাটি বলাও নিষিদ্ধ। إِنْ شِئْتَ 'যদি তুমি চাও' এ কথার মতো এতটা জঘন্য নয়। তাহলে প্রশ্নকারী প্রশ্নে যে হাদীস উল্লেখ করেছেন, সে হাদীসে একটি নিষিদ্ধ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে বললেন?
হাদীসটির বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কিন্তু বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন, তখন তিনি বলতেন, لَا بَأْسَ طَهُورُ إِنْ شَاءَ اللهُ "কোন অসুবিধা নেই 'যদি আল্লাহ চান' গুণাহ থেকে পবিত্রতা।”*⁴⁸ এ বাক্যটি নিয়মনীতি অনুযায়ী যদিও সংবাদ সুচক বাক্য কিন্তু মুলত বাক্যটি চাওয়া ও আকাঙ্খার অর্থে। এ কথাটির ভিত্তি হলো আল্লাহর নিকট আশা করা। অর্থাৎ এ আশা করা যে, তার অসুস্থতা যেন, গুনাহ থেকে তার পবিত্রতার কারণ হয়। একই অর্থ দ্বিতীয় হাদীসের মধেও যাতে বলা হয়েছে—তা আশা করার ওপর ভিত্তি করেই বলা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ সালেহ আল-উসাইমীন

টিকাঃ
⁴⁶ মুসলিম, হাদীস নং ৬৯৮৮
⁴⁷ আবু দাউদ, হাদীস নং ২৩৫৯
⁴⁸ সহীহ বুখারী হাদীস নং ৩৬১৬

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 আল্লাহর দু‘টি হাতই ডান নাকি ডান ও বাম দু‘টি হাত তার আলোচনা

📄 আল্লাহর দু‘টি হাতই ডান নাকি ডান ও বাম দু‘টি হাত তার আলোচনা


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, وَكِلْنَا يَدَيْهِ يَمِينُ “তাঁর দু'টি হাতই ডাম।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর বাণী:
الْمُتَكَبِّرُونَ ثُمَّ يَطْوِي الْأَرَضِينَ بِشِمَالِهِ "তারপর তিনি সাত স্তর জমিন গুটিয়ে দিবেন এবং স্বীয় বাম হাত দ্বারা সেগুলোকে পাকড়াও করবেন।"
প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী—তিনি বলেন, الْمُقْسِطُونَ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ “ন্যায় বিচারকারীগণ রহমানের ডান পাশের নূরের মিম্বারের ওপর অধিষ্ঠিত হবে। তার দুই হাতই ডান।”⁴⁹ অপর হাদীস যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি يَطْوِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ السَّمَوَاتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِيَدِهِ الْيُمْنَى وَيَطْوِي الْأَرَضِينَ ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِشِمَالِهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ الْجَبَّارُونَ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ ثُمَّ يَطْوِي الْأَرَضِينَ ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِشِمَالِهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ الْجَبَّارُونَ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ ".
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহকে গুটিয়ে দেবেন তারপর তিনি ডান হাতে নিয়ে বলবেন, আমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, অত্যাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়, তারপর তিনি সাত স্তর জমিন গুটিয়ে দিবেন এবং স্বীয় বাম হাত দ্বারা সেগুলোকে পাকড়াও করবেন এবং, আমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, অত্যাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়।”⁵⁰ হাদীস দু'টির মধ্যে কীভাবে বিরোধ নিরসন করা হবে?
উত্তর: হাদীসে 'ডান হাত দ্বারা' বাক্যটি বিষয়ে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ বাক্যটিকে সাব্যস্ত করেছেন আবার কেউ কেউ বাক্যটিকে অস্বীকার করে বলেছেন এ বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুদ্ধ সনদে প্রমাণিত নয়। এখানে বিভ্রান্তির মূলে রয়েছে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, الْمُقْسِطُونَ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ “ন্যায় বিচারকারীগণ রহমানের ডান পাশে নূরের মিম্বারের ওপর অধিষ্ঠিত হবে। আর তার দুই হাতই ডান।" এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, আল্লাহর ডান হাত ও বাম হাত বলতে কোন কিছু নেই। কিন্তু ইমাম মুসলিম স্বীয় সহীহতে অপর একটি হাদীস বর্ণনা করেন যাতে আল্লাহর জন্য বাম হাত সাব্যস্ত করা হয়। যদি হাদীসটি শুদ্ধ হয় তারপরও আমার মতে وَكِلْنَا يَدَيْهِ يَمِينُ "উভয় হাতই ডান” এ হাদীসের সাথে কোন বিরোধ নেই। কারণ, হাদীসের অর্থ হলো, তার অপর হাত মানুষের বাম হাতের মতো নয়। কারণ, মানুষের বাম হাত ডান হাতের তুলনায় দুর্বল হয়ে থাকে। কিন্তু আল্লাহর উভয় হাতই একই। উভয় হাতের মধ্যে কোন ব্যবধান নেই। এ কারণে তিনি বলেন, وَكِلْنَا يَدَيْهِ يَمِينُ "উভয় হাতই ডান" অর্থাৎ তার উভয় হাতে কোন দুর্বলতা নেই। বাম হাত সাব্যস্ত করা দ্বারা এ ধারণা জন্মিতে পারে যে, তার বাম হাত ডান হাতের তুলনায় দুর্বল এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, وَكِلْنَا يَدَيْهِ يَمِينُ "তার উভয় হাতই ডান।” এ কথা সমর্থনে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী-তিনি বলেন, الْمُقْسِطُونَ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ “ন্যায় বিচারকারীগণ রহমানের ডান পাশের নূরের মিম্বারের ওপর অধিষ্ঠিত হবে। তার দুই হাতই ডান।” এখানে উদ্দেশ্য তাদের মর্যাদা ও ফযীলত বর্ণনা করা আর তারা যে রহমানের ডান পাশে হবে সে কথা বলা।
মোট কথা, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলার ভিন্ন ভিন্ন দু'টি হাত রয়েছে। আমরা যদি একটি হাতকে বাম বলি, তবে তার অর্থ এ নয় যে, তার একটি হাত অপর হাতের তুলনায় দুর্বল। বরং তার উভয় হাতই ডান হাতের মতো শক্তিশালী। আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বাম হাত থাকা যদি প্রমাণিত হয়, তবে তার প্রতি ঈমান আনা। আর যদি বাম হাতের বিষয়টি প্রমাণিত না হয়, আমরা বলব, وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ "তার উভয় হাতই ডান।" আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ ইবন উসাইমীন।

টিকাঃ
⁴⁹ মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৬৪৯২
⁵⁰ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭২২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00