📄 মৃত বাচ্চাদের জান্নাতী হওয়া বিষয়ে আলোচনা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنْ النَّائِمِ "তিন ব্যক্তি থেকে আল্লাহ তা'আলা কলম উঠিয়ে নিয়েছেন" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- وَمَا يُدْرِيكَ يَا عَائِشَةُ أَنَّهُ فِي الْجَنَّةِ، لَعَلَّ اللَّهَ اطلع على ما كان يفعل؟ "হে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু! তোমাকে কে জানিয়েছে যে, সে জান্নাতী? হতে পারে লোকটি ভবিষ্যতে কি করত সে বিষয়ে আল্লাহ অবগত রয়েছেন!।"
প্রশ্ন: প্রশ্নকারী বলেন, 'শিফায়ুল আলীল' নামক কিতাবে উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত একটি হাদীস পড়েছি। যখন একজন طوبي لك طيور من طيور الجنة فقال وما يدريك :691 72 7262 يا عائشة أنه في الجنة، لعل الله اطلع على ما كان يفعل؟ "সু-সংবাদ গ্রহণ কর, এ বাচ্চাটি তোমার জন্য জান্নাতের পাখিসমূহ থেকে একটি পাখি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়েশা তোমাকে কে অবগত করছে যে, সে জান্নাতী? হতে পারে আল্লাহ তা'আলা অবগত রয়েছেন সে ভবিষ্যতে কি করত?।” অপর একটি হাদীসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنْ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنْ الطَّفْلِ حَتَّى يَبْلُغَ وَعَنْ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَبْرَأَ তাদের একজন হলো অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত।” উভয় বর্ণনাই বিশুদ্ধ জানি না উভয়ের বিরোধ নিরসন কীভাবে হবে?।
উত্তর: ইমাম বুখারী ও মুসলিমের নিকট উল্লিখিত হাদীসটি বিশুদ্ধ। যাতে عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ لَمْ يَعْمَلِ السُّوءَ وَلَمْ: aisi 1101 يُدْرِكْهُ قَالَ « أَوَ غَيْرَ ذَلِكَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ لِلْجَنَّةِ أَهْلاً خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلَابِ آبَائِهِمْ
» وَخَلَقَ لِلنَّارِ أَهْلاً خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلَابِ آبَائِهِمْ «. “জান্নাতের চড়ুই পাখিদের একটি চড়ই পাখি।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, না হে আয়েশা! বিষয়টি অন্য রকম, “আল্লাহ তা'আলা জান্নাতের জন্য অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন। তাদের সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের মাতা-পিতার বংশে। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের জন্য কিছু অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন। তাদের সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের মাতা-পিতার বংশে।”²⁹
হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য, কাউকে নির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা। যদিও সে একজন নিষ্পাপ বাচ্চা হোক। কারণ, সে অনেক সময় তার মাতা-পিতার অনুসারী হয় আর পিতা- মুসলিম নয় যদিও বাহ্যিক-ভাবে ইসলাম প্রকাশ করে। মানুষ অনেক সময় মুনাফেক হয়ে থাকে। অনেক সময় মা মুনাফেক হয়ে থাকে। এ কারণে বাচ্চারা যেহেতু তার মাতা-পিতার অনুগত তাই যতক্ষণ পর্যন্ত তার মাতা-পিতার অবস্থা জানা না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে নির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বলা যাবে না।
যখন কোন অমুসলিমের বাচ্চা মারা যাবে বিশুদ্ধ মত হলো তাকে কিয়ামতের দিন পরীক্ষা করা হবে। যখন সে পরীক্ষায় পাশ করবে তাকে জান্নাতে দেওয়া হবে আর যদি পরীক্ষায় ফেল করে তবে তাকে জাহান্নামে দেওয়া হবে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন মুশরিকদের বাচ্চাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো তিনি বললেন, »اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ« “ভবিষ্যতে তারা কি করত আল্লাহ তা'আলা সে সম্পর্কে ভালো জানেন।”³⁰
হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, তাদের কিয়ামতের কোন একটি বিষয়ে আদেশ করা হবে তারা যদি আদেশটি মানে জান্নাতে প্রবেশ করবেন আর যদি আদেশটি অমান্য করেন তবে জাহান্নামে প্রবেশ করবেন। সুতরাং, কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলা যাবে না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের জান্নাতী বলে ঘোষণা দিয়েছেন তাদের কথা ভিন্ন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মূলনীতিসমূহ থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি।
উল্লিখিত হাদীসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথায় আপত্তি জানানোর কারণ, তিনি একজনকে নির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কারণ, তিনি বলেন, عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ এ কারনেই এ ধরনের কথা বলতে তাকে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, বিষয়টির পিছনে আরও একটি বিষয় রয়েছে যা তার জান্নাতে প্রবেশ না করার কারণ হতে পারে। তাকে কিয়ামতের দিন পরীক্ষা করা হবে। কারণ, তারা মাতা-পিতা মুসলিম নয়। মুসলিমদের বাচ্চারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মত অনুসারে তারা তাদের মাতা-পিতার সাথে জান্নাতে যাবে। আর কাফেরদের বাচ্চাদের কিয়ামতের দিন পরীক্ষা করা হবে।
এ মতটিই সত্য বা হক। মুশরিকদের বাচ্চাদের যারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর নির্দেশ মানবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যারা মানবে না তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। যেমনটি যাদের কাছে আদৌ কোন নবী রাসূল পৌঁছেনি। এটিই সঠিক উত্তর এবং হাদীসের ভাষ্য। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
²⁹ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৯৩৯
³⁰ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৯৩৩
📄 ঈমানের ব্যাখ্যা বিষয়ক হাদীস
একটি হাদীসে ঈমানের ব্যাখ্যা- "أن تؤمن بالله "আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করা" দ্বারা করা এবং অপর হাদীসে ঈমানের ব্যাখ্যা - شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله "এ কথা সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই" দ্বারা করা।
প্রশ্ন: হাদীসে জিবরীল যাতে ঈমানের ব্যাখ্যা - أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره "আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, তার ফিরিশতা, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখিরাত দিবস, এবং ভালো ও মন্দের ভাগ্যের প্রতি ঈমান আনা।"³¹- এ বলে দেওয়া হয়েছে। আর ওয়াফদে আবদে কাইসের হাদীসের যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বলে- شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وصوم رمضان وأن تؤدوا خمسا من المغنم "এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকার ইলাহ নেই তিনি একক, তার কোন শরীক নেই, সালাত কায়েম করা, যাকাত পরিশোধ করা এবং গণিমতের এক পঞ্চমাংশ আদায় করা।"³²-ঈমানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। উভয় হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্যতা ও বিরোধ নিরসন কীভাবে করব?
উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে একটি কথা জানিয়ে দিতে চাই যে, কুরআন ও সুন্নাহের মধ্যে পারস্পরিক কখনোই কোন বিরোধ নেই। কুরআনের একটি অংশ অপর অংশের সাথে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদীসের একটি অংশ অপর অংশের সাথে
কোন বিরোধ নেই। কুরআন ও বিশুদ্ধ সুন্নাহের মধ্যে এমন কোন কিছু পাওয়া যাবে না যা বাস্তবতার বিরোধী। কারণ বাস্তবতা সত্য এবং কুরআন ও সুন্নাহও সত্য। দু'টি সত্যের মধ্যে বিরোধ অসম্ভব। এ মূলনীতি যখন তুমি বুঝতে পারবে তখন তোমার অসংখ্য প্রশ্নের সমাধান এমনিতেই হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْءَانَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا ﴾ [النساء : 82] “তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হত, তবে অবশ্যই তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮২] যখন বিষয়টি এমনই, তখন মনে রাখবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে পারস্পরিক কোন বিরোধ নেই। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানের একটি তাফসীর করেছেন এবং অপর যায়গায় ভিন্ন তাফসীর করেছেন, তখন বাহ্যিক দৃষ্টিতে তোমার কাছে মনে হবে বিরোধ। কিন্তু বাস্তবে যখন তুমি গভীরভাবে চিন্তা করবে, তখন তুমি কোন বিরোধ দেখতে পাবে না।
হাদীসে জিবরীলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীনকে তিন ভাগ করেছেন।
প্রথম প্রকার; ইসলাম
দ্বিতীয় প্রকার: ঈমান
তৃতীয় প্রকার: ইহসান।
আর ওয়াফদে আবদে কাইসের হাদীসে শুধু এক প্রকার অর্থাৎ ইসলাম উল্লেখ করেছেন। আর যখন ইসলাম এককভাবে উল্লেখ করা হয়, তখন তার মধ্যে ঈমান অর্ন্তভুক্ত থাকে। কারণ, মু'মিন হওয়া ছাড়া ইসলামের বিধান মেনে চলা সম্ভব নয়। ফলে ইসলাম উল্লেখ করলে ঈমান তাতে অর্ন্তভুক্ত হয় এবং ঈমান উল্লেখ করলে ইসলাম তাতে এসে যায়। আর যখন ঈমান ও ইসলাম একত্রে উল্লেখ করা হয় তখন ঈমান বলা হয় অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়সমূহকে আর ইসলাম বলা হয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারী নিয়ম ও মূলনীতি। যখন শুধু ইসলাম উল্লেখ করা হয়, তখন তার মধ্যে ঈমানও অর্ন্তভুক্ত হয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ) [آل ইমরান: ১৯] “আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দীন ইসলাম। [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১৯]
মনে রাখবে, দীন-ইসলাম হলো, আকীদা, ঈমান ও শরী'আত-এর সমষ্টির নাম। যখন শুধু ঈমান উল্লেখ করা হয়, তখন তাতে ইসলামও অর্ন্তভুক্ত থাকে। আর যখন উভয়টি উল্লেখ করা হয় তখন ঈমান অন্তরের আমলকে বুঝায় আর ইসলাম দ্বারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলকে বুঝায়। এ কারণেই কোন কোন সালাফ রহ. বলেছেন, 'ইসলাম হলো প্রকাশ্য আর ঈমান হলো গোপন'। কারণ, ঈমান অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত। এ কারণেই একজন মুনাফেককে দেখবে সে সালাত আদায় করে, সাদকা করে এবং সাওম আদায় করে। ফলে সে বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলিম তবে সে মু'মিন নয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ﴾ [البقرة: ٨] “আর মানুষের মধ্যে কিছু এমন আছে, যারা বলে, 'আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি', অথচ তারা মুমিন নয়।" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৮] আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.
টিকাঃ
³¹ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮
³² সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭
📄 তাৰীয কবয সম্পর্কে ইসলামের বিধান
إِنَّ الرُّقَى وَالثَّمَائِمَ وَالتَّوَلَةَ 1992 0199969 646966-69 67819 68 1 « "নিশ্চয় ঝাড়-ফুঁক, তাবীয কবয শির্ক।" ঝাড়-ফুঁক সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর বাণী: من استطاع منكم أن ينفع أخاه فليفعل "তোমাদের কেউ যদি উপকার করতে সক্ষম হয়, সে যেন তা করে...।"
প্রশ্ন: আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, নিশ্চয় ঝাড়-ফুঁক, তাবীয, কবয শির্ক। কিন্তু জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অপর একটি হাদীস বর্ণিত তিনি বলেন, كان لي خال يرقي من العقرب فنهی رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرقى قال فأتاه فقال يا رسول الله إنك نهيت عن الرقى وأنا أرقي من العقرب فقال من استطاع منكم أن ينفع أخاه فليفعل সাপের কামড়ের জন্য ঝাড়-ফুঁক করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঝাড়-ফুঁক থেকে নিষেধ করলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আপনি ঝাড়-ফুঁক থেকে নিষেধ করেছেন। আর আমি সাপের কামড়ের থেকে ঝাড়-ফুঁক করি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হয় তবে সে যেন তা করে।" ঝাড়-ফুঁক সম্পর্কে এক হাদীসে নিষেধ করা এবং অপর হাদীসে অনুমতি দেওয়া উভয়ের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি কীভাবে? কুরআন ও হাদীস দ্বারা অসুস্থ ব্যক্তি গলায় তাবীয ঝুলানোর বিধান কি?
উত্তর: নিষিদ্ধ ঝাড়-ফুঁক হলো, যে ঝাড়-ফুঁকের মধ্যে শির্ক অথবা গাইরুল্লাহর মাধ্যম চাওয়া হয়েছে অথবা এমন কোন শব্দ রয়েছে যেগুলোর অর্থ জানা যায় না। কিন্তু যে সব ঝাড়-ফুঁক এ সব থেকে মুক্ত তা বৈধ। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ﴿اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكُ ﴾ “তোমরা তোমাদের মন্ত্রককে আমার সামনে তুলে ধর। যতক্ষণ পর্যন্ত তা শির্ক না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঝাড়-ফুঁক করাতে কোন ক্ষতি নেই।”³³ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন- ﴿مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ﴾ “তোমাদের কেউ যদি তার ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হয় তবে সে যেন তা করে।"³⁴ হাদীস দু'টি ইমাম মুসলিম স্বীয় সহীহতে উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ﴿لَا رُقْيَةَ إِلَّا مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ﴾ “বদ নযর ও বিষধর সাপের আক্রমণ ছাড়া অন্য কিছুতে ঝাড়-ফুঁক নেই।”³⁵ অর্থাৎ এ দু'টি রোগের মধ্যে ঝাড়-ফুঁক যতটা কার্যকর অন্য কোন রোগে এতটা কার্যকর নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ঝাড়-ফুঁক দিয়েছেন এবং নিয়েছেন। কিন্তু অসুস্থ ব্যক্তি বা বাচ্চাদের গলায় তা'বীয ঝুলানো সম্পূর্ণ অবৈধ। ঝাড়-ফুঁককে গলায় ঝুলানো হলে তাকে তাবীয বলা হয়। এ সম্পর্কে বিশুদ্ধ কথা হলো এটি হারাম এবং শির্কের বিভিন্ন প্রকারের এটিও একটি প্রকার। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
من تعلق تميمة فلا أتم الله له ومن تعلق ودعة فلا ودع আল্লাহ “যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলায় আল্লাহ তা'আলা তাকে পূর্ণতা দান করবে না আর যে ব্যক্তি.."। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "যে ব্যক্তি তাবীয ঝুলায় সে শির্ক করল।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন , “নিশ্চয় ঝাড়-ফুঁক, তাবীয-কবজ এবং যাদু শির্ক।”
কুরআনের আয়াত হাদীসের বর্ণিত দো'য়া দ্বারা লিখিত তাবীয নিষিদ্ধ না বৈধ? এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। বিশুদ্ধ হলো দু'টি কারণে তা অবৈধ বা হারাম:
এক- উল্লিখিত হাদীসসমূহের ব্যাপকতা। কারণ, হাদীসসমূহ কুরআন ও অন্যান্য সবকিছুকেই সামিল করে।
দুই- শির্কে পথ বন্ধ করা। কারণ, কুরআন দ্বারা তা'বীয দেওয়া বৈধ করা হলে তাতে অন্যান্য বস্তু দ্বারা তা'বীয দেওয়ার পথ খুলে যাবে। একটি সাথে অপরটির সংমিশ্রণ হয়ে যাবে। তখন সবকিছু দিয়ে তা'বীয দেওয়ার পথ খুলবে এবং সমাজে শির্কের প্রচলন ঘটবে। শির্ক ও গুনাহের সব ধরনের পথ বন্ধ করা শরী'আতের অন্যতম মূলনীতি। আল্লাহ তা'আলা তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
³³ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮৬২
³⁴ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮৬২
³⁵ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭0৫
📄 সংম্রণ বৃদ্ধি সম্পর্কে ইসলামের বিধান
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী : لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ "ইসলামে কোন সংক্রমণ নেই এবং পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করা নেই” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর বাণী : وَفِرَّ مِنْ الْمَجْدُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنْ الْأَسَدِ “তুমি কুষ্ঠ রোগ থেকে এমনভাবে পলায়ন কর যেমন তুমি বাঘ থেকে পলায়ন কর।"
প্রশ্ন: নিম্ন বর্ণিত দু'টি হাদীস- لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ "ইসলামে কোন সংক্রমণ নেই এবং পাখি উড়িয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করা নেই।” এবং وَفِرَّ مِنْ الْمَجْدُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنُ الْأَسَدِ “তুমি কুষ্ঠ রোগ থেকে পলায়ন কর যেমন তুমি বাঘ থেকে পলায়ন কর" এর মাঝে কীভাবে বিরোধ নিরসন করব?
উত্তর: আহলে ইলমদের নিকট উভয় হাদীসের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। উভয় হাদীসই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী। তিনি বলেন, لَا عَدْوَى وَلا طِيَرَةَ وَلَا صَفَرَ وَلَا هَامَةَ এ হাদীস দ্বারা জাহিলিয়্যাতের যুগের কু-সংস্কারকে না করা হয়েছে। তারা এ কথা বিশ্বাস করত যে, কিছু রোগ এমন রয়েছে যেগুলো নিজ ক্ষমতায় একজন থেকে অপর জনের দেহে বিস্তার করতে পারে এবং রোগীর সাথে উঠবস করলে তাতে সেও আক্রান্ত হবে। এ বিশ্বাস ছিল ভ্রান্ত ও কু-সংস্কার। মূলত: মানুষের রোগ-ব্যাধি আল্লাহর কুদরত ও ইচ্ছায় হয়ে থাকে। বাস্তবতা হলো অনেক সময় দেখা যায় একজন সুস্থ ব্যক্তি রোগীর সাথে উঠবস করার পরও সে আক্রান্ত হয় না। এ কারণে খুজলি পাঁচড়ায় আক্রান্ত উটের সাথে সুস্থ উট মেশা বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, فمن أجرب الأول "প্রথমটির মধ্যে কোথা থেকে সংক্রমণ ঘটল।”³⁹ আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- “তুমি কুষ্ঠ রোগ থেকে এমনভাবে পলায়ন কর যেমন তুমি বাঘ থেকে পলায়ন কর।"⁴⁰ অপর হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী - لَا يُورِدُ مُمْرِضُ عَلَى مُصِحٌ "অসুস্থ ব্যক্তি যেন সুস্থ ব্যক্তিদের নিকট গমন না করে।”⁴¹ এর উত্তর হলো, রোগের মধ্যে সংক্রমণের ক্ষমতা আছে এ কথা বিশ্বাস না করা। কিন্তু একজন সুস্থ ব্যক্তির জন্য যে সব কারণগুলো দ্বারা রোগমুক্ত থাকা যায় সেগুলো গ্রহণ করা বৈধ। যেমন-আল্লাহর ইচ্ছায় রোগটি অসুস্থ ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমণ হতে পারে এ আশঙ্কায় আক্রান্ত রোগী থেকে দূরে থাকা। অনুরূপভাবে খারাবীর কারণসমূহ থেকে সতর্ক থাকা ও শয়তানের কু-মন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকার লক্ষে সুস্থ উটগুলোকে খুজলি পাঁচড়া বা সংক্রমণ ব্যাধিতে আক্রান্ত উটগুলোর নিকট নিয়ে না যাওয়া এবং দূরে রাখা। অন্যথায় শয়তান মানুষকে এ বলে ধোঁকা দিতে পারে যে, নিশ্চয় সে সংক্রমণের কারণে আক্রান্ত হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা বা কুদরতের কারণে নয়। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ,
টিকাঃ
³⁹ ইবন মাযাহ, হাদীস নং ৩৫৪০
⁴⁰ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৯২২
⁴¹ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৯২২