📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 আল্লাহর সিফাত-‘হাত’ বিষয়ে দু‘টি হাদীস

📄 আল্লাহর সিফাত-‘হাত’ বিষয়ে দু‘টি হাদীস


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: 'আমার রবের উভয় হাতই ডান' অপর হাদীসে আল্লাহর একটি হাতকে বাম হাত বলে আখ্যায়িত করা বিষয়ে আলোচনা।
প্রশ্ন: দু'টি হাদীসের একটির মধ্যে আল্লাহর একটি হাতকে বাম হাত বলে আখ্যায়িত করা এবং অপর হাদীসে আল্লাহর উভয় হাতকে ডান বলে আখ্যায়িত করার মধ্যে যে বিরোধ দেখা যায় তা নিরসন করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি।
উত্তর: শাইখ র.হ. বলেন, 'আমার রবের উভয় হাতই ডান' এ হাদীসটি তাগলীব অধ্যায়ের হাদীস। এ দ্বারা উদ্দেশ্য অপর হাত থেকে দুর্বলতাকে না করা। কারণ, আদম সন্তানের মধ্যে সাধারণ নিয়ম হলো তাদের ডান হাত বাম হাতের তুলনায় শক্তিশালী হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা এ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। তার উভয় হাতের শক্তি সমান। এ ধরনের বিরোধপূর্ণ হাদীস যেগুলো বিরোধ নিরসন করা জরুরি বিশেষ করে আকীদার ক্ষেত্রে, তার সমাধানের জন্য ইমাম ইবনে কুতাইবার 'বিরোধপূর্ণ হাদীসের সমাধান' নামক কিতাব দেখতে হবে। অনুরূপভাবে এ বিষয়ে ইবন আব্দুল্লাহ আল-কাসিমের রয়েছে 'মুশকিলাতুল আহাদীস' নামে গুরুত্বপূর্ণ ও মহা মূল্যবান কিতাব। এ কিতাবের সংকলন করা ছিল তার দীনের সাথে খেল-তামাশা ও দীন থেকে বের হওয়ার পূর্বে। আল্লাহই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আল-আফীফী র.হ.

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 রাসূলের ওপর দরূদ পৌঁছানো বিষয়ক আলোচনা

📄 রাসূলের ওপর দরূদ পৌঁছানো বিষয়ক আলোচনা


আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ﴾ “বল, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, فيه فإن صلاتكم معروضة على “কারণ, আমার নিকট তোমাদের দরূদ পেশ করা হয়।”
প্রশ্ন: জুমু'আর দিন জুমু'আর ফযীলত সম্পর্কে রেডিওতে একজন ভাষ্যকারকে একটি হাদীস বলতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, " إن من أفضل أيامكم يوم الجمعة فأكثروا علي من الصلاة فيه فإن صلاتكم معروضة علي " قال فقالوا يا رسول الله وكيف تعرض صلاتنا عليك وقد أرمت؟ قال يقولون بليت قال " إن الله [ عز و جل ] حرم على الأرض أجساد الأنبياء صلى الله عليهم " ।
"তোমরা আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরূদ পড়। কারণ, আমার কাছে তোমাদের দরূদ পেশ করা হয়ে থাকে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে আমাদের দরূদ আপনার কাছে পেশ করা হয়? অথচ আপনার হাড্ডি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। উত্তরে তিনি বললেন, নবীদের দেহসমূহকে আল্লাহ তা'আলা জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।"²⁷ যে সব আয়াতে এ কথা قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ﴾ [الكهف: ١١٠]
তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।” [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ১১০] এবং এ কথা وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا﴿ [الكهف: ٨] “আর নিশ্চয় তার উপর যা রয়েছে তাকে আমি উদ্ভিদহীন শুষ্ক মাটিতে পরিণত করব।” [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৮] বলা হয়েছে তার সাথে এ হাদীসটি বিরোধপূর্ণ নয় কি?
মৃত্যুর পর দাফনের পূর্বে হাত-দ্বয় নাকের উপর রাখা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনদিন পড়ে থাকেন। তার চাচা আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তার নিকট প্রবেশ করে এ অবস্থা দেখে বলেন, 'তিনিও অন্যান্য মানুষের মতো দুর্গন্ধ হন'। এ হাদীসটি নাইলুল আওতার এবং শরহে মুনতাকাল আখবার কিতাবে বিদ্যমান। ইবন হিব্বান স্বীয় সহীহতে, হাকিম মুস্তাদরাকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ। তবে তারা তাদের স্বীয় কিতাব-দ্বয়ে হাদীসটি উল্লেখ করেননি। ইবনু আবী হাতিম আল-'ইলাল কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেন এবং তিনি তার পিতা থেকে হাদীসটি সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন হাদীসটি মুনকার। কারণ, আব্দুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইব জাবের হাদীসের সনদে বর্ণনাকারী। আর তিনি হলেন একজন মুনকারুল হাদীস। ইবনুল আরবী রহ. বলেন, হাদীসটি প্রমাণিত নয়। আল্লাহর নিকট আমার কামনা তিনি যেন আমাকে এবং তোমাদেরকে এমন কর্ম করার তাওফীক দেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন।
উত্তর: আহলে ইলমগণের নিকট উল্লিখিত হাদীসটি প্রসিদ্ধ। হাদীসটির মধ্যে কোন দুর্বলতা বা অসুবিধার কিছু নেই। আল্লাহ তা'আলা জন্য ক্ষমতা রয়েছে যে, তিনি তার বান্দাদের থেকে যাকে চান যেভাবে চান বিশেষ গুনে গুণান্বিত করে থাকেন। জমিনের জন্য নবীদের দেহসমূহকে হারাম করার মাধ্যমে খাস করা কোন আশ্চর্য নয়। কারণ, আল্লাহর নিকট তাদের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়া শরী'আত অনুমোদিত। যদি আমরা ধরে নেই যে, জমিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীর খেয়ে ফেললেও তা হাদীসের বাণী অনুযায়ী তার ওপর জুমু'আর দিন অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠের পরিপন্থী নয়। কারণ, জীবিত থাকা
এবং মৃত্যু বরণ করা সর্বাবস্থায় তার ওপর দরূদ পড়ার বিধান রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا﴾ [الاحزاب: ৫৬] “নিশ্চয় আল্লাহ (ঊর্ধ্ব জগতে ফেরেশতাদের মধ্যে) নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর জন্য দো'আ করে। হে মুমিনগণ, তোমরাও নবীর উপর দরূদ পাঠ কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬]²⁸ হে আল্লাহ আপনি তার ওপর কিয়ামতের দিন পর্যন্ত সর্বদা দরূদ ও সালাম প্রেরণ করুন। ইমাম মুসলিম সহীহ মুসলিমে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا» "যে ব্যক্তি একবার আমার ওপর দুরূদ পড়ে আল্লাহ তা'আলা তার ওপর দশবার দরূদ পড়ে।" সুতরাং, জীবিত থাকা, মৃত্যু বরণ করা এবং আলমে বরযখে থাকা সহ সর্বাবস্থায় তার ওপর দরূদ পড়া যাবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ অক্ষত থাকার কথাটি এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আহলে ইলমগণের নিকট হাদীসটি বিশুদ্ধ। আর আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তিটির বিশুদ্ধতা আজ পর্যন্ত জানতে পারিনি এবং তার সনদটি অনুসন্ধান করেও দেখিনি। যদি কথাটি আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত হয়ও তাতেও কোন অসুবিধা নেই। যে কোন শরীরের জন্য যা হওয়ার তা হতেই পারে। তারপরও তা নিরাপদ ও অক্ষত থাকাতে কোন অসুবিধা নেই। জমিনের ওপর তা ভক্ষণ করা হারাম এবং নবীদের দেহ দুর্গন্ধ হওয়া বা পচে যাওয়া থেকে নিরাপদ থাকাও অসম্ভব কিছু নয়। আল্লাহ তা'আলা সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল। নবীদের দেহ যখন কবরে রাখা হবে, তার দুর্গন্ধ ও পরিবর্তন দূর করে দেহকে নিরাপদ ও তাজা করে রাখা আল্লাহ তা'আলার জন্য খুবই সহজ। শরী'আত ও জ্ঞান কোন কিছুই এর পরিপন্থী নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ কবরে অক্ষত থাকুক বা নাই থাকুক তার জন্য সালাত ও সালাম পেশ করা শরী'আত সম্মত। হাদীস যদি বিশুদ্ধ না হয়ে থাকে তবে তার দেহ কবরে অক্ষত না থাকা তার ওপর সালাত ও সালাম পেশ করাতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ, ঊর্ধ্ব জগতে তার রূহ অবশ্যই রয়েছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আকীদা অনুযায়ী নবীদের মত সমস্ত মানুষের রূহসমূহও অবশিষ্ট থাকে।
মু'মিনদের রূহ জান্নাতে আর কাফেরদের রূহ থাকে জাহান্নামে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ ঊর্ধ্ব জগতে। বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত, মু'মিনদের রূহ জান্নাতের গাছে জুলন্ত পাখির পেটে। শহীদদের রূহ জান্নাতের বিভিন্ন স্থানে বিচরণ করতে থাকে। তারপর আরশের নিচে জুলন্ত প্রদীপের কাছে ফিরে আসে। বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত, শহীদের রূহ হলুদ পাখির পেটে।
রূহ অবশিষ্ট রয়েছে, ফলে সালাত ও সালাম প্রেরণ করা সম্ভব যদিও দেহ নষ্ট হয়ে যায়। তবে হাদীসটি - إن الله [ عز وجل ] حرم على الأرض أجساد الأنبياء صلى" الله عليهم "আল্লাহ তা'আলা জমিনের জন্য নবীদের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন।” কোন অসুবিধার কারণ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত বিশুদ্ধ দলীল এর পরিপন্থী বলে জানা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ হাদীসটি গ্রহণ করা ও তার ওপর অটুট থাকাই হলো মূলনীতি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: إِنَّ اللَّهَ [ عز وجل ] حرم على "الأرض أجساد الأنبياء صلى الله عليهم " দেহকে হারাম করে দিয়েছেন।" যাকে তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, নবীদের দেহ অক্ষত থাকে। আর এ কথা তিনি অবশ্যই নিজের পক্ষ থেকে বলেননি। তার এ কথা অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রতি অহী। যখনই কোন হাদীস ত্রুটি মুক্ত হবে, তখন তা আহলে ইলমদের নিকট বিশুদ্ধ ও গ্রহণ যোগ্য হওয়াতে কোন অসুবিধা নেই। আর আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি যদি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়, তাতেও নবীদের দেহ কবরে অক্ষত ও তাজা থাকা তার উক্তির পরিপন্থী নয়। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

টিকাঃ
²⁷ বর্ণনায় তিরমিযী ছাড়া অপর পাঁচটি সুনান গ্রন্থ।
²⁸ ইমাম বুখারী আবুল 'আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর আল্লাহর 'সালাত' বলতে বুঝানো হয়েছে ফিরিশতাদের কাছে নবীর প্রশংসা এবং ফিরিশতাদের সালাত হলো দো'আ। আর ইমাম তিরমিযী সুফিয়ান সওরী থেকে বর্ণনা করেন যে, এখানে আল্লাহর সালাত বলতে রহমত এবং ফিরিশতাদের সালাত বলতে ইস্তেগফার বুঝানো হয়েছে (তাফসীর ইবন কাসীর)।

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 মৃত বাচ্চাদের জান্নাতী হওয়া বিষয়ে আলোচনা

📄 মৃত বাচ্চাদের জান্নাতী হওয়া বিষয়ে আলোচনা


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنْ النَّائِمِ "তিন ব্যক্তি থেকে আল্লাহ তা'আলা কলম উঠিয়ে নিয়েছেন" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- وَمَا يُدْرِيكَ يَا عَائِشَةُ أَنَّهُ فِي الْجَنَّةِ، لَعَلَّ اللَّهَ اطلع على ما كان يفعل؟ "হে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু! তোমাকে কে জানিয়েছে যে, সে জান্নাতী? হতে পারে লোকটি ভবিষ্যতে কি করত সে বিষয়ে আল্লাহ অবগত রয়েছেন!।"
প্রশ্ন: প্রশ্নকারী বলেন, 'শিফায়ুল আলীল' নামক কিতাবে উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত একটি হাদীস পড়েছি। যখন একজন طوبي لك طيور من طيور الجنة فقال وما يدريك :691 72 7262 يا عائشة أنه في الجنة، لعل الله اطلع على ما كان يفعل؟ "সু-সংবাদ গ্রহণ কর, এ বাচ্চাটি তোমার জন্য জান্নাতের পাখিসমূহ থেকে একটি পাখি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়েশা তোমাকে কে অবগত করছে যে, সে জান্নাতী? হতে পারে আল্লাহ তা'আলা অবগত রয়েছেন সে ভবিষ্যতে কি করত?।” অপর একটি হাদীসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنْ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنْ الطَّفْلِ حَتَّى يَبْلُغَ وَعَنْ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَبْرَأَ তাদের একজন হলো অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত।” উভয় বর্ণনাই বিশুদ্ধ জানি না উভয়ের বিরোধ নিরসন কীভাবে হবে?।
উত্তর: ইমাম বুখারী ও মুসলিমের নিকট উল্লিখিত হাদীসটি বিশুদ্ধ। যাতে عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ لَمْ يَعْمَلِ السُّوءَ وَلَمْ: aisi 1101 يُدْرِكْهُ قَالَ « أَوَ غَيْرَ ذَلِكَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ لِلْجَنَّةِ أَهْلاً خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلَابِ آبَائِهِمْ
» وَخَلَقَ لِلنَّارِ أَهْلاً خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلَابِ آبَائِهِمْ «. “জান্নাতের চড়ুই পাখিদের একটি চড়ই পাখি।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, না হে আয়েশা! বিষয়টি অন্য রকম, “আল্লাহ তা'আলা জান্নাতের জন্য অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন। তাদের সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের মাতা-পিতার বংশে। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের জন্য কিছু অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন। তাদের সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের মাতা-পিতার বংশে।”²⁹
হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য, কাউকে নির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা। যদিও সে একজন নিষ্পাপ বাচ্চা হোক। কারণ, সে অনেক সময় তার মাতা-পিতার অনুসারী হয় আর পিতা- মুসলিম নয় যদিও বাহ্যিক-ভাবে ইসলাম প্রকাশ করে। মানুষ অনেক সময় মুনাফেক হয়ে থাকে। অনেক সময় মা মুনাফেক হয়ে থাকে। এ কারণে বাচ্চারা যেহেতু তার মাতা-পিতার অনুগত তাই যতক্ষণ পর্যন্ত তার মাতা-পিতার অবস্থা জানা না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে নির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বলা যাবে না।
যখন কোন অমুসলিমের বাচ্চা মারা যাবে বিশুদ্ধ মত হলো তাকে কিয়ামতের দিন পরীক্ষা করা হবে। যখন সে পরীক্ষায় পাশ করবে তাকে জান্নাতে দেওয়া হবে আর যদি পরীক্ষায় ফেল করে তবে তাকে জাহান্নামে দেওয়া হবে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন মুশরিকদের বাচ্চাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো তিনি বললেন, »اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ« “ভবিষ্যতে তারা কি করত আল্লাহ তা'আলা সে সম্পর্কে ভালো জানেন।”³⁰
হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, তাদের কিয়ামতের কোন একটি বিষয়ে আদেশ করা হবে তারা যদি আদেশটি মানে জান্নাতে প্রবেশ করবেন আর যদি আদেশটি অমান্য করেন তবে জাহান্নামে প্রবেশ করবেন। সুতরাং, কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলা যাবে না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের জান্নাতী বলে ঘোষণা দিয়েছেন তাদের কথা ভিন্ন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মূলনীতিসমূহ থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি।
উল্লিখিত হাদীসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথায় আপত্তি জানানোর কারণ, তিনি একজনকে নির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কারণ, তিনি বলেন, عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ এ কারনেই এ ধরনের কথা বলতে তাকে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, বিষয়টির পিছনে আরও একটি বিষয় রয়েছে যা তার জান্নাতে প্রবেশ না করার কারণ হতে পারে। তাকে কিয়ামতের দিন পরীক্ষা করা হবে। কারণ, তারা মাতা-পিতা মুসলিম নয়। মুসলিমদের বাচ্চারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মত অনুসারে তারা তাদের মাতা-পিতার সাথে জান্নাতে যাবে। আর কাফেরদের বাচ্চাদের কিয়ামতের দিন পরীক্ষা করা হবে।
এ মতটিই সত্য বা হক। মুশরিকদের বাচ্চাদের যারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর নির্দেশ মানবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যারা মানবে না তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। যেমনটি যাদের কাছে আদৌ কোন নবী রাসূল পৌঁছেনি। এটিই সঠিক উত্তর এবং হাদীসের ভাষ্য। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

টিকাঃ
²⁹ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৯৩৯
³⁰ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৯৩৩

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 ঈমানের ব্যাখ্যা বিষয়ক হাদীস

📄 ঈমানের ব্যাখ্যা বিষয়ক হাদীস


একটি হাদীসে ঈমানের ব্যাখ্যা- "أن تؤمن بالله "আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করা" দ্বারা করা এবং অপর হাদীসে ঈমানের ব্যাখ্যা - شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله "এ কথা সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই" দ্বারা করা।
প্রশ্ন: হাদীসে জিবরীল যাতে ঈমানের ব্যাখ্যা - أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره "আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, তার ফিরিশতা, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখিরাত দিবস, এবং ভালো ও মন্দের ভাগ্যের প্রতি ঈমান আনা।"³¹- এ বলে দেওয়া হয়েছে। আর ওয়াফদে আবদে কাইসের হাদীসের যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বলে- شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وصوم رمضان وأن تؤدوا خمسا من المغنم "এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকার ইলাহ নেই তিনি একক, তার কোন শরীক নেই, সালাত কায়েম করা, যাকাত পরিশোধ করা এবং গণিমতের এক পঞ্চমাংশ আদায় করা।"³²-ঈমানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। উভয় হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্যতা ও বিরোধ নিরসন কীভাবে করব?
উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে একটি কথা জানিয়ে দিতে চাই যে, কুরআন ও সুন্নাহের মধ্যে পারস্পরিক কখনোই কোন বিরোধ নেই। কুরআনের একটি অংশ অপর অংশের সাথে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদীসের একটি অংশ অপর অংশের সাথে
কোন বিরোধ নেই। কুরআন ও বিশুদ্ধ সুন্নাহের মধ্যে এমন কোন কিছু পাওয়া যাবে না যা বাস্তবতার বিরোধী। কারণ বাস্তবতা সত্য এবং কুরআন ও সুন্নাহও সত্য। দু'টি সত্যের মধ্যে বিরোধ অসম্ভব। এ মূলনীতি যখন তুমি বুঝতে পারবে তখন তোমার অসংখ্য প্রশ্নের সমাধান এমনিতেই হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْءَانَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا ﴾ [النساء : 82] “তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হত, তবে অবশ্যই তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮২] যখন বিষয়টি এমনই, তখন মনে রাখবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে পারস্পরিক কোন বিরোধ নেই। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমানের একটি তাফসীর করেছেন এবং অপর যায়গায় ভিন্ন তাফসীর করেছেন, তখন বাহ্যিক দৃষ্টিতে তোমার কাছে মনে হবে বিরোধ। কিন্তু বাস্তবে যখন তুমি গভীরভাবে চিন্তা করবে, তখন তুমি কোন বিরোধ দেখতে পাবে না।
হাদীসে জিবরীলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীনকে তিন ভাগ করেছেন।
প্রথম প্রকার; ইসলাম
দ্বিতীয় প্রকার: ঈমান
তৃতীয় প্রকার: ইহসান।
আর ওয়াফদে আবদে কাইসের হাদীসে শুধু এক প্রকার অর্থাৎ ইসলাম উল্লেখ করেছেন। আর যখন ইসলাম এককভাবে উল্লেখ করা হয়, তখন তার মধ্যে ঈমান অর্ন্তভুক্ত থাকে। কারণ, মু'মিন হওয়া ছাড়া ইসলামের বিধান মেনে চলা সম্ভব নয়। ফলে ইসলাম উল্লেখ করলে ঈমান তাতে অর্ন্তভুক্ত হয় এবং ঈমান উল্লেখ করলে ইসলাম তাতে এসে যায়। আর যখন ঈমান ও ইসলাম একত্রে উল্লেখ করা হয় তখন ঈমান বলা হয় অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়সমূহকে আর ইসলাম বলা হয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারী নিয়ম ও মূলনীতি। যখন শুধু ইসলাম উল্লেখ করা হয়, তখন তার মধ্যে ঈমানও অর্ন্তভুক্ত হয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ) [آل ইমরান: ১৯] “আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দীন ইসলাম। [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১৯]
মনে রাখবে, দীন-ইসলাম হলো, আকীদা, ঈমান ও শরী'আত-এর সমষ্টির নাম। যখন শুধু ঈমান উল্লেখ করা হয়, তখন তাতে ইসলামও অর্ন্তভুক্ত থাকে। আর যখন উভয়টি উল্লেখ করা হয় তখন ঈমান অন্তরের আমলকে বুঝায় আর ইসলাম দ্বারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলকে বুঝায়। এ কারণেই কোন কোন সালাফ রহ. বলেছেন, 'ইসলাম হলো প্রকাশ্য আর ঈমান হলো গোপন'। কারণ, ঈমান অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত। এ কারণেই একজন মুনাফেককে দেখবে সে সালাত আদায় করে, সাদকা করে এবং সাওম আদায় করে। ফলে সে বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলিম তবে সে মু'মিন নয়। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ﴾ [البقرة: ٨] “আর মানুষের মধ্যে কিছু এমন আছে, যারা বলে, 'আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি', অথচ তারা মুমিন নয়।" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৮] আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.

টিকাঃ
³¹ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮
³² সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00