📄 জান্নাতীরা কখনো জান্নাত থেকে বের হবে কিনা?
আল্লাহ তা'আলার বাণী: فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُواْ فَفِي النَّارِ “অতঃপর যারা হয়েছে দুর্ভাগা, তারা থাকবে আগুনে।"
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলার বাণী: فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُواْ فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ إِنَّ رَبَّكَ فَعَالٌ لِمَا يُرِيدُ * وَأَمَّا الَّذِينَ سُعِدُوا فَفِي الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ عَطَاءً غَيْرَ تَجْدُودٍ ﴾ [হুদঃ ১০৬-১০৮] “অতঃপর যারা হয়েছে দুর্ভাগা, তারা থাকবে আগুনে। সেখানে থাকবে তাদের চীৎকার ও আর্তনাদ। সেখানে তারা স্থায়ী²³ হবে, যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও জমিন থাকবে, অবশ্য তোমার রব যা চান।²⁴ নিশ্চয় তোমার রব তা-ই করে যা তিনি ইচ্ছা করেন। আর যারা ভাগ্যবান হয়েছে, তারা জান্নাতে থাকবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও জমিন থাকবে, অবশ্য তোমার রব যা চান,²⁵ অব্যাহত প্রতিদানস্বরূপ।” [সূরা আল-হুদ, আয়াত: ১০৬, ১০৮] এর ব্যাখ্যা কি? এ আয়াত থেকে কি এ কথা বুঝা যায় যে, যখন কোন মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে আল্লাহ চাইলে সে জান্নাত থেকে বের হবে? নাকি কুরআনের অন্য আয়াত দ্বারা আয়াত দু'টি রহিত? কারণ, আয়াত দু'টি মক্কায় অবতীর্ণ।
উত্তর: আয়াত দু'টি রহিত নয় বরং আয়াত দু'টি মুহকাম—স্পষ্ট। তবে আল্লাহ তা'আলার বাণী—﴿إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ "অবশ্য তোমার রব যা চান"-এর অর্থ কি? এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। যদিও তারা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, জান্নাতের নি'আমত স্থায়ী তা কখনো বন্ধ ও শেষ হবে না এবং জান্নাতীরা জান্নাত থেকে কখনো বের হবে না। জান্নাত থেকে বের হওয়া বিষয়ে কতক মানুষের ধারণাকে দূরীভূত করার জন্য আল্লাহ বলেন, عَطَاء ﴾غَيْرَ تَجْدُونِ "অব্যাহত প্রতিদানস্বরূপ।” তার জান্নাতে চিরস্থায়ী হবেন—কখনোই বের হবেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّتٍ وَعُيُونٍ اَدْخُلُوهَا إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونِ ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ أَمِنِينَ ﴾ [الحجر: ٤৫, ৪৬] “নিশ্চয় মুত্তাক্বীগণ থাকবে জান্নাত ও ঝর্ণাধারাসমূহে। ‘তোমরা তাতে প্রবেশ কর শান্তিতে, নিরাপদ হয়ে।" [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৪৬, ৪৫] অর্থাৎ মৃত্যু থেকে নিরাপদ, জান্নাত থেকে বের হওয়ার বিষয়ে নিরাপদ এবং অসুস্থতা থেকে নিরাপদ। এ কারণেই আল্লাহ তা'আলা এর পর বলেন,
﴿وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٌ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَبِلِينَ ﴾ ﴿ لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ ﴾ [الحجر: ৪৭, ৪৮] “আর আমি তাদের অন্তর থেকে হিংসা বিদ্বেষ বের করে ফেলব, তারা সেখানে ভাই ভাই হয়ে আসনে মুখোমুখি বসবে। সেখানে তাদেরকে ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃতও হবে না। তারা তাতে চিরস্থায়ী, তারা বের হবেন না এবং তাতে তারা মৃত্যু বরণ করবে না।” [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৪৭, ৪৮] আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ يَلْبَسُونَ مِنْ سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَقَابِلِينَ كَذَلِكَ وَزَوَّجْنَهُم بِحُورٍ عِينٍ يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آمِنِينَ لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَى وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ فَضْلًا مِنْ رَبِّكَ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴾ [الدخان: ৫১, ৫৭] “নিশ্চয় মুত্তাক্বীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগ-বাগিচা ও ঝর্নাধারার মধ্যে, তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং বসবে মুখোমুখী হয়ে। এরূপই ঘটবে, আর আমি তাদেরকে বিয়ে দেব ডাগর নয়না হুরদের সাথে। সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে সকল প্রকারের ফলমূল আনতে বলবে। তোমার রবের অনুগ্রহস্বরূপ, এটাই তো মহা সাফল্য।” [সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ৫১, ৫৭] প্রথম মৃত্যুর পর সেখানে তারা আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। আয়াতে আল্লাহ তা'আলা জানিয়ে দেন যে, জান্নাতীরা নিরাপদ স্থানে থাকবে- তাদের কোন বিপদের সম্মুখীন হতে হবে না, তাদের ক্ষয় হবে না। না এবং তারা পরিপূর্ণ নিরাপদ। তাদের মৃত্যু বরণ করা, রোগী হওয়া এবং জান্নাত থেকে বের হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই। তারা কখনোই মৃত্যু বরণ করবে না।
আল্লাহর বাণী: ﴾إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ "অবশ্য তোমার রব যা চান” এর ব্যাখ্যায় কোন কোন আলেম বলেন, এ আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য জান্নাত নয় এ আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য কবরের অবস্থান। কবর যদিও জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান কিন্তু তা পুরোপুরি জান্নাত নয় জান্নাতের অংশ। মু'মিন ব্যক্তি যখন কবরে অবস্থান করবে তখন তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে। জান্নাতের সু-বাতাস, সু-ঘ্রাণ ও নি'আমতসমূহে তার কবরে আসতে থাকবে। তারপর তাকে সাত আসমানের উপরে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ আসল জান্নাতে স্থানান্তর করা হবে।
কেউ কেউ বলেন এ ﴾إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ "অবশ্য তোমার রব যা চান” আয়াতটির দ্বারা কবর থেকে পুনরুত্থানের পর কিয়ামতের মাঠে হিসাব ও বিচারের জন্য অবস্থানের সময়কে বুঝানো হয়েছে। কারণ, তারপর মানুষকে জান্নাতে স্থানান্তর করানো হবে।
আবার কেউ কেউ বলেন, সামগ্রিকভাবে তাদের কবরের অবস্থান, হাশরের মাঠের অবস্থান এবং পুলসিরাতের উপর দিয়ে তাদের অতিক্রম করার সময় স্থায়ী নয় এবং তারা এ সময়টিতে জান্নাতে নয়। তবে তাদেরকে এ থেকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে।
এ থেকে এ কথা স্পষ্ট হয় যে, এখান অবস্থান দ্বারা উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তাতে কোন সন্দেহ, সংশয় ও অবকাশ নেই। জান্নাতীরা জান্নাতে চিরকাল থাকবে তাতে তাদের কোন মৃত্যু হবে না, অসুস্থ হবে না, বের হবে না, মহিলাদের হায়েয- নিফাস হবে না, দুশ্চিন্তা থাকবে না। তারা স্থায়ী ও উত্তম নে'আমতসমূহে অবস্থান করবে। অনুরূপভাবে জাহান্নামীরা জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করবে তা থেকে তারা কখনোই বের হবে না। যেমন, আল্লাহ তা'আলা তাদের বিষয়ে বলেন, وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُم مِّنْ . ﴿﴾ ]عَذَابِهَا كَذَلِكَ نَجْزِي كُلَّ كَفُورٍ ﴿ ﴾ [فاطر: ٣৬ "আর যারা কুফরী করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের প্রতি এমন কোন ফয়সালা দেয়া হবে না যে, তারা মারা যাবে, এবং তাদের থেকে জাহান্নামের আযাবও লাঘব করা হবে না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ৩৬] এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলার বাণী একাধিক।
তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴾إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ "অবশ্য তোমার রব যা চান" এর অর্থ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ হলো যখন তারা কবরে অবস্থান করবে আবার কেউ কেউ বলেন, হাশরের মাঠ। তারপর তাদের জাহান্নামের দিকে টেনে নেয়া হবে এবং তাতে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। যেমন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা সূরা বাকারায় বলেন, ذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ ﴾ [البقرة: ১৬৭] তাদেরকে তাদের আমলসমূহ দেখাবেন, তাদের জন্য আক্ষেপস্বরূপ। আর তারা আগুন থেকে বের হতে পারবে না" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৬৭] এবং يُرِيدُونَ أَن يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ ]۳۷ :عَذَابٌ مُّقِيمٌ ﴾ [المائدة "তারা চাইবে আগুন থেকে বের হতে, কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হবার নয় এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৩৭] এ বিষয়ে আরো বহু আয়াত রয়েছে। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
²³ 'যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও জমিন থাকবে'- এ কথা দ্বারা আরবী ভাষায় চিরস্থায়ীত্বের উদাহরণ দেয়া হয়ে থাকে।
²⁴ অর্থাৎ শাস্তিভোগ শেষে জাহান্নাম থেকে যে গুনাহগার মুমিনদেরকে তিনি বের করে জান্নাতে নিতে চান তাদের বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।
²⁵ অর্থাৎ আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দিতে পারেন। তবে তিনি তা করবেন না। কেননা তিনি নিজেই তাদের স্থায়ীত্বের ঘোষণা দিয়েছেন।
📄 আল্লাহর সিফাত-‘হাত’ বিষয়ে দু‘টি হাদীস
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: 'আমার রবের উভয় হাতই ডান' অপর হাদীসে আল্লাহর একটি হাতকে বাম হাত বলে আখ্যায়িত করা বিষয়ে আলোচনা।
প্রশ্ন: দু'টি হাদীসের একটির মধ্যে আল্লাহর একটি হাতকে বাম হাত বলে আখ্যায়িত করা এবং অপর হাদীসে আল্লাহর উভয় হাতকে ডান বলে আখ্যায়িত করার মধ্যে যে বিরোধ দেখা যায় তা নিরসন করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি।
উত্তর: শাইখ র.হ. বলেন, 'আমার রবের উভয় হাতই ডান' এ হাদীসটি তাগলীব অধ্যায়ের হাদীস। এ দ্বারা উদ্দেশ্য অপর হাত থেকে দুর্বলতাকে না করা। কারণ, আদম সন্তানের মধ্যে সাধারণ নিয়ম হলো তাদের ডান হাত বাম হাতের তুলনায় শক্তিশালী হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা এ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। তার উভয় হাতের শক্তি সমান। এ ধরনের বিরোধপূর্ণ হাদীস যেগুলো বিরোধ নিরসন করা জরুরি বিশেষ করে আকীদার ক্ষেত্রে, তার সমাধানের জন্য ইমাম ইবনে কুতাইবার 'বিরোধপূর্ণ হাদীসের সমাধান' নামক কিতাব দেখতে হবে। অনুরূপভাবে এ বিষয়ে ইবন আব্দুল্লাহ আল-কাসিমের রয়েছে 'মুশকিলাতুল আহাদীস' নামে গুরুত্বপূর্ণ ও মহা মূল্যবান কিতাব। এ কিতাবের সংকলন করা ছিল তার দীনের সাথে খেল-তামাশা ও দীন থেকে বের হওয়ার পূর্বে। আল্লাহই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আল-আফীফী র.হ.
📄 রাসূলের ওপর দরূদ পৌঁছানো বিষয়ক আলোচনা
আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ﴾ “বল, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, فيه فإن صلاتكم معروضة على “কারণ, আমার নিকট তোমাদের দরূদ পেশ করা হয়।”
প্রশ্ন: জুমু'আর দিন জুমু'আর ফযীলত সম্পর্কে রেডিওতে একজন ভাষ্যকারকে একটি হাদীস বলতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, " إن من أفضل أيامكم يوم الجمعة فأكثروا علي من الصلاة فيه فإن صلاتكم معروضة علي " قال فقالوا يا رسول الله وكيف تعرض صلاتنا عليك وقد أرمت؟ قال يقولون بليت قال " إن الله [ عز و جل ] حرم على الأرض أجساد الأنبياء صلى الله عليهم " ।
"তোমরা আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরূদ পড়। কারণ, আমার কাছে তোমাদের দরূদ পেশ করা হয়ে থাকে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে আমাদের দরূদ আপনার কাছে পেশ করা হয়? অথচ আপনার হাড্ডি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। উত্তরে তিনি বললেন, নবীদের দেহসমূহকে আল্লাহ তা'আলা জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।"²⁷ যে সব আয়াতে এ কথা قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا ﴾ [الكهف: ١١٠]
তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।” [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ১১০] এবং এ কথা وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا﴿ [الكهف: ٨] “আর নিশ্চয় তার উপর যা রয়েছে তাকে আমি উদ্ভিদহীন শুষ্ক মাটিতে পরিণত করব।” [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৮] বলা হয়েছে তার সাথে এ হাদীসটি বিরোধপূর্ণ নয় কি?
মৃত্যুর পর দাফনের পূর্বে হাত-দ্বয় নাকের উপর রাখা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনদিন পড়ে থাকেন। তার চাচা আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তার নিকট প্রবেশ করে এ অবস্থা দেখে বলেন, 'তিনিও অন্যান্য মানুষের মতো দুর্গন্ধ হন'। এ হাদীসটি নাইলুল আওতার এবং শরহে মুনতাকাল আখবার কিতাবে বিদ্যমান। ইবন হিব্বান স্বীয় সহীহতে, হাকিম মুস্তাদরাকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ। তবে তারা তাদের স্বীয় কিতাব-দ্বয়ে হাদীসটি উল্লেখ করেননি। ইবনু আবী হাতিম আল-'ইলাল কিতাবে হাদীসটি বর্ণনা করেন এবং তিনি তার পিতা থেকে হাদীসটি সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন হাদীসটি মুনকার। কারণ, আব্দুর রহমান ইবন ইয়াযীদ ইব জাবের হাদীসের সনদে বর্ণনাকারী। আর তিনি হলেন একজন মুনকারুল হাদীস। ইবনুল আরবী রহ. বলেন, হাদীসটি প্রমাণিত নয়। আল্লাহর নিকট আমার কামনা তিনি যেন আমাকে এবং তোমাদেরকে এমন কর্ম করার তাওফীক দেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন।
উত্তর: আহলে ইলমগণের নিকট উল্লিখিত হাদীসটি প্রসিদ্ধ। হাদীসটির মধ্যে কোন দুর্বলতা বা অসুবিধার কিছু নেই। আল্লাহ তা'আলা জন্য ক্ষমতা রয়েছে যে, তিনি তার বান্দাদের থেকে যাকে চান যেভাবে চান বিশেষ গুনে গুণান্বিত করে থাকেন। জমিনের জন্য নবীদের দেহসমূহকে হারাম করার মাধ্যমে খাস করা কোন আশ্চর্য নয়। কারণ, আল্লাহর নিকট তাদের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়া শরী'আত অনুমোদিত। যদি আমরা ধরে নেই যে, জমিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীর খেয়ে ফেললেও তা হাদীসের বাণী অনুযায়ী তার ওপর জুমু'আর দিন অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠের পরিপন্থী নয়। কারণ, জীবিত থাকা
এবং মৃত্যু বরণ করা সর্বাবস্থায় তার ওপর দরূদ পড়ার বিধান রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا﴾ [الاحزاب: ৫৬] “নিশ্চয় আল্লাহ (ঊর্ধ্ব জগতে ফেরেশতাদের মধ্যে) নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর জন্য দো'আ করে। হে মুমিনগণ, তোমরাও নবীর উপর দরূদ পাঠ কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬]²⁸ হে আল্লাহ আপনি তার ওপর কিয়ামতের দিন পর্যন্ত সর্বদা দরূদ ও সালাম প্রেরণ করুন। ইমাম মুসলিম সহীহ মুসলিমে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا» "যে ব্যক্তি একবার আমার ওপর দুরূদ পড়ে আল্লাহ তা'আলা তার ওপর দশবার দরূদ পড়ে।" সুতরাং, জীবিত থাকা, মৃত্যু বরণ করা এবং আলমে বরযখে থাকা সহ সর্বাবস্থায় তার ওপর দরূদ পড়া যাবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ অক্ষত থাকার কথাটি এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আহলে ইলমগণের নিকট হাদীসটি বিশুদ্ধ। আর আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তিটির বিশুদ্ধতা আজ পর্যন্ত জানতে পারিনি এবং তার সনদটি অনুসন্ধান করেও দেখিনি। যদি কথাটি আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত হয়ও তাতেও কোন অসুবিধা নেই। যে কোন শরীরের জন্য যা হওয়ার তা হতেই পারে। তারপরও তা নিরাপদ ও অক্ষত থাকাতে কোন অসুবিধা নেই। জমিনের ওপর তা ভক্ষণ করা হারাম এবং নবীদের দেহ দুর্গন্ধ হওয়া বা পচে যাওয়া থেকে নিরাপদ থাকাও অসম্ভব কিছু নয়। আল্লাহ তা'আলা সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল। নবীদের দেহ যখন কবরে রাখা হবে, তার দুর্গন্ধ ও পরিবর্তন দূর করে দেহকে নিরাপদ ও তাজা করে রাখা আল্লাহ তা'আলার জন্য খুবই সহজ। শরী'আত ও জ্ঞান কোন কিছুই এর পরিপন্থী নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ কবরে অক্ষত থাকুক বা নাই থাকুক তার জন্য সালাত ও সালাম পেশ করা শরী'আত সম্মত। হাদীস যদি বিশুদ্ধ না হয়ে থাকে তবে তার দেহ কবরে অক্ষত না থাকা তার ওপর সালাত ও সালাম পেশ করাতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ, ঊর্ধ্ব জগতে তার রূহ অবশ্যই রয়েছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আকীদা অনুযায়ী নবীদের মত সমস্ত মানুষের রূহসমূহও অবশিষ্ট থাকে।
মু'মিনদের রূহ জান্নাতে আর কাফেরদের রূহ থাকে জাহান্নামে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ ঊর্ধ্ব জগতে। বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত, মু'মিনদের রূহ জান্নাতের গাছে জুলন্ত পাখির পেটে। শহীদদের রূহ জান্নাতের বিভিন্ন স্থানে বিচরণ করতে থাকে। তারপর আরশের নিচে জুলন্ত প্রদীপের কাছে ফিরে আসে। বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত, শহীদের রূহ হলুদ পাখির পেটে।
রূহ অবশিষ্ট রয়েছে, ফলে সালাত ও সালাম প্রেরণ করা সম্ভব যদিও দেহ নষ্ট হয়ে যায়। তবে হাদীসটি - إن الله [ عز وجل ] حرم على الأرض أجساد الأنبياء صلى" الله عليهم "আল্লাহ তা'আলা জমিনের জন্য নবীদের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন।” কোন অসুবিধার কারণ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত বিশুদ্ধ দলীল এর পরিপন্থী বলে জানা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ হাদীসটি গ্রহণ করা ও তার ওপর অটুট থাকাই হলো মূলনীতি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: إِنَّ اللَّهَ [ عز وجل ] حرم على "الأرض أجساد الأنبياء صلى الله عليهم " দেহকে হারাম করে দিয়েছেন।" যাকে তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, নবীদের দেহ অক্ষত থাকে। আর এ কথা তিনি অবশ্যই নিজের পক্ষ থেকে বলেননি। তার এ কথা অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রতি অহী। যখনই কোন হাদীস ত্রুটি মুক্ত হবে, তখন তা আহলে ইলমদের নিকট বিশুদ্ধ ও গ্রহণ যোগ্য হওয়াতে কোন অসুবিধা নেই। আর আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি যদি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়, তাতেও নবীদের দেহ কবরে অক্ষত ও তাজা থাকা তার উক্তির পরিপন্থী নয়। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
²⁷ বর্ণনায় তিরমিযী ছাড়া অপর পাঁচটি সুনান গ্রন্থ।
²⁸ ইমাম বুখারী আবুল 'আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর আল্লাহর 'সালাত' বলতে বুঝানো হয়েছে ফিরিশতাদের কাছে নবীর প্রশংসা এবং ফিরিশতাদের সালাত হলো দো'আ। আর ইমাম তিরমিযী সুফিয়ান সওরী থেকে বর্ণনা করেন যে, এখানে আল্লাহর সালাত বলতে রহমত এবং ফিরিশতাদের সালাত বলতে ইস্তেগফার বুঝানো হয়েছে (তাফসীর ইবন কাসীর)।
📄 মৃত বাচ্চাদের জান্নাতী হওয়া বিষয়ে আলোচনা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنْ النَّائِمِ "তিন ব্যক্তি থেকে আল্লাহ তা'আলা কলম উঠিয়ে নিয়েছেন" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- وَمَا يُدْرِيكَ يَا عَائِشَةُ أَنَّهُ فِي الْجَنَّةِ، لَعَلَّ اللَّهَ اطلع على ما كان يفعل؟ "হে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু! তোমাকে কে জানিয়েছে যে, সে জান্নাতী? হতে পারে লোকটি ভবিষ্যতে কি করত সে বিষয়ে আল্লাহ অবগত রয়েছেন!।"
প্রশ্ন: প্রশ্নকারী বলেন, 'শিফায়ুল আলীল' নামক কিতাবে উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত একটি হাদীস পড়েছি। যখন একজন طوبي لك طيور من طيور الجنة فقال وما يدريك :691 72 7262 يا عائشة أنه في الجنة، لعل الله اطلع على ما كان يفعل؟ "সু-সংবাদ গ্রহণ কর, এ বাচ্চাটি তোমার জন্য জান্নাতের পাখিসমূহ থেকে একটি পাখি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়েশা তোমাকে কে অবগত করছে যে, সে জান্নাতী? হতে পারে আল্লাহ তা'আলা অবগত রয়েছেন সে ভবিষ্যতে কি করত?।” অপর একটি হাদীসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنْ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنْ الطَّفْلِ حَتَّى يَبْلُغَ وَعَنْ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَبْرَأَ তাদের একজন হলো অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত।” উভয় বর্ণনাই বিশুদ্ধ জানি না উভয়ের বিরোধ নিরসন কীভাবে হবে?।
উত্তর: ইমাম বুখারী ও মুসলিমের নিকট উল্লিখিত হাদীসটি বিশুদ্ধ। যাতে عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ لَمْ يَعْمَلِ السُّوءَ وَلَمْ: aisi 1101 يُدْرِكْهُ قَالَ « أَوَ غَيْرَ ذَلِكَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ لِلْجَنَّةِ أَهْلاً خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلَابِ آبَائِهِمْ
» وَخَلَقَ لِلنَّارِ أَهْلاً خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلَابِ آبَائِهِمْ «. “জান্নাতের চড়ুই পাখিদের একটি চড়ই পাখি।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, না হে আয়েশা! বিষয়টি অন্য রকম, “আল্লাহ তা'আলা জান্নাতের জন্য অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন। তাদের সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের মাতা-পিতার বংশে। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের জন্য কিছু অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন। তাদের সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের মাতা-পিতার বংশে।”²⁹
হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য, কাউকে নির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা। যদিও সে একজন নিষ্পাপ বাচ্চা হোক। কারণ, সে অনেক সময় তার মাতা-পিতার অনুসারী হয় আর পিতা- মুসলিম নয় যদিও বাহ্যিক-ভাবে ইসলাম প্রকাশ করে। মানুষ অনেক সময় মুনাফেক হয়ে থাকে। অনেক সময় মা মুনাফেক হয়ে থাকে। এ কারণে বাচ্চারা যেহেতু তার মাতা-পিতার অনুগত তাই যতক্ষণ পর্যন্ত তার মাতা-পিতার অবস্থা জানা না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে নির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বলা যাবে না।
যখন কোন অমুসলিমের বাচ্চা মারা যাবে বিশুদ্ধ মত হলো তাকে কিয়ামতের দিন পরীক্ষা করা হবে। যখন সে পরীক্ষায় পাশ করবে তাকে জান্নাতে দেওয়া হবে আর যদি পরীক্ষায় ফেল করে তবে তাকে জাহান্নামে দেওয়া হবে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন মুশরিকদের বাচ্চাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো তিনি বললেন, »اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ« “ভবিষ্যতে তারা কি করত আল্লাহ তা'আলা সে সম্পর্কে ভালো জানেন।”³⁰
হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, তাদের কিয়ামতের কোন একটি বিষয়ে আদেশ করা হবে তারা যদি আদেশটি মানে জান্নাতে প্রবেশ করবেন আর যদি আদেশটি অমান্য করেন তবে জাহান্নামে প্রবেশ করবেন। সুতরাং, কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলা যাবে না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের জান্নাতী বলে ঘোষণা দিয়েছেন তাদের কথা ভিন্ন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মূলনীতিসমূহ থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি।
উল্লিখিত হাদীসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথায় আপত্তি জানানোর কারণ, তিনি একজনকে নির্দিষ্টভাবে জান্নাতী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কারণ, তিনি বলেন, عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ এ কারনেই এ ধরনের কথা বলতে তাকে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, বিষয়টির পিছনে আরও একটি বিষয় রয়েছে যা তার জান্নাতে প্রবেশ না করার কারণ হতে পারে। তাকে কিয়ামতের দিন পরীক্ষা করা হবে। কারণ, তারা মাতা-পিতা মুসলিম নয়। মুসলিমদের বাচ্চারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মত অনুসারে তারা তাদের মাতা-পিতার সাথে জান্নাতে যাবে। আর কাফেরদের বাচ্চাদের কিয়ামতের দিন পরীক্ষা করা হবে।
এ মতটিই সত্য বা হক। মুশরিকদের বাচ্চাদের যারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর নির্দেশ মানবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যারা মানবে না তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। যেমনটি যাদের কাছে আদৌ কোন নবী রাসূল পৌঁছেনি। এটিই সঠিক উত্তর এবং হাদীসের ভাষ্য। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
²⁹ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৯৩৯
³⁰ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৯৩৩