📄 ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে মুসলিমদের আকীদা সম্পর্কীয় আয়াত
আল্লাহর বাণী: إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ : “মারইয়ামের পুত্র মাসীহ
ঈসা কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল" [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৭১]
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে বলেন, إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ وَ أَلْقَنهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ فَتَامِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ، وَلَا تَقُولُوا ثَلَثَةٌ أَنتَهُوا خَيْرًا لَّكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهُ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ وَ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا ﴾ [النساء : ١٧١] “মারইয়ামের পুত্র মসীহ ঈসা
কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কালিমা, যা তিনি প্রেরণ করেছিলেন মারইয়ামের প্রতি এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ। সুতরাং, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আন এবং বলো না, 'তিন'। তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য উত্তম। আল্লাহই কেবল এক ইলাহ, তিনি পবিত্র মহান এ থেকে যে, তাঁর কোন সন্তান হবে। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যা রয়েছে জমিনে, তা আল্লাহরই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৭১] কতক খৃষ্টান বলে আমরা যে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করি এ আয়াতটি তার সমর্থন করে। অর্থাৎ ঈসা আলাইহিস সালাম তিন জনের (পিতা, পুত্র, পবিত্র আত্মা) একজন। -আল্লাহ তা'আলা এ অপবাদ থেকে তোমাদের হিফাযত করুন- এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর কি?।
উত্তর: এ দাবি সম্পূর্ণ বাতিল। আয়াতটি তাদের দাবি সমর্থন করে না এবং বাহ্যিক অর্থের মধ্যে তাদের দাবির প্রতি কোন ইঙ্গিতও পাওয়া যায় না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা আয়াতে প্রথমে নাম নিয়েছেন তারপর তার নাম বদল হিসেবে তার আসল নাম অর্থাৎ ঈসা উল্লেখ করেছেন। তারপর তাকে তার মায়ের দিকে সম্বোধন করা হয়েছে যেমনি-ভাবে সন্তানকে তার পিতার দিক সম্বোধন করা হয়ে থাকে। তারপর তাকে রাসূল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বনী ইসলাঈলদের নিকট প্রেরিত। তারপর তারপর ওপর আতফ করে বলা হয়েছে যে, তিনি আল্লাহর কালিমা। অর্থাৎ আদম আলাইহিস সালামকে যেভাবে মাতা-পিতা ছাড়া সৃষ্টি করা হয়েছে তাকেও পিতা ছাড়া কালিমায়ে “কুন” দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। তারপর তাকে আল্লাহ তা'আলা সৃষ্ট রুহসমূহের একটি রুহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সুতরাং, আয়াতে ঈসা আলাইহিস সালামের তিনটি নাম ও তিনটি সিফাত রয়েছে। ঈসা ইবন মারইয়াম বলে নাম রাখা দ্বারা তাকে আল্লাহর ছেলে বলা বাতিল গণ্য হলো। কারণ, তাকে তার মায়ের দিক সম্বোধন করা হয়েছে। তারপর বলা হয়েছে তিনি অন্যান্য রাসূলদের মতো একজন রাসূল, যারা শরী'আতের দায়িত্ব বহন করেছেন এবং আল্লাহর দিকে মানুষকে দাও'আত দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেছেন। তারপর বলা হয়েছে তিনি আল্লাহ কালিমা যে কালিমা নিয়ে আল্লাহ ফিরিশতাকে পাঠিয়েছেন। ফিরিশতা তার জামার হাতায় ফুঁ দেয়াতে তা তার লজ্জা-স্থানে পৌঁছে যায় এবং তাতে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তারপর বলা হয়েছে, তিনি তার থেকে রুহ। এখানে আল্লাহর দিকে সম্বোধনটি সম্মানজনক সম্বোধন যেমনটি সম্মানার্থে বলা হয়ে থাকে- আল্লাহর ঘর, আল্লাহর উষ্ঠি। সুতরাং তিনি রুহ যা আল্লাহরই মাখলুক। আর আল্লাহ তা'আলা বাণী: ﴿وَأَيَّدْنَهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ ﴾ [البقرة :٨৭] “আর তাকে শক্তিশালী করেছি ‘পবিত্র আত্মা’র মাধ্যমে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৮৭]-তে পবিত্র আত্মা দ্বারা উদ্দেশ্য জিবরীল আলাইহিস সালাম। তিনি অহীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিরিশতা, যিনি নবীদের ওপর অহী নাযিল করেন। তিনি অন্যান্য ফিরিশতাদের মতোই আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহই ভালো জানেন। শাইখ আব্দুল্লাহ বিন জাবরীন।
টিকাঃ
পবিত্র আত্মা অর্থ জিবরীল (আলাইহিস সালাম)
📄 কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: একজন প্রশ্ন কারী প্রশ্নে বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, ﴿تَاللَّهِ لَتُسْئَلُنَّ عَمَّا كُنتُمْ تَفْتَرُونَ ﴾ [النحل: ৫৬] “আল্লাহর কসম! তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা যে মিথ্যা রটাচ্ছ সে ব্যাপারে।" [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৫৬] আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ وَلَتُسْئَلُنَّ عَمَّا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ﴾ [النحل :৯৩] "তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৯৩] কিন্তু সূরা আর-রহমানের একটি আয়াত পাওয়া যায়, যাতে কিয়ামতের দিন মানব ও দানবকে প্রশ্ন করার বিষয়টি না করা হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُسْئَلُ عَن ذَنْبِهِ إِنسٌ وَلَا جَانٌّ ﴾ [الرحمن :৩৯] "সেদিন তার অপরাধ সম্পর্কে কোন মানব ও দানবকে জিজ্ঞাসা করা হবে না।” [সূরা আর রহমান, আয়াত: ৩৯] তাহলে উভয় আয়াতের
বিরোধ কীভাবে নিরসন করা হবে, যেখানে একটি আয়াত হিসাব প্রমাণ করে অপরটি না করে?
উত্তর: হে প্রশ্নকারী ভাই! মনে রাখুন, কিয়ামতের দিন অত্যন্ত ভয়াবহ। ঐ দিনের অবস্থা অত্যন্ত করুন। সেদিনগুলো অনেক দীর্ঘ। এক একটি দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। যেমন, আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে বলেন, تَعْرُجُ الْمَلْئِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ فَأَصْبِرْ صَبْرًا جَمِيلًا إِنَّهُمْ يَرَوْنَهُ بَعِيدًا وَنَرَتَهُ قَرِيبًا ﴾ [المعارج: ٤، ٧]
এক দিনে আল্লাহর পানে ঊর্ধ্বগামী হয়, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। অতএব তুমি উত্তমরূপে ধৈর্যধারণ কর। তারা তো এটিকে সুদূরপরাহত মনে করে। আর আমি দেখছি তা আসন্ন।” [সূরা আল-মা'আরেজ, আয়াত: ৪, ৭]
সুতরাং, ঐ দিনের অবস্থা এত ভয়াবহ হবে যে, কখনো সময় জিজ্ঞাসা করা হবে আবার কখনো সময় জিজ্ঞাসা করা হবে না। কখনো সময় তাদের তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَوَرَبِّكَ لَنَسْتَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴾ [الحجر: ٩২, ৯৩]
কসম, আমি তাদের সকলকে অবশ্যই জেরা করব, তারা যা করত, সে সম্পর্কে।” [সূরা আন-হিজর, আয়াত: ৯২, ৯৩] তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে এবং বদলা দেয়া এবং তাদের আমলনামা তাদের সামনে তুলে ধরা হবে। আবার অনেক সময় দেখা যাবে, সু-দীর্ঘ সময় তাদের কোন কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে না। অনুরূপভাবে কুরআনে কাফেরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ثُمَّ لَمْ تَكُن فِتْنَتُهُمْ إِلَّا أَن قَالُوا وَاللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ ﴾ [الانعام: ২৩]
"অতঃপর তাদের পরীক্ষার জবাব শুধু এ হবে যে, তারপর তারা বলবে, 'আমাদের রব আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না।” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৫৬] অপর আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا يَكْتُمُونَ اللهَ حَدِيثًا ﴾ [النساء : ٤٢] "আর তারা আল্লাহর কাছে কোন কথা গোপন করতে পারবে না।" এ ধরনের আরো আয়াত রয়েছে। মোট কথা, কিয়ামতের সময় অনেক দীর্ঘ অবস্থা খুবই করুন ও ভয়াবহ। সেদিন আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পৃক্ততা বড়ই মহান। তারা সেদিন কখনো স্বীকার করবে আবার কখনো অস্বীকার করবে। সুতরাং, সতর্কতা সাথে মন্তব্য করবে এসব কোন বিষয়ে তুমি সন্দেহ করবে না। সবই হক ও সত্য। আল্লাহই সাহায্যকারী এবং তিনিই ভালো জানেন।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
📄 কারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে, তাদের আলোচনা
আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَنَّهَا وَاخَرَ ﴾ [الفرقان: ٦৮] "যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না।"
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা বাণী: ﴿وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَنَّهَا وَاخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا ﴾ [الفرقان: ৬৮, ৬৯] "আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে নাফসকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না। আর যারা ব্যভিচার করে না। আর যে তা করবে সে আযাবপ্রাপ্ত হবে। কিয়ামতের দিন তার আযাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে।" [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৮, ৬৯] এর অর্থ কি? উল্লিখিত তিনটি কবীরা গুনাহকারী জাহান্নামে চিরকাল থাকবে? নাকি যে কোন একটি কবীরাহ গুনাহকারী? আয়াতের উদ্দেশ্য কি?
উত্তর: এ মহান আয়াতে শির্ক, হত্যা ও ব্যভিচার থেকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধী আল্লাহর বাণী: وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامَّ “আর যে তা করবে সে আযাবপ্রাপ্ত হবে।” দ্বারা হুমকী প্রাপ্ত। কেউ কেউ বলেন, জাহান্নামের একটি উপত্যকা। কেউ কেউ বলেন, এ দ্বারা উদ্দেশ্য মহা অন্যায় যা كَيَامَةِ يُضَاعَفُ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا “কিয়ামতের দিন তার আযাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে।" দ্বারা ব্যাখ্যা করেন। যে ব্যক্তি এ তিন শ্রেণির অপরাধ বা যে কোন একটি করবে তার জন্য শাস্তিকে দ্বিগুণ করা হবে এবং শাস্তির মধ্যে সর্বদা থাকবে। উল্লিখিত অপরাধগুলো বিভিন্ন স্তরের-
শির্কের গুনাহ সবচেয়ে বড় গুণাহ এবং মহা অন্যায়। শির্কের অপরাধে অপরাধী জাহান্নামে চিরদিন থাকবে কখনোই তা থেকে বের হবে না। যেমন, আল্লাহ তা'আলা সূরা তাওবাতে বলেন, مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَنْ يَعْمُرُوا مَسَاجِدَ اللهِ شَاهِدِينَ عَلَى أَنفُسِهِم بِالْكُفْرِ أُوْلَبِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ * “মুশরিকদের অধিকার নেই যে, তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, নিজদের উপর কুফরীর সাক্ষ্য দেয়া অবস্থায়। এদেরই আমলসমূহ বরবাদ হয়েছে এবং আগুনেই তারা স্থায়ী হবে।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১৭] আল্লাহ আরও বলেন, (وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُم مَّا كَانُواْ يَعْمَلُونَ ﴾ [الانعام: 88] “আর যদি তারা শির্ক করত, তবে তারা যা আমল করছিল তা অবশ্যই বরবাদ হয়ে যেত।" [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৮৮] আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ ﴿وَإِلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴾ [الزمر: ٦٤] “আর অবশ্যই তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তুমি শির্ক করলে তোমার কর্ম নিষ্ফল হবেই। আর অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৫] আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ يُرِيدُونَ أَن يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ ﴾ [المائدة: ٣৭] “তারা চাইবে আগুন থেকে বের হতে, কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হবার নয় এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৩৭] এ বিষয়ে আরো বহু আয়াত রয়েছে।
মুশরিক যখনই তাওবা ছাড়া মারা যাবে উম্মতে মুসলিমার ঐক্যমতে সে চির জাহান্নামী হবে এবং তার ওপর জান্নাত ও ক্ষমা হারাম।
﴿إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَلَهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ ﴾ [المائدة: ٧٢] "নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।" [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৭২] আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاءُ ﴾ [النساء: ٤٨] “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যার জন্য তিনি চান।" ক্ষমাকে মুশরিকের ওপর হারাম করে দিয়েছেন। [সূরা আন নিসা, আয়াত: ৭২] শির্ক ছাড়া অন্য গুনাহ আল্লাহর ইচ্ছার আওতাধীন।
একজন মানুষের কাছে তাওহীদের দাও'আত পৌঁছার পরও যখন সে শির্কের ওপর মারা যায় তখন সে অবশ্যই জাহান্নামী হবে। যে ধরনের শির্কের কারণে একজন মানুষ চির জাহান্নামী হবে তা হলো:-
-মৃত ব্যক্তি নবী-রাসূল, পীর-আওলীয়াদের কাছে কোন কিছু চাওয়া। ফিরিশতা জীন পাথর মূর্তি চন্দ্র সূর্য ও নক্ষত্র ইত্যাদি সৃষ্টির কাছে চাওয়া। যেমন, কেউ কেউ বলল, হে সর্দার আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। আমি তোমার নিরাপত্তায়— আমাকে সাহায্য কর, আমার রোগ ভালো করে দাও এবং সাহায্য কর ইত্যাদি।
-তাদের জন্য জবেহ্ ও মান্নত ইত্যাদি ইবাদত করা যা কেবল আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য। আল্লাহ ছাড়া তার কোন মাখলুকের জন্য এ ধরনের ইবাদত সমর্পণ করা বৈধ নয়। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ﴾ [الاسراء: ٢٣] "আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবে না।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৩]
﴿وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ ﴾ [البينة: ٥] আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর 'ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়; আর এটিই হল সঠিক দীন।” [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫]
﴿وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا ﴾ [الجن: ۱۸] আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আর নিশ্চয় মসজিদগুলো আল্লাহরই জন্য। কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।” [সূরা আল-জীন, আয়াত: ১৮]
﴿إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ﴾ [الفاتحة: ٥] সূরা ফাতিহায় আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আপনারই আমরা ইবাদাত করি এবং আপনারই নিকট আমরা সাহায্য চাই।" [সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত: ৫] এ বিষয়ে আরো অনেক আয়াত রয়েছে।
দ্বিতীয় অপরাধ হত্যা করা আর তৃতীয় অপরাধ ব্যভিচার করা। এ দু'টি অন্যায় শির্কের তুলনায় ছোট অপরাধ যদি অন্যায়কারী হালাল মনে না করে এবং সে জানে যে, উভয়টি অবশ্যই নিষিদ্ধ। কিন্তু শয়তানের প্রবঞ্চনায় দুশমনি বা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে অথবা অন্য কোন কারণে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ করে ফেলল বা শয়তানের ধোঁকায় ব্যভিচার করে বসল অথচ সে এ কথা বিশ্বাস করে যে, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা বা ব্যভিচার করা হারাম তখন এ দু'টি অপরাধের কারণে সাময়িকভাবে সে জাহান্নামে যাবে। তবে তাতে চিরকাল থাকবে না। তবে যদি কোন নেক আমল, মৃত্যুর পূর্বে খাটি তাওবা করা, সুপারিশ-কারীর সুপারিশের বা মুসলিমদের দো'য়া ইত্যাদি যে সব কারণগুলোকে আল্লাহ তা'আলা গুনাহ মাপের কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন, সে কারণে ক্ষমা করে দেন, তাহলে তার বিষয়টি ভিন্ন।
কখনো সময় আল্লাহ তা'আলা হিকমত ও প্রজ্ঞার কারণে তাকে কিছু সময় শাস্তি দেবেন। এ ধরনে বাস্তবতা অনেকের ক্ষেত্রেই সংঘটিত হবে। তাদেরকে তাদের গুনাহের ওপর শাস্তি দেয়া হবে তারপর তাদের আল্লাহর রহমত বা সুপারিশকারীর সুপারিশ, বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ সুপারিশ, বা ফিরিশতা বা নবজাতকের সুপারিশ, বা মু'মিনদের সুপারিশ দ্বারা তাদের জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য যে শাস্তি লিপিবদ্ধ করেছেন তা ভোগ করার পর উল্লিখিতদের সুপারিশের কারণে তাদের জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তারপরও জাহান্নামী কতক ঈমানদার থেকে যাবে উল্লিখিতদের সুপারিশ তাদের অর্ন্তভুক্ত করেনি। তখন তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রহমত দ্বারা কারো সুপারিশ ছাড়া বের করে নিয়ে আসবেন। কারণ, তারা তাওহীদ ও ঈমানের ওপর মারা গেছে কিন্তু তাদের বদ-আমল ও গুনাহ তাদের জাহান্নামে প্রবেশে বাধ্য করেছে। যখন তারা তা থেকে পবিত্র হবে জাহান্নামে থাকার নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাবে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রহমত দ্বারা তাদের জাহান্নাম থেকে বের করবেন। তাদেরকে হায়াতের নদীতে নিক্ষেপ করা হবে। তখন তা থেকে তারা এমনভাবে উঠবে যেমন বন্যায় ভাসমান কাঁদা থেকে অংকুর জন্মায়। তারপর যখন তারা পরিপূর্ণ মাখলুক হবে তখন তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণিত একাধিক মুতাওয়াতির হাদীস রয়েছে।
এ দ্বারা এ কথা স্পষ্ট হয় যে, হত্যা ও ব্যভিচারের অপরাধে কোন অপরাধী কাফের মুশরিকদের মতো জাহান্নামের চিরদিন থাকবে না। তবে তারা বিশেষ জাহান্নামী হবে যার শেষ রয়েছে। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন, يُضَعَف لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيمَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا ﴾ [ الفرقان: ٦٩ ] "কিয়ামতের দিন তার আযাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে।"
এখানে চিরদিনের কথা বলা হয়েছে তা হলো সাময়িক মুশরিকদের মতো চিরদিন থাকা নয়। অনুরূপভাবে আত্মহত্যাকারী সম্পর্কে যে হুমকি এসেছে, তার বিধানও একই। আল্লাহর তা'আলার নিকট এ থেকে পরিত্রাণ কামনা করি। আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
📄 জান্নাতীরা কখনো জান্নাত থেকে বের হবে কিনা?
আল্লাহ তা'আলার বাণী: فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُواْ فَفِي النَّارِ “অতঃপর যারা হয়েছে দুর্ভাগা, তারা থাকবে আগুনে।"
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলার বাণী: فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُواْ فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ إِنَّ رَبَّكَ فَعَالٌ لِمَا يُرِيدُ * وَأَمَّا الَّذِينَ سُعِدُوا فَفِي الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ عَطَاءً غَيْرَ تَجْدُودٍ ﴾ [হুদঃ ১০৬-১০৮] “অতঃপর যারা হয়েছে দুর্ভাগা, তারা থাকবে আগুনে। সেখানে থাকবে তাদের চীৎকার ও আর্তনাদ। সেখানে তারা স্থায়ী²³ হবে, যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও জমিন থাকবে, অবশ্য তোমার রব যা চান।²⁴ নিশ্চয় তোমার রব তা-ই করে যা তিনি ইচ্ছা করেন। আর যারা ভাগ্যবান হয়েছে, তারা জান্নাতে থাকবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও জমিন থাকবে, অবশ্য তোমার রব যা চান,²⁵ অব্যাহত প্রতিদানস্বরূপ।” [সূরা আল-হুদ, আয়াত: ১০৬, ১০৮] এর ব্যাখ্যা কি? এ আয়াত থেকে কি এ কথা বুঝা যায় যে, যখন কোন মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে আল্লাহ চাইলে সে জান্নাত থেকে বের হবে? নাকি কুরআনের অন্য আয়াত দ্বারা আয়াত দু'টি রহিত? কারণ, আয়াত দু'টি মক্কায় অবতীর্ণ।
উত্তর: আয়াত দু'টি রহিত নয় বরং আয়াত দু'টি মুহকাম—স্পষ্ট। তবে আল্লাহ তা'আলার বাণী—﴿إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ "অবশ্য তোমার রব যা চান"-এর অর্থ কি? এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। যদিও তারা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, জান্নাতের নি'আমত স্থায়ী তা কখনো বন্ধ ও শেষ হবে না এবং জান্নাতীরা জান্নাত থেকে কখনো বের হবে না। জান্নাত থেকে বের হওয়া বিষয়ে কতক মানুষের ধারণাকে দূরীভূত করার জন্য আল্লাহ বলেন, عَطَاء ﴾غَيْرَ تَجْدُونِ "অব্যাহত প্রতিদানস্বরূপ।” তার জান্নাতে চিরস্থায়ী হবেন—কখনোই বের হবেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّتٍ وَعُيُونٍ اَدْخُلُوهَا إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونِ ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ أَمِنِينَ ﴾ [الحجر: ٤৫, ৪৬] “নিশ্চয় মুত্তাক্বীগণ থাকবে জান্নাত ও ঝর্ণাধারাসমূহে। ‘তোমরা তাতে প্রবেশ কর শান্তিতে, নিরাপদ হয়ে।" [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৪৬, ৪৫] অর্থাৎ মৃত্যু থেকে নিরাপদ, জান্নাত থেকে বের হওয়ার বিষয়ে নিরাপদ এবং অসুস্থতা থেকে নিরাপদ। এ কারণেই আল্লাহ তা'আলা এর পর বলেন,
﴿وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٌ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَبِلِينَ ﴾ ﴿ لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ ﴾ [الحجر: ৪৭, ৪৮] “আর আমি তাদের অন্তর থেকে হিংসা বিদ্বেষ বের করে ফেলব, তারা সেখানে ভাই ভাই হয়ে আসনে মুখোমুখি বসবে। সেখানে তাদেরকে ক্লান্তি স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃতও হবে না। তারা তাতে চিরস্থায়ী, তারা বের হবেন না এবং তাতে তারা মৃত্যু বরণ করবে না।” [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৪৭, ৪৮] আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ يَلْبَسُونَ مِنْ سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَقَابِلِينَ كَذَلِكَ وَزَوَّجْنَهُم بِحُورٍ عِينٍ يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آمِنِينَ لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَى وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ فَضْلًا مِنْ رَبِّكَ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴾ [الدخان: ৫১, ৫৭] “নিশ্চয় মুত্তাক্বীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগ-বাগিচা ও ঝর্নাধারার মধ্যে, তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং বসবে মুখোমুখী হয়ে। এরূপই ঘটবে, আর আমি তাদেরকে বিয়ে দেব ডাগর নয়না হুরদের সাথে। সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে সকল প্রকারের ফলমূল আনতে বলবে। তোমার রবের অনুগ্রহস্বরূপ, এটাই তো মহা সাফল্য।” [সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ৫১, ৫৭] প্রথম মৃত্যুর পর সেখানে তারা আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। আয়াতে আল্লাহ তা'আলা জানিয়ে দেন যে, জান্নাতীরা নিরাপদ স্থানে থাকবে- তাদের কোন বিপদের সম্মুখীন হতে হবে না, তাদের ক্ষয় হবে না। না এবং তারা পরিপূর্ণ নিরাপদ। তাদের মৃত্যু বরণ করা, রোগী হওয়া এবং জান্নাত থেকে বের হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই। তারা কখনোই মৃত্যু বরণ করবে না।
আল্লাহর বাণী: ﴾إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ "অবশ্য তোমার রব যা চান” এর ব্যাখ্যায় কোন কোন আলেম বলেন, এ আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য জান্নাত নয় এ আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য কবরের অবস্থান। কবর যদিও জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান কিন্তু তা পুরোপুরি জান্নাত নয় জান্নাতের অংশ। মু'মিন ব্যক্তি যখন কবরে অবস্থান করবে তখন তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে। জান্নাতের সু-বাতাস, সু-ঘ্রাণ ও নি'আমতসমূহে তার কবরে আসতে থাকবে। তারপর তাকে সাত আসমানের উপরে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ আসল জান্নাতে স্থানান্তর করা হবে।
কেউ কেউ বলেন এ ﴾إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ "অবশ্য তোমার রব যা চান” আয়াতটির দ্বারা কবর থেকে পুনরুত্থানের পর কিয়ামতের মাঠে হিসাব ও বিচারের জন্য অবস্থানের সময়কে বুঝানো হয়েছে। কারণ, তারপর মানুষকে জান্নাতে স্থানান্তর করানো হবে।
আবার কেউ কেউ বলেন, সামগ্রিকভাবে তাদের কবরের অবস্থান, হাশরের মাঠের অবস্থান এবং পুলসিরাতের উপর দিয়ে তাদের অতিক্রম করার সময় স্থায়ী নয় এবং তারা এ সময়টিতে জান্নাতে নয়। তবে তাদেরকে এ থেকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে।
এ থেকে এ কথা স্পষ্ট হয় যে, এখান অবস্থান দ্বারা উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তাতে কোন সন্দেহ, সংশয় ও অবকাশ নেই। জান্নাতীরা জান্নাতে চিরকাল থাকবে তাতে তাদের কোন মৃত্যু হবে না, অসুস্থ হবে না, বের হবে না, মহিলাদের হায়েয- নিফাস হবে না, দুশ্চিন্তা থাকবে না। তারা স্থায়ী ও উত্তম নে'আমতসমূহে অবস্থান করবে। অনুরূপভাবে জাহান্নামীরা জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করবে তা থেকে তারা কখনোই বের হবে না। যেমন, আল্লাহ তা'আলা তাদের বিষয়ে বলেন, وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُم مِّنْ . ﴿﴾ ]عَذَابِهَا كَذَلِكَ نَجْزِي كُلَّ كَفُورٍ ﴿ ﴾ [فاطر: ٣৬ "আর যারা কুফরী করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের প্রতি এমন কোন ফয়সালা দেয়া হবে না যে, তারা মারা যাবে, এবং তাদের থেকে জাহান্নামের আযাবও লাঘব করা হবে না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ৩৬] এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলার বাণী একাধিক।
তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴾إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ "অবশ্য তোমার রব যা চান" এর অর্থ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ হলো যখন তারা কবরে অবস্থান করবে আবার কেউ কেউ বলেন, হাশরের মাঠ। তারপর তাদের জাহান্নামের দিকে টেনে নেয়া হবে এবং তাতে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। যেমন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা সূরা বাকারায় বলেন, ذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ ﴾ [البقرة: ১৬৭] তাদেরকে তাদের আমলসমূহ দেখাবেন, তাদের জন্য আক্ষেপস্বরূপ। আর তারা আগুন থেকে বের হতে পারবে না" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৬৭] এবং يُرِيدُونَ أَن يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ ]۳۷ :عَذَابٌ مُّقِيمٌ ﴾ [المائدة "তারা চাইবে আগুন থেকে বের হতে, কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হবার নয় এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৩৭] এ বিষয়ে আরো বহু আয়াত রয়েছে। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
²³ 'যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও জমিন থাকবে'- এ কথা দ্বারা আরবী ভাষায় চিরস্থায়ীত্বের উদাহরণ দেয়া হয়ে থাকে।
²⁴ অর্থাৎ শাস্তিভোগ শেষে জাহান্নাম থেকে যে গুনাহগার মুমিনদেরকে তিনি বের করে জান্নাতে নিতে চান তাদের বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।
²⁵ অর্থাৎ আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দিতে পারেন। তবে তিনি তা করবেন না। কেননা তিনি নিজেই তাদের স্থায়ীত্বের ঘোষণা দিয়েছেন।