📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আপত্তির জবাব

📄 ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আপত্তির জবাব


আল্লাহ তা'আলার বাণী : فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا ফলে আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম।”
প্রশ্ন: যারা এ আয়াত فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا “ফলে আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম।” দ্বারা দলীল পেশ করে বলে ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর ছেলে-অথচ আল্লাহ তা'আলা এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে-তাদের কীভাবে উত্তর দেওয়া হবে?
উত্তর: আয়াতটি সূরা আত-তাহরীমের ১২ নং আয়াত। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرَانَ الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا ﴾ [التحريم: ١٢] "ইমরান কন্যা মারয়াম-এর, যে নিজের সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম।” [সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ২৬] সূরা আম্বিয়া ৯১ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَالَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا ]فَنَفَخْنَا فِيهَا مِن رُّوحِنَا ﴾ [الانبياء: ٩١ "আর যে নিজের সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম।" [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৯১] উল্লিখিত আয়াতে এ কথা স্পষ্ট যে, মারইয়ামকে ফুঁ দেওয়া হয় এবং ফুঁটি তার লজ্জা-স্থান পর্যন্ত পৌঁছে এবং সে ঈসা দ্বারা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। আল্লাহ তা'আলা সূরা মারইয়ামে বলেন, فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا ]۱۷ :مريم[ ﴾ "তখন আমি তার নিকট আমার রূহ (জিবরীল) কে প্রেরণ করলাম। অতঃপর সে তার সামনে পূর্ণ মানবের রূপ ধারণ করল।” [সূরা মারিয়াম, আয়াত: ১৭] তিনি হলেন ফিরিশতা যার সম্পর্কে তিনি বলেন, قَالَ ]١٩ : مريم ﴾ ﴿إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَمًا زَكِيًّا "সে বলল, 'আমি তো কেবল তোমার রবের বার্তাবাহক, তোমাকে একজন পবিত্র পুত্রসন্তান দান করার জন্য এসেছি।" তাফসীরে বর্ণিত আছে ফিরিশতা তার জামার আস্তিনে ফুঁ দেয় এবং ফুঁটি তার লজ্জা-স্থান পর্যন্ত পৌঁছে। তারপর সে ঈসা আলাইহিস সালাম দ্বারা গর্ভ ধারণ করে।
রুহ দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহ তা'লার সৃষ্ট রূহসমূহ যার দ্বারা মানুষের হায়াত লাভ হয়। যেমন হায়াত লাভ হয়েছিল আদম আলাইহিস সালামের। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ ﴾ [الحجر: ٢٩] 'অতএব যখন আমি তাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেব এবং তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার জন্য সিজদাবনত হও'। [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ২৯]
আদম আলাইহিস সালামের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা রূহকে ডেলে দেন। অনুরূপভাবে ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর সৃষ্ট রুহ দ্বারা সৃষ্টি করেন। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلَائِكَةُ صَفًّا ﴾ [النبأ: ٣٨] “সেদিন রূহ ও ফিরিশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে।” [সূরা আন-নাবা, আয়াত: ২৯] সুতরাং ঈসা আলাইহিস সালাম এই ফুঁ এর মাধ্যমে সৃষ্টি যে ফুঁটি হলো আল্লাহর রূহসমূহের একটি রূহ যাকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং যদ্বারা তিনি দুনিয়ার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আর সর্ব প্রথম মানুষ হলো, আদম আলাইহিস সালাম যার সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন, ثُمَّ سَوَّلَهُ وَنَفَخَ فِيهِ مِن رُّوحِهِ، وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَرَ وَالْأَفْئِدَةً قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ ﴾ [السجدة : [৭ "তারপর তিনি তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাতে নিজের রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন। তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ৯]
এ কথা দ্বারা বুঝা যায় যে, এ ধরনের রূহের কারণে ঈসা আলাইহিস সালামের বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য নেই। বরং তিনিও অন্যান্য মাখলুকের মতো রক্তে মাংসে ঘটিত একজন মাখলুক। দুনিয়ার জীবনে সে নড়-চড় করে, কথা বলে এবং খাওয়া দাওয়া করে ইত্যাদি।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.,

টিকাঃ
22 জিবরীল (আঃ)।

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 জমিনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করা সম্পর্কে আলোচনা

📄 জমিনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করা সম্পর্কে আলোচনা


আল্লাহ তা'আলা বাণী: ]إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ﴾ [البقرة: ٣٠ "নিশ্চয় আমি জমিনে একজন খলীফা সৃষ্টি করছি।" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৩০]
প্রশ্ন: প্রশ্নকারী বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلْبِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنَِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴾ [البقرة: ٣٠ "আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন, 'নিশ্চয় আমি জমিনে একজন খলীফা সৃষ্টি করছি', তারা বলল, 'আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে তাতে ফাসাদ করবে এবং রক্ত প্রবাহিত করবে? আর আমরা তো আপনার প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করছি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি জানি যা তোমরা জান না।” [সূরা বাকারাহ, আয়াত: ৩০] এ আয়াতের অর্থ এটা কি আল্লাহ তা'আলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পূর্বে মানব সৃষ্টি করেছেন? অন্যথায় মানুষ জমিনে খুন-খারাবী করবে এবং ফিতনা-ফ্যাসাদ করবে এ কথা ফিরিশতারা কীভাবে জানল? জমিনে খলীফা (প্রতিনিধি) সৃষ্টি করা দ্বারা আল্লাহ তা'লা উদ্দেশ্য কি? তারা কার প্রতিনিধি?
উত্তর: আয়াত দ্বার প্রতীয়মান যে, মানব অর্থাৎ আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা জমিনে তার পূর্বে কোন ফ্যাসাদ কারী বা অন্যায়কারীর খলীফা বা প্রতিনিধি বানিয়েছেন। ফিরিশতাদের কথা দ্বারা প্রমাণ হয়, যে জমিনে এমন এক সম্প্রদায় ছিল যারা ফিতনা ফ্যাসাদ করেছিল। ফলে তারা জমিনে যা সংঘটিত হয়েছিল তাই তুলে ধরছিল। অথবা যে কোন উপায়ে তারা বিষয়টি অবগত হয়েছিল। তাই তারা যা বলার বলছিল। আল্লাহ তা'আলা তাদের জানিয়ে দেন যে, ফিরিশতারা যা জানে না আল্লাহ তা'আলা তা জানেন- এই প্রতিনিধিরা আল্লাহর শরী'আত ও আল্লাহর দীন অনুযায়ী জমিনে বিচার-ফায়সালা করবেন, তাওহীদের প্রতি মানুষকে দাও'আত দেবেন, দীনকে কেবল আল্লাহর জন্যই পালন করবেন এবং তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবেন।
অনুরূপভাবে তাদের সন্তানদের মাঝে নবী ও রাসূল হবেন। নেককার লোক, আলেম-উলামা, মুখলিস বান্দাগণ ইত্যাদির আবির্ভাব হবেন যারা কেবল আল্লাহর ইবাদত করবে, তার শরী'আত অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করবে, তিনি যা করতে বলেছেন তা করবেন এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকবেন।
নবী, রাসূল, আলেম-উলামা ও মুখলিস বান্দাদের মধ্যে দুনিয়ার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এমনই ধারাবাহিকতা সংঘটিত হয়ে আসছে। আল্লাহর নির্দেশ তাদের নিকট প্রাধান্য পেয়েছে। পরবর্তীতে ফিরিশতারা এ মহান সংবাদ জানতে পেরেছে। আদম আলাইহিস সালামের পূর্বের মাখলুক সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছেন তারা এক শ্রেণির মানুষ এবং প্রতিনিধি যাদের জ্বীন বলা হয়ে থাকে।
মোট কথা, আদম আলাইহিস সালাম আল্লাহর জমিনে তার পূর্বে অতিবাহিত কোন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি যাদের বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। আদম আলাইহিস সালামের পূর্বে কারা ছিল তাদের গুনাগুণ ও বৈশিষ্ট্য বিষয় অকাট্য কোন প্রমাণ নেই। শুধু এ টুকু বলা যায় যে, আদম আলাইহিস সালামকে তার পূর্বে অতিবাহিত কোন এক সম্প্রদায়ে খলীফা বা প্রতিনিধি করা হয়েছে। ফলে তিনি হককে বিজয়ী করা, আল্লাহর বিধানকে তুলে ধরা, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উপায়গুলো বর্ণনা করার এবং মন্দ ও ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে মানুষকে বিরত রাখায় তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তারপর তার সন্তানদের থেকে যে সব নবী রাসূল, সালেক, নেককার জমিনে আগমন করবে তারাও এ মহান গুরু দায়িত্ব পালন করবেন। তারাও মানুষকে হকের দাও'আত দেবেন, সত্যকে স্পষ্ট করবেন এবং মানুষকে আল্লাহর দীনের প্রতি পথ দেখাবেন। তারাও আল্লাহর বিধান, একত্ববাদ এবং তার শরী'আতকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জমিনকে আবাদ করবেন। আর যারা আল্লাহর দীনের বিরোধিতা করবে তাদের প্রতিহত করবেন। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ,

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে মুসলিমদের আকীদা সম্পর্কীয় আয়াত

📄 ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে মুসলিমদের আকীদা সম্পর্কীয় আয়াত


আল্লাহর বাণী: إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ : “মারইয়ামের পুত্র মাসীহ
ঈসা কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল" [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৭১]
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে বলেন, إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ وَ أَلْقَنهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ فَتَامِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ، وَلَا تَقُولُوا ثَلَثَةٌ أَنتَهُوا خَيْرًا لَّكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهُ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ وَ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا ﴾ [النساء : ١٧١] “মারইয়ামের পুত্র মসীহ ঈসা
কেবলমাত্র আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কালিমা, যা তিনি প্রেরণ করেছিলেন মারইয়ামের প্রতি এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ। সুতরাং, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আন এবং বলো না, 'তিন'। তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য উত্তম। আল্লাহই কেবল এক ইলাহ, তিনি পবিত্র মহান এ থেকে যে, তাঁর কোন সন্তান হবে। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যা রয়েছে জমিনে, তা আল্লাহরই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৭১] কতক খৃষ্টান বলে আমরা যে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করি এ আয়াতটি তার সমর্থন করে। অর্থাৎ ঈসা আলাইহিস সালাম তিন জনের (পিতা, পুত্র, পবিত্র আত্মা) একজন। -আল্লাহ তা'আলা এ অপবাদ থেকে তোমাদের হিফাযত করুন- এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর কি?।
উত্তর: এ দাবি সম্পূর্ণ বাতিল। আয়াতটি তাদের দাবি সমর্থন করে না এবং বাহ্যিক অর্থের মধ্যে তাদের দাবির প্রতি কোন ইঙ্গিতও পাওয়া যায় না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা আয়াতে প্রথমে নাম নিয়েছেন তারপর তার নাম বদল হিসেবে তার আসল নাম অর্থাৎ ঈসা উল্লেখ করেছেন। তারপর তাকে তার মায়ের দিকে সম্বোধন করা হয়েছে যেমনি-ভাবে সন্তানকে তার পিতার দিক সম্বোধন করা হয়ে থাকে। তারপর তাকে রাসূল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বনী ইসলাঈলদের নিকট প্রেরিত। তারপর তারপর ওপর আতফ করে বলা হয়েছে যে, তিনি আল্লাহর কালিমা। অর্থাৎ আদম আলাইহিস সালামকে যেভাবে মাতা-পিতা ছাড়া সৃষ্টি করা হয়েছে তাকেও পিতা ছাড়া কালিমায়ে “কুন” দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। তারপর তাকে আল্লাহ তা'আলা সৃষ্ট রুহসমূহের একটি রুহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সুতরাং, আয়াতে ঈসা আলাইহিস সালামের তিনটি নাম ও তিনটি সিফাত রয়েছে। ঈসা ইবন মারইয়াম বলে নাম রাখা দ্বারা তাকে আল্লাহর ছেলে বলা বাতিল গণ্য হলো। কারণ, তাকে তার মায়ের দিক সম্বোধন করা হয়েছে। তারপর বলা হয়েছে তিনি অন্যান্য রাসূলদের মতো একজন রাসূল, যারা শরী'আতের দায়িত্ব বহন করেছেন এবং আল্লাহর দিকে মানুষকে দাও'আত দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেছেন। তারপর বলা হয়েছে তিনি আল্লাহ কালিমা যে কালিমা নিয়ে আল্লাহ ফিরিশতাকে পাঠিয়েছেন। ফিরিশতা তার জামার হাতায় ফুঁ দেয়াতে তা তার লজ্জা-স্থানে পৌঁছে যায় এবং তাতে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তারপর বলা হয়েছে, তিনি তার থেকে রুহ। এখানে আল্লাহর দিকে সম্বোধনটি সম্মানজনক সম্বোধন যেমনটি সম্মানার্থে বলা হয়ে থাকে- আল্লাহর ঘর, আল্লাহর উষ্ঠি। সুতরাং তিনি রুহ যা আল্লাহরই মাখলুক। আর আল্লাহ তা'আলা বাণী: ﴿وَأَيَّدْنَهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ ﴾ [البقرة :٨৭] “আর তাকে শক্তিশালী করেছি ‘পবিত্র আত্মা’র মাধ্যমে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৮৭]-তে পবিত্র আত্মা দ্বারা উদ্দেশ্য জিবরীল আলাইহিস সালাম। তিনি অহীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিরিশতা, যিনি নবীদের ওপর অহী নাযিল করেন। তিনি অন্যান্য ফিরিশতাদের মতোই আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহই ভালো জানেন। শাইখ আব্দুল্লাহ বিন জাবরীন।

টিকাঃ
পবিত্র আত্মা অর্থ জিবরীল (আলাইহিস সালাম)

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা

📄 কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা


প্রশ্ন: একজন প্রশ্ন কারী প্রশ্নে বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, ﴿تَاللَّهِ لَتُسْئَلُنَّ عَمَّا كُنتُمْ تَفْتَرُونَ ﴾ [النحل: ৫৬] “আল্লাহর কসম! তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা যে মিথ্যা রটাচ্ছ সে ব্যাপারে।" [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৫৬] আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ وَلَتُسْئَلُنَّ عَمَّا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ﴾ [النحل :৯৩] "তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৯৩] কিন্তু সূরা আর-রহমানের একটি আয়াত পাওয়া যায়, যাতে কিয়ামতের দিন মানব ও দানবকে প্রশ্ন করার বিষয়টি না করা হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُسْئَلُ عَن ذَنْبِهِ إِنسٌ وَلَا جَانٌّ ﴾ [الرحمن :৩৯] "সেদিন তার অপরাধ সম্পর্কে কোন মানব ও দানবকে জিজ্ঞাসা করা হবে না।” [সূরা আর রহমান, আয়াত: ৩৯] তাহলে উভয় আয়াতের
বিরোধ কীভাবে নিরসন করা হবে, যেখানে একটি আয়াত হিসাব প্রমাণ করে অপরটি না করে?
উত্তর: হে প্রশ্নকারী ভাই! মনে রাখুন, কিয়ামতের দিন অত্যন্ত ভয়াবহ। ঐ দিনের অবস্থা অত্যন্ত করুন। সেদিনগুলো অনেক দীর্ঘ। এক একটি দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। যেমন, আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে বলেন, تَعْرُجُ الْمَلْئِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ فَأَصْبِرْ صَبْرًا جَمِيلًا إِنَّهُمْ يَرَوْنَهُ بَعِيدًا وَنَرَتَهُ قَرِيبًا ﴾ [المعارج: ٤، ٧]
এক দিনে আল্লাহর পানে ঊর্ধ্বগামী হয়, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। অতএব তুমি উত্তমরূপে ধৈর্যধারণ কর। তারা তো এটিকে সুদূরপরাহত মনে করে। আর আমি দেখছি তা আসন্ন।” [সূরা আল-মা'আরেজ, আয়াত: ৪, ৭]
সুতরাং, ঐ দিনের অবস্থা এত ভয়াবহ হবে যে, কখনো সময় জিজ্ঞাসা করা হবে আবার কখনো সময় জিজ্ঞাসা করা হবে না। কখনো সময় তাদের তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَوَرَبِّكَ لَنَسْتَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴾ [الحجر: ٩২, ৯৩]
কসম, আমি তাদের সকলকে অবশ্যই জেরা করব, তারা যা করত, সে সম্পর্কে।” [সূরা আন-হিজর, আয়াত: ৯২, ৯৩] তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে এবং বদলা দেয়া এবং তাদের আমলনামা তাদের সামনে তুলে ধরা হবে। আবার অনেক সময় দেখা যাবে, সু-দীর্ঘ সময় তাদের কোন কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে না। অনুরূপভাবে কুরআনে কাফেরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ثُمَّ لَمْ تَكُن فِتْنَتُهُمْ إِلَّا أَن قَالُوا وَاللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ ﴾ [الانعام: ২৩]
"অতঃপর তাদের পরীক্ষার জবাব শুধু এ হবে যে, তারপর তারা বলবে, 'আমাদের রব আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না।” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৫৬] অপর আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا يَكْتُمُونَ اللهَ حَدِيثًا ﴾ [النساء : ٤٢] "আর তারা আল্লাহর কাছে কোন কথা গোপন করতে পারবে না।" এ ধরনের আরো আয়াত রয়েছে। মোট কথা, কিয়ামতের সময় অনেক দীর্ঘ অবস্থা খুবই করুন ও ভয়াবহ। সেদিন আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পৃক্ততা বড়ই মহান। তারা সেদিন কখনো স্বীকার করবে আবার কখনো অস্বীকার করবে। সুতরাং, সতর্কতা সাথে মন্তব্য করবে এসব কোন বিষয়ে তুমি সন্দেহ করবে না। সবই হক ও সত্য। আল্লাহই সাহায্যকারী এবং তিনিই ভালো জানেন।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00