📄 আল্লাহই মানুষের অন্তর পরিবর্তনকারী
আল্লাহর বাণী: ﴾ وَأَعْلَمُواْ أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ "জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন। আর নিশ্চয় তাঁর নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।"
প্রশ্ন: একজন প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন যে, আল্লাহ তা'আলার এ বাণী: وَاعْلَمُوا أَنَّ﴿ ]اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ ﴾ [الانفال: ২৪ “জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন। আর নিশ্চয় তাঁর নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২৪] এর অর্থ কি?
উত্তর: আয়াতটির বাহ্যিক অর্থ হলো, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের যাবতীয় সবকিছুর পরিচালনা করেন। তিনি কাউকে ভালো কর্মের তাওফীক দেন, কারো অন্তরকে ঈমানের জন্য খুলে দেন এবং কাউকে তিনি ইসলামের দিকে হিদায়াত দেন। আবার কারো অন্তরে আল্লাহর দীনের প্রতি সংকীর্ণতা ও কাঠিণ্যতা ঢেলে দেন যা তার ও ইসলামের মাঝে এবং মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে আবরণ সৃষ্টি করেন। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَمَن يُرِدِ اللَّهُ أَن يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَن يُرِدْ أَن يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَدُ فِي السَّمَاءِ ) ]الانعام: ১২৫[ "সুতরাং যাকে আল্লাহ হিদায়াত করতে চান, ইসলামের জন্য তার বুক উন্মুক্ত করে দেন। আর যাকে ভ্রষ্ট করতে চান, তার বুক সঙ্কীর্ণ-সঙ্কুচিত করে দেন, যেন সে আসমানে আরোহণ করছে।" [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১২৫] এমনিভাবে আল্লাহ অকল্যাণ দেন তাদের উপর, যারা ঈমান আনে না।
সুতরাং, আল্লাহ তা'আলাই তার বান্দাদের মধ্যে যেভাবে চান পরিবর্তন করেন। কারো অন্তরকে তিনি ঈমান ও হিদায়াতের জন্য খুলে দেন আবার কাইকে তিনি তাওফীক দেন না। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয আব্দুল্লাহ বিন বায রহ.,
📄 ইসলামে প্রবেশের স্বাধীনতা বলতে কি বুঝায়?
আল্লাহ তা'আলার বাণী:: ﴿أَفَأَنتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ ﴾ [ইউনুস : 99] “তবে কি তুমি মানুষকে বাধ্য করবে, যাতে তারা মুমিন হয়? আল্লাহ তা'আলা বাণী, ﴿لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ ﴾ [البقرة: ٢৫৬]
প্রশ্ন: অনেক সাথীরা বলে, যে ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করেনি সে স্বাধীন। তাকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না। তারা তাদের পক্ষে আল্লাহর কথা দ্বারা প্রমাণ দেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿أَفَأَنتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ ﴾ [ইউনুস: 99] “তবে কি তুমি মানুষকে বাধ্য করবে, যাতে তারা মুমিন হয়?” [সূরা-ইউনুস, আয়াত: ৯৯] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ ﴾ [البقرة: ২৫৬] | এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?
উত্তর: উলামাগণ বলেন, এ দু'টি আয়াত এবং একই অর্থে আরো যে সব আয়াত রয়েছে এ গুলো ইয়াহুদী, নাসারা ও অগ্নিপূজক যাদের থেকে ট্যাক্স গ্রহণ করা হবে তাদের সম্পর্কে। তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য বাধ্য করা হবে না। তারা ইসলাম গ্রহণ ও ট্যাক্স পরিশোধ করা বিষয়ে স্বাধীন।
আবার কোন কোন আলেম বলেন, এ বিধানটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ছিল। পরবর্তীতে যুদ্ধ ও জিহাদের বিধানের কারণে তা রহিত হয়ে যায়।
সুতরাং যে ইসলামে প্রবেশ করতে অস্বীকার করবে তার সাথে সামর্থ্য অনুযায়ী জিহাদ করা ওয়াজিব। যাতে সে হয় ইসলামে প্রবেশ করবে না হয় ট্যাক্স দেবে— যদি তা প্রযোজ্য হয়।
সুতরাং, কাফেরদের থেকে যদি ট্যাক্স গ্রহণ করার সুযোগ না থাকে তাহলে ইসলামে প্রবেশে বাধ্য করতে হবে। কারণ, ইসলামের প্রবেশ করার মধ্যে তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা, মুক্তি ও যাবতীয় কল্যাণ।
একজন মানুষের জন্য হক বা সত্য গ্রহণ করা যাতে তার হিদায়াত ও কল্যাণ রয়েছে, তা তার জন্য বাতিলের ওপর থাকা থেকে উত্তম। যেমনি ভাবে আদম সন্তানকে সত্য মানতে বাধ্য করা হবে চাই তা বন্দি করে হোক বা শাস্তি দিয়ে হোক। অনুরূপভাবে কাফেরদের আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা এবং ইসলামে প্রবেশে বাধ্য করা হবে। যাতে তার কল্যাণ নিশ্চিত হয়। কারণ, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ইসলাম গ্রহণ করার মধ্যেই নিহিত। তবে আহলে কিতাব— ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও অগ্নিপূজক এ তিনটি সম্প্রদায়ের লোকদের ইসলাম স্বাধীনতা দিয়েছেন। তারা চাইলে ইসলামে প্রবেশ করতে পারবে অন্যথায় তারা অপমান-অপদস্থ হয়ে নিজ হাতে ট্যাক্স প্রদান করবে।
কোন আলেম ট্যাক্স দেওয়া বা ইসলাম গ্রহণ করা উভয়ের যে কোন একটি গ্রহণ করার ব্যাপারে অন্যদেরও তাদের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তবে গ্রহণযোগ্য কথা হলো, অন্যদের তাদের সাথে সম্পৃক্ত করা যাবে না। শুধু এ তিন জাতিকেই স্বাধীনতা দেওয়া হবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাযীরা এলাকায় ট্যাক্স গ্রহণ করেননি। বরং তাদের ইসলামে প্রবেশে বাধ্য করেছেন এবং ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু তিনি গ্রহণ করেননি।
فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَمَاتَوُا الزَّكَوٰةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ “তবে যদি তারা তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে, আর যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল অতিশয় দয়ালু।” [সূরা তাওবাহ, আয়াত: ৫] এখানে এ কথা বলা হয়নি যে, অথবা তোমরা ট্যাক্স আদায় কর। ইয়াহুদী, খৃষ্টান ও অগ্নিপূজকদের ইসলাম গ্রহণ করতে বলা হবে। তবে যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে কর আদায় করবে।
আর যদি তারা কর আদায় করতে অস্বীকার করে তবে মুসলিমদের ওপর ফরয হলো তাদের বিরুদ্ধে সামর্থ্য অনুযায়ী যুদ্ধ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন, قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدِوَهُمْ صَغِرُونَ * “তোমরা লড়াই কর আহলে কিতাবের সে সব লোকের সাথে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান রাখে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না, আর সত্য দীন গ্রহণ করে না, যতক্ষণ না তারা স্বহস্তে নত হয়ে জিযিয়া দেয়।” [সূরা তাওবাহ, আয়াত: ২৯] এ ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে, তিনি মুজুসদের থেকে কর গ্রহণ করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীদের কারো থেকে প্রমাণিত নয় যে, তারা উল্লিখিত তিন সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কারো থেকে কখনো কর গ্রহণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, আল্লাহ তা'আলার বাণী, তিনি বলেন, وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ 20 RPO له ﴾ [البقرة: ١٩٣] “আর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর যে পর্যন্ত না ফিতনা খতম হয়ে যায় এবং দীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।” [সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৯৩] আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَإِذَا أَنسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَأَقْتُلُواْ الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَءَاتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ "অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন তোমরা মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও হত্যা কর এবং তাদেরকে পাকড়াও কর, তাদেরকে অবরোধ কর এবং তাদের জন্য প্রতিটি ঘাঁটিতে বসে থাক। তবে যদি তারা তাওবা করে এবং সালাত কায়েম করে, আর যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৫] এ আয়াতটিকে তরবারির আয়াত বলা হয়। এ আয়াত এবং এ ধরনের আরো যে সব আয়াত রয়েছে তা ঐ সব আয়াতের জন্য রহিতকারী যেগুলোতে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য না করার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ.
📄 ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আপত্তির জবাব
আল্লাহ তা'আলার বাণী : فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا ফলে আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম।”
প্রশ্ন: যারা এ আয়াত فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا “ফলে আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম।” দ্বারা দলীল পেশ করে বলে ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর ছেলে-অথচ আল্লাহ তা'আলা এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে-তাদের কীভাবে উত্তর দেওয়া হবে?
উত্তর: আয়াতটি সূরা আত-তাহরীমের ১২ নং আয়াত। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرَانَ الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا ﴾ [التحريم: ١٢] "ইমরান কন্যা মারয়াম-এর, যে নিজের সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম।” [সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ২৬] সূরা আম্বিয়া ৯১ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَالَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا ]فَنَفَخْنَا فِيهَا مِن رُّوحِنَا ﴾ [الانبياء: ٩١ "আর যে নিজের সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম।" [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৯১] উল্লিখিত আয়াতে এ কথা স্পষ্ট যে, মারইয়ামকে ফুঁ দেওয়া হয় এবং ফুঁটি তার লজ্জা-স্থান পর্যন্ত পৌঁছে এবং সে ঈসা দ্বারা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। আল্লাহ তা'আলা সূরা মারইয়ামে বলেন, فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا ]۱۷ :مريم[ ﴾ "তখন আমি তার নিকট আমার রূহ (জিবরীল) কে প্রেরণ করলাম। অতঃপর সে তার সামনে পূর্ণ মানবের রূপ ধারণ করল।” [সূরা মারিয়াম, আয়াত: ১৭] তিনি হলেন ফিরিশতা যার সম্পর্কে তিনি বলেন, قَالَ ]١٩ : مريم ﴾ ﴿إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَمًا زَكِيًّا "সে বলল, 'আমি তো কেবল তোমার রবের বার্তাবাহক, তোমাকে একজন পবিত্র পুত্রসন্তান দান করার জন্য এসেছি।" তাফসীরে বর্ণিত আছে ফিরিশতা তার জামার আস্তিনে ফুঁ দেয় এবং ফুঁটি তার লজ্জা-স্থান পর্যন্ত পৌঁছে। তারপর সে ঈসা আলাইহিস সালাম দ্বারা গর্ভ ধারণ করে।
রুহ দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহ তা'লার সৃষ্ট রূহসমূহ যার দ্বারা মানুষের হায়াত লাভ হয়। যেমন হায়াত লাভ হয়েছিল আদম আলাইহিস সালামের। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ ﴾ [الحجر: ٢٩] 'অতএব যখন আমি তাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেব এবং তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার জন্য সিজদাবনত হও'। [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ২৯]
আদম আলাইহিস সালামের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা রূহকে ডেলে দেন। অনুরূপভাবে ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর সৃষ্ট রুহ দ্বারা সৃষ্টি করেন। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلَائِكَةُ صَفًّا ﴾ [النبأ: ٣٨] “সেদিন রূহ ও ফিরিশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে।” [সূরা আন-নাবা, আয়াত: ২৯] সুতরাং ঈসা আলাইহিস সালাম এই ফুঁ এর মাধ্যমে সৃষ্টি যে ফুঁটি হলো আল্লাহর রূহসমূহের একটি রূহ যাকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং যদ্বারা তিনি দুনিয়ার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আর সর্ব প্রথম মানুষ হলো, আদম আলাইহিস সালাম যার সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন, ثُمَّ سَوَّلَهُ وَنَفَخَ فِيهِ مِن رُّوحِهِ، وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَرَ وَالْأَفْئِدَةً قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ ﴾ [السجدة : [৭ "তারপর তিনি তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাতে নিজের রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন। তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ৯]
এ কথা দ্বারা বুঝা যায় যে, এ ধরনের রূহের কারণে ঈসা আলাইহিস সালামের বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য নেই। বরং তিনিও অন্যান্য মাখলুকের মতো রক্তে মাংসে ঘটিত একজন মাখলুক। দুনিয়ার জীবনে সে নড়-চড় করে, কথা বলে এবং খাওয়া দাওয়া করে ইত্যাদি।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.,
টিকাঃ
22 জিবরীল (আঃ)।
📄 জমিনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করা সম্পর্কে আলোচনা
আল্লাহ তা'আলা বাণী: ]إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ﴾ [البقرة: ٣٠ "নিশ্চয় আমি জমিনে একজন খলীফা সৃষ্টি করছি।" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৩০]
প্রশ্ন: প্রশ্নকারী বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلْبِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنَِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴾ [البقرة: ٣٠ "আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন, 'নিশ্চয় আমি জমিনে একজন খলীফা সৃষ্টি করছি', তারা বলল, 'আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে তাতে ফাসাদ করবে এবং রক্ত প্রবাহিত করবে? আর আমরা তো আপনার প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করছি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি জানি যা তোমরা জান না।” [সূরা বাকারাহ, আয়াত: ৩০] এ আয়াতের অর্থ এটা কি আল্লাহ তা'আলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পূর্বে মানব সৃষ্টি করেছেন? অন্যথায় মানুষ জমিনে খুন-খারাবী করবে এবং ফিতনা-ফ্যাসাদ করবে এ কথা ফিরিশতারা কীভাবে জানল? জমিনে খলীফা (প্রতিনিধি) সৃষ্টি করা দ্বারা আল্লাহ তা'লা উদ্দেশ্য কি? তারা কার প্রতিনিধি?
উত্তর: আয়াত দ্বার প্রতীয়মান যে, মানব অর্থাৎ আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা'আলা জমিনে তার পূর্বে কোন ফ্যাসাদ কারী বা অন্যায়কারীর খলীফা বা প্রতিনিধি বানিয়েছেন। ফিরিশতাদের কথা দ্বারা প্রমাণ হয়, যে জমিনে এমন এক সম্প্রদায় ছিল যারা ফিতনা ফ্যাসাদ করেছিল। ফলে তারা জমিনে যা সংঘটিত হয়েছিল তাই তুলে ধরছিল। অথবা যে কোন উপায়ে তারা বিষয়টি অবগত হয়েছিল। তাই তারা যা বলার বলছিল। আল্লাহ তা'আলা তাদের জানিয়ে দেন যে, ফিরিশতারা যা জানে না আল্লাহ তা'আলা তা জানেন- এই প্রতিনিধিরা আল্লাহর শরী'আত ও আল্লাহর দীন অনুযায়ী জমিনে বিচার-ফায়সালা করবেন, তাওহীদের প্রতি মানুষকে দাও'আত দেবেন, দীনকে কেবল আল্লাহর জন্যই পালন করবেন এবং তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবেন।
অনুরূপভাবে তাদের সন্তানদের মাঝে নবী ও রাসূল হবেন। নেককার লোক, আলেম-উলামা, মুখলিস বান্দাগণ ইত্যাদির আবির্ভাব হবেন যারা কেবল আল্লাহর ইবাদত করবে, তার শরী'আত অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করবে, তিনি যা করতে বলেছেন তা করবেন এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকবেন।
নবী, রাসূল, আলেম-উলামা ও মুখলিস বান্দাদের মধ্যে দুনিয়ার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এমনই ধারাবাহিকতা সংঘটিত হয়ে আসছে। আল্লাহর নির্দেশ তাদের নিকট প্রাধান্য পেয়েছে। পরবর্তীতে ফিরিশতারা এ মহান সংবাদ জানতে পেরেছে। আদম আলাইহিস সালামের পূর্বের মাখলুক সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছেন তারা এক শ্রেণির মানুষ এবং প্রতিনিধি যাদের জ্বীন বলা হয়ে থাকে।
মোট কথা, আদম আলাইহিস সালাম আল্লাহর জমিনে তার পূর্বে অতিবাহিত কোন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি যাদের বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। আদম আলাইহিস সালামের পূর্বে কারা ছিল তাদের গুনাগুণ ও বৈশিষ্ট্য বিষয় অকাট্য কোন প্রমাণ নেই। শুধু এ টুকু বলা যায় যে, আদম আলাইহিস সালামকে তার পূর্বে অতিবাহিত কোন এক সম্প্রদায়ে খলীফা বা প্রতিনিধি করা হয়েছে। ফলে তিনি হককে বিজয়ী করা, আল্লাহর বিধানকে তুলে ধরা, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উপায়গুলো বর্ণনা করার এবং মন্দ ও ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে মানুষকে বিরত রাখায় তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তারপর তার সন্তানদের থেকে যে সব নবী রাসূল, সালেক, নেককার জমিনে আগমন করবে তারাও এ মহান গুরু দায়িত্ব পালন করবেন। তারাও মানুষকে হকের দাও'আত দেবেন, সত্যকে স্পষ্ট করবেন এবং মানুষকে আল্লাহর দীনের প্রতি পথ দেখাবেন। তারাও আল্লাহর বিধান, একত্ববাদ এবং তার শরী'আতকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জমিনকে আবাদ করবেন। আর যারা আল্লাহর দীনের বিরোধিতা করবে তাদের প্রতিহত করবেন। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ,