📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা-পিতা জান্নাতে যাবে নাকি জাহান্নামে যাবে? এ বিষয়ে আলোচনা
আল্লাহর বাণী: ﴿وَما كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولاً﴾ [الاسراء: ১৫] “আর রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি আযাবদাতা নই।" [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১৫] আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর বাণী: "আমার পিতা ও তোমার পিতা জাহান্নামে"
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে বলেন ﴿وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولاً﴾ [الاسراء: ১৫] "আর রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি আযাবদাতা নই।" [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১৫] বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন যে, তার মাতা-পিতা জাহান্নামী। প্রশ্ন হলো, তারা কি ফিতরাতের যুগের ছিল না? যারা ফিতরাতের যুগে ছিল তাদের বিষয়ে কুরআন স্পষ্ট করেছেন যে, তারা নাজাত প্রাপ্ত। বিষয়টি স্পষ্ট করুন।
উত্তর: ফিতরাতের যুগের মানুষ নাজাত প্রাপ্ত নাকি ধ্বংসপ্রাপ্ত এ বিষয়টি কুরআন স্পষ্ট করেননি। আল্লাহ তা'আলা শুধু এ কথা বলেছেন, ﴿وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولاً﴾ [الاسراء: ১৫] "আর রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি আযাবদাতা নই।" [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১৫]
আল্লাহ তা'আলার স্বীয় ইনসাফের কারণে শুধু রাসূল প্রেরণের পরই কাউকে শাস্তি দেবেন। ফলে যাদের নিকট দাও'আত পৌঁছে নাই তাদের ওপর দলীল প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া তিনি তাদের শাস্তি দেবেন না। আর দলীল প্রতিষ্ঠা কখনো কিয়ামতের দিন হবে। যেমন হাদীসে বর্ণিত আছে ফিতরাতের যুগের লোকদের কিয়ামদের দিন ঈমানের দাও'আত দেয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। যারা সেদিনের পরীক্ষার উত্তীর্ণ হবে ঈমান গ্রহণ করবে এবং দাওয়া সাড়া দেবে তারা নাজাত পাবে আর যারা সেদিন দাও'আত গ্রহণ করবে না এবং নাফরমানী করবে তারা জাহান্নামে যাবে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণিত, তিনি বলেন এক লোক বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমারা পিতা কোথায়? উত্তরে তিনি বলেন, «فِي النَّارِ» “তোমার পিতা জাহান্নামী। এ কথা শোনে লোকটির চেহারার মলিনতা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেন, «إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ» "আমার এবং তোমার পিতা জাহান্নামী। "¹⁷ এ কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য বলেছিলেন। তাকে এ কথা জানিয়ে দিলেন যে, তোমার পিতা একাই জাহান্নামী নয় এবং বিষয়টি তোমার পিতার জন্য খাস নয়। বরং আমার পিতারও একই হুকুম। হতে পারে এদের দুই জন অর্থাৎ লোকটির পিতা ও রাসূলের পিতা উভয়ের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে দলীল পৌঁছেছে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ» "আমার এবং তোমার পিতা জাহান্নামী।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেনেই কথাটি বলেছেন। কারণ, তিনি তার নিজের পক্ষ থেকে কখনো কথা বলেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى مَا ضَلَّ
صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى ﴾ [النجم : ٤، ١] “কসম নক্ষত্রের, যখন তা অস্ত যায়। তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়। আর সে মনগড়া কথা বলে না। তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হয়নি এবং বিপথগামীও হয়নি।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ১, ৪]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্বীয় পিতা সম্পর্কে যা বলেছেন, তাতে প্রমাণিত হয় যে রাসূলের পিতা আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল মুত্তালিবের নিকট দলীল পৌঁছেছে। আর তারা ছিল ঐ সব কুরাইশদের দলভুক্ত যারা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দীন সম্পর্কে অবগত। কারণ, লুহাই ইবন আমর আল-খাযা'ঈর মূর্তি পূজা আবিষ্কার করার পূর্ব পর্যন্ত কুরাইশরা মিল্লাতে ইবরাহীমির ওপর ছিল। কিন্তু যখন সে মক্কার গভর্নর হল এবং তখন তার আবিষ্কৃত নতুন বিষয়টি অর্থাৎ মূর্তি পূজা মক্কায় ছড়িয়ে পড়ল। এবং সে আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিগুলো ইবাদতের দাওয়াত দেওয়ার কাজটি মক্কার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল। তখন রাসূলের পিতা আব্দুল্লাহর নিকট এ কথা পৌঁছেছিল যে, কুরাইশদের মূর্তি পূজা করা এবং তাদের মধ্যে মূর্তিপূজার যে প্রচলন আরম্ভ হয়েছে তা সম্পূর্ণ বাতিল। তা সত্ত্বেও তিনি তাদের বাতিল ইলাহদের অনুসরণ করেন। ফলে তার ওপর হুজ্জত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ عَامِرٍ الْخُزَاعِيَّ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ وَكَانَ أَوَّلَ مَنْ سَيِّبَ السُّيُوبَ ». ইবন লুহাইকে দেখেছি জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার নাড়ি-বুড়িকে টেনে হেঁচড়ে বের করা হচ্ছে। কারণ, সেই মক্কায় সর্ব প্রথম শির্কের প্রচলনের কারণ হয় এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মিল্লাতের পরিবর্তন করে। অপর একটি হাদীসে এ বিষয়ে বর্ণিত আছে استأذن أن يستغفر لأمه فلم يؤذن، فاستأذن
"أن يزورها فأذن له "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চাইলে, তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারপর তিনি যিয়ারত করার অনুমতি চাইলে আল্লাহ তাকে যিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়।"¹⁸
এ কথা বলারও অবকাশ রয়েছে যে, দুনিয়াতে জাহিলিয়্যাতের যুগের মানুষের সাথে কাফেরদের মতোই আচরণ করা হবে। ফলে তাদের জন্য দো'য়া করা হবে না, ক্ষমা চাওয়া হবে না। কারণ, তারা কাফেরদের মতোই কাজ-কর্ম করে থাকে। ফলে তাদের সাথে সেই আচরণ করা হবে যে আচরণ কাফেরদের সাথে করা হয়। আর আখিরাতে তাদের বিষয়টি আল্লাহর হাতে সোপর্দ।
আর দুনিয়াতে যার ক্ষেত্রে দলীল প্রতিষ্ঠিত হয় নাই তাকে কিয়ামতের দিন ঈমান পেশ করে পরীক্ষা করা ছাড়া শাস্তি দেওয়া হবে না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন, ]وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا ﴾ [الاسراء: ١٥ “আর রাসূল প্রেরণ না করা পর্যন্ত আমি আযাবদাতা নই।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ১৫] সুতরাং যারা ফিতরাতের যুগে বসবাস করছিল এবং তাদের নিকট তাওহীদের দা'ওয়াত পৌঁছেনি, কিয়ামতের দিন তাওহীদের প্রতি দা'ওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করা হবে। যদি তারা দা'ওয়াত গ্রহণ করে তারা জান্নাতে যাবে আর যদি গ্রহণ না করে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
অনুরূপভাবে অনুভূতিহীন বুড়ো, পাগল এবং তাদের মতো আরও যারা রয়েছে যেমন কাফেরদের বাচ্চা যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বে মারা গেছে— যাদের কাছে তাওহীদের দা'ওয়াত পৌঁছেনি। কারণ, হাদীসে বর্ণিত - سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَرَارِيَّ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন কাফেরদের বাচ্চাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি উত্তরে বলেন, আল্লাহ তা'আলা তারা কি আমল করত সে সম্পর্কে অধিক অবগত আছেন।"
কাফেরদের বাচ্চাদের কিয়ামতের দিন ফিতরাতের যুগের মানুষদের মতো পরীক্ষা করা হবে। যদি তারা সঠিক উত্তর দেয়, তবে তারা নাজাত পাবে অন্যথা তারা ধ্বংস-শীলদের সাথে হবে।
এক জামা'আত আহলে ইলম বলেন, কাফেরদের বাচ্চারা নাজাত প্রাপ্ত- জান্নাতী। কারণ, তারা ফিতরাতের ওপর মারা গিয়েছে। এ ছাড়াও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জান্নাতে প্রবেশ করেন তখন মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ের বাচ্চাদের জান্নাতের বাগানে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সাথে দেখেছেন।
দলীলের স্পষ্টতার কারণে এ মতামতটি অধিক শক্তিশালী। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মতৈক্যে মুসলিমদের বাচ্চারা অবশ্যই জান্নাতী হবে। আল্লাহ তা'আলা অধিক জ্ঞাত ও মহা প্রজ্ঞাবান।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
¹⁷ বর্ণনায় ইমাম মুসলিম স্বীয় সহীহতে হাদীস নং ৫২১।
¹⁸ বর্ণনায় সহীহ মুসলিম, হাদীস নং
📄 মানুষের অন্তরে গুনাহের উদ্রেক বিষয়ক কুরআনের আয়াত ও হাদীসের বাণী
আল্লাহর বাণী: ﴾ وَإِن تُبْدُواْ مَا فِي أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ﴿ আল্লাহ তা'আলা উম্মতে মুহাম্মদী থেকে তাদের অন্তরের গুনাহের উদ্রেক ও ইচ্ছাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন...।"
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা বাণী: ﴾ وَإِن تُبْدُوا مَا فِي أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُم بِهِ اللَّهُ﴿ [আল-বাক্বারা: ২৮৪] এর অর্থ কি? আল্লাহর বাণীর মধ্যে এবং ঐ হাদীস যাতে বলা হয়েছে— ﴾إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ﴿ “আল্লাহ তা'আলা উম্মতে মুহাম্মদী থেকে তাদের অন্তরের গুনাহের উদ্রেক ও ইচ্ছাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন যতক্ষণ না তা মুখে উচ্চারণ বা বাস্তবায়ন না করে।” উভয়ের মধ্যে কীভাবে বিরোধ নিরসন করব?
উত্তর: ﴾لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِن تُبْدُواْ مَا فِي أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُم بِهِ اللَّهُ فَيَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿ [আল-বাক্বারা: ২৮৪] আল্লাহর জন্যই যা রয়েছে আসমানসমূহে এবং যা রয়েছে জমিনে। আর তোমরা যদি প্রকাশ কর যা তোমাদের অন্তরে রয়েছে অথবা গোপন কর, আল্লাহ সে বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন। অতঃপর তিনি যাকে চান ক্ষমা করবেন, আর যাকে চান আযাব দেবেন। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৪] আয়াতটি যখন নাযিল হয়
তখন অনেক সাহাবীর কাছে বিষয়টি কঠিন ও দুঃসাধ্য মনে হলো। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো এবং বলল, এটি এমন একটি বিষয় যা পালন করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তারা বলেছিল আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম তোমরাও কি তাদের মতো বলতে চাও? তোমরা বরং এ কথা বল, আমরা শুনলাম ও মানলাম। এ কথা শোনে তারা বলল, আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম। তারা যখন এ কথা বলল এবং তাদের জবান এ কথার প্রতি অনুগত হলো, আল্লাহ তা'আলা পরবর্তী আয়াত নাযিল করে বলেন,
"রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল। আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৫, ২৮৬] আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি দয়া ও ক্ষমা করলেন এবং আয়াতের প্রতিপাদ্য মর্মটি রহিত করে দিলেন। কর্ম সম্পাদন ছাড়া অথবা কোন কর্ম বার বার করা ছাড়া অথবা অটুট থাকা ছাড়া কোন মানুষকে পাকড়াও করা হবে না। মানুষের অন্তর বা নফসের মধ্যে গুনাহের যে উদ্রেক বা চিন্তা আসে তা ক্ষমা। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَзَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكُلَّمُ “আল্লাহ তা'আলা উম্মাতে মুহাম্মদীর অন্তরে গুনাহের যে উদ্রেক ও ইচ্ছা হয়, তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন যতক্ষণ না তা মুখে উচ্চারণ বা বাস্তবায়ন না করে।”¹⁹
আলহামদু লিল্লাহ প্রশ্ন দূর হয়ে গেছে। একজন তার আমল, মুখের কথা বা প্রত্যয় ছাড়া পাকড়াও করা হবে না। অথবা তার অন্তরে বার বার এসে স্থায়ী হওয়া গুনাহ যেমন, লৌকিকতা, মুনাফেকী, অহংকার ইত্যাদি গুনাহ ছাড়া সে আল্লাহর দরবারে পাকড়া হবে না।
আর যে সব সন্দেহ সংশয় মানুষের অন্তরে মাঝে মধ্যে উদ্রেক হয় এবং ঈমান ও বিশ্বাসের কারণে তা চলে যায় তাতে কোন ক্ষতি নেই। এগুলো শয়তানেরই চক্রান্ত ও কু-মন্ত্রণা। এ কারণেই আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে তিনি বললেন, -جاء ناس من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم
فقالوا : إنا نجد في أنفسنا ما نتعاظم أن نتكلم به قال قد وجدتموه قالوا نعم قال ذلك صريح الإيمان “কতক লোক রাসূলের দরবারে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের অন্তরে এমন এমন কঠিন কথার উদ্রেক হয়, তা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে আসমান আমাদের ওপর ভেঙে পড়া অনেক সহজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটি সু-স্পষ্ট ঈমান।”²⁰
এটি শয়তানেরই কু-মন্ত্রণা, শয়তান যখন একজন মু'মিনের মধ্যে সততা ইখলাস বিশুদ্ধ ঈমান ও আখিরাতের প্রতি আগ্রহী দেখে তখন তাকে
বিভিন্নভাবে কু-মন্ত্রণা দিয়ে থাকে। তার অন্তরে বিভিন্ন খারাপ কথা ডেলে দেয়। তারপর যখন সে মুজাহাদা সংগ্রাম এবং শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে তখন শয়তানের অনিষ্ঠতা থেকে নিরাপদ থাকে। এ কারণেই আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত অপর হাদীসে এসেছে—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لا يزال الناس يتساءلون حتى يقال هذا خلق الله الخلق فمن خلق الله ؟ فمن وجد من ذلك شيئا فليقل آمنت بالله
থাকে এমনকি এক পর্যায়ে সে বলে, আল্লাহ তা'আলা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যখন কারো অন্তরে এ ধরণের প্রশ্ন আসবে সে যে অনতি বিলম্বে এ কথা বলে, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস করলাম” অপর বর্ণনায় এসেছে এ কথাও বলবে—“বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করলাম। সে যেন তা থেকে ফিরে আসে এবং তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে।” এ ধরণের কু-মন্ত্রণা যা আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন তা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.
টিকাঃ
¹⁹ সহীহ বুখারী হাদীস নং 5269
²⁰ নাসাঈ হাদীস নং 15000
📄 সূরা আল-কাহাফের তিনটি আয়াতের ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: প্রশ্নকারী বলেন, সূরা আল-কাহফে মুসা আলাইহিস সালামের সাথে একজন নেককার লোকের ঘটনায় লোকটি বলেন- أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ فَأَرَدتُ أَنْ أَعِيبَهَا وَكَانَ وَرَاءَهُم مَّلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْبًا * وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِينَا أَن يُرْهِقَهُمَا طُغْيَنَا وَكُفْرًا فَأَرَدْنَا أَن يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنزٌ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَن يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنزَهُمَا رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ذَلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِع عَلَيْهِ صَبْرًا ﴾ [الكهف: ۷۹، ৮২]
"নৌকাটির বিষয় হল, তা ছিল কিছু দরিদ্র লোকের যারা সমুদ্রে কাজ করত। আমি নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে চেয়েছি কারণ তাদের পেছনে ছিল এক রাজা, যে নৌকাগুলো জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিচ্ছিল'। 'আর বালকটির বিষয় হল, তার পিতা-মাতা ছিল মুমিন। অতঃপর আমি আশংকা²¹ করলাম যে, সে সীমালংঘন ও কুফরী দ্বারা তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলবে'। 'তাই আমি চাইলাম, তাদের রব তাদেরকে তার পরিবর্তে এমন সন্তান দান করবেন, যে হবে তার চেয়ে পবিত্রতায় উত্তম এবং দয়ামায়ায় অধিক ঘনিষ্ঠ। 'আর প্রাচীরটির বিষয় হল, তা ছিল শহরের দু'জন ইয়াতীম বালকের এবং তার নিচে ছিল তাদের গুপ্তধন। আর তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। তাই আপনার রব চাইলেন যে, তারা দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের গুপ্তধন বের করে নেবে। এ সবই আপনার রবের রহমত স্বরূপ। আমি নিজ থেকে তা করিনি। এ হলো সে বিষয়ের ব্যাখ্যা, যে সম্পর্কে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি।” [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৭৯, ৮২]
আয়াতে দেখা যাচ্ছে, সে নৌকাটির নিকটে গিয়ে বলল, فَأَرَدْتُ أَنْ أَعِيبَهَا “আমি নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে চেয়েছি" আর মু'মিন দুই মাতা-পিতার উল্লেখের সময় বলল, فَأَرَدْنَا أَن يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا "তাই আমি চাইলাম, তাদের রব তাদেরকে তার পরিবর্তে এমন সন্তান দান করবেন, যে হবে তার চেয়ে পবিত্রতায় উত্তম এবং দয়ামায়ায় অধিক ঘনিষ্ঠ।” এবং প্রাসাদের মালিক দুই ইয়াতীমের আলোচনার সময় বলল, فَأَرَادَ رَبُّكَ "তাই আপনার রব চাইলেন” এ তিনটি অভিব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য কি? আল্লাহর ইচ্ছার সাথে এ নেককার লোকটিরও কি ইচ্ছা রয়েছে?
উত্তর: সহীহ কথা হলো, লোকটি মূসা আলাইহিস সালামের সাথী খিযির আলাইহিস সালাম। বিশুদ্ধ মতানুসারে তিনি কেবল একজন নেককার লোক নয় তিনি একজন নবী। এ কারণেই তিনি বলেন, وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِى “আমি নিজ থেকে তা করিনি” অর্থাৎ, বরং আল্লাহর নির্দেশেই আমি কাজটি করি। একই ঘটনায় বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত যে, তিনি মূসা আলাইহিস সালামকে বলেন, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে এমন ইলম শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানেন তা আমি জানি না। আর আল্লাহ আমাকে এমন ইলম শিক্ষা দিয়েছেন যা আমি জানি তবে আপনি জানেন না। এ কথা দ্বারা প্রমাণিত হয়, নিশ্চয় তিনি একজন নবী ছিলেন। এ কারণেই আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَأَرَادَ رَبُّكَ أَن يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا “তাই আপনার রব চাইলেন যে, তারা দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের গুপ্তধন বের করে নেবে।” আর একজন রাসূল যেহেতু তার কাছে অহী আসে, সে অবশ্যই আল্লাহর ইচ্ছা সম্পর্কে অবগত থাকেন।
আর নৌকার কাহিনীতে বিষয়টি সে তার নিজের দিকে সম্বোধন করে বলেন, فَأَرَدْتُ أَنْ أَعِيبَهَا “আমি নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে চেয়েছি।” এর কারণ- আল্লাহই ভালো জানেন-ভালো কর্মগুলোই আল্লাহর দিকে সম্বোধন করা হয়।
আর এখানে নৌকাটি নষ্ট করা স্পষ্টত কোন ভালো কর্ম নয়। তাই আল্লাহর সম্মানার্থে কর্মটিকে তিনি নিজের দিকে নিসবত-সম্বোধন করেন। ফলে তিনি বলেন, فَأَرَدْتُ أَنْ أَعِيبَهَا "আমি নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে চেয়েছি" এ খারাপ কর্মটির উদ্দেশ্য হলো, নৌকাটি নিরাপদ থাকা যাতে যালিম বাদশা জোর করে নিয়ে না যায়। কারণ, অত্যাচারী বাদশা সব ভালো, দোষ-ত্রুটি মুক্ত ও নিরাপদ নৌকাগুলো জোর করে নিয়ে যায়। তাই খিযির আলাইহিস সালাম যালিম বাদশার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ভালো নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করে দেয়ার ইচ্ছা করলেন। যখন সে দেখতে পাবে নৌকাটি ত্রুটিযুক্ত ও ফাঁটা তখন যালিম বাদশার পাকড়াও, যুগ্ম ও অনিষ্ঠতা থেকে নৌকাটি থেকে বেচে যাবে। যেহেতু বাহ্যিক বিষয়টি আল্লাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় তাই তিনি কর্মটিকে তার নিজের দিকেই নিসবত-সম্বোধন করেন এবং বলেন, فَأَرَدْتُ أَنْ أَعِيبَهَا “আমি নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে চেয়েছি" আর মু'মিন মাতা-পিতার উল্লেখের সময় বলেন, فَأَرَدْنَا أَن يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا "তাই আমি চাইলাম, তাদের রব তাদেরকে তার পরিবর্তে এমন সন্তান দান করবেন, যে হবে তার চেয়ে পবিত্রতায় উত্তম এবং দয়ামায়ায় অধিক ঘনিষ্ঠ।” কর্মটি ভালো হওয়ার কারণে তিনি তার নিজের দিকে সম্বোধন করেন। কারণ, তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট। বহুবচন শব্দ ব্যবহার করার কারণ, তিনি নবী। আর নবীরা সাধারণ মানুষ নয় তারা মহান তাই তাদের ক্ষেত্রে বহুবচন ব্যবহার করাই হলো শ্রেয়। এ ছাড়াও কর্মটি আল্লাহর আদেশে এবং তার দিক- নির্দেশনায় হয়েছে। ফলে বহুবচন ব্যবহার করে আল্লাহর দিকে কর্মের সম্বোধন করাটাই ছিল উত্তম। এ ছাড়াও কর্মটি ভালো, কল্যাণকর ও উপকারী। এ ধরনের কর্মের সম্বোধন আল্লাহর দিকেই হয়ে থাকে। ইয়াতীম বালক দু'টির বিষয়টিতে ছিল তাদের সংশোধন, উপকার ও মহা কল্যাণ। এ কারণেই তিনি বলেন, فَأَرَادَ رَبُّكَ "তাই তোমার রব চাইলেন যে,” এখানে কল্যাণকে আল্লাহ তা'আলা তার নিজের দিকে সম্বোধন করেছেন। এটি সূরা আল-জ্বীনের মধ্যে আল্লাহর অপর একটি বাণীর মতো। যাতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَأَنَّا لَا نَدْرِى ا مَا أُشَرُ أُرِيدَ بِمَن فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا ﴾ [الجن: ١٠]
জানি না, জমিনে যারা রয়েছে তাদের জন্য অকল্যাণ চাওয়া হয়েছে, নাকি তাদের রব তাদের ব্যাপারে মঙ্গল চেয়েছেন।” [সূরা আল-জীন, আয়াত: ১০] এ আয়াতে খারাপ কর্মটিকে আল্লাহর দিকে সম্বোধন করা হয়নি। কিন্তু যখন হিদায়াতের আলোচনা আসল, তারা বলল, أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا "নাকি তাদের রব তাদের ব্যাপারে মঙ্গল চেয়েছেন।" হিদায়াত কল্যাণকর হওয়ার কারণে হিদায়েকে তারা আল্লাহর দিকে সম্বোধন করলেন। খারাপ কর্ম তার প্রতি সম্বোধন করা যাবে না। যেমন, বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, والشر ليس إليك "খারাপ কর্ম তোমার দিকে নয়।” এটি একটি ভালো শিষ্টাচার এবং মু'মিন জ্বীনদের আদব। আর খিযির আলাইহিস সালাম খারাপ কর্ম বিষয়ের সম্বোধনের শিষ্টাচার থেকে তিনি বলেন, فَأَرَدْتُ أَنْ أَعِيبَهَا “আমি নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে চেয়েছি” আর দুই ইয়াতীমের বিষয়ে বলেন, فَأَرَادَ رَبُّكَ "তাই তোমার রব চাইলেন" এ গুলো সবই আল্লাহ সুবহানাহুর সাথে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ
টিকাঃ
²¹ তাঁর আশংকা নিছক ধারণা ভিত্তিক ছিল না, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি নিশ্চিত জানতে পেরেছিলেন。
📄 আল্লাহই মানুষের অন্তর পরিবর্তনকারী
আল্লাহর বাণী: ﴾ وَأَعْلَمُواْ أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ "জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন। আর নিশ্চয় তাঁর নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।"
প্রশ্ন: একজন প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন যে, আল্লাহ তা'আলার এ বাণী: وَاعْلَمُوا أَنَّ﴿ ]اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ ﴾ [الانفال: ২৪ “জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন। আর নিশ্চয় তাঁর নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২৪] এর অর্থ কি?
উত্তর: আয়াতটির বাহ্যিক অর্থ হলো, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের যাবতীয় সবকিছুর পরিচালনা করেন। তিনি কাউকে ভালো কর্মের তাওফীক দেন, কারো অন্তরকে ঈমানের জন্য খুলে দেন এবং কাউকে তিনি ইসলামের দিকে হিদায়াত দেন। আবার কারো অন্তরে আল্লাহর দীনের প্রতি সংকীর্ণতা ও কাঠিণ্যতা ঢেলে দেন যা তার ও ইসলামের মাঝে এবং মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে আবরণ সৃষ্টি করেন। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَمَن يُرِدِ اللَّهُ أَن يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَن يُرِدْ أَن يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَدُ فِي السَّمَاءِ ) ]الانعام: ১২৫[ "সুতরাং যাকে আল্লাহ হিদায়াত করতে চান, ইসলামের জন্য তার বুক উন্মুক্ত করে দেন। আর যাকে ভ্রষ্ট করতে চান, তার বুক সঙ্কীর্ণ-সঙ্কুচিত করে দেন, যেন সে আসমানে আরোহণ করছে।" [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১২৫] এমনিভাবে আল্লাহ অকল্যাণ দেন তাদের উপর, যারা ঈমান আনে না।
সুতরাং, আল্লাহ তা'আলাই তার বান্দাদের মধ্যে যেভাবে চান পরিবর্তন করেন। কারো অন্তরকে তিনি ঈমান ও হিদায়াতের জন্য খুলে দেন আবার কাইকে তিনি তাওফীক দেন না। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয আব্দুল্লাহ বিন বায রহ.,