📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সম্পর্কীয় দু‘টি আয়াত সম্পর্কে আলোচনা

📄 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সম্পর্কীয় দু‘টি আয়াত সম্পর্কে আলোচনা


আল্লাহ তা'আলা বাণী: ﴿وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ ﴾ [آل عمران: ١٠٤]
আল্লাহ তা'আলার অপর বাণী: ﴿لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ ﴾ [المائدة: ١٠٥]
[১০০ যদি তোমরা সঠিক পথে থাক তাহলে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ১০৫]
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা বাণী: ﴿وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَبِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴾ [آل عمران: ١০৪] “তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহবান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪] এর মধ্যে এবং আল্লাহ তা'আলার অপর বাণী: ﴿لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ ﴾ [المائدة: ١٠٥] “যদি তোমরা সঠিক পথে থাক তাহলে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।” [সূরা মায়েদাহ, আয়াত: ১০৫] ও হাদীস- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُونَهُ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ ﴾ : هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ “ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার জীবন তোমরা ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজে মানুষকে বাধা প্রদান করবে অন্যথায় আল্লাহ তা'আলা তার নিজের পক্ষ থেকে অচিরেই তোমাদের ওপর আযাব প্রেরণ করবে। অতঃপর তোমরা তাকে ডাকবে তখন তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না।”¹⁰ এবং অপর হাদীস- ﴿مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ ﴾ “মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হলো অনর্থক কথা-বার্তা ছেড়ে দেওয়া”¹¹—এর মধ্যে বিরোধ নিরসন কীভাবে? আপনার প্রতি আল্লাহ দয়া করুন। আমি জানি আয়াতের অর্থের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। অনুরূপভাবে বিশুদ্ধ সুন্নাতের মধ্যেও কোন বিরোধ নেই। এ কারণে আমি এ কথা বিশ্বাস করি যে, জ্ঞানের অভাব ও অক্ষম হওয়ার কারণে ভুল আমারই হয়ে থাকে। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। এর উত্তর কি?
উত্তর- আয়াতে কোথাও শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কর্মে বাঁধা দেওয়াকে ছেড়ে দেয়ার কথা নেই। আয়াতের বর্ণনা দ্বারা একজন বান্দাকে আত্মার পরিশুদ্ধির কথা বলা হয়েছে এবং ভালো কর্ম করার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। আর নিজেকে সংশোধন করা ও ভালো করার মধ্যে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কর্মে বাধা দেওয়াও রয়েছে। যখন কোন বান্দা তার ওপর যা ওয়াজিব তা আদায় করবে তখন সে যদি আল্লাহ তাকে যা নির্দেশ দিয়েছে তা পালন করার পর যে গোমরাহ হবে সে তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। ইমাম আহমদ বিশুদ্ধ সনদে কাইস থেকে বর্ণনা করেছেন— قَالَ قَامَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الْآيَةَ { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ } وَإِنَّا سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوْا الْمُنْكَرَ فَلَمْ يُنْكِرُوهُ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِ “আবু বকর দাঁড়ালেন অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করলেন। তারপর বললেন, হে মানুষ! তোমরা অবশ্যই এ আয়াত তিলাওয়াত কর। আর তোমরা আয়াতটিকে এমন ক্ষেত্রে প্রয়োগ কর যেটি তার প্রয়োগের স্থান নয়। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, মানুষ যখন কোন অপকর্ম সংঘটিত হতে দেখে তা পরিবর্তন না করে, আল্লাহর শাস্তি তাদের গ্রাস করতে পারে¹²।" মনে রাখবে একজন বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব-সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কর্মে বাঁধা দেওয়া সাধ্য অনুযায়ী আদায় না করবে সে পরিপূর্ণ হিদায়াতপ্রাপ্ত হতে পারবে না। আল্লাহই একমাত্র তাওফীক দানকারী। ফতওয়া ও ইলমী গবেষণা বিষয়ক স্থায়ী সংস্থা।

টিকাঃ
¹⁰ তিরমিযি হাদীস নং ২১৬৯
¹¹ তিরমিযি, হাদীস নং ২৩১৮
¹² ইবনু মাযা, হাদীস নং ৪০৫

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 তাওবা কবুল করা বিষয়ক দু‘টি আয়াত

📄 তাওবা কবুল করা বিষয়ক দু‘টি আয়াত


আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴾إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ﴿ "নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে ঈমান আনার পর...।" আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿قُلْ يَعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى﴾ “বল, 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ...।"
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা সূরা আলে ইমরানে বলেছেন- ﴾إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَّن تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُوْلَبِكَ هُمُ الضَّالُّونَ ﴿ [آل عمران: ৯০] "নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে ঈমান আনার পর, তারপর তারা কুফরীতে বেড়ে গিয়েছে, তাদের তাওবা কখনো কবুল করা হবে না। আর তারাই পথভ্রষ্ট।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯০] অপর আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴾قُلْ يَعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ﴿ [الزمر: ৫২] "বল, 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫২]
আয়াত দু'টির অর্থ কি? কীভাবে আয়াত দু'টির বিরোধ নিষ্পত্তি করব? প্রথম আয়াতের অর্থ কি এই যে, কতক গুনাহ এমন রয়েছে যখনই কোন ব্যক্তি এ ধরনের গুনাহ করবে তার তাওবা কবুল করা হবে না, নাকি একটি আয়াত অপরটির জন্য রহিত কারী অথবা কি নিষ্পত্তি?
উত্তর: আয়াত দু'টির মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কারণ, প্রথম আয়াত মুরতাদ সম্পর্কে যে তাওবা করা ছাড়া মুরতাদ অবস্থায় মারা গেছে। মৃত্যুর সময় যদি সে তাওবা করে তার তাওবা কবুল করা হবে না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَلَيۡسَتِ ٱلتَّوۡبَةُ لِلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ حَتَّىٰٓ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ ٱلۡمَوۡتُ قَالَ إِنِّي تُبۡتُ ٱلۡـَٰٔنَ وَلَا ٱلَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمۡ كُفَّارٌۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَعۡتَدۡنَا لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمٗا﴾ [النساء: ١٨]
"আর তাওবা নাই তাদের, যারা অন্যায় কাজ করতে থাকে, অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু এসে যায়, তখন বলে, আমি এখন তাওবা করলাম, আর তাওবা তাদের জন্য নয়, যারা কাফির অবস্থায় মারা যায়; আমি এদের জন্যই তৈরী করেছি যন্ত্রণাদায়ক আযাব।” [সূরা নিসা, আয়াত: ১৮] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿وَمَن يَرۡتَدِدۡ مِنكُمۡ عَن دِينِهِۦ فَيَمُتۡ وَهُوَ كَافِرٞ فَأُوْلَٰٓئِكَ حَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ﴾ [البقرة: ٢١٧]
"আর যে তোমাদের মধ্য থেকে তাঁর দীন থেকে ফিরে যাবে, অতঃপর কাফির অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে, বস্তুত এদের আমলসমূহ দুনিয়া ও আখিরাতে বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।” [সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২১৭]
মোট কথা প্রথম আয়াত যারা দীন থেকে মুরতাদ হয়ে গেছে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মুরতাদ অবস্থায় ছিল তাওবা করেনি। কিন্তু যখন মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয় তখন সে তাওবা করে। তখন তার তাওবা কবুল করা হবে না। যেমন, হাদীসে إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ মৃত্যু গড়গড়া আসার আগ পর্যন্ত কবুল করা হবে।"¹³
কোন কোন আলেম বলেন, প্রথম আয়াতটি ঐ সব মুরতাদ সম্পর্কে যারা বার বার মুরতাদ হয়। তাদের তাওবা কবুল করা হবে না। বরং তাদের ওপর সর্বাবস্থায় মুরতাদের যে শাস্তি তা বাস্তবায়ন করা হবে।
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ [الزمر: ٥٢] "বল, 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫২]
ঐ সব লোকদের সম্পর্কে যারা তাদের মৃত্যু যন্ত্রণা আসার পূর্বে তাওবা করে। আল্লাহ তা'আলা তাদের তাওবা অবশ্যই কবুল করবেন। এ দ্বারা এ কথা স্পষ্ট হয় যে, আয়াত দু'টির মধ্যে কোন বিরোধ নেই। আল্লাহই তাওফীক দাতা।
শাই সালেহ আল-ফাওযান

টিকাঃ
¹³ মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ৬১৬০

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 দুনিয়াতে বিপদ-আপদ ও বিপর্যয় বিষয়ক দু‘টি আয়াত

📄 দুনিয়াতে বিপদ-আপদ ও বিপর্যয় বিষয়ক দু‘টি আয়াত


আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا "বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিপিবদ্ধ করেছেন তাই আমাদের পৌঁছবে।" আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ ﴾ [النساء: ۷৯] “আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে।"
প্রশ্ন: আল্লাহর তা'আলা বলেন, ﴿قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا "বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিপিবদ্ধ করেছেন তাই আমাদের পৌঁছবে।” যে সব বিপদ-আপদ আসে তা কি আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আল্লাহ তা'আলার এ বাণী- ﴿مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ ﴾ [النساء : ৭৯] “তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে।” [সূরা নিসা, আয়াত: ৭৯] -এর অর্থ কি?
উত্তর: বান্দা যে সব নেক ও বদ আমল করে থাকে সবই আল্লাহর কুদরতে হয়ে থাকে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ ﴾ [القمر: ৪৯] “নিশ্চয় আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী।” [সূরা আল-কামার, আয়াত: ৪৯] আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন, ﴿مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ ﴾ [الحديد: ২২] "জমিনে এবং তোমাদের নিজদের মধ্যে এমন কোন মুসীবত আপতিত হয় না, যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।” [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ২২] আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا﴾ তারপরও নেক আমলসমূহ আল্লাহর করুণা। কারণ, আল্লাহই তা লিপিবদ্ধ করেছে এবং বান্দাকে তা করার তাওফীক দিয়েছেন। তাই এ সবের ওপর সকল প্রশংসা আল্লাহরই।
আর বদ আমলসমূহ আল্লাহরই নির্ধারণ। তবে তা সংঘটিত হওয়ার কারণ, বান্দার কর্ম ও গুনাহসমূহ। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَمَا أَصَبَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا عَن كَثِيرٍ ﴾ [الشورى: ٣٠] “আর তোমাদের প্রতি যে মুসীবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন।” [সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩০] আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন, ﴿إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنفُسِهِمْ ﴾ [الرعد: 11] “নিশ্চয় আল্লাহ কোন কওমের অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।” [সূরা আর-রা'আদ, আয়াত: ১১]
নেক আমল ও বদ আমল আল্লাহ তা'আলারই নির্ধারণ। ভালো বান্দাদের ভালো কর্ম করার তাওফীক দিয়ে থাকেন। আর বিভিন্ন কারণ যে গুলো বান্দা নিজেই সৃষ্টি করেছেন এবং বিশেষ কোন হিকমতের কারণে অপরাধীদের অসৎ কর্ম ছাড়ার তাওফীক তিনি দেননি। আল্লাহ তা'আলা তার পরিপূর্ণ ইলম, স্বয়ংসম্পূর্ণতা, মহা প্রজ্ঞা-হিকমত ও ইনসাফের কারণে সর্বাবস্থায় প্রশংসিত। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ.

📘 কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব > 📄 সালাত পঞ্চাশ ওয়াক্ত থেকে পাঁচ ওয়াক্তে নামিয়ে নিয়ে আসা বিষয়ক হাদীস

📄 সালাত পঞ্চাশ ওয়াক্ত থেকে পাঁচ ওয়াক্তে নামিয়ে নিয়ে আসা বিষয়ক হাদীস


আল্লাহ তা'আলার বাণী: [ق: ۲۹] ﴿ مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ﴾ “আমার কাছে কথা রদবদল হয় না।” মিরাজের রাতে সালাত পঞ্চাশ ওয়াক্ত থেকে পাঁচ ওয়াক্তে নামিয়ে নিয়ে আসা পরিবর্তন নয় কি?।
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলার বাণী : ]ق: ۲۹] ﴿ مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَمَا أَنَا بِظَلَّمٍ لِلْعَبِيدِ ‘আমার কাছে কথা রদবদল হয় না, আর আমি বান্দার প্রতি যুলুমকারীও নই’। [সূরা কাফ, আয়াত: ২৯] এবং মি'রাজের হাদীসের মধ্যে বিরোধ কিভাবে নিরসন করব, যাতে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর নিকট বার বার যাতায়াত করার মাধ্যমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতকে কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্তে নিয়ে আসেন? আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।
উত্তর: আল্লাহ তা'আলার বাণী: :﴿ مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَمَا أَنَا بِظَلَّهِ لِلْعَبِيدِ﴾ [ق [২৭ "আমার কাছে কথা রদবদল হয় না, আর আমি বান্দার প্রতি যুলুমকারীও নই'।” [সূরা আল-কাফ, আয়াত: ২৯] এর মধ্যে এবং উল্লিখিত হাদীসের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। আল্লাহ তা'আলা কি এ কথা বলেছেন আমি কথা পরিবর্তন করি না? না, আল্লাহ এ কথা বলেননি। বরং আল্লাহ বলেছেন, ﴿مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لدى﴾। কারণ, ﴿لا تبديل لكلمات الله﴾ কেউ আল্লাহর বাণীসমূহের পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না। আমরা যখন এ কথা বলি যে, আয়াতের বর্ণনা হলো, এমন কর্মের যার কর্তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। আর তিনি যা বলেন, তা তিনি নিজে পরিবর্তন করেন না। তাহলে আপনার প্রশ্নের উত্তরে আমরা বলব, সালাত বিষয়ে রাসূলের বার বার যাতায়াতের যা সংঘটিত হয়েছে তা ছিল প্রথম থেকে যে কথার প্রতি তার সম্মতি ও সন্তুষ্টি ছিল অর্থাৎ সালাত পাঁচ ওয়াক্ত হওয়া তা পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে ছিল। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তার স্বীয় নবীর জন্য প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেন বিশেষ কোন হিকমত বা প্রজ্ঞার কারণে। বিশেষ কারণ একাধিক হতে পারে। যেমন-
প্রথম কারণ হলো, আল্লাহ তা'আলা তার রাসূলের ওপর যাই ফরয করেন তাই মানা ও কবুল করা।
দ্বিতীয় কারণ হলো, এ উম্মতের জন্য পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা। কারণ, বর্তমানে আমরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি। কিন্তু আমরা সাওয়াব পাবো সে ব্যক্তি ন্যায় যে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে। এটি যে কোন নেক আমলের সাওয়াব দশগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার অধ্যায়ের নয়। বরং এ হলো এক ওয়াক্ত সালাতের অনুকূলে দশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা লিপিবদ্ধ হবে। এটি অনেক বড় নে'আমত এবং আল্লাহ তা'আলা বড় হিকমত ও অপার রহমত। সুতরাং আসল কারণ, প্রথম কারণ, অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা যার প্রতি সন্তুষ্ট তিনি সেটাই ফায়সালা করেছেন যে, সালাত পাঁচ ওয়াক্তই হবে। তবে তিনি পঞ্চাশ ওয়াক্ত ফরয করেছেন হিকমতের কারণে।
প্রথমত: আল্লাহ তা'আলা যা ফরয করেন যদিও তাতে অনেক কষ্ট হয় তা সত্ত্বেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর ফরযকে কবুল করেন এবং মেনে নেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে যা বাধ্য করা হয় তা মানা ও কবুল করার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাধিক আনুগত্য শীল ও অনুগামী ব্যক্তি।
দ্বিতীয়ত: উম্মতের জন্য বাস্তবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা সত্ত্বেও পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার সাওয়াব লিপিবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। এটি এ উম্মতের প্রতি আল্লাহর বিশেষ দয়া রহমত। আল্লাহ তা'আলাই তাওফীক দাতা।
শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00